দাদার মৃত্যু নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ২৬৪+ স্ট্যাটাস আইডিয়া

দাদার হাত ধরে হাঁটা, তার ঝুলি থেকে গল্প শোনা—এসব স্মৃতি ভোলার নয়। দাদার প্রস্থান মানে পরিবারের ওপর থেকে একটা বিশাল বটবৃক্ষের ছায়া সরে যাওয়া। আপনি কি দাদার মৃত্যু নিয়ে ক্যাপশন কিংবা মনের গভীরের কষ্ট প্রকাশ করার মতো কোনো স্ট্যাটাস খুঁজছেন? তাহলে নিশ্চিন্ত থাকুন, কারণ আমাদের এই আর্টিকেলে দাদাকে নিয়ে আবেগঘন এবং সেরা সব লেখা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তুলে ধরা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পড়লে আশা করি আপনার মনের ভাব প্রকাশের উপযুক্ত লাইনটি আমাদের এই পোস্টেই খুঁজে পাবেন।

এখানে আপনি পাবেন

দাদার মৃত্যু নিয়ে ফেসবুক পোস্ট

আমাদের পরিবারের মাথার ওপর থেকে আজ সবচেয়ে বড় ছায়াটা সরে গেল। যে মানুষটার হাত ধরে হাঁটতে শিখেছি, যার কাঁধে চড়ে পৃথিবী দেখেছি, সেই দাদুভাই আজ আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ছোটবেলার রূপকথার গল্পগুলো আর কেউ শোনাবে না। তাঁর শূন্যতা কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব না। আল্লাহ তাঁকে ওপারে শান্তিতে রাখুন।

বাড়ির ওই বারান্দার চেয়ারটা আজ থেকে ফাঁকা পড়ে থাকবে। চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে থাকার সেই মায়াবী চোখ দুটো আর দেখতে পাব না। দাদু ছিলেন আমাদের পরিবারের খুঁটি। আজ সেই খুঁটি ভেঙে পড়ল। শেষ সময়ে তাঁর পাশে থাকতে পেরেছি, এটুকুই সান্ত্বনা। দাদু, তুমি যেখানেই থাকো, ভালো থেকো। আমরা তোমাকে আজীবন মিস করব।

যাকে ঘিরে আমাদের সব আবদার ছিল, সেই মানুষটা আজ নিথর। দাদুর মৃত্যুতে আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। তাঁর শাসন আর আদর—দুটোই ছিল আমাদের মানুষ করার জন্য। আজ থেকে আর কেউ বলবে না—”দাদুভাই, এদিকে এসো।” স্মৃতির পাতায় তুমি আজীবন অমর হয়ে থাকবে। পরপারে ভালো থেকো আমার সুপারহিরো।

দাদার মৃত্যু সংবাদ ও জানাজার সময়সূচি জানিয়ে পোস্ট

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমার দাদু (নাম) আজ সকাল/বিকেল (সময়)-টায় নিজ বাসভবনে/হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর জানাজা আজ বাদ আছর/মাগরিব (স্থান)-এ অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা সবাই জানাজায় শরিক হয়ে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করবেন।

আমাদের প্রিয় দাদু আর নেই। মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। মরহুমের নামাজে জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায় আমাদের গ্রামের বাড়ি/শহরের ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ রইল। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।

সবাইকে শোক সংবাদ জানাচ্ছি, আমাদের পরিবারের মুরুব্বি, আমার দাদু ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর জানাজা আজ বাদ জোহর (মসজিদের নাম) প্রাঙ্গণে হবে। যদি তাঁর কোনো দেনা-পাওনা থাকে বা তিনি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকেন, তবে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দেবেন। আমাদের এই কঠিন সময়ে আপনারা পাশে থাকবেন।

দাদার মাগফিরাত কামনায় আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছে দোয়া চেয়ে পোস্ট

দাদু সারাজীবন মানুষের উপকার করে গেছেন, কখনো কারো ক্ষতি করেননি। আজ তিনি মাটির বিছানায় শায়িত। রবের দরবারে হাত তুলে ফরিয়াদ করছি, আল্লাহ যেন তাঁর সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন। বন্ধুগণ, আমার দাদুর জন্য আপনারা একটু খাস দিলে দোয়া করবেন। আপনাদের দোয়াই এখন তাঁর পাথেয়।

কবরের জীবন বড় কঠিন। আমার দাদু যেন সেখানে শান্তিতে থাকেন, সেই প্রার্থনাই করি। আল্লাহ তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন। পরিচিত-অপরিচিত সবার কাছে অনুরোধ, নামাজের পর আমার দাদুর নামটা একবার স্মরণ করবেন। আল্লাহ নিশ্চয়ই আপনাদের দোয়া কবুল করবেন।

যিনি আমাদের আগলে রাখতেন, আজ তিনি নিজেই আল্লাহর জিম্মায়। দাদুর আত্মার শান্তির জন্য আজ আমরা সবাই দোয়া করছি। হে দয়ালু রব, তুমি তাঁকে ক্ষমা করো এবং জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করো। শুভাকাঙ্ক্ষীরা, আপনারা আমার দাদুর মাগফিরাত কামনা করবেন।

দাদার মৃত্যু নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া

বাড়ির সবচেয়ে পুরনো বটগাছটা আজ পড়ে গেল, আমরা ছায়াহীন হলাম।

দাদুভাই, তোমার শূন্য চেয়ারটা দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে।

আমাদের মাথার ওপর থেকে আশীর্বাদের হাতটা চিরতরে সরে গেল।

দাদুকে হারিয়ে মনে হচ্ছে শৈশবের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে গেল।

বাড়ির বারান্দাটা আজ বড্ড নিস্তব্ধ, লাঠির ঠকঠক শব্দটা আর নেই।

নক্ষত্র হয়ে আকাশের ঠিকানায় পাড়ি জমালেন আমার প্রিয় দাদু।

সবার মায়া ত্যাগ করে দাদু আজ না ফেরার দেশে।

দাদুভাইকে হারানোর তীব্র যন্ত্রণা ও শূন্যতা নিয়ে স্ট্যাটাস

দাদুভাই নেই, তাই পুরো বাড়িটাই আজ এতিমখানা মনে হচ্ছে।

যার খুশিতে ঘর আলোকিত থাকত, তিনি আজ অন্ধকার কবরে।

দাদুকে ছাড়া ঈদ বা উৎসবগুলো বড্ড ফ্যাকাশে লাগবে এখন থেকে।

আমার সব আবদার মেটানোর ব্যাংকটা আজ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।

দাদুর অভাবটা পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব না।

বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করছে, দাদুভাই তুমি ফিরে এসো।

তার চলে যাওয়ায় আমাদের সাজানো বাগানটা আজ অভিভাবকহীন।

শৈশবের খেলার সাথী দাদাকে বিদায় জানানোর স্ট্যাটাস

যার পিঠে চড়ে ঘোড়া খেলতাম, তাকেই আজ কাঁধে করে কবরে নিলাম।

আমার শৈশবের সেরা বন্ধু ছিলেন দাদু, আজ তাকেই বিদায় দিলাম।

মেলায় যাওয়ার সেই হাতটা আর কখনো ধরতে পারব না।

দাদুর সাথে কাটানো বিকেলগুলো এখন স্মৃতির পাতায় বন্দি।

খেলার সাথী হারিয়ে আমি আজ বড়ই একা।

সাদা কাফনে মোড়ানো দাদুকে দেখে শৈশবটা কেঁদে উঠল।

শেষ বিদায়ের বেলায় মনে পড়ল দাদুর সেই মায়াবী হাসি।

ওপারে ভালো থেকো দাদুভাই – বিদায়ী স্ট্যাটাস

আল্লাহ আমার দাদুকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান করুন।

ওপারে ভালো থেকো দাদু, তোমার দোয়া আমাদের সাথে রেখো।

দুনিয়ার সব কষ্ট শেষ, এবার শান্তিতে ঘুমাও প্রিয় দাদুভাই।

কবরের জীবনটা যেন তোমার জন্য ফুলের বাগান হয়, এই দোয়াই করি।

বিদায় দাদুভাই, হাশরের ময়দানে আমাদের আবার দেখা হবে।

আল্লাহ তোমাকে তাঁর রহমতের চাদরে জড়িয়ে রাখুন।

পরপারে শান্তিতে থেকো, আমরা তোমাকে আজীবন মিস করব।

দাদার গল্প আর শোনার সৌভাগ্য হবে না – কষ্টের স্ট্যাটাস

রূপকথার ঝুলি নিয়ে আর কেউ বসবে না আমাদের মাঝে।

দাদুর মুখে সেই রাজা-রানির গল্প শোনার সৌভাগ্য আর হবে না।

গল্পের ছলে জীবন শেখানোর কারিগর আজ নীরব।

সেই চেনা কণ্ঠস্বর আর কখনো গল্প শোনাবেনা, চারপাশটা স্তব্ধ।

দাদুর জীবনের অভিজ্ঞতার গল্পগুলো আজ তাঁর সাথেই দাফন হলো।

গল্প বলা মানুষটা হারিয়ে গেল, রেখে গেল একরাশ নীরবতা।

দাদুর কোলে মাথা রেখে গল্প শোনার দিনগুলো বড্ড মিস করব।

দাদার মৃত্যু নিয়ে ক্যাপশন

দাদাকে হারানোর পর বুঝতে পারছি মাথার ওপর থেকে ছাদ সরে গেলে কেমন লাগে।

আমাদের পরিবারের বটগাছটা আজ ঝড়ে উপড়ে গেল, ছায়া দেওয়ার কেউ রইল না।

দাদা নেই, এই কথাটা মানতে বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে বারবার।

সাদা কাপড়ে মোড়ানো তোমার মুখটা শেষবারের মতো দেখে কলিজা ছিঁড়ে গেল।

পরপারে ভালো থেকো দাদুভাই, তোমার স্মৃতিগুলোই এখন আমাদের সম্বল।

দাদার চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি, যা কখনো পূরণ হবে না।

তোমার হাতের লাঠিটা আজও দরজার কোণে আছে, নেই কেবল তুমি।

আল্লাহ আমার দাদাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন, এই দোয়াই করি।

চোখের জলে বিদায় জানালাম আমার শৈশবের খেলার সাথী, আমার দাদাকে।

তোমার অভাবটা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করব, ফিরে এসো না দাদুভাই।

আমাদের ছেড়ে তুমি অনেক দূরে চলে গেলে, যেখানে আমাদের হাত পৌঁছায় না।

রূপকথার গল্প বলা মানুষটা আজ না ফেরার দেশে – ক্যাপশন

রাজা রানীর গল্পগুলো আজ এতিম হয়ে গেল, গল্প বলা মানুষটাই যে নেই।

ছোটবেলার সেই ভূত পেত্নীর গল্প শোনার দিনগুলো দাদার সাথেই হারিয়ে গেল।

যিনি আমাদের স্বপ্নের জগত চিনিয়েছিলেন, তিনি আজ নিজেই স্বপ্ন হয়ে গেলেন।

রূপকথার ঝুলিটা বন্ধ করে দাদা আজ না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন।

আমাদের শৈশবের জাদুকর আজ নিজেই এক অজানা গল্পের দেশে চলে গেলেন।

ঘুমপাড়ানি গান শুনিয়ে যিনি ঘুম পাড়াতেন, তিনি আজ চিরঘুমে মগ্ন।

দাদার গল্পের রাজকুমার আর পক্ষীরাজ ঘোড়া আজও আমার কল্পনায় ঘুরে বেড়ায়।

রূপকথার দেশে ভালো থেকো গল্প বলা মানুষটা, আমরা তোমাকে খুব মিস করব।

গল্পের শেষটা যে এমন বিয়োগান্তক হবে, তা আমরা কেউ ভাবতে পারিনি।

দাদার শূন্যতা পূরণ হওয়ার মতো না – বাস্তব ক্যাপশন

পরিবারের মুরুব্বি চলে গেলে ঘরটা কেমন যেন অরক্ষিত আর ফাঁকা হয়ে যায়।

দাদার শাসন আর ভালোবাসা, দুটোই আজ আমাদের জীবন থেকে মুছে গেল।

বাড়ির কর্তা নেই, তাই পুরো বাড়িটা আজ শোকের চাদরে ঢাকা পড়েছে।

আমাদের সব সমস্যার সমাধান যিনি চটজলদি দিতেন, তিনি আজ নীরব।

অভিভাবক হারানোর যন্ত্রণাটা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি আমরা সবাই।

দাদার গাম্ভীর্য আর ব্যক্তিত্বের অভাবটা আমরা পদে পদে অনুভব করব।

যিনি আগলে রাখতেন সব বিপদ থেকে, সেই দেয়ালটা আজ ধসে পড়ল।

দাদাকে ছাড়া আমাদের পরিবারটা কেমন যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

তোমার আদর্শ আর শিক্ষাই এখন আমাদের পথ চলার একমাত্র পাথেয়।

দাদার মৃত্যু নিয়ে উক্তি

দাদা ছিলেন সেই বটবৃক্ষ, যার ছায়ায় আমাদের শৈশব কেটেছে পরম নিশ্চিন্তে।
হুমায়ূন আহমেদ

পরিবারের সবচেয়ে প্রবীণ মানুষটি চলে যাওয়া মানে ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হয়ে যাওয়া।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বারান্দার ওই ইজিচেয়ারটা আজ শূন্য, কিন্তু দাদার স্মৃতিগুলো ঘরের প্রতিটি কোণে জীবন্ত হয়ে আছে।
সমরেশ মজুমদার

দাদা মানেই ছিল রূপকথার ঝুলি, সেই গল্পগুলো আজ তাঁর সাথেই হারিয়ে গেল।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

মৃত্যুর ওপারে তিনি ভালো থাকবেন, কারণ পৃথিবীতে তিনি আমাদের ভালো রেখেছিলেন।
বুদ্ধদেব গুহ

যার আঙুল ধরে হাঁটতে শিখেছি, সেই হাতটা চিরতরে ছেড়ে দেওয়ার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
ইমদাদুল হক মিলন

দাদারা মারা যান না, তারা নক্ষত্র হয়ে আকাশের গহীনে জ্বলজ্বল করেন।
মহাদেব সাহা

তাঁর মৃত্যুতে আমরা কেবল একজন অভিভাবক হারাইনি, হারিয়েছি আমাদের শৈশবের শ্রেষ্ঠ বন্ধুকে।
আনিসুল হক

বয়সের ভারে তিনি নুয়ে পড়েছিলেন সত্য, কিন্তু আমাদের জন্য তাঁর মেরুদণ্ড ছিল ইস্পাতের মতো শক্ত।
সেলিনা হোসেন

চলে যাওয়া মানেই প্রস্থান না, স্মৃতির মণিকোঠায় দাদা থাকবেন চিরকাল।
নির্মলেন্দু গুণ

শাসন আর আদরের এমন অদ্ভুত সংমিশ্রণ দাদার পর আর কারো মাঝে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটা মানুষটা আজ আর নেই, কিন্তু তাঁর দেখানো পথটা রয়ে গেছে।
তসলিমা নাসরিন

দাদার মৃত্যু আমাদের শিখিয়েছে, শেকড় যত গভীরই হোক, একদিন মাটি ছাড়তে হয়।
হেলাল হাফিজ

তিনি আমাদের উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন, যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না—তা হলো সততা।
জীবনানন্দ দাশ

প্রার্থনা করি, পরপারে দাদু যেন পৃথিবীর চেয়েও বেশি শান্তিতে থাকেন।
পারিবারিক শোকবার্তা

দাদার ভালোবাসা ও নাতিনাতনির সম্পর্ক নিয়ে মনিষীদের বাণী

বাবার শাসনে যখন চোখ ভিজে যায়, তখন দাদার স্নেহের পরশেই সব অভিমান জল হয়ে গলে পড়ে।

বার্ধক্যের লাঠি হয়তো শরীরের ভার বহন করে, কিন্তু নাতিনাতনিরা বহন করে দাদার মনের সজীবতা।

ইতিহাসের গল্পগুলো বইয়ের পাতায় যতটা না জীবন্ত, তার চেয়ে ঢের বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে দাদার মুখে শুনলে।

প্রজন্মের ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়ার জাদুকরী ক্ষমতা রাখেন দাদা; তিনি একাধারে অভিভাবক ও সবথেকে বিশ্বস্ত খেলার সাথী।

বাবা হলেন বাস্তবতার কঠিন পাঠশালা, আর দাদা হলেন সেই পাঠশালার সবথেকে আনন্দদায়ক ছুটির ঘণ্টা।

জীবনের সায়াহ্নে এসে মানুষ যখন একাকীত্বে ভোগে, তখন নাতিনাতনির কলকাকলিই তাদের বাঁচার নতুন রসদ যোগায়।

দাদার হাত ধরেই নাতিনাতনিরা প্রথম পৃথিবীকে চিনতে শেখে এক নিরাপদ আশ্রয়ের ছায়ায় থেকে।

নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সবথেকে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত খুঁজতে খুব বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, দাদার চোখের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়।

পরিবারের শেকড় হলেন দাদা, আর সেই শেকড় থেকে রসদ নিয়েই নাতিনাতনিরা ডালপালার মতো ছড়িয়ে পড়ে।

মা-বাবার ব্যস্ততার ফাঁকে যে শূন্যতা তৈরি হয়, দাদাই পরম মমতায় সেই স্থান পূর্ণ করে দেন।

কান ধরে শাসন করার মানুষ তো অনেকেই থাকে, কিন্তু হাত ধরে ভুল শুধরে দেওয়ার মতো ধৈর্য একমাত্র দাদারই থাকে।

নাতিনাতনির আবদার মেটাতে গিয়ে দাদা নিজের বার্ধক্যকেও ভুলে যান নিমেষেই।

একটি শিশুর শৈশব পূর্ণতা পায় না, যদি না সেখানে দাদার রূপকথার ঝুলি আর অকৃত্রিম আদর থাকে।

দাদার মৃত্যু নিয়ে ছন্দ

মাথার ওপর ছাদটা ছিল, আজ সে হলো পর
দাদাভাইয়ের বিদায়ে আজ, শূন্য আমার ঘর।

গল্পের ঝুড়ি উপুড় করে, কে শোনাবে আর?
দাদা তুমি চলে গেলে, বন্ধ খুশির দ্বার।

লাঠিটা আজ একলা পড়ে, চশমাটা নেই চোখে
দাদার স্মৃতি ভাসছে আজ, পরপারের লোকে।

শাসন বারণ করত যে জন, সে তো বহুদূর
দাদার শোকে বাজছে বুকে, করুণ এক সুর।

ইজিচেয়ারটা ফাঁকা আজ, নেই তো দাদার হাসি
স্মৃতির পাতায় চোখ বুলালেই, তোমায় ভালোবাসি।

হাতটি ধরে হাঁটি হাঁটি, শিখিয়েছিলে পথ
মাঝপথে আজ থামল কেন, তোমার জীবন রথ?

বিকেল বেলা বারান্দাতে, আর জমবে না আড্ডা
দাদা তোমায় হারিয়ে আজ, ছিঁড়ল সুখের গাড্ডা।

তারার দেশে ভালো থেকো, দিও আশীর্বাদ
তোমায় ছাড়া জীবনটা আজ, বিস্বাদ এক স্বাদ।

সাদা পাঞ্জাবিটা ঝুলছে আজ, পরার মানুষ নাই
দাদা তোমার গন্ধটুকু, স্মৃতির মাঝে পাই।

নাতনি বলে ডাকবে না কেউ, বাড়িয়ে দুটি হাত
তোমার শোকে স্তব্ধ হলো, আজকের এই রাত।

মাটির ঘরে ঘুমাও তুমি, নিঝুম অন্ধকারে
তোমার অভাব বুঝছি দাদা, প্রতি বারে বারে।

বংশের বাতি ছিলে তুমি, আগলে রাখতে সব
তোমার বিদায়ে থামল আজ, বাড়ির কলরব।

বয়স ভারে নুয়েছিলে, মনটা ছিল কচি
স্মৃতির খাতা থেকে কি আর, তোমার নাম মুছি?

শেষ বিদায়ের বেলায় আমি, ছুঁতে পেলাম পা
দাদাকে ছাড়া এই জীবনে, শান্তি কোথাও না।

দাদার মৃত্যু নিয়ে কবিতা

লাঠিটা আজও দরজার কোণে ঠেস দিয়ে রাখা,
চশমাটা আছে টেবিলের ‘পরে, ধুলোয় মাখা;
বাড়ির প্রতিটি ইটে মিশে আছে তোমার ঘ্রাণ,
দাদাভাই তুমি চলে গেছ, তবুও আছো বিদ্যমান।

রূপকথার সেই গল্পগুলো আজ কে শোনাবে আর?
রাজার কুমার ঘুমিয়ে আছে, বন্ধ মনের দ্বার;
তোমার কোলেই কাটতো আমার অলস দুপুর বেলা,
স্মৃতিরা আজ ভিড় জমিয়েছে, করছে কেমন খেলা।

বটবৃক্ষের মতো ছিলে তুমি সংসারের ছাদ,
ঝড়-ঝাপটায় আগলে রাখতে, সইতে অপবাদ;
আজকে মাথায় রোদ লাগে খুব, পুড়ে যায় গা,
তোমার মতো এমন আশ্রয় আর তো পাবো না।

সাদা পাঞ্জাবি আর ধুতি পরা সেই শান্ত মুখ,
দেখলেই যেন জুড়িয়ে যেত আমার দগ্ধ বুক;
মাটির মানুষ ছিলে তুমি, মাটিতেই নিলে ঠাঁই,
তোমার অভাব প্রতি মুহূর্তে আমি যে টের পাই।

ইজি চেয়ারটা শূন্য পড়ে আছে বারান্দায়,
বাতাস এসে দুলিয়ে দেয় তারে করুণ মায়ায়;
খবরের কাগজ কেউ আর পড়ে না সকাল হলে,
সবাই আছে, তবু বাড়িটা কেমন জানি হাহাকার করে বলে।

তোমার হাতটা ধরে হাঁটতে শেখা প্রথম বার,
আজ সেই হাতটা বরফ শীতল, নেই কোনো সাড়;
বিদায় বেলার ওই চাহনিটা ভুলব কেমন করে?
সারাটা জীবন কাঁদবে হৃদয় তোমারই তরে।

বাজার থেকে ফেরার পথে আনতে মজার খাবার,
পকেট হাতড়ে বের করতে সব খুশির ভাণ্ডার;
এখন আমি বড় হয়েছি, পকেটে টাকা রয়,
কিন্তু সেই আনন্দটা আর কেনা সম্ভব হয়?

আকাশের ওই তারার ভিড়ে খুঁজছি তোমায় রোজ,
ওপার থেকে নিচ্ছ কি তুমি আমাদের কোনো খোঁজ?
দাদাভাই তুমি ভালো থেকো ওই দূর নীলিমায়,
তোমার স্মৃতি জড়িয়ে রাখব আমার এই আঙিনায়।

শাসনে-বারণে মানুষ করলে, দিলে সঠিক দিশা,
তোমার আলোয় কেটে যেত সব মনের অমানিশা;
আজকে যখন পথ হারাই আমি জীবনের বাঁকে,
তোমার দেখানো আদর্শটাই আমায় পিছু ডাকে।

দাদার মৃত্যু ও কিছু কথা

শাসনে রাখলেও, আদর দেওয়ার বেলায় তাঁর মতো উদার মানুষ আর দেখিনি।

মাটির মানুষ ছিলেন, শেষমেশ সেই মাটির বুকেই তিনি চিরশয্যা নিলেন।

জানাজার খাটিয়া কাঁধে নেওয়ার সময় মনে হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভার বহন করছি।

মৃত্যু তাঁকে কেড়ে নিলেও, আমাদের হৃদয়ে তাঁর নাম অমর হয়ে থাকবে।

বিদায় দাদা, দেখা হবে অন্য কোনো ভুবনে, যেখানে বিচ্ছেদের হাহাকার নেই।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *