প্রবাসী বাবাকে মিস করা নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ২৩৮+ স্ট্যাটাস আইডিয়া

বাবার আদর আর ছায়া থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা কেবল সেই সন্তানরাই বোঝে, যাদের বাবা হাজার মাইল দূরে প্রবাসে থাকেন। ফোনের স্ক্রিনে বাবার হাসিমুখ দেখে বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে। আপনি কি প্রবাসী বাবাকে মিস করা নিয়ে ক্যাপশন কিংবা মনের জমানো কষ্টগুলো প্রকাশ করার মতো কোনো স্ট্যাটাস খুঁজছেন? তাহলে আমাদের এই আয়োজনটি আপনার জন্যই। এখানে বাবার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং দূরত্বের হাহাকার মেশানো সেরা লেখাগুলো অত্যন্ত যত্ন সহকারে সাজানো হয়েছে। পুরো আর্টিকেলটি সময় নিয়ে পড়লে আশা করি আপনার মনের কথার সাথে মিলে যাওয়া সেরা লাইনটি আমাদের এই পোস্টেই খুঁজে পাবেন।

এখানে আপনি পাবেন

প্রবাসী বাবাকে মিস করা নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া

বাবার ঘামের গন্ধে যে সুখ ছিল, দামী পারফিউমে তা কখনও খুঁজে পাই না। প্রবাস জীবন বাবাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।

টাকা দিয়ে হয়তো সুখ কেনা যায়, কিন্তু বাবার সান্নিধ্য কেনা যায় না। প্রবাসের ওই দেয়ালটা আমাদের মাঝের সব আনন্দ শুষে নিয়েছে।

মাঝে মাঝে খুব স্বার্থপর হতে ইচ্ছে করে, বাবাকে বলি সব ছেড়ে চলে এসো। কিন্তু সংসারের চাকা সচল রাখতে তিনি যে নিরুপায়।

বাবা তুমি প্রবাসে কত কষ্ট করো জানি না, তবে আমরা এখানে তোমার অভাবে প্রতি মুহূর্তে পুড়ছি।

ঈদের চাঁদ উঠলে সবার মুখে হাসি ফোটে, আর আমার বুকে বাড়ে হাহাকার। বাবা ছাড়া উৎসবগুলো কেমন যেন পানসে লাগে।

ছোটবেলায় বাবার আঙুল ধরে হাঁটার স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ে। এখন ফোনের স্ক্রিনে বাবাকে দেখে মন ভরাতে হয়।

প্রবাস নামের এই শব্দটা আমার খুব অপছন্দের। এই একটা শব্দ বাবাকে আমার থেকে যোজন যোজন দূরে ঠেলে দিয়েছে।

রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, তখন বাবার কথা ভেবে বালিশ ভিজে। দূর দেশে মানুষটা একা কেমন আছে, আল্লাহ জানেন।

ফোনটা হাতে নিয়ে বসে থাকি, কখন বাবার রিংটোন বাজবে। তাঁর কণ্ঠস্বর শোনার জন্য কান দুটো ব্যাকুল হয়ে থাকে।

পৃথিবীর সব বাবাই সুপারহিরো, কিন্তু প্রবাসী বাবারা একটু বেশিই সহনশীল। নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে আমাদের মুখে হাসি ফোটান।

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাই আর দিন গুনি, কবে বাবা ফিরবে। এই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতে চায় না।

হাজার মাইল দূরে থাকা বাবাকে মিস করার ইমোশনাল স্ট্যাটাস

হাজার মাইল দূর থেকে বাবার গলার আওয়াজ ভেসে আসে, কিন্তু তাঁকে ছোঁয়ার সাধ্য আমার নেই। এই অক্ষমতা আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।

দূরত্ব মানুষকে ভুলিয়ে দেয় বলে শুনেছি, কিন্তু বাবার ক্ষেত্রে তা উল্টো। যত দূরে থাকো, টান তত বাড়ে।

মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবি, ওই একই আকাশের নিচে বাবাও আছে। তবুও আমাদের মাঝে কত ব্যবধান।

বাবার শূন্য চেয়ারটা প্রতিদিন আমাকে উপহাস করে। মনে করিয়ে দেয়, বাড়ির ছাদটা আজ হাজার মাইল দূরে।

প্রবাসের মাটিতে বাবার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস হয়তো আমাদের কানে আসে না, কিন্তু হৃদয়ে ঠিকই বাজে।

ভিডিও কলে বাবাকে দেখলে ইচ্ছে করে স্ক্রিন ভেদ করে জড়িয়ে ধরি। প্রযুক্তির উন্নতিও এই দূরত্ব ঘোচাতে পারল না।

বাবা তুমি আছো বলেই আমাদের আকাশটা এত নীল। হাজার মাইল দূর থেকেও তোমার ছায়া আমাদের আগলে রাখে।

সকাল-দুপুর গড়িয়ে রাত নামে, কিন্তু বাবার দেখা মেলে না। এই অপেক্ষার নামই হয়তো প্রবাস জীবন।

দূর দেশে একা থাকার কষ্টটা বাবা কাউকে বুঝতে দেন না। হাসিমুখে কথা বলে আমাদের চিন্তা মুক্ত রাখেন।

টাকা উপার্জনের নেশায় নয়, আমাদের ভালো রাখার নেশায় বাবা আজ পরবাসী। তাঁর এই ত্যাগের ঋণ শোধ হওয়ার মতো না।

মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে, এত দূরে একা থাকতে বাবার কি ভয় করে না? নাকি আমাদের কথা ভেবেই সব ভয় জয় করেন।

ভিডিও কলে বাবার মুখ দেখে কান্না লুকানোর স্ট্যাটাস

ভিডিও কলের ওই পাশ থেকে বাবা যখন জিজ্ঞেস করেন ‘কেমন আছিস’, তখন গলার কাছে কান্না দলা পাকিয়ে আসে। তবুও বলি, খুব ভালো আছি।

হাসিমুখে কথা বলি ঠিকই, কিন্তু কল কাটার পর বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদি। বাবার ওই ক্লান্ত মুখটা সহ্য করা যায় না।

স্ক্রিনে বাবার চোখের কোণে জল দেখলে নিজেকে সামলানো দায় হয়ে পড়ে। তবুও অভিনয় চালিয়ে যাই, যেন বাবা কষ্ট না পান।

বাবা ভাবেন আমি খুব শক্ত, অথচ ভিডিও কলে তাঁর শুকিয়ে যাওয়া মুখ দেখে আমার বুক ফেটে যায়।

নেটওয়ার্কের সমস্যা বলে মাঝে মাঝে ভিডিও অফ করে দেই। আসলে তখন চোখের পানি মুছতে হয়।

কষ্ট লুকিয়ে হাসার এই কঠিন কাজটা প্রতিবার ভিডিও কলের সময় করতে হয়। বাবার মুখের দিকে তাকালে সব অভিযোগ ভুলে যাই।

বাবার চুলগুলো পেকে সাদা হয়ে যাচ্ছে, চোখের নিচে কালশিটে। ভিডিও কলে এসব দেখেও না দেখার ভান করতে হয়।

ভিডিও কলে বাবার সাথে কথা বলার সময়গুলো খুব ছোট, কিন্তু এর রেশ থেকে যায় অনেকক্ষণ। কল কাটার পর ঘরটা বড্ড ফাঁকা লাগে।

বাবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের সব কষ্ট আড়াল করি। ভিডিও কলে আমাদের এই লুকোচুরি খেলা কেউ দেখে না।

এত কাছে দেখা যাচ্ছে, অথচ ছোঁয়া যাচ্ছে না। ভিডিও কলের এই সীমাবদ্ধতা আমাকে খুব কষ্ট দেয়।

বাবা যখন বলেন ‘খুব তাড়াতাড়ি ফিরব’, তখন জানি কথাটা মিথ্যা। তবুও ওই মিথ্যা আশ্বাসেই চোখের পানি আটকাই।

স্ক্রিনের ওপাশে বাবার একলা থাকার দৃশ্যটা আমাকে খুব পোড়ায়। হাসি দিয়ে সেই পোড়া দাগ ঢাকতে হয়।

এয়ারপোর্টে বাবাকে বিদায় জানানোর সেই করুণ মুহূর্তের স্ট্যাটাস

এয়ারপোর্টের ওই কাচের দেয়ালটা পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুর দেয়াল। ওটা আমার বাবাকে আমার থেকে আলাদা করে দিয়েছে।

বাবা যখন ইমিগ্রেশনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলেন, মনে হলো কলিজাটা ছিঁড়ে কেউ নিয়ে গেল। সেই দৃশ্য আজও ভুলতে পারি না।

হাত নেড়ে বিদায় জানানোর সময় বাবার চোখের কোণে যে জল চিকচিক করছিল, তা আজও আমাকে ঘুমাতে দেয় না।

প্লেনটা যখন আকাশে উড়ল, মনে হলো আমার মাথার ওপর থেকে ছাদটা সরে গেল। বাবাকে বিদায় দেওয়া এত কঠিন কেন?

এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে বাবার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো অসহায় মুহূর্ত জীবনে আর আসেনি।

বাবার পিঠটা শেষবারের মতো দেখার স্মৃতি খুব যন্ত্রণার। মনে হচ্ছিল ছুটে গিয়ে বলি, যেও না বাবা।

পাসপোর্ট আর ভিসার কাগজগুলো আমার কাছে মৃত্যুর পরোয়ানার মতো লাগত। ওগুলোই বাবাকে আমার থেকে দূরে নিয়ে গেল।

বিদায়বেলায় বাবা যখন মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন, তখন নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছিল। সেই স্পর্শ আজও খুঁজি।

এয়ারপোর্টের ভিড়ে বাবাকে হারিয়ে ফেলার ভয় আর বাবাকে বিদেশ পাঠানোর কষ্ট—দুটোই আমাকে সমানভাবে পোড়ায়।

বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির সিটে বসে অঝোরে কেঁদেছিলাম। বাবা ছাড়া বাড়িটা তখন থেকেই খালি।

লাগেজ গোছানোর সময় থেকেই বুকের ভেতরটা কাঁপত। এয়ারপোর্টে সেই কাঁপুনি কান্নায় রূপ নিয়েছিল।

বাবাকে প্লেনে তুলে দিয়ে আমরা ফিরে এলাম, কিন্তু মনটা ওখানেই পড়ে রইল। এয়ারপোর্টের স্মৃতিগুলো বড্ড নির্দয়।

বিদায় শব্দটি এত ভারী হতে পারে, তা বাবাকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দেওয়ার আগে বুঝিনি। আল্লাহ বাবাকে সহি সালামতে রাখুন।

প্রবাসী বাবাকে মিস করা নিয়ে ক্যাপশন

ফোনের স্ক্রিনে বাবার হাসি দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়, আবার পরক্ষণেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে।

বাবার গায়ের ঘ্রাণ ভুলতে বসেছি, কেবল স্মৃতিগুলোই আঁকড়ে বেঁচে থাকা।

বাবা দূরে আছেন বলেই হয়তো বুঝতে শিখছি, মাথার ওপর ছায়া থাকার মূল্য কতটা।

যাকে ছাড়া একটা দিনও চলত না, তাকে ছাড়াই বছরের পর বছর পার করে দিচ্ছি।

বাবার বলা গল্পগুলো এখন আর শোনা হয় না, ব্যস্ততা আর দূরত্বের বেড়াজালে সব আটকে গেছে।

হাজার মাইল দূরে থেকেও বাবা আমাদের ভালো রাখার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন।

সুস্থ থেকো বাবা, তুমি ভালো থাকলেই আমাদের পৃথিবীটা সুন্দর থাকে।

তোমার শূন্যস্থানটা পূরণ করার সাধ্য কারো নেই, প্রতিটি মুহূর্ত তোমাকে মনে পড়ে।

পুরনো অ্যালবামে বাবার ছবি দেখার মুহূর্ত ও ক্যাপশন

অ্যালবামের এই সাদাকালো ছবিটাতে বাবার কোলে আমি, সময়টা যদি ওখানেই থমকে যেত!

ছবিগুলো কথা বলতে পারে না ঠিকই, কিন্তু স্মৃতির দুয়ার খুলে দেয় নিমিষেই।

বাবার হাত ধরে হাঁটার সেই ছোট্ট আমিটা আজ বড় একা, ছবিগুলোই এখন একমাত্র সম্বল।

ধুলোমাখা এই অ্যালবামটাই এখন আমার সময় কাটানোর সেরা সঙ্গী, বাবার ছোঁয়া পাই এখানে।

কতদিন হলো বাবার সাথে নতুন কোনো ছবি তোলা হয় না, পুরনো ছবিতেই সান্ত্বনা খুঁজি।

ছবির পেছনের সেই চনমনে তরুণ বাবা আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ, তবুও পরিবারের হাল ছাড়েননি।

অ্যালবামের পাতায় বাবাকে হাসতে দেখে নিজের অজান্তেই চোখে জল চলে আসে।

বাবার কাঁধে চড়ে মেলায় যাওয়ার দিনগুলো ছবিতে বন্দী, বাস্তবে আর ফিরে আসবে না।

প্রতিটি ছবির পেছনে লুকিয়ে আছে বাবার ভালোবাসা আর ত্যাগের একেকটি গল্প।

ছবিতে বাবার সেই সতেজ মুখটা দেখলেই বুকে এক অজানা হাহাকার জাগে।

সময় কত দ্রুত চলে যায়, ছবির মানুষটা আজ প্রবাসে, আর আমি স্মৃতির সাগরে ভাসছি।

পুরনো দিনের এই ফ্রেমগুলোই এখন আমার সবচেয়ে দামী সম্পদ।

শূন্য ঘর আর বাবার স্মৃতি – প্রবাসী সন্তানের ক্যাপশন

দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি, মনে হয় এই বুঝি বাবা অফিস থেকে ফিরে ডাক দেবেন।

বাবার ঘরটা আজ বড় বেশি শান্ত, ওই ঘরে ঢুকলেই বুকটা হু হু করে ওঠে।

বিকেলের নাস্তার টেবিলে বাবার সেই চায়ের কাপটা আর রাখা হয় না, শূন্যতা বিরাজ করে।

বাবার গলার আওয়াজ শোনার জন্য কান পেতে থাকি, কিন্তু কেবল নীরবতাই সঙ্গী হয়।

বাড়ির প্রতিটি কোণায় বাবার স্মৃতি লেগে আছে, অথচ মানুষটাই নেই।

ছাদবাগানটা বাবার খুব প্রিয় ছিল, এখন সেখানেও অযত্নের ছাপ, মালিক যে প্রবাসে।

বাবার রেখে যাওয়া চশমাটা টেবিলের ওপর পড়ে আছে, ওটাতে হাত বোলালেই বাবাকে অনুভব করি।

বাড়িভর্তি মানুষ, তবুও বাবার অভাবে সব যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগে।

বাবার সাথে বসে টিভি দেখার দিনগুলো বড্ড মিস করি, এখন রিমোট হাতে একা বসে থাকি।

বৃষ্টির দিনে বাবার সাথে বারান্দায় বসে গল্প করার মুহূর্তগুলো এখন শুধুই অতীত।

বাবার শাসন আর বকুনি খাওয়ার দিনগুলোও আজ খুব মনে পড়ে, তখন বুঝিনি কতটা দামী ছিল।

শূন্য এই ঘরটা যেন গিলে খেতে আসে, বাবাকে ছাড়া কোনো কিছুই আর আগের মতো নেই।

মাঝে মাঝে মনে হয় বাবা পাশের ঘরেই আছেন, ভুল ভাঙতেই বাস্তবতার কশাঘাত।

রেমিটেন্স যোদ্ধা বাবার জন্য ভালোবাসা ও ক্যাপশন

মরুর বুকে ঘাম ঝরিয়ে আমাদের মুখে হাসি ফোটানো মানুষটাই আমার সুপারহিরো।

নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণ করে যাচ্ছেন যিনি, তিনিই আমার বাবা।

বাবার পাঠানো টাকা খরচ করার সময় হাত কাঁপে, ওটা তো টাকা না, বাবার রক্ত-ঘাম।

ভিনদেশে কষ্টে থেকেও বাবা যখন হাসিমুখে কথা বলেন, তখন বুকটা ফেটে যায়।

আমাদের ভালো রাখার জন্য বাবা নিজের যৌবন আর স্বপ্নগুলোকে প্রবাসে কবর দিয়েছেন।

বাবার এই ত্যাগের ঋণ শোধ করার সাধ্য আমার নেই, শুধু দোয়া করি ভালো থেকো বাবা।

বাবার ঘামে ভেজা প্রতিটি পয়সায় মিশে আছে আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন।

যিনি নিজে না খেয়ে আমাদের পেট ভরান, সেই রেমিটেন্স যোদ্ধাকে স্যালুট জানাই।

বাবার ক্লান্ত শরীরটা বিশ্রাম পায় না, তবুও আমাদের আবদার মেটাতে কার্পণ্য করেন না।

ঈদের নতুন জামাটা পরার সময় বাবার পুরনো জামার কথা মনে পড়ে খুব।

প্রবাসের মাটিতে বাবাকে যারা শ্রমিক বলে, তারা জানে না আমার কাছে উনিই রাজা।

বাবার পরিশ্রমের ফলেই আজ আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি, গর্বিত আমি।

প্রবাসী বাবাকে মিস করা নিয়ে উক্তি

প্রবাসে ঘাম ঝরানো মানুষটা জানে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর ওজন ঠিক কতটা ভারী। — সমরেশ মজুমদার

দূরে থেকেও যিনি ছায়ার মতো আগলে রাখেন, তিনিই বাবা; দূরত্ব সেখানে অতি তুচ্ছ। — হুমায়ূন আহমেদ

উৎসবের আনন্দ ফিকে হয়ে যায়, যখন ঘরের মানুষটি থাকে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে। — রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

বাবার গায়ের ঘামের গন্ধে যে পরিশ্রম মিশে থাকে, তা পৃথিবীর কোনো সুগন্ধির সাধ্য নেই হার মানানোর। — সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ফোনের স্কিনে বাবার হাসিমুখটা দেখলে পৃথিবীটা খুব ছোট মনে হয়, যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। — শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পরবাসে নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করে তিনি সন্তানের আগামীর স্বপ্ন গেঁথে চলেন নিরবে। — আনিসুল হক

বাবা কাছে নেই, তাই বাড়ির শক্ত খুঁটিটা নড়বড়ে মনে হয়; আকাশটা বড্ড ফাঁকা লাগে। — ইমদাদুল হক মিলন

মাসের শেষে পাঠানো টাকাগুলোর ভাজে ভাজে মিশে থাকে বাবার দীর্ঘশ্বাস আর না বলা হাজারো কষ্ট। — বুদ্ধদেব গুহ

নিজের সবটুকু সুখ বিসর্জন দিয়ে আমাদের আবদার মেটান যিনি, তিনিই আসল হিরো, যদিও তিনি থাকেন অনেক দূরে। — প্রচলিত

প্রবাস জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে এক বুক হাহাকার নিয়ে, তবু বাবারা হাসেন, সন্তানদের ভালো রাখার আশায়। — নির্মলেন্দু গুণ

মাথার ওপর ছাদ আর পরবাসে থাকা বাবার অদৃশ্য ছায়া—দুটোই সমান ভরসার জায়গা। — নবনীতা দেবসেন

দূরত্ব শরীরের হতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের টানে বাবা সব সময়ই সন্তানের পাশেই অবস্থান করেন। — মহাদেব সাহা

বাবার শূন্যতা কোনো দামী উপহার দিয়ে পূরণ করা অসম্ভব; তিনি পাশে থাকলেই পৃথিবীটা পূর্ণ। — সুচিত্রা ভট্টাচার্য

জীবনের সব যুদ্ধ একা লড়া গেলেও বাবাকে ছাড়া প্রতিটি বিজয়ই বড় অসম্পূর্ণ। — জয় গোস্বামী

প্রবাসী বাবাকে মিস করা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট

ভিডিও কলের ওই ছোট স্ক্রিনটায় বাবাকে দেখলে মন ভরে না। ইচ্ছে করে বাবার বুকের ওপর মাথা রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকি। কতদিন হলো বাবার গায়ের গন্ধ পাই না, কতদিন হলো বাবার ওই খসখসে হাতের স্পর্শ পাই না। বাবা যখন হাসেন, তখন স্ক্রিনের এপাশ থেকে মনে হয় হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে, অথচ বাস্তবতা বড়ই কঠিন। বাবা নামক ছাদটা মাথার ওপর না থাকলে এই বড় পৃথিবীটা বড্ড অচেনা লাগে।

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে প্রায়ই ভাবি, বাবা এখন কী করছেন? হয়তো হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে ক্লান্ত শরীরে বিছানায় লুটিয়ে পড়েছেন, কিংবা আমাদের ছবি বুকে জড়িয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। প্রবাস জীবন বাবাকে আমাদের থেকে দূরে রেখেছে ঠিকই, কিন্তু মনের টান বিন্দুমাত্র কমাতে পারেনি। প্রতিটা উৎসব, প্রতিটা আনন্দ বাবাকে ছাড়া অসম্পূর্ণ। আমরা এখানে হাসি, গল্প করি, আর বাবা হাজার মাইল দূরে একা একাই সময় পার করেন।

ছোটবেলায় বাবার আঙুল ধরে হাঁটার স্মৃতিগুলো আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। এখন বড় হয়েছি, নিজের পায়ে হাঁটতে শিখেছি, কিন্তু বাবার সেই ভরসার হাতটা খুব মিস করি। বাবা যখন ফোন করে বলেন “আমি ভালো আছি”, আমি জানি কথাটা পুরোপুরি সত্য না। আমাদের ভালো রাখার জন্য তিনি নিজের ভালো থাকাটাকে বিসর্জন দিয়েছেন। এয়ারপোর্টে বাবাকে বিদায় দেওয়ার মুহূর্তটা মনে পড়লে আজও বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে ওঠে।

বাবার সাথে শেষ কবে মন খুলে ঝগড়া করেছি বা আবদার করেছি মনে নেই। কাছে থাকলে হয়তো অভিমানে কথা বলতাম না, কিন্তু দূরে থাকায় এখন শুধুই কথা বলতে ইচ্ছে করে। প্রবাসে থাকা বাবারা একেকজন সুপারহিরো, যারা নিঃশব্দে পরিবারের জন্য লড়াই করে যান। বাবাকে ছাড়া বাড়ির প্রতিটি কোণ কেমন যেন প্রাণহীন। আল্লাহ যেন পৃথিবীর সকল প্রবাসী বাবাকে সুস্থ রাখেন এবং দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন।

প্রবাসী বাবারা পরিবারের জন্য মেশিন হয়ে যায় – বাস্তব পোস্ট

মরুভূমির তপ্ত বালুতে কিংবা বিদেশের হাড়কাঁপানো শীতে বাবাদের শরীরটা এখন আর শরীর নেই, যেন এক একটা যন্ত্র। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শুধুই কাজ আর কাজ। বিশ্রাম নেওয়ার বিলাসিতা তাঁদের নেই। দেশে ফোন করলে হাসিমুখেই কথা বলেন, কিন্তু ওই হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে বুকের পাজর ভাঙা দীর্ঘশ্বাস। আমরা মাস শেষে টাকার অঙ্কটা দেখি, কিন্তু সেই টাকার গায়ে লেগে থাকা বাবার ঘাম আর চোখের জলটা দেখার ফুসৎ আমাদের হয় না।

মানুষটা একসময় কত শৌখিন ছিলেন, ভালো জামাকাপড় পরতেন, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেন। আর আজ? বছরের পর বছর একই জামা গায়ে দিয়ে কাটিয়ে দেন, নিজের জন্য একটা ভালো জুতো কিনতেও দশবার ভাবেন। অথচ আমাদের সামান্য আবদার মেটাতে কার্পণ্য করেন না। নিজেকে নিংড়ে দিয়ে পরিবারের চাকা সচল রাখতে গিয়ে তিনি আজ পুরোদস্তুর রোবট। আবেগ, ভালোলাগা, শখ—সব কিছু বিসর্জন দিয়ে তিনি এখন কেবলই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

শরীর খারাপ লাগলেও প্রবাসে বাবারা শুয়ে থাকার সুযোগ পান না। নোকিয়া বাটন ফোনের ওপাশ থেকে কখনোই বলেন না “আজ আমার শরীরটা খুব খারাপ”। পাছে পরিবারের মানুষগুলো চিন্তা করবে, সেই ভয়ে নিজের কষ্টগুলো সযত্নে লুকিয়ে রাখেন। দিনের পর দিন ওভারটাইম করেন যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর হয়। যন্ত্রের যেমন বিশ্রাম নেই, প্রবাসী বাবাদেরও ক্লান্তি থাকতে নেই। এমন জীবন কি আদৌ জীবন, নাকি পরিবারের জন্য তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে দেওয়া?

ভিসার মেয়াদ, ইকামার টেনশন, আর মালিকের বকুনি—সব সহ্য করে মুখ বুজে কাজ করে যান তাঁরা। দেশে থাকার সময় যে মানুষটা রোদে বেশিক্ষণ থাকতে পারতেন না, তিনি আজ প্রবাসের কঠিন বাস্তবতায় পাথর হয়ে গেছেন। আমরা ভাবি বাবা বিদেশে রাজার হালে আছেন, আসলে তিনি সেখানে পরিবারের সুখ কেনার গোলামি করছেন। রক্ত-মাংসের মানুষটা ধীরে ধীরে অনুভূতিহীন মেশিনে রূপান্তর হয়ে যাচ্ছেন, আর আমরা সেটা বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকি।

বাবার পাঠানো টাকায় সুখ কিনি, কিন্তু বাবাকে পাই না – পোস্ট

আলমারি ভর্তি নতুন জামা, হাতে দামি স্মার্টফোন, আর বন্ধুদের সাথে রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া—সবই হচ্ছে বাবার পাঠানো টাকায়। কিন্তু দিনশেষে যখন ঘরে ফিরি, তখন ওই দামি জিনিসগুলো বড্ড তুচ্ছ মনে হয়। মনে হয়, সব কিছু বিনিময়ে যদি বাবাকে কাছে পেতাম! টাকা দিয়ে হয়তো পৃথিবীর অনেক কিছু কেনা যায়, কিন্তু বাবার কপালে চুমু খাওয়ার সুখ বা বাবার বকুনি খাওয়ার অধিকার কেনা যায় না। আমরা প্রাচুর্যে ভাসছি ঠিকই, কিন্তু আমাদের ছাদটা হাজার মাইল দূরে।

ব্যাংকের নোটিফিকেশনটা এলেই মুখে হাসি ফোটে, মনে মনে প্ল্যান করি কী কী কিনব। অথচ একবারও ভাবি না, এই টাকাটা উপার্জনের জন্য বাবাকে কতটুকু অপমান সহ্য করতে হয়েছে। আমরা বাবার টাকায় সুখ খুঁজছি, আর বাবা আমাদের সুখে রাখার জন্য নিজের জীবনটা মরুভূমিতে মাটি চাপা দিচ্ছেন। বিলাসিতার চাদরে মোড়ানো আমাদের জীবন, কিন্তু সেই চাদরের নিচে চাপা পড়ে আছে বাবার না বলা হাহাকার।

ঈদের দিন সবার গায়ে নতুন পাঞ্জাবি, ঘরে পোলাও-মাংসের ঘ্রাণ। সব আছে, শুধু বাবা নেই। বাবার পাঠানো টাকায় কেনা পাঞ্জাবিটা গায়ে দিলে শরীরটা জ্বালা করে। মনে হয়, এই টাকার চেয়ে বাবা পাশে থাকলে ঈদটা অনেক বেশি রঙিন হতো। টাকার বান্ডিল কখনো বাবার উষ্ণ আলিঙ্গনের বিকল্প হতে পারে না। আমরা সাময়িক সুখের লোভে বাবাকে দূরে ঠেলে দিয়েছি, বিনিময়ে পেয়েছি এক বুক শূন্যতা আর আজীবন অপেক্ষা।

বাবা আমাদের জন্য এটিএম মেশিন হয়ে গেছেন। দরকার হলেই টাকা বের করি, কিন্তু মেশিনটার যত্ন নিই না। টাকার পাহাড় জমছে, দালানকোঠা হচ্ছে, কিন্তু সম্পর্কের দেয়ালটা নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। যে বাবার হাত ধরে বড় হয়েছি, সেই হাতটা ধরার জন্য আজ বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ধিক্কার জানাই সেই অভাবকে, যে অভাব মেটাতে গিয়ে বাবাকে পরবাসী হতে হলো।

প্রবাসী বাবাকে মিস করা নিয়ে ছন্দ

ফোনের ওপারে কণ্ঠ শুনে মন যে ভরে যায়,
সামনাসামনি দেখব তোমায় সেই আশায় দিন কাটায়।

পরবাসে আছো তুমি আমাদের সুখের টানে,
কতটা যে মিস করি তোমায় এই অবুঝ মন জানে।

ঈদের খুশিতে সবার বাবা পাশে থাকে যখন,
তোমার কথা মনে পড়ে অশ্রু ঝরে তখন।

বিমানের শব্দ শুনে আকাশ পানে চাই,
তুমি কবে আসবে ফিরে সেই ভাবনায় হারাই।

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গড়ছো মোদের ভুবন,
তোমার ত্যাগে হাসছে আজ আমাদের এই জীবন।

দূরে থেকেও আছো তুমি আমার হৃদয়ের মাঝে,
তোমার দেওয়া সাহস নিয়ে মগ্ন থাকি কাজে।

বাবা তুমি ছিলে যখন মাথায় ছিল ছায়া,
এখন বুঝি প্রবাসী জীবনে কতটা যে মায়া।

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় তোমার কথা ভেবে,
কবে তুমি আপন ঘরে ফিরে আসবে কবে?

ভিডিও কলে দেখি মুখ স্পর্শ করা বারণ,
তোমার দূরে থাকাটাই আমার কষ্টের কারণ।

রোদ বৃষ্টি ঝড় সয়ে থাকো ভিনদেশে,
অপেক্ষায় আছি বাবা ফিরবে তুমি হেসে।

খেলনা পাতি সব আছে নেই তো তুমি পাশে,
তোমার শূন্যতা আজ বড্ড বেশি ভাসে।

প্রবাস জীবন অনেক কঠিন জানি আমি বাবা,
তোমার জন্য দোয়া করি এটাই আমার দাবি।

সবাই বলে বিদেশ থেকে আসবে তুমি কবে,
তোমার অপেক্ষায় দিন গুনি আমরা সবাই সবে।

টাকা পয়সা চাইনা বাবা চাই তোমায় কাছে,
তুমি ছাড়া এই বাড়িতে কি আর শান্তি আছে?

তোমার ত্যাগের গল্প শুনে গর্বে বুকটা ভরে,
তাড়াতাড়ি ফিরে এসো আমাদের এই ঘরে।

প্রবাসী বাবাকে মিস করা নিয়ে কবিতা

ফোনের ওই পারে শুনি তোমার গলার স্বর,
কতদিন দেখিনা তোমায় শূন্য লাগে ঘর।
তোমার ঘামে কেনা সুখে আমরা থাকি বেশ,
বাবা তুমি কবে আসবে ছেড়ে ওই বিদেশ?

ঈদ আসে ঈদ যায় তুমি তো আসো না,
বুকভরা কষ্ট আর জমা থাকে যাতনা।
নতুন জামা গায়ে দিই মন তবু ভার,
বাবা ছাড়া উৎসব ফিকে লাগে বার বার।

প্রবাসের মাটিতে তুমি ঝরিয়েছো ঘাম,
আমাদের হাসিমুখ তোমার কাজের দাম।
নিজে না খেয়ে তুমি পাঠাও কত টাকা,
তোমায় ছাড়া বাবাগো সব লাগে ফাঁকা।

ছোটবেলার সেই দিন মনে পড়ে খুব,
তোমার কাঁধে চড়ে দিতাম খুশির ডুব।
আজ তুমি দূরে আছ সাত সাগর পারে,
অপেক্ষার প্রহর গুনি জানালার ধারে।

আকাশে বিমান দেখি আর ভাবি মনে,
তুমি কি আসছ ফিরে এই শুভ ক্ষণে?
মাথায় হাত বুলিয়ে আদর কি করবে না?
তোমার ওই শাসন ছাড়া দিন তো কাটে না।

সবার বাবা সাথে থাকে আমার বাবা নেই,
দুঃখগুলো লুকিয়ে রাখি বুকের কোণেই।
ভালো থাকার অভিনয়ে কাটে সারা দিন,
তোমার ওই ত্যাগের কাছে আমরা চিরঋণ।

মা যখন লুকিয়ে কাঁদে আঁচল দিয়ে মুখে,
বুঝি আমি মা-ও পোড়ে বিরহের অসুখে।
সংসারের চাকা ঘোরে তোমার পাঠানো ধনে,
তবু এক হাহাকার বাজে প্রতিক্ষণে।

স্বপ্ন দেখি একদিন আসবে তুমি ফিরে,
আবার জমবে আসর আমাদের এই নীরে।
জড়িয়ে ধরে বলব তোমায় যেও না আর দূরে,
বেঁধে রাখব মায়ার বাঁধনে ভালোবাসার সুরে।

প্রবাসী বাবাকে মিস করা ও কিছু কথা

ফোনের ওপাশে বাবার গলার স্বর যখন কানে ভাসে, অবুঝ মনের সব অভিমান নিমিষেই যায় ধসে। মাসের পর মাস কাটে শুধুই অপেক্ষার প্রহরে, বাবা তুমি আছো কত দূর, অচেনা এক শহরে।

ঈদের চাঁদ ওঠে আকাশে, সবার ঘরে খুশির বান, বাবা ছাড়া আমাদের উঠোনে বাজে বিষাদের গান। নতুন জামা গায়ে জড়িয়ে হাসি মুখে ছবি তুলি, ভেতরের চাপা কান্নাটা কেমনে বলো ভুলি?

মরুর বুকে রোদে পুড়ে করো তুমি হাড়ভাঙা কাজ, আমাদের মুখে হাসি ফোটাতে নাও কত শত সাজ। ঘাম ঝরানো সেই টাকায় গড়ি স্বপ্নের অট্টালিকা, তোমায় ছাড়া প্রতিটি মুহূর্ত লাগে বড় ফ্যাকাশে ও ফিকে।

ভিডিও কলে দেখি যখন তোমার ওই ক্লান্ত মুখ, মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয় জমানো সব সুখ। বলতে পারি না ভালোবাসি, গলাটা আসে ধরে, কবে আসবে ফিরে বাবা, আমাদের এই ছোট্ট ঘরে?

ছোটবেলার মতো যদি হাতটা ধরতে পারতাম আবার, ঘুচে যেত জীবনের সব কঠিন পাহাড়সম আধার। প্রবাস জীবন কেড়ে নিলো সোনালী সেই সময়, তোমার শূন্যতায় দিনগুলো বড়ই ভারী মনে হয়।

নিজের শখ আর ইচ্ছা সব দিয়েছো বিসর্জন, পরিবারের সুখেই খুঁজে নাও নিজের সব অর্জন। দূর পরবাসে কেমন আছো, বলো না তো খুলে, সব কষ্ট রাখো ঢেকে এক চিলতে হাসির মূলে।

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে হাতড়ে ফিরি তোমায় পাশে, বাবা তুমি নেই, মন যে হারায় অতল এক ফানুসে। বিদেশের মাটি কি চেনে তোমার হাতের আদর? এখানে শূন্য পড়ে আছে তোমার গায়ের চাদর।

সৃষ্টিকর্তার কাছে করি অবনত মস্তকে মিনতি, ভালো রেখো বাবাকে, দিও না কোনো ক্ষতি। নিরাপদে থেকো তুমি, থেকো সর্বদা বালামুক্ত, তোমার ঘামের ঋণেই আমরা আজো আছি যুক্ত।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *