হর হর মহাদেব নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ২৭৫+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
দেবাদিদেব মহাদেবের নাম জপলে মনের সব অস্থিরতা নিমিষেই দূর হয়ে যায়। শিব ভক্তদের কাছে তার নাম কেবল একটি ধ্বনি নয়, বরং বেঁচে থাকার অফুরন্ত শক্তি। আপনি কি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে মহাদেবের প্রতি ভক্তি নিবেদন করে কিছু লিখতে চান? কিংবা খুঁজছেন হর হর মহাদেব নিয়ে ক্যাপশন? তাহলে সঠিক ঠিকানাতেই এসেছেন। আমাদের এই আর্টিকেলে ভোলানাথের চরণে নিবেদিত সেরা সব স্ট্যাটাস ও ক্যাপশন সাজানো হয়েছে। ভক্তিভরা এই লাইনগুলো আপনার টাইমলাইনকে আধ্যাত্মিকতায় ভরিয়ে তুলবে।
হর হর মহাদেব নিয়ে উক্তি
আমি মন, বুদ্ধি, অহং বা চিত্ত—কোনোটিই না। আমি শ্রবণ, জিহ্বা, নাসিকা বা চক্ষু—কিছুই না। আমি চিদানন্দ রূপ, আমিই শিব, আমিই শিব।
—আদি শংকরাচার্য (নির্বাণ ষটকম)
শিব কোনো ব্যক্তি নন, তিনি এক বিশেষ মাত্রা। যেখানে সবকিছুর উৎপত্তি এবং যেখানে সবকিছুর বিলয়, সেই অনন্ত শূন্যতাই হলেন মহাদেব।
—সদগুরু
মানুষ তখনই মহাদেব হয়ে ওঠে, যখন সে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের মঙ্গলের জন্য লড়াই করে।
—অমিশ ত্রিপাঠী
তিনিই আদি, তিনিই অন্ত। বিষ পান করে যিনি জগতকে রক্ষা করেন, সেই নীলকণ্ঠই আমাদের একমাত্র আশ্রয়।
—শিব পুরাণ
ব্রহ্মা সৃষ্টি করেন, বিষ্ণু পালন করেন, আর শিব সুন্দরভাবে ধ্বংস করেন। পুরোনোকে সরিয়ে নতুনের জায়গা করে দেওয়াই তাঁর কাজ।
—ওশো
যিনি নিজের ক্রোধ জয় করেছেন, তিনিই প্রকৃত শিবের ভক্ত। বাহ্যিক আড়ম্বর না, অন্তরের পবিত্রতাই শিবের প্রিয়।
—স্বামী বিবেকানন্দ
আমরা সেই ত্রিনেত্রধারী মহাদেবের আরাধনা করি, যিনি সুগন্ধি ও পুষ্টিবর্ধক। শসা যেমন পেকে গেলে লতা থেকে মুক্ত হয়, তেমনি তিনি আমাদের মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত করে অমৃতের সন্ধান দিন।
—ঋগ্বেদ (মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র)
শ্মশানের ছাই যার অলংকার, সাপ যার গলার হার, সেই দিগম্বর শিব আমাদের শেখান—দুনিয়ার মোহমায়া কতটা তুচ্ছ।
—লোকনাথ ব্রহ্মচারী
শিবের তাণ্ডব নৃত্য কেবল ধ্বংসের প্রতীক না, তা মহাবিশ্বের ছন্দের বহিঃপ্রকাশ। এই ছন্দেই প্রাণের স্পন্দন জাগরিত হয়।
—আনন্দ কুমারস্বামী
প্রার্থনা করার সময় কিছু চাইবেন না, কেবল নিজেকে সমর্পণ করুন। শিব তো জানেন আপনার কী প্রয়োজন, চাওয়ার আগেই তিনি তা পূর্ণ করে দেন।
—শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর
যিনি স্থবির, আবার যিনিই গতিশীল; যিনি শান্ত, আবার যিনিই রুদ্র—সেই স্ববিরোধিতার মাঝেই মহাদেবের পূর্ণতা।
—সংগৃহীত
ভক্তি যদি খাঁটি হয়, তবে সামান্য বেলপাতা আর জলেই মহাদেব তুষ্ট হন। আড়ম্বরপূর্ণ উপাচার তাঁর প্রয়োজন পড়ে না।
—রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
আগুন তাকে পোড়াতে পারে না, জল তাকে ভেজাতে পারে না। তিনি কালজয়ী, তিনি মহাকাল। তাঁর চরণে ঠাঁই পাওয়া মানেই মোক্ষ লাভ।
—শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (আত্মার স্বরূপ ও শিবত্ব প্রসঙ্গে)
শিবম মানে কল্যাণ। যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সত্য এবং যা কিছু মঙ্গলের বার্তা বয়ে আনে, তার সবটাই শিব।
—উপনিষদ
হর হর মহাদেব নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
ভস্মমাখা শরীর আর গলায় রুদ্রাক্ষের মালা—জগৎ সংসারের চাকচিক্য থেকে তিনি কতটা দূরে, তা তার রূপ দেখলেই বোঝা যায়। কৈলাশপতির কাছে ঐশ্বর্য বা ধনসম্পদের কোনো মূল্য নেই। তিনি তো ভোলানাথ, সামান্য বেলপাতা আর জলেই তুষ্ট। জীবনের চরম সত্য যে মৃত্যু, সেই চিতাভস্ম তিনি অঙ্গে ধারণ করে আমাদের শেখান নশ্বর দেহের অহংকার করতে নেই। মহাদেবের এই ত্যাগের আদর্শ বুকে ধারণ করলেই জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে। হর হর মহাদেব।
সংসারের বিষ নিজে পান করে পৃথিবীকে রক্ষা করেছিলেন বলেই তার নাম নীলকণ্ঠ। সমুদ্র মন্থনের সময় যখন সবাই অমৃতের সন্ধানে ব্যস্ত, তখন তিনি হলাহল পান করে জগৎকে বাঁচিয়েছিলেন। বিপদে ধৈর্য ধরা আর অন্যের মঙ্গলের জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করার শিক্ষা আমরা মহাদেবের কাছ থেকেই পাই। তার মতো ত্যাগী হতে পারলেই হয়তো মানুষের জীবন সার্থক হবে। দেবাদিদেবের চরণে জানাই শতকোটি প্রণাম।
ডমরুর নাদে যখন প্রলয় সৃষ্টি হয়, তখন আবার সেই ধ্বনিতেই নতুন সৃষ্টির বীজ রোপিত হয়। তিনি একাধারে ধ্বংস ও সৃষ্টির মালিক। নটরাজ রূপে তার তাণ্ডব নৃত্য অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটায়। আমাদের মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা কাম, ক্রোধ আর লোভের রিপুগুলো ধ্বংস করতে মহাদেবের আরাধনা এক মহৌষধ। আসুন, ভক্তিভরে তাকে ডাকি, তিনি নিশ্চয়ই আমাদের সব পাপ মোচন করবেন। জয় বাবা ভোলানাথ।
শিবলিঙ্গের ওপর যখন জল ঢালি, তখন মনে হয় নিজের সব কলুষতা ধুয়ে যাচ্ছে। তিনি খুব অল্পতেই সন্তুষ্ট হন বলে ভক্তরা তাকে আশুতোষ নামে ডাকে। তার কাছে রাজা-প্রজা সবাই সমান। কোনো ভেদাভেদ নেই, নেই কোনো আড়ম্বর। হৃদয়ের গভীর থেকে একবার ‘বাবা’ বলে ডাকলে তিনি সাড়া না দিয়ে পারেন না। সংসারের মায়া কাটিয়ে আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে মহাদেবের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
শ্মশানে যার বাস, ভূত-প্রেত যার সঙ্গী—তিনি আমাদের শেখান সবকিছুর শেষে শূন্যতাই সত্য। জাগতিক মোহ আমাদের অন্ধ করে রাখে, কিন্তু মহাদেবের দর্শন আমাদের সেই মোহ থেকে মুক্তি দেয়। কপালে তার তৃতীয় নয়ন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতীক। যখনই অধর্ম মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখনই তার তৃতীয় নেত্র জ্বলে ওঠে। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে গেলে মহাদেবের আশীর্বাদ আমাদের সবসময় প্রয়োজন। ওম নমঃ শিবায়।
শিবরাত্রির ব্রত পালনের নিয়ম ও ফলাফল নিয়ে পোস্ট
শিবরাত্রির রাত সাধারণ কোনো রাত অপেক্ষা বহুগুণ শক্তিশালী। গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান এমন থাকে যে, এই রাতে মেরুদণ্ড সোজা রেখে ধ্যান করলে শরীরে এক বিশেষ শক্তির সঞ্চার হয়। উপবাস থাকার মূল উদ্দেশ্য হলো দেহ ও মনকে হালকা রাখা, যাতে ধ্যানে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। চার প্রহরে চারবার পূজা এবং রাতজাগরণ এই ব্রতের প্রধান অঙ্গ। ভক্তিভরে এই নিয়ম পালন করলে মহাদেব ভক্তের সব মনোবাসনা পূর্ণ করেন।
বেলপাতা মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয়, কারণ তিন পাতার এই গঠন সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ গুণের প্রতীক। শিবলিঙ্গে বেলপাতা অর্পণ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের এই তিন গুণকে প্রভুর চরণে সমর্পণ করি। তবে খেয়াল রাখবেন, বেলপাতা যেন নিখুঁত হয়। পুজোর সময় ওম নমঃ শিবায় মন্ত্র জপ করা আবশ্যক। নিষ্ঠার সাথে ব্রত পালন করলে সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং মোক্ষ লাভের পথ সুগম হয়।
অনেকে মনে করেন সারাদিন না খেয়ে থাকলেই ব্রত পালন হয়ে যায়। আসলে উপবাসের সাথে সাথে মনকেও পবিত্র রাখতে হয়। পরনিন্দা, পরচর্চা বা মিথ্যা কথা থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। শিবরাত্রির দিন সাত্বিক আহার বা নির্জলা উপবাস—যেটাই করুন, তা যেন ভক্তি সহকারে হয়। গঙ্গা জল, দুধ, দই, ঘি ও মধু দিয়ে স্নান করালে মহাদেব অত্যন্ত প্রীত হন। ভক্তের চোখের জল আর শুদ্ধ চিত্তই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্ঘ্য।
মহাভারতেও শিবরাত্রির মাহাত্ম্য বর্ণিত আছে। ভীষ্ম পিতামহ শরশয্যায় শুয়ে যুধিষ্ঠিরকে এই ব্রতের কথা শুনিয়েছিলেন। জেনে বা অজান্তে—যেভাবেই এই ব্রত পালন করা হোক না কেন, তার ফল অমোঘ। শিকারি লুব্ধক অজান্তেই শিবরাত্রির রাতে বেলপাতা ফেলে মহাদেবের কৃপা লাভ করেছিলেন। তাই পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে এই তিথিতে মহাদেবের আরাধনা করুন, তিনি কখনোই ভক্তকে খালি হাতে ফেরান না।
শ্রাবণ মাসে শিবের মাথায় জল ঢালার মাহাত্ম্য নিয়ে পোস্ট
শ্রাবণ মাসের আকাশ থেকে ঝরঝর করে বৃষ্টি ঝরে, যা প্রকৃতির পক্ষ থেকে শিবের অভিষেক। পুরাণ মতে, সমুদ্র মন্থনে ওঠা হলাহল পান করার পর মহাদেবের শরীর জ্বালা করছিল। তখন দেবতারা তাকে জল ঢেলে শান্ত করেছিলেন। সেই থেকেই শ্রাবণ মাসে শিবলিঙ্গে জল ঢালার প্রথা চলে আসছে। মাইলের পর মাইল হেঁটে ভক্তরা যখন বাঁক কাঁধে নিয়ে মন্দিরে পৌঁছায়, তখন তাদের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায় বাবার দর্শনে। এই জল ঢালা মানে মহাদেবের জ্বালা প্রশমিত করা এবং নিজের জীবনের সব দুঃখ কষ্ট নিবেদন করা।
খালি পায়ে মাইলের পর মাইল হাঁটা, রোদে পোড়া আর বৃষ্টিতে ভেজা—কানওয়ার যাত্রার কষ্টগুলো ভক্তের কাছে তুচ্ছ। তাদের মুখে তখন একটাই বুলি, ‘বোল বাম’। এই নাম জপতে জপতে সব শারীরিক যন্ত্রণা উবে যায়। শ্রাবণ মাসে গঙ্গার জল বা পবিত্র নদীর জল শিবের মাথায় ঢাললে অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান ফল লাভ হয় বলে বিশ্বাস। ভক্তিভরে এই জল অর্পণ করলে কালসর্প দোষ বা শনির দশা থেকেও মুক্তি মেলে।
সবুজ প্রকৃতি আর বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ—শ্রাবণ মাস যেন শিব আরাধনার জন্যই তৈরি। বিশেষ করে শ্রাবণের সোমবারগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গলের জন্য এবং অবিবাহিতরা কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশায় এই মাসে ব্রত রাখেন। এক ঘটি জল আর একটু দুধ—এতেই দেবাদিদেব তুষ্ট। ভোলানাথের কৃপা পেতে হলে শ্রাবণ মাসে অন্তত একবার মন্দিরে গিয়ে অভিষেক করা উচিত।
কানওয়ার যাত্রা আমাদের শেখায় সংকল্প আর ঐক্যের শক্তি। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই গেরুয়া বসন পরে এক কাতারে হাঁটে। এখানে কারও কোনো আলাদা পরিচয় থাকে না, সবাই তখন শিবের ভক্ত। পথের কষ্ট সহ্য করে যখন বাবার মাথায় জল ঢালা হয়, তখন অদ্ভুত এক শান্তি মনকে আচ্ছন্ন করে। শ্রাবণ মাসের এই পুণ্য কর্ম আমাদের পাপ ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয় এবং নতুন উদ্যমে বাঁচার শক্তি যোগায়।
হর হর মহাদেব নিয়ে ক্যাপশন
হর হর মহাদেব ধ্বনিতে মুখরিত হোক চারপাশ, চিত্ত হোক শুদ্ধ।
সব চিন্তা দূর হয়ে যায় যখন মহাকালের চরণে আশ্রয় নিই।
মহাদেবের কৃপা থাকলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাকে দমাতে পারবে না।
আমার শুরু এবং শেষ, সবটাই মহাদেবকে ঘিরে।
ভোলানাথের ভক্ত আমি, সাধারণের ভিড়েও আমি আলাদা।
মহাদেবের নাম জপলে মনের সব অন্ধকার নিমেষেই কেটে যায়।
যার মাথায় চন্দ্রকলা, তার আরাধনাতেই জীবন ধন্য।
শিবশম্ভুর আশীর্বাদ মাথায় থাকলে কঠিন পথও সহজ হয়ে যায়।
তিনি আদি, তিনি অনন্ত, তিনিই মহাকাল।
জগৎ সংসারের সব মায়া ত্যাগ করে শিবের ধ্যানে মগ্ন হওয়াই শ্রেয়।
বিপদ আমার কিছুই করতে পারবে না, কারণ রক্ষাকর্তা স্বয়ং মহাদেব।
শঙ্কর ভগবান যার সহায়, তার আবার কিসের ভয়?
কপালে তিলক ও রুদ্রাক্ষের সাথে মহাদেব ভক্তের ক্যাপশন
গলায় রুদ্রাক্ষ আর কপালে চন্দন—এটাই আমার আসল পরিচয়।
আধুনিকতার ভিড়ে আমি মহাকালের নামেই নিজেকে সাজাতে ভালোবাসি।
রুদ্রাক্ষের প্রতিটি দানায় মিশে আছে ভোলানাথের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
কপালে এই তিলক কেবল সাজের বস্তু না, মহাদেবের প্রতি সমর্পণের প্রতীক।
রক্তে আমার মহাকাল, শরীরে রুদ্রাক্ষের বর্ম।
ত্রিপুণ্ড্র আঁকা ললাটে যেন শিবের আশীর্বাদ জ্বলজ্বল করছে।
রুদ্রাক্ষ ধারণ করে আমি নিজেকে মহাদেবের খুব কাছে পাই।
ফ্যাশন আমার কাছে তুচ্ছ, শিবের তিলকই আমার অহংকার।
গলার রুদ্রাক্ষ আমাকে প্রতিনিয়ত সত্যের পথে চলতে শেখায়।
চন্দনের ফোঁটায় স্নিগ্ধতা আর রুদ্রাক্ষে শক্তি—এই তো আমি।
মহাদেবের ভক্ত হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে বড্ড গর্ববোধ করি।
তিলক দেখলেই বোঝা যায় আমি মহাকালের পথের পথিক।
বাহ্যিক সাজসজ্জা ফিকে হয়ে যায় রুদ্রাক্ষের তেজের সামনে।
দেবাদিদেবের নাম বুকে ধারণ করে রুদ্রাক্ষ মালা গলায় পরলাম।
ভক্তের কপাল শূন্য থাকতে পারে না, সেখানে তিলক থাকাই শোভা পায়।
ওম নমঃ শিবায় – প্রশান্তির ছোট ক্যাপশন
ওম নমঃ শিবায়—এই মন্ত্রজপেই খুঁজে পাই হৃদয়ের গভীরতম প্রশান্তি।
পৃথিবীর সব কোলাহল থেমে যায় যখন মনের ঘরে শিবনাম জপি।
জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এই মহামন্ত্রের মাঝে।
মন যখন অস্থির, তখন শিবের নামই একমাত্র ওষুধ।
মহাবিশ্বের সব শক্তি একীভূত হয়েছে ওম নমঃ শিবায় মন্ত্রে।
চোখ বন্ধ করে শিবনাম জপলে আত্মা পরমাত্মার সন্ধান পায়।
পাহাড়সম কষ্টগুলো হালকা হয়ে যায় এই পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণে।
ভোলানাথের নামেই মোক্ষ, তার নামেই মুক্তি।
আত্মার শুদ্ধির জন্য শিবনামের চেয়ে পবিত্র আর কিছুই নেই।
সকাল শুরু হোক ওম নমঃ শিবায় বলে, দিনটি মঙ্গলের হবে।
পাপ মোচন আর পুণ্য অর্জনের সহজ পথ হলো শিবনাম জপ।
জীবনের সব জটিল সমীকরণের সমাধান মেলে এই মন্ত্রে।
মনের ময়লা দূর করতে মহাদেবের নামই যথেষ্ট।
শান্তি খুঁজতে কোথাও যেতে হবে না, শিবের নাম জপলেই মিলবে।
নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে শুধুই মহাকালের নাম।
হর হর মহাদেব নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া
শ্মশানের ছাই মেখে যিনি দিগম্বর, তিনিই আমার প্রাণের ঈশ্বর।
যার কপালে চন্দ্রকলা আর গলায় বিষের জ্বালা, তার চরণে সঁপেছি এই জীবন।
জগৎ যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, মহাকাল তখন জেগে থাকেন সৃষ্টি ও ধ্বংসের খেলায়।
সবাই সুখের খোঁজ করে, আর আমি খুঁজি কৈলাসের ওই যোগীকে।
ত্রিনেত্রের আগুনেই পুড়ে ছাই হোক মনের সব কলুষতা।
ডমরুর নাদে প্রকম্পিত হোক দিকবিদিক, জেগে উঠুক সুপ্ত আত্মা।
ভোলানাথের নামে শুরু হোক দিন, তার নামেই আসুক সব কাজে সাফল্য।
যিনি ধ্বংসের দেবতা, তিনিই আবার সৃষ্টিরও পালনকর্তা, অদ্ভুত তার লীলা।
সারা গায়ে ভস্ম মেখে যিনি জগতকে শেখান নশ্বরতার পাঠ।
রাজপ্রাসাদ চাই না, শুধু শিবের চরণে একটু ঠাঁই পেলেই জীবন ধন্য।
মহাদেবের ভক্ত হতে গেলে মনে সাহস আর অন্তরে বিশ্বাস রাখতে হয়।
গঙ্গাধর, জটাজুটধারী শিব শম্ভুর আরাধনাতেই আমি শান্তি খুঁজে পাই।
তার ধ্যানে মগ্ন থাকলে পৃথিবীর কোনো কোলাহল কানে পৌঁছায় না।
মহাদেবের কৃপা ও ভক্তি নিয়ে সেরা স্ট্যাটাস
যার মাথায় মহাদেবের হাত আছে, কালের প্রহার তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
হে নীলকণ্ঠ, আমার সব বিষ গ্রহণ করে জীবনটা অমৃতময় করে দাও।
তোমার কৃপায় অন্ধও পথ দেখে, বোবাও কথা বলে, আমি তো নগণ্য দাস।
বিপদের দিনে অন্য কেউ না থাকলেও আমার মহাদেব ঠিকই পাশে থাকেন।
একবুক বিশ্বাস নিয়ে তোমার দুয়ারে দাঁড়িয়েছি, খালি হাতে ফিরিও না প্রভু।
তোমার ইচ্ছের বাইরে গাছের পাতাও নড়ে না, সব তোমারই খেলা।
জাগতিক মোহ ত্যাগ করে তোমার প্রেমেই মজে থাকতে চাই আজীবন।
হে দেবাদিদেব, আমাকে সেই শক্তি দাও যেন সব পরিস্থিতি হাসিমুখে সামলাতে পারি।
তোমার নাম জপ করলেই বুকের ভেতর অজানা এক সাহস পাই।
ভাগ্যলিপি বদলানোর ক্ষমতা একমাত্র মহাকালেরই আছে।
ভোলানাথের কৃপা পেলে পথের ভিখারিও রাজার সম্মান পায়।
তোমার চরণে মাথা নত করে সব অহংকার বিসর্জন দিলাম।
হে মহেশ্বর, সুখে-দুখে সব সময় যেন তোমার নামই জপ করতে পারি।
তোমার ভক্তির সাগরে ডুব দিলে আর কোনো কিছু পাওয়ার আশা থাকে না।
হর হর মহাদেব ধ্বনি ও মনের জোর নিয়ে স্ট্যাটাস
হর হর মহাদেব—এই ধ্বনিতেই লুকিয়ে আছে বিশ্বজয়ের শক্তি।
ভয় পেও না, শুধু একবার জোরে বলো হর হর মহাদেব, দেখবে সব অন্ধকার পালাবে।
ভেঙে পড়ো না, মনে রেখো তোমার সাথে স্বয়ং মহাকাল আছেন।
যুদ্ধে নামার আগে মহাদেবের নাম নাও, বিজয় তোমার হবেই।
হর হর মহাদেব ধ্বনি শুনলে শয়তানও ভয়ে পথ ছাড়ে।
জীবনের ঝড়ে যখন সব এলোমেলো, তখন এই মন্ত্রই একমাত্র ভরসা।
রক্তে যার শিবের নাম, পরাজয় তাকে ছুঁতে পারে না।
চিৎকার করে বলো হর হর মহাদেব, কাঁপিয়ে দাও শত্রুর বুক।
মনের সব দুর্বলতা পুড়িয়ে ফেলো মহাদেবের নাম নিয়ে।
এই তিন শব্দের মন্ত্রে এমন এক তেজ আছে যা মৃতপ্রায় মানুষকেও জাগিয়ে তোলে।
মহাদেবের নাম নিয়ে পথে নামলে পাহাড়ও পথ ছেড়ে দিতে বাধ্য।
মৃত্যুভয় তাকেই দেখাও যে মহাদেবের ভক্ত না।
হর হর মহাদেব—শুধু একটি স্লোগান না, এ আমাদের বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
তোমার হুংকারে প্রলয় নামুক, হর হর মহাদেব ধ্বনিতে আকাশ বাতাস কাঁপুক।
হর হর মহাদেব নিয়ে ছন্দ
কৈলাসের ওই শিখর চুড়ায় যোগী ধ্যানে রত
মহাদেবের চরণে আজ ভক্তি শত শত।
ত্রিশূল হাতে রুদ্ররূপী কপালে ওই চাঁদ
শিবশম্ভুর কৃপা পেলেই মিটবে মনের সাধ।
হর হর মহাদেব ধ্বনি তোল ভক্ত সবাই মিলে
পাপের বোঝা যাবে সরে শিবের দেখা দিলে।
বেলপাতা আর ধুতুরা ফুল দিলাম প্রভুর পায়
ভোলেবাবার আশীর্বাদে সংকট দূরে ধায়।
নীলকণ্ঠ নাম যে তার বিষ করেছেন পান
জগৎ জুড়েই গাইছে সবাই মহাদেবের গান।
জটা থেকে গঙ্গা ঝরে পবিত্র এক ধারা
শিবের প্রেমে মগ্ন আমি জগত বাঁধন হারা।
ডমরু বাজে ডম ডম প্রলয় নাচন পায়
মহাদেবের রোষানলে অশুভ পুড়ে যায়।
ভস্ম মাখা শরীর তার বাঘছাল ওই পরিধান
মহাদেবই রক্ষা করেন ভক্তের মান সম্মান।
শিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে জালি মোমের বাতি
মহাদেব সঙ্গ থেকো দিবস কিংবা রাতি।
হর হর বম বম শঙ্খ বাজে জোরে
শিবের কৃপা থাকলে পরে ভাণ্ডার যাবে ভরে।
আশুতোষ তিনি তো অল্পতেই হন খুশি
মহাদেবের নাম জপলে কাটে গলার ফাঁসি।
গৌরী পতি মহেশ্বর তুমিই দেবাদিদেব
তোমার তরেই সঁপে দিলাম জীবনের সব সেব।
শ্মশানবাসী যোগী তুমি মায়ায় আছো মিশে
তোমার নামই মহৌষধ কাটে সকল বিষে।
তৃতীয় নয়ন খুললে পরে পুড়বে ত্রিভুবন
শান্ত থাকলে তিনি যেন স্নিগ্ধ সমীরণ।
হর হর মহাদেব স্লোগানে আকাশ বাতাস কাঁপে
শিবের ভক্ত আমরা সবাই থাকি না তো চাপে।
হর হর মহাদেব নিয়ে কবিতা
জটা হতে বহে গঙ্গা, কপালে চন্দ্রকলা,
বিষপানে নীলকণ্ঠ, কণ্ঠে হাড়ের মালা;
ডমরুর ডিং ডিং শব্দে প্রলয় নাচন নাচে,
হর হর মহাদেব ধ্বনিতে সব ভয় পালায় পাছে।
শ্মশানের ভস্ম মেখে যিনি থাকেন যোগাসনে,
ত্রিভুবন কাঁপে থরথর তাঁর রুদ্র হুংকারে;
এক হাতে ত্রিশূল, অন্য হাতে অভয় মুদ্রা,
ভোলেবাবার চরণে নত হয় দেব-দানব, সমুদ্র।
সংসারের সব মায়া ছেড়ে যিনি বৈরাগী,
তাঁর নামেই ভক্তরা সব হয় অনুরাগী;
বেলপাতা আর গঙ্গাজলে তুষ্ট মহেশ্বর,
শিবশম্ভুর কৃপা পেলেই পূর্ণ হয় সব ঘর।
তাণ্ডব নৃত্যে যখন তিনি খোলেন তৃতীয় নয়ন,
সৃষ্টি ও ধ্বংস মিলেমিশে হয় একাকার তখন;
ওঁ নমঃ শিবায় জপলে কাটে কালের ফাঁদ,
মহাকালের দরবারে আজ জানাই ফরিয়াদ।
পাহাড়ের চূড়ায় বসে যিনি ধ্যানে মগ্ন,
জাগতিক কোনো কিছুই যাকে করে না তো ভগ্ন;
সেই আদিযোগী শেখালেন ত্যাগের মহিমা,
শিবের প্রেমে মজে আছে অসীম নীলিমা।
সাপ পেঁচানো গলায় তাঁর অদ্ভুত এক সাজ,
সহজ সরল ভোলা তিনি, দেবাদিদেব আজ;
ধুতুরা ফুলেই খুশি তিনি, চান না সোনার দাম,
হৃদয় উজাড় করে ডাকো—হর হর মহাদেব নাম।
বিষাদ যখন গ্রাস করে, আঁধার নামে প্রাণে,
মহাদেবের নামটা তখন শক্তি জোগায় গানে;
তিনিই তো মৃত্যুঞ্জয়ী, কালকে করেন জয়,
শিবের ভক্ত হলে কিসের এত ভয়?
নটরাজ রূপে যখন তিনি ছন্দ তোলেন পায়,
বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দোলে সেই লয়ের মায়ায়;
পুরোনো সব ধ্বংস করে নতুনের আবাহন,
শিবের মাঝেই লুকিয়ে আছে জীবনের দর্পণ।
শুকনো কাঠের চিতায় বসে তিনি হাসেন খিলখিল,
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনিই তো অনাবিল;
হর হর ধ্বনিতে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হোক,
শিবের কৃপায় দূরে যাক জগতের সব শোক।
হর হর মহাদেব ও কিছু কথা
শ্মশানের ছাই মেখে তিনি আমাদের শরীরের নশ্বরতার কথাই বারবার মনে করিয়ে দেন।
নীলকণ্ঠ হয়ে বিষ হজম করার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই আছে, তাই তিনি দেবাদিদেব।
ধুতুরা আর বেলপাতায় তুষ্ট ভোলাবাবা ভক্তের ভক্তিটুকুই দেখেন, আড়ম্বর খোঁজেন না।
কপালে ওই ত্রিনয়ন খুললে অশুভ শক্তির বিনাশ মুহূর্তের ব্যাপার, তখন পালানোর পথ থাকে না।
সংসার সাগরে তরী ডোবার উপক্রম হলে মহাদেবের নামই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।
প্রলয় নাচন দিয়ে তিনি পুরনোকে ভেঙে নতুনের পথ তৈরি করেন অবলীলায়।
সাপ গলায় পেঁচিয়ে তিনি ভয়কে জয় করার শিক্ষা দেন জগতবাসীকে।
ডমরুর গম্ভীর শব্দে জেগে ওঠে সুপ্ত চেতনা, সৃষ্টি হয় এক নতুন অধ্যায়।
বিলাসবহুল প্রাসাদ ছেড়ে কৈলাসের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় ধ্যানমগ্ন থাকাই তাঁর পছন্দ।
মনের বিষ দূর করতে হলে মহাদেবের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো গতি নেই।
তিনি মহাকাল; সময়ের চাকা তাঁর ইশারায় ঘোরে, আদি ও অন্ত সব তাঁর হাতে।
জটায় গঙ্গা ধারণ করে তিনি পৃথিবীকে শীতল করার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন।
ভক্তিভরে ডাকলে তিনি রাজা বা ভিখারি বাছ বিচার করেন না, সবাইকে কোলে টেনে নেন।
মৃত্যুভয় তুচ্ছ হয়ে যায়, যখন কণ্ঠে তেজের সাথে ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়।
তাঁর ধ্যানে মগ্ন হলে জাগতিক মোহমায়া সব ধূলিকণার মতো বাতাসে উড়ে যায়।
