সন্তানের জন্য দোয়া চেয়ে ক্যাপশন: সেরা ২৫৬+ স্ট্যাটাস আইডিয়া

সন্তান হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক পবিত্র আমানত। তাদের হাসি দেখলে বাবা-মায়ের সব দুঃখ মুছে যায়, আবার তাদের সামান্য কষ্টেও পৃথিবীটা অন্ধকার মনে হয়। একজন বাবা বা মা হিসেবে আপনি সবসময়ই চান আপনার কলিজার টুকরাটি ভালো থাকুক, নিরাপদে থাকুক। সন্তানের মঙ্গল কামনায় রবের দরবারে হাত তোলা কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চাওয়ার জন্য আমাদের এই বিশেষ আয়োজন। এখানে পাবেন হৃদয়ের আকুতি মেশানো সেরা সব স্ট্যাটাস ও ক্যাপশন।

এখানে আপনি পাবেন

সন্তানের জন্য দোয়া চেয়ে উক্তি

হে আমার প্রতিপালক, আমাকে এবং আমার সন্তানদের সালাত প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে কবুল করো; হে আমাদের রব, আমার দোয়া গ্রহণ করো। — আল-কুরআন (সূরা ইব্রাহিম: ৪০)

পিতা-মাতার দোয়া সন্তানের জন্য এমন এক বর্ম, যা ভেদ করার সাধ্য পৃথিবীর কোনো অস্ত্রের নেই। — আল-হাদিস

হে আল্লাহ, আমার সন্তানদের চোখের শীতলতা এবং মুত্তাকীদের ইমাম হিসেবে গড়ে তোলো। — আল-কুরআন (সূরা ফুরকান: ৭৪)

সম্পদ বা ক্ষমতা না, একজন নেককার সন্তানই হলো পরকালে বাবা-মায়ের শ্রেষ্ঠ সম্বল। — আল-হাদিস

সন্তানের জন্য দামী খেলনা কেনার চেয়ে জায়নামাজে বসে চোখের জল ফেলা অনেক বেশি কার্যকর। — ইমাম গাজ্জালী

তিনটি দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়, তার মধ্যে একটি হলো সন্তানের জন্য পিতার দোয়া। — রাসূলুল্লাহ (সা.)

হে দয়াময়, আমার কলিজার টুকরোকে সব ধরণের বদনজর এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করো। — মায়ের প্রার্থনা

সন্তানকে কেবল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখিও না, তাকে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার দোয়া করো। — এ.পি.জে. আব্দুল কালাম

দুনিয়ার চাকচিক্য যেন তাদের অন্ধ না করে, ঈমানের আলোয় তারা যেন আলোকিত থাকে—এই ফরিয়াদ। — বাবা-মায়ের আকুতি

নেককার সন্তান হলো সাদাকায়ে জারিয়া, মৃত্যুর পরেও যার সওয়াব কবরে পৌঁছাতে থাকে। — সহীহ মুসলিম

আল্লাহ, তুমি আমার সন্তানদের রিজিকের দরজা খুলে দাও এবং তাদের হালাল পথে চলার তৌফিক দাও। — রিজিক বৃদ্ধির দোয়া

সন্তান আল্লাহর দেওয়া আমানত, তাই তাদের জন্য দোয়া করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। — হযরত আলী (রাঃ)

সন্তানের জন্য দোয়া চেয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া

আমার সন্তানের অনাগত ভবিষ্যৎ সুন্দর ও মসৃণ হোক, আপনাদের দোয়া চাই। — ভবিষ্যৎ কামনা

সন্তানের মঙ্গলের জন্য আপনাদের সবার আশীর্বাদ একান্ত কাম্য। — শুভাকাঙ্ক্ষী

আমার কলিজার টুকরোটি যেন সবসময় নিরাপদে থাকে, এই প্রার্থনা করবেন। — নিরাপত্তা

মহান রবের কাছে সঁপে দিলাম আমার সন্তানের ভালো-মন্দ। — ভরসা

আপনাদের দোয়াই পারে আমার সন্তানের পথচলা সহজ করতে। — মিনতি

সবার ভালোবাসার ছায়ায় বেড়ে উঠুক আমার আদরের ধন। — ভালোবাসা

সন্তানের সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনায় ইসলামিক স্ট্যাটাস

ইয়া রব, আমার সন্তানকে সব ধরণের বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করুন। — প্রার্থনা

আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ, আমার সন্তান যেন নেক হায়াত ও সুস্থতা পায়। — নেক হায়াত

হে দয়াময়, আমার সন্তানকে আপনি আপনার রহমতের চাদরে আবৃত রাখুন। — রহমত

রোগ-শোক থেকে মুক্তি দিয়ে আমার সন্তানকে পরিপূর্ণ শেফা দান করুন। — শেফা

আল্লাহ যেন আমার সন্তানকে দ্বীনের পথে চলার তৌফিক দেন। — হেদায়েত

ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ দান করুন আমার আদরের সন্তানকে। — কল্যাণ

রবের কাছে একটাই চাওয়া, সন্তানকে ঈমানের সাথে দীর্ঘজীবী করুন। — ঈমানি জিন্দেগি

আল্লাহ আমার সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করুন – স্ট্যাটাস

কাগজের সার্টিফিকেটের চেয়ে আমার সন্তান যেন মানবিক গুণাবলীতে সেরা হয়। — মানবিকতা

হে আল্লাহ, আমার সন্তানকে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে কবুল করুন। — সততা

বড় মানুষ হওয়ার আগে ও যেন ভালো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। — ভালো মানুষ

মানুষের উপকারে আসে এমন সন্তান হিসেবে ওকে কবুল করে নিন। — পরোপকার

অন্ধকারের পথ ছেড়ে ও যেন সবসময় আলোর পথে হাঁটে। — সঠিক পথ

ওর চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র হোক, রবের কাছে এই মিনতি। — চরিত্র গঠন

পরীক্ষার আগে সন্তানের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়ার স্ট্যাটাস

সামনেই কঠিন পরীক্ষা, আমার সন্তানকে আপনারা খাস দিলে দোয়া করবেন। — পরীক্ষা

মেধা আর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন যেন ও পায়, রবের কাছে এটাই চাই। — সাফল্য

পরীক্ষার হলে আল্লাহ ওর সহায় হোন, কলম যেন না থামে। — সহায়তা

টেনশন মুক্ত হয়ে ও যেন নিজের সেরাটা দিতে পারে। — মনোবল

সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ও যেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। — লক্ষ্য

আমার সন্তানের পরীক্ষার ফলাফলে বরকত দান করুন। — বরকত

সন্তানের জন্য দোয়া চেয়ে ক্যাপশন

মহান রবের দরবারে হাত তুলেছি, আমার কলিজার টুকরোটাকে নেক হায়াত দান করো।

পৃথিবীর সব আলো যেন ওর কপালে জোটে, এই ফরিয়াদ করি সৃষ্টিকর্তার কাছে।

আল্লাহ আমার সন্তানকে দ্বীনের পথে চলার তৌফিক দান করুন, আমিন।

তোমার রহমতের চাদর দিয়ে আমার বাছাকে সবসময় জড়িয়ে রেখো দয়াল।

আমার ইহকাল আর পরকালের মুক্তির উসিলা হোক আমার এই সন্তান।

রবের কাছে একটাই আর্জি, আমার সন্তানের ভুবনটা সুখে ভরিয়ে দিও।

ওর হাসিমুখটা যেন কখনো মলিন না হয়, আল্লাহ সহায় হোন।

কুরআনের আলোয় আলোকিত হোক আমার সন্তানের আগামী পথচলা।

সততা আর নিষ্ঠার সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচো বাবা, এই দোয়া করি।

তোমার কপালে যেন রাজটিকা থাকে, আর হৃদয়ে থাকে আল্লাহর ভয়।

অসুস্থ সন্তানের আরোগ্য কামনায় বাবা-মায়ের আকুতি ও ক্যাপশন

হাসিমুখটা মলিন দেখলে দম বন্ধ হয়ে আসে, আল্লাহ আমার সন্তানকে সুস্থতা দান করো।

বিছানায় পড়ে থাকা ছোট্ট শরীরটা দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে, দয়া করো মাবুদ।

ওষুধের চেয়ে এখন তোমার রহমত বেশি প্রয়োজন, শাফা দান করো আমার মানিককে।

জ্বরের ঘোরে বাচ্চার ওই আর্তনাদ শোনার সাধ্য আমার নেই, ওকে সুস্থ করে দাও।

হে আরোগ্য দানকারী, আমার সন্তানের সব কষ্ট দূর করে দাও নিমিষেই।

বাবা-মায়ের চোখের জল বৃথা যেতে দিও না, আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দাও।

হাসপাতালের এই চারদেয়ালে আর মন টিকছে না, সুস্থ হয়ে ঘরে চলো বাবা।

বাচ্চার শরীরের প্রতিটি ব্যথার উপশম করে দাও হে পরম করুণাময়।

তোমার কুদরতি হাতে আমার অসুস্থ সন্তানকে শেফা দান করো আল্লাহ।

বিপদ থেকে উদ্ধার করার মালিক তুমিই, আমার সন্তানকে রক্ষা করো।

আল্লাহ আমার সন্তানকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করুন – ক্যাপশন

তোমার অসীম কুদরতে আমার সন্তানকে সব বালা মুসিবত থেকে আগলে রেখো।

অদৃশ্য বর্ম হয়ে থেকো আমার সন্তানের চারপাশে, যেন কোনো আঁচড় না লাগে।

বদ নজর আর কুদৃষ্টি থেকে আমার কলিজার টুকরোকে হেফাজত করো আল্লাহ।

পথের সব কাঁটা সরিয়ে দিও দয়াল, ওর যাত্রা যেন নিরাপদ থাকে।

আমি সাথে না থাকলেও তোমার রহমত যেন ছায়ার মতো ওকে ঘিরে থাকে।

দুনিয়ার সব অশুভ শক্তি থেকে আমার সন্তানকে রক্ষা করার দায়িত্ব তোমাকেই দিলাম।

তোমার জিম্মায় সঁপে দিলাম আমার আমানত, তুমিই সেরা অভিভাবক।

শয়তানের ধোঁকা থেকে আমার সন্তানকে বাঁচিয়ে রেখো হে মাবুদ।

কঠিন সময়েও যেন সে ধৈর্য ধরতে পারে, সেই শক্তি দিও।

কারো অভিশাপ যেন আমার মাসুম বাচ্চার গায়ে না লাগে, এই ফরিয়াদ করি।

আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই ক্ষতি করতে পারবে না।

সন্তানের জন্য দোয়া চেয়ে ফেসবুক পোস্ট

ঘুমন্ত সন্তানের মুখের দিকে তাকালে পৃথিবীর সব ক্লান্তি নিমেষেই উধাও হয়ে যায়। এই নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে রবের দরবারে হাত না তুলে পারি না। হে আল্লাহ, আমার কলিজার টুকরাটাকে তুমি সব রকম বদনজর থেকে হেফাজতে রেখো। দুনিয়ার এই পিচ্ছিল পথে ও যেন হোঁচট না খায়, সেই তাওফিক দান করো। ওর হাসিমুখটাই আমার বেঁচে থাকার রসদ।

মাঝে মাঝে খুব ভয় হয়। সমাজটা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে, এখানে ভালো মানুষ হয়ে টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমার সন্তান যেন স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েও সত্যের পথে হাঁটতে পারে, আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনাই করি। ওকে আমি অঢেল সম্পদ দিয়ে যেতে পারব না, কিন্তু ঈমানের আলো দিয়ে যেতে চাই। আপনারা সবাই আমার সোনামণির জন্য দোয়া করবেন।

আমার সন্তান আমার আমানত। ওকে আগলে রাখার সাধ্য আমার সীমিত, কিন্তু আল্লাহর রহমত অসীম। যখন চোখের আড়াল হয়, তখন অজানা এক আশঙ্কায় বুকটা কেঁপে ওঠে। রবের ওপর ভরসা করেই ওকে বাইরের জগতে ছাড়ি। তিনি যেন আমার আদরের ধনকে সব সময় নিজের ছায়ায় রাখেন। ওর কপালে যেন কখনো দুঃখ না আসে।

সন্তানের বিপদে বাবা-মায়ের মানসিক অবস্থা ও দোয়া নিয়ে পোস্ট

হাসপাতালের করিডরে পায়চারি করার সময় নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ মনে হয়। চোখের সামনে আমার নাড়ি ছেঁড়া ধন যন্ত্রণায় ছটফট করছে, আর আমি কিছুই করতে পারছি না। ডাক্তারের ওষুধ যেখানে হার মানে, সেখানে রবের রহমতই শেষ ভরসা। জায়নামাজে লুটিয়ে পড়ে যখন বলি—”হে আল্লাহ, আমার হায়াত কেটে হলেও আমার সন্তানকে সুস্থ করে দাও”—তখন আসমানও হয়তো কেঁদে ওঠে।

বিপদ যখন সন্তানকে গ্রাস করে, তখন বাবা-মায়ের বুকের ভেতর কেমন তোলপাড় চলে, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না। মনে হয় নিজের কলিজাটা কেউ ছিঁড়ে নিচ্ছে। এই কঠিন সময়ে চোখের পানিই আমাদের একমাত্র ভাষা। আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই এই বিপদ থেকে উদ্ধার করার। সবার কাছে করজোড়ে মিনতি, আমার বাচ্চাটার জন্য একটু খাস দিলে দোয়া করবেন।

সন্তানের শরীরে একটা কাঁটা ফুটলেও মায়ের গায়ে সেটা শূলের মতো বিঁধে। আজ আমার সন্তান বড় বিপদে। মানুষের আশ্বাস এখন আর কানে ঢোকে না, কেবল রবের দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি চাইলে মুহূর্তেই সব মুসিবত দূর করে দিতে পারেন। হে দয়ালু রব, আমাদের এই পরীক্ষায় তুমি উত্তীর্ণ করো, আমার সন্তানকে আবার হাসিখুশি ফিরিয়ে দাও।

সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন ও দোয়ার পোস্ট

জিপিএ ফাইভ বা বড় ডিগ্রি অর্জন করলেই মানুষ হওয়া যায় না। আমি স্বপ্ন দেখি আমার সন্তান একদিন সমাজের বাতিঘর হবে, যার আলোয় আলোকিত হবে চারপাশ। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার আগে ও যেন একজন খাঁটি মানুষ হয়—এটাই আমার একমাত্র চাওয়া। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এই স্বপ্ন পূরণ অসম্ভব।

আমি চাই না ও মস্ত বড় অফিসার হোক, আমি চাই ও যেন কারো উপকারে আসে। দিনশেষে মানুষ যেন বলে—”ওকে মা-বাবা মানুষের মতো মানুষ করেছে।” এই একটা বাক্য শোনার জন্যই সারাটা জীবন পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আল্লাহ যেন আমার সন্তানকে দ্বীনের পথে কবুল করেন এবং আমাদের আখেরাতের নাজাতের উসিলা বানিয়ে দেন।

সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাটা বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় জিহাদ। পদে পদে শয়তানের প্রলোভন, খারাপ সঙ্গ—সব কিছু থেকে বাঁচিয়ে ওকে আলোর পথে রাখা চাট্টিখানি কথা না। রবের কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন আমার সন্তানকে সঠিক বুঝ দান করেন। ও যেন সততা আর ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

সন্তানের জন্য দোয়া চেয়ে ছন্দ

মালিক তুমি দিও তারে নেক হায়াত আর জ্ঞান
আমার বাছা ভুবন মাঝে রাখুক অটুট মান।

শয়তানের ওই কুমন্ত্রণা থেকো অনেক দূরে
আমার খোকার জীবনটা যাক ভরে সুখের সুরে।

সৎ পথে তুই চলবি সদা মাথাটা রেখে ধীর
তোর জন্য দোয়া করি ওরে আমার বীর।

আসমানি ওই বলা-মুসিবত যাক না সরে যাক
আমার বাছা ফেরেস্তারই পাহারায় আজ থাক।

রাজার মুকুট চাই না আমি চাই মানুষের ভালোবাসা
তোর জীবনে পূর্ণ হোক সবটুকু ভালো আশা।

নামাজেতে হাত তুলেছি মালিক কবুল করো
আমার জাদুর জীবন খানি খুশিতে তুমি ভরো।

হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে বাসবি সবাই ভালো
তোর হাসিতেই জ্বলবে জানি হাজার রঙের আলো।

কুরআন বুকের ভেতর রাখিস হাদীস মেনে চল
তোর জীবনে আসবে না ভাই চোখের কোনো জল।

রোদ বৃষ্টি ঝড় তুফানে আল্লাহ সহায় হোন
তোর জন্য দোয়া করি আমার ছোট্ট বোন/সোন।

বিদ্যা বুদ্ধি বাড়ছে যেন বিনয় থাকে সাথে
আমার বাছা বড় হবে নিজের গুণেই জাতে।

অন্ধকারের ভয় কেন আর? তুই তো আলোর বাতি
তোর জন্য দোয়া করি দিবস কিংবা রাতি।

প্রভুর কাছে চাইছি আমি সরল সহজ পথ
তোর জীবনে পূর্ণ হোক সকল মনোরথ।

বাবার দোয়া মায়ের আশিস বর্ম হয়ে রবে
আমার বাছা বিশ্বজয়ে একাই সেরা হবে।

সন্তানের জন্য দোয়া চেয়ে কবিতা

হে আরশের মালিক তুমি, শোনো আমার ফরিয়াদ,
আমার বাছার জীবন থেকে মুছিয়ে দিও সব বিষাদ;
কণ্টকহীন হয় যেন ওর আগামীর পথচলা,
তোমার দয়ার চাদরে রেখো, ঘুচুক সব জ্বালা।

দুহাত তুলে চাইছি পানা, কবুল করো রব,
সৎ পথে সে থাকুক অটল, ভুলুক কলরব;
মানুষের মতো মানুষ হয়ে ছড়াক আলো ভবে,
তোমার রহমত ছাড়া ওর সঙ্গী কে বা হবে?

ঝড়-ঝাপটা এলে তুমিই ধরো ওর হাল,
বিপদ যেন ছুঁতে না পারে আজ কিংবা কাল;
ফেরেশতারা থাকুক পাহারায় শিয়রেতে তার,
আমার সন্তানের তরে খুলুক জান্নাতেরই দ্বার।

ধন-দৌলত চাই না আমি, চাই না রাজপ্রাসাদ,
ঈমানে-আমলে পূর্ণ হোক ওর মনের খাদ;
মাথা উঁচু করে বাঁচুক সে ন্যায়ের পথে চলে,
শয়তানের ধোঁকা যেন না ফেলে তারে ছলে।

আমি যখন থাকব না আর এই ধরণীর বুকে,
তখনো তুমি রেখো তারে পরম শান্তিতে, সুখে;
এতিম হয়ে কাঁদলে সে, মুছিয়ে দিও জল,
তোমার ওপর ভরসা রেখেই পাবে সে মনের বল।

খারাপ নজর থেকে তারে আড়াল করে রেখো,
ভুল পথে পা বাড়ালে তুমিই তারে ডেকো;
বুকের মানিক থাকুক আমার বুকের কাছেই আঁকা,
তোমার দয়ায় পূর্ণ হোক ওর জীবনের সব ফাঁকা।

রোগ-শোক আর জরা-ব্যাধি দিও না তার গায়,
সুস্থ শরীর, সুস্থ মন দিও করুনায়;
ভোরের সূর্যের মতো তার ভাগ্য উঠুক জ্বলে,
অন্ধকার যেন পালিয়ে যায় তার হাসির ছলে।

বিদ্যা-বুদ্ধি দিও তারে, দিও বিনয়ী মন,
অহংকার যেন স্পর্শ না করে কোনো ক্ষণ;
সেবা দিয়ে জয় করে নিক জগতবাসীর প্রাণ,
তার কর্মেই যেন বাজে তোমার মহিমার গান।

মায়ের আঁচল বিছিয়ে দিলাম জায়নামাজের পরে,
চোখের পানিতে ভাসাই বুক সন্তানের তরে;
শূন্য হাতে ফিরািও না, ওগো মেহেরবান,
আমার সন্তানের মঙ্গলেই জুড়ায় এই পরান।

সন্তানের জন্য দোয়া ও কিছু কথা

মায়ের হাতের মোনাজাত আর বাবার নীরব চাওয়া—এই দুই মিলে সন্তানের ভাগ্যাকাশ বদলে দিতে পারে নিমিষেই।

পৃথিবীর সব দরজা বন্ধ হতে পারে, কিন্তু বাবা-মায়ের দোয়ার বরকতে আসমানের দরজা সব সময় খোলা থাকে।

সন্তান বিপথগামী হলেও মা-বাবা বদদোয়া দেন না, বরং হেদায়েতের আশায় জায়নামাজে চোখের পানি ফেলেন।

টাকা-পয়সা বা জমিজমার চেয়েও বড় উত্তরাধিকার হলো নেক দোয়া, যা আজীবন ছায়ার মতো আগলে রাখে।

ঝড়-ঝঞ্জা বা কঠিন বিপদ—মায়ের আঁচল বিছানো প্রার্থনা অদৃশ্য ঢাল হয়ে সন্তানকে রক্ষা করে চলে অবিরাম।

ওপরওয়ালার কাছে সন্তানের নাম ধরে ডাকার সময় মা-বাবার চোখের কোণ ভিজে ওঠাই কবুলিয়তের সেরা লক্ষণ।

নিঃস্বার্থভাবে চাওয়া এই প্রার্থনাগুলো কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি আরশে আজিমে পৌঁছাতে সক্ষম।

সন্তান হাজার মাইল দূরে থাকলেও বাবার ফিসফাস করা দোয়া তাকে নিরাপদে রাখে সব আপদ থেকে।

ভাগ্যলিপি বদলানোর ক্ষমতা রাখে একমাত্র চোখের জলে সিক্ত বাবা-মায়ের করুণ আরজি।

গভীর রাতে তাহাজ্জুদের সময় সন্তানের মঙ্গলের জন্য ফেলা অশ্রুবিন্দু মুক্তোর চেয়েও বেশি দামী।

পৃথিবীর কেউ পাশে না থাকলেও, বাবা-মায়ের দোয়া সব সময় সন্তানের সঙ্গী হয়ে থাকে।

সন্তান হয়তো ভুলে যায়, কিন্তু মা-বাবা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সন্তানের ভালো চাওয়া থেকে বিরত হন না।

কোনো যাদু বা মন্ত্রের প্রয়োজন নেই, মায়ের মুখের ‘ভালো থাকিস’ কথাটাই সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও সন্তান রক্ষা পায়, কারণ পেছনে বাবা-মায়ের অদৃশ্য আশীর্বাদ কাজ করে।

সম্পদ ফুরিয়ে যায়, কিন্তু ছোটবেলায় মাথায় হাত রেখে করা দোয়াগুলোর প্রভাব আমৃত্যু থেকে যায়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *