লিও টলস্টয়ের বিখ্যাত উক্তি সমূহ: ১৪৭টি+ সংগ্রহ
রাশিয়ান সাহিত্যের এই বিশাল মহীরুহের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাদা দাড়িওয়ালা এক ঋষির মুখ, যিনি জীবনটাকে দেখেছেন একদম ভেতর থেকে। কাউন্ট থেকে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে আসা এই মহান লেখকের লিও টলস্টয়ের বিখ্যাত উক্তি সমূহ ও সেরা কালেকশন নিয়ে আমাদের আজকের নিবেদন। তাঁর কথার জাদুতে জীবনকে নতুন করে দেখার রসদ মিলবে।
লিও টলস্টয়ের বিখ্যাত উক্তি
তিনি উপন্যাস লেখেননি, লিখেছেন মানুষের আত্মার ইতিহাস। জটিল জীবনটাকে তিনি দেখেছেন খুব সহজ সমীকরণে। লিও টলস্টয়ের বিখ্যাত উক্তি গুলো পড়লে মনে হয়, তিনি যেন আমাদের মনের ভেতরের দ্বন্দ্বগুলোই শব্দে প্রকাশ করেছেন। যুগ যুগ ধরে এই কথাগুলো মানুষকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে আসছে।
সত্য সোনার মতো, একে বাড়িয়ে তোলা যায় না; বরং খাদগুলো ধুয়ে ফেললেই আসল সোনা বেরিয়ে আসে। — লিও টলস্টয়
ভুল করা মানুষের ধর্ম, কিন্তু সেই ভুল আঁকড়ে ধরে থাকা বোকামি। — লিও টলস্টয়
যদি তুমি সুখী হতে চাও, তবে হও; এর জন্য অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই। — লিও টলস্টয়
অধিকাংশ মানুষ ভুলটা করছে বলেই সেটা সঠিক হয়ে যায় না। — লিও টলস্টয়
দুটি সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধা হলো—ধৈর্য এবং সময়। — লিও টলস্টয়
মানুষের আসল পরিচয় তার কথায় না, বরং তার কাজে পাওয়া যায়। — লিও টলস্টয়
জীবনের একমাত্র অর্থ হলো মানবতার সেবা করা। — লিও টলস্টয়
শিল্প কোনো শৌখিনতা না, এটা মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগের এক গভীর মাধ্যম। — লিও টলস্টয়
মিথ্যা দিয়ে হয়তো সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু সত্য ছাড়া মুক্তি মেলা ভার। — লিও টলস্টয়
যে কাজটা তোমার করা উচিত, তা করার শক্তি ঈশ্বর তোমাকে দেবেন। — লিও টলস্টয়
বিশ্বাস হলো সেই শক্তি, যা দিয়ে আমরা অসীমকে অনুভব করতে পারি। — লিও টলস্টয়
জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী করে, আর অহংকার মানুষকে অন্ধ করে। — লিও টলস্টয়
মৃত্যুর ভয়ের চেয়ে পাপের ভয় করা উচিত। — লিও টলস্টয়
মহৎ কাজগুলো সব সময় নীরবতা এবং একাকীত্বের মাঝেই জন্ম নেয়। — লিও টলস্টয়
ওয়ার অ্যান্ড পিস থেকে সেরা উক্তি
নেপোলিয়নের আগ্রাসন আর রাশিয়ান অভিজাত সমাজের জাঁকজমক—ইতিহাসের এক বিশাল ক্যানভাসে আঁকা এই মহাকাব্যিক উপন্যাস। যুদ্ধের ভয়াবহতা আর মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ওয়ার অ্যান্ড পিস থেকে সেরা উক্তি গুলো আজও পাঠকের চিন্তার জগতকে প্রসারিত করে। এখানে ইতিহাস আর দর্শন হাত ধরাধরি করে চলে।
আমরা কেবল এটাই জানতে পারি যে আমরা কিছুই জানি না। আর এটাই মানুষের জ্ঞানের সর্বোচ্চ সীমা। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
যেখানে সরলতা, ভালোত্ব এবং সত্য নেই, সেখানে কোনো মহত্ত্ব নেই। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
সব কিছু ঠিক সময়ে তার কাছেই আসে, যে অপেক্ষা করতে জানে। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
বিশুদ্ধ এবং সম্পূর্ণ দুঃখ বলে কিছু নেই, ঠিক যেমন বিশুদ্ধ এবং সম্পূর্ণ সুখ বলেও কিছু নেই। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
রাজারা ইতিহাসের দাস। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু শিখতে পারে না, যতক্ষণ সে মনে করে যে সে সব জানে। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
যুদ্ধ জয়ের জন্য সৈনিকের সংখ্যার চেয়ে তাদের মনোবল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
জীবন খুব দ্রুত চলে যায়, তাই প্রতিটি মুহূর্তকে গভীরভাবে দেখা উচিত। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
ভালোবাসা মৃত্যু ও ভয়ের চেয়েও শক্তিশালী। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
আমরা ঘুমিয়ে থাকি যতক্ষণ না প্রেমে পড়ি। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ হলো নিজের সাথে যুদ্ধ। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
মানুষ যা চায় তা পায় না, বরং যা তার প্রাপ্য সেটাই পায়। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়, আর ভালোবাসা মানুষকে দৃষ্টি দেয়। — লিও টলস্টয় (ওয়ার অ্যান্ড পিস)
সুখ ও দুঃখ: সুখী পরিবার নিয়ে টলস্টয়ের উক্তি
সংসারের খুঁটিনাটি আর সম্পর্কের টানাপোড়েন তিনি বুঝতেন খুব ভালো। পারিবারিক জীবনের চিরন্তন সত্য আর সুখ-দুঃখের মিশেল উঠে এসেছে এই উক্তিগুলোতে। সুখী পরিবারগুলো আসলে কেমন হয়, তার একটা ধারণা পাওয়া যায় এখান থেকে।
সুখী পরিবারগুলো সব একই রকম, কিন্তু প্রতিটি অসুখী পরিবার তাদের নিজ নিজ উপায়ে অসুখী। — লিও টলস্টয়
সুখ বাইরের কোনো বস্তু না, এটা আমাদের মনের ভেতরের এক অবস্থা। — লিও টলস্টয়
পারিবারিক জীবনে সুখের মূল চাবিকাঠি হলো একে অপরকে ছাড় দেওয়া এবং বোঝা। — লিও টলস্টয়
যে পরিবারে ভালোবাসা আছে, সেখানে দারিদ্র্য থাকলেও শান্তি থাকে। — লিও টলস্টয়
সুখের জন্য খুব বেশি কিছুর দরকার নেই, ভালোবাসার মানুষের সান্নিধ্যই যথেষ্ট। — লিও টলস্টয়
দুঃখ মানুষকে পবিত্র করে এবং জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। — লিও টলস্টয়
সংসারে ঝগড়া থাকবেই, কিন্তু দিনশেষে মিল হয়ে যাওয়াই আসল সুখ। — লিও টলস্টয়
সন্তানরা হলো পরিবারের আয়না, তাদের মধ্যেই বাবা-মায়ের ছায়া দেখা যায়। — লিও টলস্টয়
একজন ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়া মানে জীবনের অর্ধেক যুদ্ধ জিতে যাওয়া। — লিও টলস্টয়
সুখ ভাগ করে নিলে বাড়ে, আর দুঃখ ভাগ করে নিলে কমে। — লিও টলস্টয়
ঘর ছোট হতে পারে, কিন্তু মন বড় হলে সেখানে সুখের অভাব হয় না। — লিও টলস্টয়
দুঃখের রাত শেষেই সুখের সূর্য ওঠে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। — লিও টলস্টয়
লিও টলস্টয়ের আনা কারেনিনা উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি সমূহ
প্রেম, পরকীয়া আর সমাজের যাতাকলে পিষ্ট হওয়ার এক মর্মান্তিক আখ্যান এই উপন্যাস। আনা’র জীবনের ট্র্যাজেডি আর লেভিন’র জীবনবোধ নিয়ে সাজানো লিও টলস্টয়ের আনা কারেনিনা উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি সমূহ প্রেমিক হৃদয়ে ঝড় তুলতে বাধ্য। ভালোবাসার জটিল সমীকরণগুলো এখানে স্পষ্ট।
শ্রদ্ধা হলো ভালোবাসার শূন্যস্থান পূরণ করার এক ধরণের সামাজিক আবিষ্কার। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
যতগুলো মাথা ততগুলো মন, ঠিক তেমনি যতগুলো হৃদয় তত ধরণের ভালোবাসা। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
সে সূর্যের দিকে তাকানোর মতো তার দিকে তাকাতে ভয় পাচ্ছিল, কিন্তু না তাকিয়েও সে তাকে অনুভব করছিল। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
আমি তোমাকে ভালোবাসি, কারণ আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারি না। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সুখের চেয়ে সত্যের ওপর দাঁড়ানো দুঃখ অনেক ভালো। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
মানুষ সবকিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু অনিশ্চয়তা সহ্য করা বড্ড কঠিন। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
সব বৈচিত্র্য, সব আনন্দ এবং জীবনের সব সৌন্দর্য তৈরি হয় আলো আর ছায়ার খেলা দিয়ে। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
ভালোবাসা হলো আগুনের মতো, যা দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
ভুল মানুষের সাথে থাকার চেয়ে একা থাকা অনেক বেশি সম্মানের। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
নারীরা হলো ধাঁধার মতো, তাদের বোঝা সহজ কাজ না। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
প্রেম মানুষকে অন্ধ করে দেয়, আবার প্রেমই মানুষকে নতুন চোখ দেয়। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
সমাজ কী ভাববে—এই চিন্তাই আমাদের জীবনের অর্ধেক আনন্দ নষ্ট করে দেয়। — লিও টলস্টয় (আনা কারেনিনা)
যুদ্ধ ও শান্তি: শান্তি নিয়ে টলস্টয়ের বাণী, অহিংসা ও মানবতা, যুদ্ধবিরোধী উক্তি
ক্রিমিয়ার যুদ্ধে তিনি নিজে অংশ নিয়েছিলেন, তাই যুদ্ধের বীভৎসতা দেখেছিলেন খুব কাছ থেকে। পরবর্তী জীবনে তিনি হয়ে ওঠেন শান্তির দূত। যুদ্ধ ও শান্তি: শান্তি নিয়ে টলস্টয়ের বাণী, অহিংসা ও মানবতা, যুদ্ধবিরোধী উক্তি গুলো আজকের এই সংঘাতময় পৃথিবীতে বড্ড প্রয়োজন।
যুদ্ধ এতটাই অন্যায় আর কুৎসিত যে, যারা যুদ্ধ করে তাদের অবশ্যই নিজেদের বিবেকের কণ্ঠরোধ করতে হয়। — লিও টলস্টয়
ঈশ্বরের দোহাই, এক মুহূর্ত থামো, কাজ বন্ধ করো এবং নিজের চারপাশে তাকাও। — লিও টলস্টয়
অহিংসাই হলো প্রেমের সর্বোচ্চ রূপ এবং জীবনের একমাত্র পথ। — লিও টলস্টয়
রক্তের দাগ রক্ত দিয়ে মোছা যায় না, তা মুছতে হয় ভালোবাসার জল দিয়ে। — লিও টলস্টয়
দেশপ্রেম অনেক সময় মানুষকে অন্ধ করে দেয় এবং যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। — লিও টলস্টয়
শান্তি বজায় রাখতে হলে আগে নিজের মনের ভেতরের যুদ্ধটা থামাতে হবে। — লিও টলস্টয়
মানুষ মানুষকে মারার জন্য তৈরি হয়নি, মানুষ তৈরি হয়েছে একে অপরকে সাহায্য করার জন্য। — লিও টলস্টয়
সত্যিকারের বীরত্ব যুদ্ধে মানুষ মারার মধ্যে নেই, বরং মানুষকে বাঁচানোর মধ্যে আছে। — লিও টলস্টয়
সরকারগুলো যুদ্ধ চায়, কিন্তু সাধারণ মানুষ সব সময় শান্তি চায়। — লিও টলস্টয়
অস্ত্রের ঝনঝনানি থামিয়ে দিলেই শান্তি আসে না, শান্তি আসে হৃদয়ের পরিবর্তন থেকে। — লিও টলস্টয়
মানবতার সেবা করাই হলো ঈশ্বরের সেবা করা, যুদ্ধ করা না। — লিও টলস্টয়
ভয়ের কারণেই মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, সাহস থাকলে সে ভালোবাসার হাত বাড়াত। — লিও টলস্টয়
লিও টলস্টয়ের মানুষ ও পরিবর্তন: নিজেকে পরিবর্তন করা নিয়ে উক্তি
আমরা সবাই বিশ্বকে বদলাতে চাই, কিন্তু কেউ নিজেকে বদলাতে রাজি নই। মানুষের এই স্বভাব নিয়ে তিনি অনেক আগেই সতর্ক করে গেছেন। লিও টলস্টয়ের মানুষ ও পরিবর্তন: নিজেকে পরিবর্তন করা নিয়ে উক্তি গুলো আপনাকে শেখাবে যে, আসল বিপ্লব শুরু হয় নিজের ভেতর থেকেই।
সবাই বিশ্বকে বদলানোর কথা ভাবে, কিন্তু কেউ নিজেকে বদলানোর কথা ভাবে না। — লিও টলস্টয়
ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই প্রকৃত জীবন যাপন করা সম্ভব হয়। — লিও টলস্টয়
নিজেকে সংশোধন করাই হলো অন্যের সংশোধনের প্রথম ধাপ। — লিও টলস্টয়
পরিবর্তন ছাড়া জীবনে কোনো উন্নতি সম্ভব না। — লিও টলস্টয়
আমরা অভ্যাসের দাস, কিন্তু সেই অভ্যাস বদলানোর ক্ষমতাও আমাদের হাতেই আছে। — লিও টলস্টয়
নিজের দোষগুলো খুঁজে বের করো এবং তা শোধরাও, এটাই আসল পরিবর্তন। — লিও টলস্টয়
মানুষ বদলায় পরিস্থিতির কারণে না, মানুষ বদলায় তার চিন্তার কারণে। — লিও টলস্টয়
তুমি যদি গতকালের মতো আজও একই মানুষ থাকো, তবে তুমি সময় নষ্ট করেছ। — লিও টলস্টয়
নিজেকে জয় করতে পারলেই বিশ্বকে জয় করা সম্ভব। — লিও টলস্টয়
মনের পরিবর্তন হলে বাইরের জগতটাও বদলে যায়। — লিও টলস্টয়
ভালো হওয়ার চেষ্টা করাটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া, যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলে। — লিও টলস্টয়
পুরনোকে আঁকড়ে ধরে থেকো না, নতুনের জন্য জায়গা ছেড়ে দাও। — লিও টলস্টয়
টলস্টয়ের বিখ্যাত বাণী
তাঁর একেকটি কথা যেন জ্ঞানের এক একটি স্ফুলিঙ্গ। ছোট ছোট বাক্যে তিনি জীবনের বিশাল সব অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছেন। টলস্টয়ের বিখ্যাত বাণী গুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনের পাথেয় হতে পারে। সত্যকে মেনে নেওয়ার সাহস সঞ্চয় করুন এখান থেকে।
“মানুষের জীবন হলো এক প্রবহমান নদী; এর জল সব সময় এক থাকে না, ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে।”
“অহংকার মানুষকে অন্ধ করে দেয়, আর বিনয় মানুষকে দৃষ্টি দান করে।”
“শিল্প হলো মানুষের সেই ভাষা, যা দিয়ে সে নিজের অন্তরের কথা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়।”
“ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর অনেক পথ আছে, আর তার মধ্যে সবথেকে সহজ পথ হলো ভালোবাসা।”
“খারাপ মানুষের সঙ্গ থাকার চেয়ে একা থাকা অনেক শ্রেয়।”
“জীবনকে বুঝতে হলে আগে ভালোবাসতে শিখতে হবে; যুক্তি দিয়ে জীবনকে মাপা যায় না।”
টলস্টয়ের শিক্ষামূলক বাণী
তিনি বিশ্বাস করতেন, সত্যিকারের শিক্ষা মানুষকে মুক্ত করে, দাস বানায় না। নিজের প্রতিষ্ঠিত স্কুলে তিনি শিশুদের সেই শিক্ষাই দিতেন। টলস্টয়ের শিক্ষামূলক বাণী গুলো গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে মানুষ হওয়ার আসল মন্ত্র শেখায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই কথাগুলো অমূল্য।
“যে বিজ্ঞান মানুষকে বাঁচতে শেখায় না, তা আদতে কোনো কাজের না।”
“শিশুদের শেখানোর আগে তাদের ভালোবাসতে হবে; ভালোবাসাবিহীন শিক্ষা অসম্পূর্ণ।”
“মানুষের মন একটা ভগ্নাংশের মতো; লব হলো তার আসল যোগ্যতা, আর হর হলো সে নিজেকে যা ভাবে।”
“বই পড়ে যা জানা যায়, তার চেয়ে ঢের বেশি শেখা যায় মানুষের জীবন দেখে।”
“প্রকৃত জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী করে, আর অল্প বিদ্যা মানুষকে অহংকারী করে তোলে।”
“ভুল স্বীকার করতে পারা শিক্ষারই একটা অংশ; জেদ ধরে বসে থাকা মূর্খতার পরিচয়।”
“জ্ঞানার্জন হলো আত্মার খাদ্য, যা ছাড়া মানুষ আত্মিক মৃত্যু বরণ করে।”
“মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাস করা যায়, কিন্তু জীবন পরীক্ষায় পাস করতে হলে বাস্তব জ্ঞান থাকা চাই।”
“শিশুর মন কাদার মতো; তাকে যেভাবে গড়বে, সে সেভাবেই গড়ে উঠবে।”
“শিক্ষকের কাজ হলো ছাত্রের মনের জানালা খুলে দেওয়া, জোর করে আলো প্রবেশ করানো না।”
যদি সুখী হতে চাও তবে হও—টলস্টয়ের বাণী
সুখ কোনো গন্তব্য নয়, এটা একটা মানসিক অবস্থা বা চয়েস। এই সহজ সত্যটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। যদি সুখী হতে চাও তবে হও—টলস্টয়ের বাণী অংশটি আপনাকে মনে করিয়ে দেবে যে, ভালো থাকার চাবিকাঠি আসলে আপনার নিজের হাতেই। অভিযোগ কমিয়ে হাসতে শিখুন।
“আনন্দ ভাগ করে নিলেই বাড়ে, জমিয়ে রাখলে তা নষ্ট হয়ে যায়।”
“অতীতের দুঃখ মনে করে বর্তমান নষ্ট করা বোকামি; যা আছে তাই নিয়ে হাসতে শেখো।”
“জীবনের আনন্দ ছোট ছোট জিনিসের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, বড় অর্জনের অপেক্ষায় থেকো না।”
“মানুষের সবথেকে বড় ভুল হলো সে মনে করে সুখ ভবিষ্যতে আসবে; অথচ সুখ বর্তমানেই আছে।”
“অন্যের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই পরম সুখ নিহিত।”
“রাগ বা অভিযোগ পুষে রেখে কখনো সুখী হওয়া সম্ভব না; ক্ষমা করে দিলেই মন হালকা হয়।”
টলস্টয়ের ফিলোসফিক্যাল স্ট্যাটাস
জীবন মানে কী? আমরা কেন বেঁচে আছি? এই অস্তিত্ববাদী প্রশ্নগুলো তাঁকে আজীবন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। যারা একটু চিন্তাশীল বা ভাবুক প্রকৃতির, তাদের জন্য টলস্টয়ের ফিলোসফিক্যাল স্ট্যাটাস গুলো মনের খোরাক জোগাবে। চিন্তার সাগরে ডুব দিতে চাইলে এই লাইনগুলো পড়ুন।
মৃত্যুর ভয়ে জীবন থেমে থাকে না, বরং জীবনের ভুলগুলোই মৃত্যুকে ভয়ংকর করে তোলে।
বর্তমান মুহূর্তই সবচেয়ে মূল্যবান, কারণ এর ওপরই আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে।
বিশ্বাস ছাড়া জীবন যাপন করা আর দিকভ্রান্ত নাবিকের মতো সাগরে ভাসা একই কথা।
ঈশ্বরের রাজ্য আমাদের ভেতরেই বিদ্যমান, বাইরে খোঁজা বৃথা।
পরিবর্তন নিয়ে টলস্টয়ের মোটিভেশনাল স্ট্যাটাস
স্থবিরতা মানেই মৃত্যু, আর গতি মানেই জীবন। সময়ের সাথে সাথে নিজেকে উন্নত করাই মানুষের ধর্ম। পরিবর্তন নিয়ে টলস্টয়ের মোটিভেশনাল স্ট্যাটাস গুলো আপনাকে আলসেমি ঝেড়ে ফেলে নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা দেবে। আজকের দিনটাই বদলানোর সেরা সময়।
গতকাল যা ছিলে, আজ তার চেয়ে ভালো হওয়ার চেষ্টাই আসল প্রগতি।
ভুল স্বীকার করে নিজেকে শোধরানো সাহসের পরিচয়।
অভ্যাসের পরিবর্তন ছাড়া চরিত্রের উন্নতি অসম্ভব।
জীবন নদীর মতো প্রবহমান, তাই এক জায়গায় আটকে থেকো না।
আরাম-আয়েশ ত্যাগের মাধ্যমেই মহৎ কাজের শুরু হয়।
সত্যের পথে চলতে গেলে হোঁচট খাওয়া স্বাভাবিক, তাই বলে থামা যাবে না।
অতীতের বোঝা টেনে ভবিষ্যৎ গড়া যায় না, তাই বোঝা নামিয়ে ফেলো।
জীবন ও বাস্তবতা নিয়ে টলস্টয়ের সেরা ক্যাপশন
কল্পনার ফানুস না উড়িয়ে তিনি মাটির পৃথিবীতে শক্ত পায়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। জীবন ও বাস্তবতা নিয়ে টলস্টয়ের সেরা ক্যাপশন গুলো রুক্ষ বাস্তবের আয়না। সোশ্যাল মিডিয়ায় মেকি দুনিয়ার ভিড়ে এই সত্য কথাগুলো আপনার ব্যক্তিত্বের ভারিক্কি ভাব ফুটিয়ে তুলবে।
মানুষের সেবা করার মধ্যেই জীবনের আসল সার্থকতা ও আনন্দ লুকিয়ে আছে।
আমরা যুদ্ধে হারার আগেই মনের কাছে হেরে যাই বলেই পরাজয় বরণ করি।
যেখানে ভালোবাসা থাকে না, সেখানেই মেকি সম্মান দিয়ে শূন্যস্থান ভরাতে হয়।
চেহারা সুন্দর হলেই যে মানুষটা ভালো হবে, এই ধারণাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।
ভুল করাটা মানুষের স্বভাব, কিন্তু সেই ভুলের পক্ষে সাফাই গাওয়াটা শয়তানের কাজ।
কুসংস্কার মুক্ত হয়ে যারা চিন্তা করতে পারে, তারাই প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন মানুষ।
ভালোবাসা ছাড়া বেঁচে থাকা আর ডানা ছাড়া পাখির ওড়ার চেষ্টা করা একই কথা।
সুখের মুহূর্তগুলো আঁকড়ে ধরো আর ভালোবাসো, কারণ এটাই পৃথিবীর একমাত্র বাস্তবতা।
মহৎ কাজ করার জন্য বড় ক্ষমতার দরকার নেই, দরকার বিশাল একটা হৃদয়ের।
লিও টলস্টয়ের জীবনমুখী ও বাস্তববাদী কথা
ধর্ম, সমাজ বা রাষ্ট্র—সবকিছুকেই তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন যুক্তির কষ্টিপাথরে। অন্ধবিশ্বাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে লিও টলস্টয়ের জীবনমুখী ও বাস্তববাদী কথা গুলো আপনাকে যুক্তিবাদী হতে শেখাবে। চোখ কান খোলা রেখে বাঁচার পাঠ নিন এই মহান ঋষির কাছ থেকে।
পৃথিবী বদলানোর স্বপ্ন সবাই দেখে, অথচ নিজের স্বভাব বদলানোর কথা কেউ চিন্তাও করে না।
সবাই মিলে একটা ভুল কাজ করলেই সেটা সঠিক হয়ে যায় না, ভুল সব সময় ভুলই থাকে।
সুখ বাইরের কোনো বস্তুর ওপর নির্ভর করে না, ওটা আসলে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়।
সম্মানের দোহাই দিয়ে মানুষ আসলে ভালোবাসার অভাবটুকু ঢেকে রাখতে চায়।
শিল্প হাতের কাজ না, ওটা শিল্পীর ভেতরের অভিজ্ঞতারই এক জীবন্ত রূপ।
আমি কে আর কেন এই পৃথিবীতে এসেছি—এই প্রশ্নের উত্তর না জানা পর্যন্ত বেঁচে থাকাটাই অসম্ভব।
মুক্তমনা তারাই, যারা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে জানে।
বিশ্বাসই হলো জীবনের মূল চালিকাশক্তি, যা ছাড়া মানুষ এক কদমও এগোতে পারে না।
প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ক অটুট রাখাই সুখের প্রথম শর্ত, ওটা ছিঁড়ে ফেললে শান্তি মিলবে না।
আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা মানে নিজের কাঁধেই নতুন বোঝা চাপানো।
মিথ্যা দিয়ে হয়তো সাময়িক সম্মান পাওয়া যায়, কিন্তু সত্যের মুখোমুখি হলে সব ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
