স্বার্থপর বন্ধু নিয়ে সেরা স্ট্যাটাস: সেরা ২৮১+ কালেকশন
বন্ধুত্ব হলো বিশ্বাসের অন্য নাম, কিন্তু সেখানে যখন স্বার্থের বিষ মেশানো থাকে, তখন তা অসহনীয় হয়ে ওঠে। আমাদের এই বিশাল আয়োজনটি সাজানো হয়েছে সেই সব মুখোশধারী বন্ধুদের আসল চেহারা উন্মোচন করার জন্য। যারা বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে শুধু নিজের স্বার্থ হাসিল করে, তাদের জন্য এই কথাগুলো আয়নার মতো কাজ করবে।
স্বার্থপর বন্ধু নিয়ে ক্যাপশন
বন্ধু সেজে যারা ক্ষতি করে, তারা প্রকাশ্য শত্রুর চেয়েও ভয়ংকর।
সুসময়ে পাশে থাকা সহজ, দুঃসময়ে যে হাতটা ধরে রাখে সেই আসল।
স্বার্থ ফুরালে যাদের রূপ বদলায়, তাদের চিনে রাখা ভালো ভবিষ্যতের জন্য।
বন্ধুত্বের নামে যারা ব্যবসা করে, তাদের থেকে শত হাত দূরে থাকাই শ্রেয়।
পিঠে ছুরি মারা মানুষগুলোই একসময় আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল।
মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বার্থপর চেহারাটা বড্ড কুৎসিত ও ভয়ানক।
প্রয়োজন মিটলে যাদের ব্যবহার পাল্টে যায়, তারা বন্ধু নামের কলঙ্ক।
বিশ্বাস করে ঠকেছি, এখন আর কাউকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করার সাহস পাই না।
বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে যারা স্বার্থ হাসিল করে, তাদের আমি ঘৃণা করি।
আসল বন্ধু চেনার জন্য জীবনে একটা খারাপ সময় পার করাই যথেষ্ট।
স্বার্থপরদের ভিড়ে নিঃস্বার্থ মানুষ খুঁজে পাওয়া এখন অসম্ভব প্রায়।
মুখের মিষ্টি কথায় গলে গিয়ে নিজের ক্ষতি করেছি বারবার, আর না।
বন্ধুত্বের মেয়াদ এখন পুরোপুরি স্বার্থের ওপর নির্ভর করে, ভালোবাসা সেখানে গৌণ।
স্বার্থপর বন্ধুদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার সেরা ক্যাপশন
সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধু অনেক, বাস্তবে পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই।
ভার্চুয়াল জগতের এই মেকি বন্ধুত্ব আমাকে আর টানে না, আমি বাস্তবে বিশ্বাসী।
স্বার্থের টানে যারা কাছে আসে, স্বার্থ শেষে তারা সোজা ব্লক লিস্টে যায়।
অনলাইন বন্ধুত্বের মেয়াদ আজকাল ডাটা প্যাকের মতোই ক্ষণস্থায়ী হয়ে গেছে।
টাইমলাইনে যারা প্রশংসা করে, আড়ালে তারাই আমার জন্য গর্ত খোঁড়ে।
মেকি হাসির ইমোজি দেওয়া মানুষগুলোই বাস্তবে আমাকে কাঁদায় বেশি।
ফ্রেন্ডলিস্টে হাজারো মানুষ, কিন্তু বিপদে হাত বাড়ানোর মতো একজনও নেই।
স্বার্থপর বন্ধুদের ছাঁটাই করার জন্য আনফ্রেন্ড বাটনটাই এখন সেরা অস্ত্র।
ডিজিটাল যুগের বন্ধুত্ব এখন লাইক আর কমেন্টেই সীমাবদ্ধ, হৃদয়ে স্থান নেই।
সুবিধাবাদী মানুষগুলোর জন্য আমার প্রোফাইলে কোনো জায়গা নেই।
মুখোশধারী বন্ধুদের চেয়ে একা থাকা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বস্তির।
সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুত্ব এখন স্বার্থের লেনদেন ছাড়া আর কিছু না।
বন্ধুত্বের স্ট্যাটাস দিলেই বন্ধু হওয়া যায় না, কাজে প্রমাণ দিতে হয়।
স্বার্থপর বন্ধু নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া
বন্ধুত্বের নামে যারা ব্যবসা করে, তাদের থেকে শতহাত দূরে থাকি।
স্বার্থের টানে কাছে আসা মানুষগুলোকে চিনে রাখা বড্ড জরুরি।
যাকে সব উজাড় করে দিলাম, সে-ই আজ আমার সবচেয়ে বড় ক্ষতি করল।
প্রয়োজনে কাছে আসা আর কাজ শেষে ভুলে যাওয়া—এটাই তাদের স্বভাব।
বন্ধু সেজে যারা ক্ষতি করে, তারা শত্রুর চেয়েও ভয়ংকর।
স্বার্থপরদের ভিড়ে আসল বন্ধু খুঁজে পাওয়া খড়ের গাদায় সুঁই খোঁজার মতো।
বিষাক্ত সাপের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হলো স্বার্থপর বন্ধু।
স্বার্থপর বন্ধু চেনার উপায় ও বাস্তব স্ট্যাটাস
বিপদ এলেই বোঝা যায় কে আপন আর কে সুবিধাবাদী।
সুসময়ের মাছিরা দুঃসময়ে জানালা দিয়ে পালায়।
পকেট ভারী থাকলে বন্ধুর অভাব হয় না, খালি পকেটেই আসল চেনা যায়।
যাদের জন্য জীবন বাজি রাখলাম, তারাই আজ অচেনা হয়ে গেল।
বিপদের দিনে ছায়া সরে গেলে বুঝবে সে কখনো বন্ধু ছিল না।
স্বার্থ ফুরালে যাদের ব্যবহার পাল্টায়, তারাই আসল কালসাপ।
দুঃসময়ে পাশে না থাকলে সুসময়ে অধিকার ফলাতে এসো না।
বন্ধু বেশে থাকা স্বার্থান্বেষী মানুষ নিয়ে স্ট্যাটাস
সামনে মধু আর পেছনে বিষ, এমন বন্ধুর চেয়ে শত্রু ভালো।
আস্তিনে সাপ পুষেছি এতদিন, আজ ছোবল খেয়ে বুঝলাম।
পিঠ চাপড়ানো হাতটাই যে পিঠে ছুরি মারবে, ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি।
মিষ্টি কথার ফাঁদে ফেলে যারা বিশ্বাস ভাঙ্গে, তাদের ঘৃণা করি।
ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে যারা থাকে, তাদের চেনা বড় দায়।
বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে যারা নিজের আখের গোছায়, তারা মানুষ নামের কলঙ্ক।
হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হিংস্র পশুটাকে চিনতে ভুল করেছিলাম।
বেইমান বন্ধুর আসল রূপ প্রকাশ করার মতো স্ট্যাটাস
বেইমানদের কোনো ধর্ম নেই, স্বার্থই তাদের একমাত্র উপাস্য।
বিশ্বাসঘাতকতার জবাব বিশ্বাস দিয়ে দেওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু না।
তোমার আসল রূপটা দেখার পর বন্ধু ডাকতে লজ্জা লাগে।
বন্ধুত্বের পবিত্রতা নষ্ট করেছ তুমি, ক্ষমা পাওয়ার যোগ্যতা তোমার নেই।
মুখোশ খুলে গেছে, এখন আর ভালো সাজার অভিনয়ের দরকার নেই।
বিশ্বাস নিয়ে খেলা করাটা তোমার পুরনো অভ্যাস, আজ প্রমাণ পেলাম।
বেইমান বন্ধু থাকার চেয়ে একা থাকা হাজার গুণ শ্রেয়।
স্বার্থপর বন্ধু নিয়ে উক্তি
প্রকাশ্য শত্রুর চেয়ে ছদ্মবেশী বন্ধু অনেক বেশি ভয়ের কারণ।— হযরত আলী (রাঃ)
সুসময়ে মাছি হয়ে যারা ভনভন করে, দুঃসময়ে তাদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায় না।— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
স্বার্থপর বন্ধু হলো সেই পাখির মতো, যে শীত ফুরোলেই উড়ে যায়।— এ.পি.জে. আব্দুল কালাম
যাদের বন্ধুত্বের মূলে স্বার্থ থাকে, তাদের সঙ্গ ত্যাগের মাঝেই মঙ্গল নিহিত।— চাণক্য
বন্ধুত্বের মুখোশ পরা মানুষগুলোই জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে।— হুমায়ূন আহমেদ
বিশ্বাসঘাতক বন্ধু আর বিষধর সাপ—দুটোর মধ্যে আদতে কোনো তফাৎ নেই।— ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
আমার শত্রুদের আমি ভয় পাই না, কিন্তু মেকি বন্ধুদের আলিঙ্গনকে ভয় পাই।— নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
স্বার্থ ফুরালে যাদের কথা বলার ধরণ বদলে যায়, তাদের থেকে শত হাত দূরে থাকা উচিত।— সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রয়োজনের সময় যারা পাশে থাকে না, তাদের বন্ধু বলাটা বোকামি।— সমরেশ মজুমদার
যে বন্ধু সব সময় নিজের সুবিধার কথা ভাবে, সে আসলে কারো বন্ধু হতে পারে না।— শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
নকল সোনা চেনা সহজ, কিন্তু নকল বন্ধু চেনা বড়ই কঠিন।— বুদ্ধদেব গুহ
তারা তোমার সুসময়ের সঙ্গী, কিন্তু বিপদের দিনে তারা ছায়ার মতোই মিলিয়ে যায়।— ইমদাদুল হক মিলন
বন্ধুত্বের নামে যারা ব্যবসা করে, তারা আসলে নিজেদের আত্মাকেই বিক্রি করে।— মহাদেব সাহা
স্বার্থের চশমা দিয়ে যারা পৃথিবী দেখে, তারা বন্ধুত্বের পবিত্রতা বোঝে না।— আনিসুল হক
কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করার আগে দেখে নাও, সে তোমার স্বার্থপর বন্ধু কি না।— সেলিনা হোসেন
স্বার্থপর বন্ধু নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
বন্ধুত্বের মুখোশ পরে যারা স্বার্থ হাসিল করে, তাদের চিনে রাখা ভালো। বিপদের সময় যাদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায় না, সুসময়ে তারাই আবার মাছির মতো ভনভন করে। যাকে নিজের ছায়ার মতো বিশ্বাস করতাম, অন্ধকার নামতেই সে উধাও হয়ে গেল। জীবনের এই শিক্ষাটা বড্ড জরুরি ছিল। নকল মানুষ দিয়ে ঘর ভরানোর চেয়ে একা থাকা অনেক সম্মানের।
যাদের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিলাম, দিনশেষে তারাই আমাকে ধোঁকা দিল। আজ বুঝলাম, প্রয়োজন ফুরোলে প্রিয় মানুষটাও অচেনা হয়ে যায়। এই শহরে বন্ধুত্বের চেয়ে ব্যবসার দাম বেশি। স্বার্থের টানাপোড়েনে আসল সম্পর্কগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও আফসোস করি না, কারণ মুখোশ খসে পড়ার পর আসল চেহারাটা তো দেখতে পেলাম।
আমরা বোকার মতো ভাবি সবাই আমাদের মতো সরল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। পিঠে ছুরি মারা মানুষটা যদি দূরের কেউ হতো, তবে কষ্ট পেতাম না। কিন্তু যখন দেখি সে আমারই সবচেয়ে কাছের বন্ধু, তখন বিশ্বাস শব্দটার ওপর থেকেই ঘৃণা চলে আসে। নিজের গোপন কথাগুলো অন্যের কাছে রসিয়ে বলা যাদের স্বভাব, তাদের থেকে শত হাত দূরে থাকাই শ্রেয়।
ফোনবুকটা ভর্তি নম্বর, কিন্তু মন খারাপের সময় কথা বলার মতো একজনও নেই। সবাই ব্যস্ততার দোহাই দেয়। অথচ আমার দরকারে আমি সব কাজ ফেলে ছুটে যেতাম। একতরফা বন্ধুত্ব বেশিদিন টেকে না। এখন আর আগ বাড়িয়ে কারো খোঁজ নিই না। যে থাকার সে থাকবে, আর যে যাওয়ার সে অজুহাত খুঁজবেই। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে আর কোনো সম্পর্ক টানব না।
তোর সাফল্যের সময় যারা হাততালি দেয়, তারা সবাই বন্ধু না। এদের অনেকেই মনে মনে তোর পতন চায়। হিংসা আর বন্ধুত্বের এই মিশেলটা বড়ই বিষাক্ত। মুখের ওপর মিষ্টি কথা বলা মানুষগুলোই আড়ালে গর্ত খোঁড়ে। তাই অন্ধ বিশ্বাস করার দিন শেষ। চোখ কান খোলা রেখেই এখন মিশতে হয়।
মাঝে মাঝে পুরনো চ্যাটগুলো দেখলে হাসি পায়। কত প্রমিজ, কত আবেগ! আজ সবটাই মিথ্যে মনে হয়। স্বার্থপর বন্ধুদের ভিড়ে আসল মানুষ চেনা দায়। তবে ধন্যবাদ তোদের, তোরা শিখিয়েছিস যে পৃথিবীতে নিজের চেয়ে আপন আর কেউ নেই। একাকিত্বকে এখন আর ভয় পাই না, ওটাই আমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।
স্বার্থপর বন্ধু নিয়ে ছন্দ
সুদিনের মাছি তোরা, দুর্দিনেতে ভোঁ
স্বার্থ শেষে পালালি সব, দিয়ে আমায় ছোঁ।
বন্ধুরূপী শত্রু তুমি, চিনতে বড় ভুল
বিষধর সাপ পুষেছিলাম, ছিঁড়ে সুখের মূল।
সামনে এসে মিষ্টি হাসি, পেছনেতে ছুরি
তোর মতো বন্ধুর ভাই, গলায় দিই দড়ি।
প্রয়োজনে ভাই ডাকিস, কাজ ফুরালে পর
বেইমান তুই ভেঙে দিলি, বিশ্বাসের এই ঘর।
খাবার লোভে আসলি কাছে, পেট ভরালে শেষ
তোর বন্ধুত্বে দেখছি আমি, বিষাক্ত এক রেশ।
বিপদে আজ একলা আমি, পাশে তো কেউ নাই
সুখের দিনে বন্ধু তোদের, কোথায় গেলে পাই?
মুখোশ পরা শয়তান তুই, বন্ধু সাজিস বেশ
তোর কারণেই আমার জীবন, আজকে নিরুদ্দেশ।
টাকা দেখলে লেজ নাড়াস, পকেট ফাঁকা হলে
চিনবি না আর বন্ধু বলে, যাবি দূরে চলে।
উপকার সব ভুলে গেলি, সামান্য এক স্বার্থে
তোর মতো লোক বন্ধুর দলে, আসে কিসের অর্থে?
দিন দুপুরে ডাকাত তোরা, লুটে নিলি সব
বন্ধু নামের কলঙ্করা, থামা কলরব।
ছায়ার মতো ছিলি পাশে, রোদ থাকতে গায়
আঁধার নামলে একলা ফেলে, বন্ধু কোথা যায়?
নিজের চরকায় তেল দে ভাই, অন্যের ক্ষতি বাদ
স্বার্থপরের বন্ধু হওয়া, মিটলো আমার সাধ।
হাত বাড়িয়ে ডাকলে তোকে, পাই না তো আর সাড়া
স্বার্থপরের ভিড়ে আমি, বড্ড দিশাহারা।
রক্ত চোষা জোঁক তোরা সব, বন্ধু তো আর নস
স্বার্থের টানেই খেলছিস ভাই, বন্ধুত্বের এই রস।
স্বার্থপর বন্ধু নিয়ে কবিতা
সুসময়ে মাছি হয়ে ভনভন করো পাশে,
বিপদ এলেই তোমরা সব মিলিয়ে যাও বাতাসে;
বন্ধুত্বের নামাবলি গায়ে দিয়ে ঘোরো রোজ,
প্রয়োজন ফুরোলে আর রাখো না তো কোনো খোঁজ।
এক পাতে খেয়েছি নুন, ভেবেছিলাম ভাই,
এখন দেখি বিষ মাখানো ছোবল খেতে পাই;
স্বার্থের টানেই ছিল তোমার সব আসা-যাওয়া,
মুখোশ খোলার পর এখন অচেনা লাগে হাওয়া।
পিঠের ওপর হাত রেখে ভরসা দিতে কত,
সেই হাতেই এখন দেখি আঘাতের দাগ শত;
বিশ্বাস ভাঙার শব্দটা বড্ড বেশি কানে বাজে,
স্বার্থপরের বন্ধুত্ব তো শ্মশানেরই সাজে।
হাসিমুখে কথা বলে ভেতরে রাখো ছেনী,
তোমার মতো বন্ধু পেয়ে আমি হলাম ঋণী;
ঋণটা অবশ্য যন্ত্রণার, শিক্ষারও বটে,
চিনে নিলাম আসল রূপ যা বিপদেতেই রটে।
নিজের আখের গোছাতে তুমি ওস্তাদ বড়,
অন্যের ক্ষতি করে গড়ো সুখের বালুচড়;
বন্ধু বলে ডাকতে এখন লজ্জা লাগে মুখে,
তোমার ছায়া মাড়ালেও আজ আগুন জ্বলে বুকে।
যাকে ঘিরে স্বপ্ন বুনলাম, ভাবলাম আপনজন,
সেই দেখি নিলামে তোলে আমার এই মন;
লাভ-ক্ষতির হিসেব কষে বন্ধুত্ব হয় না,
তোমার এই মেকি সম্পর্ক আর প্রাণে সয় না।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তুমি দেখো নিজের চোখ,
বিবেক যদি থাকে তবে পাবে বড় শোক;
ছলনা দিয়ে গড়া প্রাসাদ টেকে না বেশি দিন,
স্বার্থপরের কপালে জোটে ধিক্কারের ঋণ।
মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে রেখে লুটলে সব সুখ,
প্রয়োজন শেষে দেখালে সেই কুৎসিত মুখ;
বন্ধুত্বের পবিত্রতা নষ্ট করলে হেলায়,
তোমার জায়গা হবে না আর আমার এই ভেলায়।
দূরে থাকাই শ্রেয় এখন, চাই না কোনো মিল,
তোমার বুকে দয়া নেই, আছে স্বার্থের কিল;
একলা চলাই অনেক ভালো মেকি সঙ্গের চেয়ে,
মুক্তি দিলাম, যাও চলে যাও স্বার্থের তরী বেয়ে।
স্বার্থপর বন্ধু ও কিছু কথা
প্রয়োজনে কাছে আসা আর কাজ ফুরোলে ভুলে যাওয়া এদের জন্মগত স্বভাব।
বিষাক্ত মানুষের সাথে চলার চেয়ে একলা চলা অনেক নিরাপদ ও স্বস্তির।
মুখের ওপর মধুর সম্ভাষণ আর আড়ালে বিষোদগার—এদের চেনার সেরা উপায়।
বন্ধুত্বের পাল্লায় যারা লাভ-ক্ষতির হিসাব কষে, তারা আর যা-ই হোক বন্ধু হতে পারে না।
নিজের স্বার্থের জন্য এরা দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে মুহূর্তে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে।
সুসময়ে ছায়ার মতো লেগে থাকে, কিন্তু বিপদের মেঘ দেখলে সবার আগে উধাও হয়ে যায়।
তোমাকে সিঁড়ি বানিয়ে ওপরে উঠবে, তারপর কাজ শেষে সেই সিঁড়িটাই লাথি মেরে ফেলে দেবে।
ঠকিয়ে যাওয়ার পর এদের মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা জাগে না, বরং নির্লজ্জের মতো অজুহাত দেখায়।
এদের আঘাতগুলো আসলে শিক্ষা দেয়, অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করতে নেই।
সময় হলে ঠিকই আসল চেহারা বেরিয়ে আসে, তখন চেনা মানুষটাকেই বড্ড অচেনা ও ভয়ংকর লাগে।
লেনদেনের সম্পর্ক শেষ হলে এদের কাছে বন্ধুত্বের আর কোনো মূল্য অবশিষ্ট থাকে না।
পাশে থেকে সাহস জোগানোর বদলে এরা কৌশলে মনের জোর কমিয়ে দিতে ওস্তাদ।
জীবন থেকে আবর্জনা সরানোর মতো এদের যত দ্রুত বিদায় করা যায়, ততই মঙ্গল।
ভালো থাকার অভিনয় করে এরা আসলে সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে।
নিজের ভালো ছাড়া এরা পৃথিবীর আর কিছুই বোঝার ক্ষমতা রাখে না।
