বেকার ছেলের কষ্টের ক্যাপশন: সেরা ২৮৪+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
পকেটে টাকা না থাকলে এই পৃথিবীটা বড্ড অচেনা লাগে। সমাজ, সংসার, এমনকি প্রিয় মানুষটাও তখন মুখ ফিরিয়ে নেয়। আমাদের এই আয়োজন সেই সব যোদ্ধাদের জন্য, যারা প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়, অথচ দিনশেষে শূন্য হাতে ঘরে ফেরে।
বেকার ছেলের কষ্টের স্ট্যাটাস আইডিয়া
বেকারত্বের সার্টিফিকেট গলায় ঝুলিয়ে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় শাস্তি।
পকেটে টাকা না থাকলে নিজের ছায়াও সঙ্গ দিতে দ্বিধা করে।
যোগ্যতার মাপকাঠি এখন শুধুই বেতন বা ব্যাংকের অংক।
বেকার ছেলের দীর্ঘশ্বাস শোনার মতো সময় এই ব্যস্ত শহরের নেই।
সার্টিফিকেটগুলো ফাইলের ভাজে, আর স্বপ্নগুলো বাস্তবের জাঁতাকলে পিষ্ট।
সমাজ সম্মান দেয় পকেট দেখে, মেধা দেখে কজন বিচার করে?
বেকার জীবনটা অনেকটা জেলখানার মতো, দেয়াল নেই তবুও বন্দি।
মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলের বেকারত্বের জীবন নিয়ে স্ট্যাটাস
বড় ছেলের কাঁধে দায়িত্বের বোঝা, অথচ পকেট গড়ের মাঠ।
বাবার ওষুধের টাকা জোগাড় করতে না পারার অক্ষমতা কুরে কুরে খায়।
সংসারের হাল ধরার বয়সে নিজেই বোঝা হয়ে আছি।
ছোট ভাই-বোনের আবদার মেটাতে না পারার লজ্জা লুকাই হাসির আড়ালে।
মধ্যবিত্তের বড় ছেলে হওয়া মানেই জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকা।
বাবার রিটায়ারমেন্টের পর ছেলের বেকার থাকাটা এক বড় অভিশাপ।
নিজের শখগুলো বিসর্জন দিয়েছি পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে।
পকেট শূন্য আর এক বুক হাহাকার নিয়ে স্ট্যাটাস
পকেট শূন্য থাকলে ভালোবাসাও জানালা দিয়ে পালায়।
রোদচশমার আড়ালে ভেজা চোখ লুকানোর কৌশলটা রপ্ত করেছি।
টাকা নেই তো আত্মীয় নেই, এটাই চরম সত্য।
শূন্য পকেটে রাজপথে হাঁটার কষ্টটা বড্ড বেশি।
ক্ষুধার্ত পেটে স্বপ্নের ফেরি করে বেড়াই শহরের অলিতে গলিতে।
পকেটের ওজন কমলে মানুষের কদরও কমে যায় জ্যামিতিক হারে।
হাহাকার বুকে চেপেই হাসিমুখে বলি, ‘ভালো আছি’।
বেকার জীবনের নিঃসঙ্গতা ও হৃদয়ছোঁয়া স্ট্যাটাস
সুসময়ের বন্ধুরা এখন ফোন ধরতেও ব্যস্ততার দোহাই দেয়।
চার দেয়ালের মাঝে বন্দি জীবনে হতাশা ছাড়া কোনো সঙ্গী নেই।
একাকীত্ব এখন আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু।
বেকারত্বের অভিশাপে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপের বাসিন্দা আমি।
সবাই এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমি থমকে আছি এক অজানা স্টপেজে।
রাতের নীরবতায় ছাদের কার্নিশে বসে নিজের ব্যর্থতা গুনি।
কেউ খবর নেয় না, কারণ আমি যে এখনো সফল হতে পারিনি।
বেকার ছেলের কষ্টের ক্যাপশন
বেকারত্বের এই অভিশাপটা কাঁধের ওপর পাথরের মতো চেপে বসেছে।
সারাদিন হাসিমুখে থাকলেও রাতে বালিশের নিচেই জমা হয় আমার দীর্ঘশ্বাস।
ডিগ্রির কাগজগুলো হাতে নিয়ে ভাবি, এগুলোর ভার বইতে আমি বড্ড ক্লান্ত।
ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে বের হয়ে শূন্য হাতে ফেরার কষ্টটা কাউকে বোঝানো যায় না।
বেকার ছেলের প্রেমিকা থাকতে নেই, এই সত্যটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।
বন্ধুরা যখন পার্টি করে, আমি তখন চাকরির বিজ্ঞাপনে চোখ রাখি।
মানুষের কটু কথা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে, তবুও চুপ থাকি।
নিজের ছায়াটাও মাঝে মাঝে আমাকে ব্যঙ্গ করে, বলে তুই একটা বোঝা।
শূন্য পকেট ও অনিশ্চিত গন্তব্য নিয়ে সেরা ক্যাপশন
পকেট ফাঁকা থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষটাও অচেনা আচরণ করে।
বাসভাড়া বাঁচানোর জন্য মাইলের পর মাইল হেঁটে চলাটাই এখন আমার রুটিন।
শূন্য পকেটে শহরের রাস্তায় ঘোরার সময় নিজেকে বড্ড অসহায় লাগে।
আগামীকাল কী হবে জানি না, অনিশ্চয়তার মাঝেই দিন পার করছি।
পকেটে টাকা না থাকলে আত্মবিশ্বাসটাও ধুলোয় মিশে যায় নিমিষেই।
ক্ষুধা পেলেও পকেটের দিকে তাকিয়ে পানি খেয়ে পেট ভরাতে হয়।
শূন্য পকেট আমাকে শিখিয়েছে মানুষ কতটা স্বার্থপর হতে পারে।
রাস্তার ধারের সস্তা খাবারটাও এখন আমার কাছে বিলাসিতা মনে হয়।
টাকা নেই বলে বন্ধুদের আড্ডা থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় চোখের ঘুমটাও আজ আমার থেকে দূরে।
স্বপ্ন ও বাস্তবতার দ্বন্দ্বে পিষ্ট বেকার ছেলের ক্যাপশন
ফাইলের নিচে চাপা পড়ে আমার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নগুলো আজ মৃত।
বাস্তবতার কষাঘাতে আমার ইচ্ছেগুলো দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে গেছে।
স্বপ্ন দেখতাম বিশ্বজয়ের, এখন যুদ্ধ করছি দুমুঠো ভাতের জন্য।
ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়ে আমি আমার সত্তাটাকে হারিয়ে ফেলেছি।
বাস্তবতা এত কঠিন হবে জানলে হয়তো কখনো বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম না।
পছন্দের কাজটা করার বিলাসিতা এখন আর আমার সাজে না।
জীবিকার তাগিদে নিজের শখগুলোকে গলা টিপে হত্যা করেছি।
স্বপ্ন আর বাস্তবতার এই দ্বন্দ্বে আমি এক পরাজিত সৈনিক।
যে হাত দিয়ে তুলি ধরার কথা ছিল, সেই হাতে আজ চাকরির দরখাস্ত।
বাস্তবতার কষাঘাতে আমার রঙিন দিনগুলো সাদাকালো হয়ে গেছে।
বেকার ছেলের কষ্টের উক্তি
পকেটে টাকা না থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষগুলোও অচেনা আচরণ শুরু করে। — হুমায়ূন আহমেদ
বেকার ছেলের দীর্ঘশ্বাস বাতাসের চেয়েও ভারী, কিন্তু তা দেখার মতো চোখ সমাজের নেই। — সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সার্টিফিকেটের ওজন যত বাড়ে, বেকার ছেলের কাঁধের বোঝা ততই ভারী হতে থাকে। — সমরেশ মজুমদার
সমাজ যোগ্যতা দেখে না, সমাজ দেখে মাস শেষে তুমি কত টাকা ঘরে তোলো। — শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বাবার চোখের দিকে তাকাতে না পারার যন্ত্রণাই হলো বেকারত্বের সবচেয়ে বড় শাস্তি। — বুদ্ধদেব গুহ
যে ছেলেটা বন্ধুদের আড্ডা এড়িয়ে চলে, সে অহংকারী না; সে আসলে নিজের অক্ষমতা লুকাতে চায়। — ইমদাদুল হক মিলন
বেকারত্ব কোনো অভিশাপ না, এটা হলো ধৈর্যের এক কঠিন পরীক্ষা; যা সবাইকে দিতে হয় না। — মহাদেব সাহা
প্রেমিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে অন্যের সাথে, আর বেকার ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে কেবল দর্শক হয়ে। — আনিসুল হক
ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে বের হয়ে একরাশ হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথটা বড্ড দীর্ঘ মনে হয়। — সেলিনা হোসেন
যোগ্যতা থাকার পরেও যখন সুযোগ মেলে না, তখন নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় মানুষ মনে হয়। — নির্মলেন্দু গুণ
বেকার ছেলের প্রেমিকা থাকে না, থাকে একবুক ধুলোজমা স্বপ্ন আর নীরব হাহাকার। — রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সব কিছু সহ্য করা যায়, কিন্তু পরিবারের মানুষের দেওয়া খোটা সহ্য করা কঠিন। — তসলিমা নাসরিন
জুতো ক্ষয় হয়ে যায় চাকরির খোঁজে, কিন্তু ভাগ্য দেবতা সদয় হতে চায় না। — হেলাল হাফিজ
বেকার জীবন নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী উক্তি
মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলেটা জানে, এক কাপ চায়ের দাম কত এবং সেটা জোগাড় করা কতটা কঠিন। — হুমায়ূন আহমেদ
বেকার থাকার একটা সুবিধা আছে, তখন বোঝা যায় কে আসলে আপন আর কে অভিনয়ের মুখোশ পরে আছে। — হুমায়ূন আহমেদ
যে ছেলেটা রোদে পুড়ে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যায়, তার ঘামের গন্ধে কোনো বিলাসিতা থাকে না। — হুমায়ূন আহমেদ
বেকার ছেলেরা হিমু হতে চায় না, তারা চায় একটা সাধারণ চাকরি আর একটু সম্মান। — হুমায়ূন আহমেদ
পকেটে শূন্যতা নিয়ে প্রেম করা যায় না, এটা রূপকথায় মানায়; বাস্তবে না। — হুমায়ূন আহমেদ
বাবার পেনশনের টাকায় ভাত খাওয়ার সময় গলার কাছে দলা পাকিয়ে কান্না আটকে থাকে। — হুমায়ূন আহমেদ
বেকারত্ব মানুষকে দার্শনিক বানিয়ে দেয়, তখন সে জীবনের এমন সব দিক দেখে যা অন্যরা দেখে না। — হুমায়ূন আহমেদ
চাকরির ইন্টারভিউগুলো আসলে এক একটা অপমান করার আসর, যেখানে ভদ্রভাবে ছোট করা হয়। — হুমায়ূন আহমেদ
বেকার ছেলের ঈদ আসে না, তার আসে কেবল একরাশ লজ্জা আর নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা। — হুমায়ূন আহমেদ
মা যখন গোপনে হাতে কিছু টাকা গুঁজে দেয়, তখন মনে হয় পৃথিবীটা ফেটে চৌচির হয়ে যাক। — হুমায়ূন আহমেদ
শহরের রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে হেঁটে বেড়ানোর নামই বেকার জীবন, যেখানে কোনো গন্তব্য নেই। — হুমায়ূন আহমেদ
সবাই সফলতার পেছনে ছোটে, কিন্তু বেকার ছেলেটা ছোটে একটু বেঁচে থাকার আশায়। — হুমায়ূন আহমেদ
হতাশা যখন গ্রাস করে, তখন হিমুর মতো জোছনা দেখাও বিলাসিতা মনে হয়। — হুমায়ূন আহমেদ
বেকার ছেলের কষ্টের ফেসবুক পোস্ট
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতেই মায়ের চিন্তিত মুখ আর বাবার দীর্ঘশ্বাস—এভাবেই দিন শুরু হয়। পকেটে ফুটো পয়সা নেই, অথচ কাঁধে পাহাড় সমান দায়িত্ব। ইন্টারভিউ বোর্ডের দরজা থেকে যখন খালি হাতে ফিরি, তখন নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় মানুষ মনে হয়। জুতোর তলা ক্ষয়ে গেছে চাকরির খোঁজে, কিন্তু ভাগ্য খোলার নাম নেই।
আত্মীয়-স্বজনদের সামনে যেতে লজ্জা লাগে। তাদের প্রথম প্রশ্নই থাকে—”বাবা, কিছু করছ?” এই সহজ প্রশ্নটা যে বুকের ভেতর কতটা রক্তক্ষরণ ঘটায়, তা বোঝানোর ভাষা নেই। উৎসবের দিনে সবাই যখন আনন্দ করে, আমি তখন ঘরের কোণে মুখ লুকাই। বেকার ছেলের কোনো উৎসব থাকতে নেই।
যাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেও বাস্তবতা দেখিয়ে চলে গেল। দোষ দেব না, কারণ অভাবের সংসারে ভালোবাসা জানলা দিয়ে পালায়। বেকারত্বের অভিশাপ আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন আমি নিজের ছায়ার দিকে তাকাতেও ভয় পাই।
খাবারের টেবিলে বসলে মনে হয় আমি অন্যের উপার্জনে খাচ্ছি। এই গ্লানি সহ্য করা মৃত্যুর চেয়েও কঠিন। বন্ধুরা যখন স্যালারি পাওয়ার স্ট্যাটাস দেয়, তখন নিজেকে বড্ড ছোট লাগে। হিংসা হয় না, কিন্তু নিজের অক্ষমতার জন্য বুকটা ফেটে যায়।
সারাদিন বাইরে ঘুরে যখন ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরি, তখন মনে হয় পৃথিবীটা আমার জন্য না। অথচ একসময় আমিও ক্লাসের ফার্স্ট বেঞ্চে বসতাম, চোখে অনেক স্বপ্ন ছিল। আজ সেই স্বপ্নগুলো ফাইলের নিচে চাপা পড়ে গেছে। জীবনটা যে এত কঠিন হবে, ভাবিনি।
সমাজের চোখে বেকার ছেলে কি কেবলই অপদার্থ? পোস্ট
আমাদের সমাজে মানুষের দাম তার স্যালারি স্লিপ দিয়ে বিচার করা হয়। সার্টিফিকেট বা মেধার কোনো মূল্য নেই, যদি না পকেটে টাকা থাকে। একটা ছেলে সৎ পথে চলার চেষ্টা করছে, সেটা কারো চোখে পড়ে না। সবার চোখ তার চাকরির দিকে। চাকরি নেই তো সম্মান নেই।
বেকার মানেই কি বোঝা? অথচ এই ছেলেটাই হয়তো পরিবারের বাজার করে, বাবা-মায়ের সেবা করে। কিন্তু মাস শেষে টাকা দিতে পারে না বলে তার সব কাজ তুচ্ছ হয়ে যায়। মানবিকতা বা ভালো আচরণের কোনো বাজারমূল্য নেই এই স্বার্থপর সমাজে।
আজ যে ছেলেটাকে আপনারা অবহেলা করছেন, কাল সে ঘুরে দাঁড়ালে তখন আবার কাছে আসবেন। সময় তো একরকম থাকে না। লোহা পুড়ে যেমন ইস্পাত হয়, বেকারত্বের আগুনে পুড়ে সেও একদিন খাঁটি সোনা হয়ে উঠবে। তখন এই অপদার্থ তকমা দেওয়া মানুষগুলোই লজ্জায় মুখ লুকাবে।
টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায়, কিন্তু মনুষ্যত্ব কেনা যায় না। বেকার ছেলেটার পকেট ফাঁকা হতে পারে, কিন্তু তার মনটা হয়তো অনেক বড়। সে কাউকে ঠকায় না, মিথ্যা বলে না। অথচ দুর্নীতি করে বড়লোক হওয়া মানুষটাকে সমাজ মাথায় তুলে নাচে। এই বিচার কি সঠিক?
সফলতার সংজ্ঞা পাল্টানো দরকার। বড় চাকরি বা দামী গাড়িই সফলতার মাপকাঠি হতে পারে না। একজন ভালো মানুষ হওয়াও অনেক বড় সফলতা। বেকার ছেলেটা পরিস্থিতির শিকার হতে পারে, কিন্তু সে অপরাধী না। তাকে একটু সাহস দিন, দেখবেন সেও একদিন বিশ্ব জয় করবে।
বেকার ছেলের কষ্টের ছন্দ
পকেটে নেই কানাকড়ি, তবুও হাসছি রোজ
বেকার ছেলের খবর বলো, কে আর রাখে খোঁজ?
সার্টিফিকেটটা আলমারিতে, খাচ্ছে দেখো উঁই
স্বপ্ন ছোঁয়ার ইচ্ছে থাকলেও, সাধ্য যে নাই ছুঁই।
ইন্টারভিউয়ের দারে দারে, জুতোর তলা ক্ষয়
বেকার ছেলের কপালে ভাই, শুধুই পরাজয়।
প্রেমিকাও বলল সেদিন, চাকরিটা কি হলো?
খালি পকেটের ভালোবাসা, বাসি হয়ে গেল।
বাবার চোখের দিকে আমি, তাকাতে পাই ভয়
বেকার ছেলের জীবন মানেই, শুধুই সংশয়।
বন্ধুদের সব উন্নতি দেখে, দীর্ঘশ্বাসই সার
বেকারত্বের বোঝাটা যে, বড্ড গুরুতর।
যোগ্যতা তো অনেক আছে, নেই শুধু ওই মামা
তাই তো আমার গায়ে জুটল, না নতুন জামা।
সকাল বেলার রোদটা যেন, লাগে বিষের মতো
বেকার ছেলের বুকে জমে, হাজারো এক ক্ষত।
আত্মীয়রা খোটা মারে, করে অপমান
টাকা ছাড়া সমাজেতে, নেই তো কোনো স্থান।
মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে, বেকার থাকার জ্বালা
না পারি সইতে আমি, না পারি হতে কালা।
ঈদের দিনেও পুরনো সাজ, মলিন আমার মুখ
বেকার ছেলের কপালে ভাই, জুটবে না তো সুখ।
সবাই যখন এগিয়ে যায়, আমি থাকি পিছে
আশ্বাস আর সান্ত্বনা সব, মনে হয় যে মিছে।
মায়ের আঁচল ধরে ভাবি, ভাগ্য কেন এমন?
বেকার ছেলের জীবনটা ভাই, নরকেরই মতন।
রাত জাগা ওই তারারা জানে, আমার মনের কথা
বেকারত্বের দহনে ভাই, বাড়ছে শুধুই ব্যথা।
কবে যে দিন ফিরবে আমার, ফুটবে মুখে হাসি
বেকারত্বের অভিশাপে, জ্যান্ত আমি ফাঁসি।
বেকার ছেলের কষ্টের কবিতা
জুতো জোড়া ক্ষয়ে গেছে অফিসের দরজায়,
ফাইলের ভারে কাঁধটা নুয়ে পড়েছে অবেলায়;
মেধার দাম কষে না কেউ, চায় খালি মামার জোর,
বেকার ছেলের জীবনে তাই কাটে না আঁধার ঘোর।
বাবার চোখের দিকে তাকাতে বড্ড ভয় পাই,
রিটায়ার্ড মানুষটা ওষুধ কেনে, আমি চেয়ে দেখি তাই;
নিজের পকেট শূন্য, বুকে পাহাড় সমান ভার,
বেঁচে থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় ধিক্কার।
প্রেমিকাও আজ অন্য ঘরে ঘর বেঁধেছে সুখে,
বেকারের প্রেমে কি আর পেট ভরে, ভাতের দুখে?
বাস্তবতা বড়ই কঠিন, আবেগ সেখানে তুচ্ছ,
চাকরিহীন যুবকের স্বপ্নগুলো তাই গুচ্ছ গুচ্ছ।
বন্ধুরা সব সেটেল্ড, গাড়িতে করে ঘোরে,
আমি তখন বাসের ভিড়ে ঘামছি অকাতরে;
ইন্টারভিউ বোর্ড মানেই তো নতুন এক অপমান,
ডিগ্রিগুলো কাগজের মতো, হারিয়েছে সব মান।
মায়ের ওই মলিন শাড়িটা বদলানো দরকার,
ইচ্ছে থাকলেও উপায় তো নেই, আমি যে বেকার;
লুকিয়ে কাঁদি ছাদের কোণে, কেউ রাখে না খোঁজ,
সমাজ কেবল সফলতারই হিসেব কষে রোজ।
চায়ের দোকানে আড্ডা দিতেও সংকোচ জাগে মনে,
বিলটা কে দেবে? এই চিন্তাই ভাবায় ক্ষণে ক্ষণে;
আত্মসম্মান বিকিয়ে দিয়ে আর কতকাল চলা?
বেকারত্বের জ্বালা যে কি, যায় না মুখে বলা।
রোদে পোড়া তামাটে রঙ, চোখেমুখে ক্লান্তি,
তবুও ঘরে ফেরা বারণ, নেই কোনো শান্তি;
চাকরি নামের সোনার হরিণ, তুমি আছো কোথায়?
তোমার লাগি জীবনটা আজ ডুবল হতাশায়।
আত্মীয়রা খোঁটা দেয়, বলে—”কি করছিস বল?”
উত্তরে চুপ করে থাকি, চোখে আসে জল;
যোগ্যতার মাপকাঠি আজ বেতনের ওই অঙ্কে,
মানুষ হিসেবে দাম নেই, আছি বড় শঙ্কে।
তবুও লড়াই থামবে না, হারব না তো আমি,
একদিন ঠিক ঘুরবে চাকা, হব আমিও দামী;
প্রত্যাখ্যানের আগুনে পুড়েই হচ্ছি আমি খাঁটি,
সাফল্য ঠিক আসবে ধরা, ছোঁব এই মাটি।
বেকার ছেলের কষ্ট ও কিছু কথা
পকেটে টাকা না থাকলে নিজের ছাদের নিচেও নিজেকে বড্ড আগন্তুক মনে হয়।
প্রেমিকা চলে যাওয়ার চেয়েও বেশি কষ্ট দেয় বাবার মলিন মুখের দিকে তাকানো।
আত্মীয়রা যখন ‘কী করছো’ জিজ্ঞেস করে, তখন মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করে।
বন্ধুদের আড্ডা এখন আর যাওয়া হয় না, কারণ পকেটের শূন্যতা আত্মসম্মানে বাঁধে।
মায়ের হাতের খাবারটাও মাঝে মাঝে গলার কাছে দলা পাকিয়ে আটকে যায় লজ্জায়।
উৎসবের দিনগুলো এখন আর আনন্দের বার্তা আনে না, বরং দীর্ঘশ্বাসের কারণ হয়।
সমাজ যোগ্যতা দেখে না, মাস শেষে বেতনের অংকটাই তাদের কাছে সম্মানের মাপকাঠি।
বাবার ওষুধের টাকাটা দিতে না পারার যন্ত্রণা কোনো ব্যথানাশকেও কমে না।
ভালোবাসার মানুষটা হয়তো অপেক্ষা করতে চায়, কিন্তু পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করে সরে যেতে।
সারাদিন ল্যাপটপের সামনে বসে থাকা ছেলেটা আসলে অলস না, সে নিরুপায় যোদ্ধা।
ঈডের দিনে পুরোনো পাঞ্জাবি পরার কষ্ট গায়ে লাগে না, লাগে বাবার চোখের দিকে তাকালে।
বেকার ছেলের কোনো প্রেমিক বা বন্ধু থাকে না, থাকে একরাশ একাকিত্ব।
সবাই সফলতার গল্প শুনতে চায়, ব্যর্থতার পেছনের ঘাম আর চোখের জল কেউ দেখে না।
