শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ২৬১+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
বিদ্যাপীঠ কেবল ইট-পাথরের দালান নয়, এটি আমাদের বেড়ে ওঠার আঁতুড়ঘর। শৈশবের দুরন্তপনা থেকে শুরু করে কৈশোরের বন্ধুত্ব—সবকিছুর সাক্ষী এই আঙিনা। আমাদের এই বিশাল আয়োজনটি সাজানো হয়েছে সেই সব সোনালী দিনের স্মৃতিচারণ করার জন্য, যা আপনার টাইমলাইনকে নস্টালজিয়ায় ভরিয়ে দেবে এবং হারানো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া
ক্যাম্পাসের প্রতিটি ইটে মিশে আছে আমাদের সোনালী অতীত।
বিদ্যাপীঠের এই প্রাঙ্গণই আমাদের দ্বিতীয় ঘর।
বছর পেরিয়ে গেলেও এই জায়গার মায়া কাটানো অসম্ভব।
জীবনের সেরা অধ্যায়গুলো এই চার দেয়ালের মাঝেই লেখা।
আগামীর স্বপ্ন বোনার কারখানা আমাদের এই প্রিয় প্রতিষ্ঠান।
দল বেঁধে ক্লাসে ঢোকার সেই দৃশ্য আজও চোখের সামনে ভাসে।
হাজারো স্মৃতির চাদরে মোড়ানো আমার প্রিয় ক্যাম্পাস।
বিদ্যালয়ের স্মৃতিচারণ ও হারানো দিনগুলো নিয়ে স্ট্যাটাস
টিফিনের ঘণ্টার শব্দে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার দিনগুলো বড্ড মিস করি।
লাস্ট বেঞ্চের আড্ডা ছাড়া ক্লাসটা পানসে লাগত।
ঝালমুড়ি ভাগ করে খাওয়ার আনন্দ ফাইভ স্টার হোটেলেও মেলে না।
স্কুল পালানো আর স্যারের বকুনি—সবই আজ মধুর স্মৃতি।
সাদা শার্টে কালির দাগ লাগানোর মাঝেই ছিল আসল শৈশব।
বন্ধুদের সাথে কাঁধে হাত রেখে বাড়ি ফেরার পথটা বড্ড ছোট ছিল।
ফিরে যেতে চাই সেই বেঞ্চে, যেখানে স্বপ্নেরা ডানা মেলত।
মানুষ গড়ার কারিগর ও প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে স্ট্যাটাস
এই আঙিনায় পা রেখেই মানুষ হওয়ার প্রথম পাঠ শিখেছি।
শিক্ষকের বেতের বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
পুঁথিগত বিদ্যার বাইরেও মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।
মানুষ গড়ার কারিগরদের চরণে জানাই হাজারো সালাম।
আজকের এই অবস্থানের কারিগর আমার প্রিয় বিদ্যালয়।
শাসন আর স্নেহের ছাঁচে আমাদের গড়েছেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা।
চরিত্র গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে এই পবিত্র ভূমিতেই।
শিক্ষা জীবন ও প্রতিষ্ঠানের অবদান নিয়ে কৃতজ্ঞতা স্ট্যাটাস
সার্টিফিকেটের চেয়েও দামী সম্পদ পেয়েছি—সততা আর নিষ্ঠা।
আমার সফলতার গল্পের আঁতুড়ঘর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মাথা উঁচু করে বাঁচার সাহস জুগিয়েছে আমার কলেজ।
জীবনের ঝরঝঞ্ঝা সামলানোর শক্তি এখান থেকেই অর্জন করেছি।
কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সব দেয়ালকে, যা আমাদের আগলে রেখেছিল।
প্রতিষ্ঠানের ঋণ শোধ করার সাধ্য আমার নেই।
আজকের আমি হয়ে ওঠার পেছনে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান অনস্বীকার্য।
পুরনো বিল্ডিং ও স্মৃতির ধুলোমাখা ক্লাসরুম নিয়ে স্ট্যাটাস
শ্যাওলা ধরা দেয়ালে কান পাতলে আজও আমাদের হাসির শব্দ শোনা যায়।
পুরোনো বিল্ডিংটার দিকে তাকালে বুকটা হাহাকার করে ওঠে।
ধুলোমাখা বেঞ্চে খোদাই করা নামগুলো আজ অস্পষ্ট, তবুও জীবন্ত।
ক্লাসরুমের সেই চেনা গন্ধে মিশে আছে হাজারো দীর্ঘশ্বাস।
জরাজীর্ণ ছাদটা আজও আমাদের স্মৃতি আগলে দাঁড়িয়ে আছে।
ব্ল্যাকবোর্ডের চক আর ডাস্টারের ধুলোয় মাখা শৈশব।
ভাঙা জানালার ফাঁক দিয়ে আসা রোদটা আজও বড্ড আপন লাগে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ক্যাপশন
ক্যাম্পাসের এই লাল দালানগুলো আজও আমাকে চুম্বকের মতো টানে।
হাজারো স্মৃতির ভিড়ে এই করিডোরগুলো বড্ড আপন মনে হয়।
ক্লাসরুমের বেঞ্চে খোদাই করা নামগুলো মুছে গেছে, কিন্তু বন্ধুত্ব অটুট আছে।
রিইউনিয়নে এসে মনে হলো সময়টা যেন উল্টো পথে হাঁটছে।
প্রাক্তন হতে পারি, কিন্তু এই ক্যাম্পাসের প্রতি মায়াটা আজীবন থাকবে।
জীবনের সেরা অধ্যায়টা এই চারদেয়ালের মাঝেই লিখে এসেছি।
ইট পাথরের এই ক্যাম্পাসটা আমাদের হাসিকান্নার নীরব সাক্ষী।
এখানে এলে মনে হয় বয়সটা একলাফে অনেক কমে গেছে।
প্রিয় ক্যাম্পাস, তোমাকে ছেড়ে থাকাটা বড্ড কঠিন ছিল।
বন্ধুদের সাথে কাটানো সেই সোনালী দিনগুলোই ছিল আসল সম্পদ।
প্রতিটি ইটের গাঁথুনিতে মিশে আছে আমাদের তারুণ্যের গল্প।
ক্যাম্পাস জীবনের এই দিনগুলো আর কখনো ফিরে পাব না।
শিক্ষাজীবনের এই প্রাঙ্গণটা আমাকে মানুষ হতে শিখিয়েছে।
প্রিয় ক্যাম্পাসের গেটে তোলা ছবির নস্টালজিক ক্যাপশন
এই গেট দিয়ে ঢোকার সময় বুকটা ধড়ফড় করত, আজ কেন জানি শান্ত।
গেটের ওপারেই ছিল আমাদের স্বপ্নের এক রঙিন পৃথিবী।
বিদায়বেলায় এই গেটটা পার হওয়ার সময় পা দুটো ভারী হয়ে গিয়েছিল।
কত অপেক্ষার সাক্ষী এই লোহার গেট, কত বন্ধুত্বের শুরু এখানেই।
গেটের সামনে দাঁড়ালে আজও সেই পুরনো আমিটাকে দেখতে পাই।
এই প্রবেশদ্বারটা আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে, আবার কেড়েও নিয়েছে অনেক।
ক্যাম্পাসের গেটটা যেন অতীত আর বর্তমানের সেতুবন্ধন।
নবীনবরণের দিনে এই গেট দিয়েই বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ঢুকেছিলাম।
পাহারাদার মামার সেই কড়া শাসন আর গেটের আড্ডা, সব মিস করি।
গেটটা পেরোলেই মনে হতো আমি আমার নিজের রাজ্যে চলে এসেছি।
বিদায়ের দিনে এই গেটটা জাপটে ধরে কাঁদতে ইচ্ছে করছিল।
লোহার শিকগুলো জানে আমাদের কত গোপন অভিমানের কথা।
ক্যাম্পাসের গেটটা আজও নতুনের আহ্বানে হাত বাড়িয়ে আছে।
বিদ্যালয়ের মাঠ ও বিকেলের খেলার স্মৃতি নিয়ে ক্যাপশন
বিকেলের ওই সোনালী রোদ আর সবুজ মাঠ, শৈশবের সেরা ক্যানভাস।
গোলপোস্টের পেছনের ওই উত্তেজনা আজও ধমনীতে শিহরণ জাগায়।
জার্সি ছাড়াই আমরা ছিলাম একেকজন বিশ্বসেরা খেলোয়াড়।
ধুলোমাখা শরীর আর ঘর্মাক্ত মুখগুলোই ছিল আমাদের বিজয়ের চিহ্ন।
টিফিনের ফাঁকে একটুখানি খেলার জন্য কী ব্যাকুলতাই না ছিল!
মাঠের ওই কোণায় বসে আড্ডা দেওয়ার স্মৃতিগুলো বড্ড দামী।
খেলার ছলে কত ঝগড়া, আবার পরক্ষণেই গলাগলি, এটাই ছিল শৈশব।
ঘাসের গালিচায় শুয়ে আকাশ দেখার বিলাসিতা এখন আর পাই না।
স্কুল পালানো দুপুরে এই মাঠটাই ছিল আমাদের গোপন আস্তানা।
ফুটবল আর ক্রিকেট নিয়ে আমাদের উন্মাদনা দেখার মতো ছিল।
মাঠের ধুলোবালি গায়ে মেখেই আমরা বড় হয়েছি, মানুষ হয়েছি।
বিকেলের ঘণ্টা বাজার আগ পর্যন্ত মাঠটা আমাদের দখলে থাকত।
খেলার সাথীরা হারিয়ে গেছে, কিন্তু মাঠটা আজও স্মৃতি আগলে আছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে উক্তি
যে একটি স্কুলের দরজা খোলে, সে একটি কারাগারের দরজা বন্ধ করে দেয়।
—ভিক্টর হুগো
শিক্ষার শিকড় তেতো হলেও এর ফল মিষ্টি, আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো সেই শিকড় গড়ার স্থান।
—এরিস্টটল
আমাকে একটা ভালো স্কুল আর কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক দাও, আমি জাতি বদলে দেব।
—আব্রাহাম লিংকন
বিদ্যালয় হলো সেই বাগান, যেখানে শিশুরা ফুলের মতো ফুটে ওঠে।
—ফ্রেডরিখ ফ্রোয়েবল
একটি শিশু, একজন শিক্ষক, একটি বই এবং একটি কলম পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।
—মালালা ইউসুফজাই
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল ডিগ্রি দেওয়ার জায়গা না, এটা হলো মানুষ গড়ার কারিগর।
—এ.পি.জে. আব্দুল কালাম
জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চিনে যেতে হলেও যাও, আর বিদ্যালয় হলো সেই যাত্রার প্রথম ধাপ।
—আল-হাদিস
ক্লাসরুমের চার দেয়ালই আগামীর পৃথিবী তৈরি করে।
—নেলসন ম্যান্ডেলা
শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো শূন্য মনকে উন্মুক্ত মনে পরিণত করা, আর প্রতিষ্ঠান সেই পথ দেখায়।
—ম্যালকম ফোর্বস
স্কুল হলো সভ্যতার মশাল, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে আলো পৌঁছে দেয়।
—এইচ. জি. ওয়েলস
প্রকৃত বিদ্যালয় সেটাই, যেখানে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা থাকে।
—সক্রেটিস
দালানকোঠা দিয়ে বিদ্যাপীঠ হয় না, বিদ্যাপীঠ হয় শিক্ষক ও ছাত্রের আত্মিক সম্পর্ক দিয়ে।
—সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন
শিক্ষার আলো যেখানে জ্বলে, সেখান থেকে অন্ধকারের ছায়া পালাতে বাধ্য হয়।
—বেগম রোকেয়া
বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানের আধার, যেখানে মুক্ত চিন্তার চর্চা হয়।
—জন ম্যাসেফিল্ড
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা ও বিদ্যালয় ভাবনা বিষয়ক উক্তি
আনন্দের সঙ্গে যা শেখা হয়, তা-ই মনে থাকে; জোর করে গেলানো বিদ্যা হজম হয় না।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মুখস্ত করে পাস করা আর জ্ঞান অর্জন করা এক জিনিস না; তোতাপাখি বুলি আওড়ায়, কিন্তু অর্থ বোঝে না।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রকৃতির পাঠশালায় যে শিক্ষা মেলে, তা কোনো বদ্ধ ঘরে পাওয়া সম্ভব না।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শিশুকে তার নিজের মতো বাড়তে দাও, তোমার ইচ্ছা তার ওপর চাপিয়ে দিও না; সে জন্মেছে অন্য সময়ের জন্য।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শিক্ষাকে বহন করা এক কথা, আর শিক্ষাকে বাহন করা আরেক কথা।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
যে শিক্ষা মানুষকে মনুষ্যত্ব দেয় না, তা কোনো শিক্ষাই না।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পুথিগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিদ্যালয় হবে এমন এক জায়গা, যেখানে শিশুরা ভয়ের বদলে ভালোবাসা পাবে।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমাদের শিক্ষার বড় দোষ হলো, আমরা যা শিখি তা জীবনে প্রয়োগ করতে পারি না।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির—এমন পরিবেশেই শিক্ষার প্রকৃত বিকাশ ঘটে।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খাঁচায় বন্দি পাখি উড়তে ভুলে যায়, আর ক্লাসরুমে বন্দি শিশু ভাবতে ভুলে যায়।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভালো শিক্ষক তিনি, যিনি ছাত্রের মনে কৌতূহল জাগিয়ে তুলতে পারেন।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কেবল তথ্য জমানোর নাম শিক্ষা না, সত্যকে উপলব্ধি করাই আসল শিক্ষা।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গাছের ছায়ায় বসে শেখার আনন্দ ইটের দালানে বসে পাওয়া যায় না।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
স্কুলের ওই লাল দালানটা আজও আমাকে চুম্বকের মতো টানে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পেছনের বেঞ্চে বসে টিফিন খাওয়ার মজাই ছিল আলাদা। এখন এসি রুমে বসে দামী লাঞ্চ করি, কিন্তু সেই শেয়ার করে খাওয়ার স্বাদ আর পাই না। বন্ধুরা মিলে স্যারের চোখ ফাঁকি দেওয়ার সেই দিনগুলো বড্ড মিস করি। শৈশবটা ওখানেই আটকে আছে।
ভার্সিটির করিডোরটা যেন স্মৃতির জাদুঘর। প্রতিটা ইটের গায়ে আমাদের নাম অলিখিতভাবে লেখা আছে। ক্যান্টিনের মামার হাতের রং চা আর গিটারের টুংটাং শব্দ—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম জগত ছিল ওটা। বের হওয়ার পর বুঝলাম, জীবনটা আসলে ওখানেই ফেলে এসেছি। ডিগ্রি নিয়েছি ঠিকই, কিন্তু কলিজার টুকরা বন্ধুগুলোকে হারিয়েছি।
স্যারদের বকুনি তখন তিতা লাগত, এখন বুঝি ওটা ছিল ওষুধের মতো। মানুষ হওয়ার পাঠ তো ওনাদের কাছেই নেওয়া। আজ যে পজিশনে আছি, তার সবটুকু কৃতিত্ব সেই মানুষগুলোর। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি আমার শিক্ষাগুরুদের, যারা শাসন না করলে হয়তো আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না।
বিদায়বেলায় সবার চোখে জল ছিল। যেই গেট দিয়ে প্রথম ঢুকেছিলাম ভীরু পায়ে, সেই গেট দিয়েই বের হলাম এক বুক সাহস নিয়ে। প্রতিষ্ঠান আমাদের ডিগ্রি দিয়েছে, আর কেড়ে নিয়েছে তারুণ্যের সেরা সময়টা। ক্যাম্পাসের মায়া কাটানো কি অত সহজ? আজও পাশ দিয়ে গেলে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে।
টিফিন পিরিয়ড মানেই ছিল যুদ্ধের দামামা। কে কার খাবার আগে খাবে, সেই প্রতিযোগিতা চলত রোজ। এখন তো সব গোছানো, কিন্তু সেই কাড়াকাড়ি করে খাওয়ার আনন্দটা নেই। বন্ধু, তোদের ছাড়া টিফিন বক্সটা বড্ড ভারী লাগে। ক্ষুধা আছে, কিন্তু সেই তৃপ্তিটা নেই।
ক্যাম্পাসের ঘাসগুলোও আমাদের চেনে। ওখানে বসেই তো কত বিপ্লব, কত প্রেম আর কত আড্ডার জন্ম হয়েছে। যান্ত্রিক শহরে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে চোখ বন্ধ করে ক্যাম্পাসের সেই সবুজ মাঠে ফিরে যাই। ওটাই আমার অক্সিজেনের উৎস, ওটাই আমার শান্তির নীড়।
পরীক্ষা মানেই ছিল বিনিদ্র রজনী। গ্রুপ স্টাডির নামে আড্ডা আর সারা রাত জেগে সিলেবাস শেষ করার সেই চ্যালেঞ্জটা দারুণ ছিল। রেজাল্ট শিটের চেয়েও ওই রাতগুলো বেশি দামী। পাশ করে গেছি অনেক আগেই, কিন্তু সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে আজও হাসি পায়।
কলেজের প্রথম দিনটা মনে হলে এখনো হাসি পায়। সব কিছুই নতুন, সব কিছুই অচেনা। আস্তে আস্তে সেই অচেনা মানুষগুলোই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেল। এখন আমরা কে কোথায় আছি জানি না, কিন্তু মনের টানটা ঠিক আগের মতোই আছে। বন্ধুত্বে দূরত্বের কোনো স্থান নেই।
বৃষ্টির দিনে ক্লাসে না গিয়ে খিচুড়ি রান্না করার ধুম পড়ত। সেই স্বাদ কোনো ফাইভ স্টার হোটেলেও মিলবে না। বৃষ্টির শব্দ, বন্ধুদের গান আর ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি—এর চেয়ে সুন্দর আর কিছু হতে পারে না। জীবনটা তখন সত্যিই রঙিন ছিল।
র্যাগ ডে’র সাদা টি-শার্টটা আজও আলমারিতে যত্ন করে রেখেছি। ওটাতে বন্ধুদের হাতের লেখাগুলো এখন আর স্পষ্ট না, কিন্তু স্মৃতিগুলো একদম স্বচ্ছ। ওই একটা দিনে আমরা যতটা হেসেছি, আবার কেঁদেছি—তা ভোলা অসম্ভব। শেষবারের মতো সবাই একসাথে হওয়ার সেই মুহূর্তটা ছিল মহাকাব্যিক।
লাইব্রেরির পিনপতন নীরবতার মাঝেও আমাদের চোখের ইশারা চলত। বইয়ের ভাঁজে চিরকুট দেওয়া-নেওয়ার সেই রোমাঞ্চকর দিনগুলো এখন শুধুই ইতিহাস। পড়ার চেয়ে দেখার আগ্রহটাই বেশি ছিল তখন। সেই দিনগুলো ভাবলে নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে।
শিক্ষাজীবন শেষ করে এখন আমরা বাস্তবতার দৌড়ে। কিন্তু মনটা পড়ে আছে সেই ক্লাসরুমের শেষ বেঞ্চে। যেখানে স্যার পড়া ধরলে আমরা মাথা নিচু করে থাকতাম। সেই ভয়, সেই আনন্দ, সেই উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এক দারুণ প্যাকেজ ছিল আমাদের ছাত্রজীবন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ছন্দ
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে টিফিনেতে, আলুর চপ আর ঝাল
স্কুল জীবনে বন্ধু তোরা, ছিলি বড় বেহাল।
স্যারের ওই বেত দেখে, পেট ব্যথা শুরু
পড়া না পারলেই ক্লাসে, বুক দুরু দুরু।
লাস্ট বেঞ্চে বসে ভাই, কাটে সারা বেলা
পড়াশোনার চেয়ে বেশি, জমে খুশির মেলা।
বৃষ্টি এলেই স্কুলেতে, যাওয়ার অজুহাত
খিচুড়ি খাওয়ার লোভে, বাড়াই দুটি হাত।
হোমওয়ার্কটা করিনি তো, খাতা নেই সাথে
স্যার বললেন দাড়া বেটা, কান ধরে ওই পাতে।
টিফিনের ওই ঘণ্টা বাজলে, দৌড় দিই হুরমুড়িয়ে
কার আগে কে যাবে, দেখি সব উড়িয়ে।
পরীক্ষার হলে বন্ধু তোরা, খাতাটা একটু দেখা
নইলে যে আজকে আমার, জুটবে শুধুই একা।
চক ডাস্টার আর ব্ল্যাকবোর্ড, স্মৃতির পাতায় ভাসে
পুরনো সেই দিনগুলো ভাই, বড্ড মনে আসে।
ফার্স্ট বয় তো পড়ে সারাদিন, আমরা করি আড্ডা
স্কুল পালানো দিনগুলো সব, ছিল যেন গাড্ডা।
স্যারের বকুনি খেয়েও ভাই, হাসি মুখে থাকি
পড়া না পারলে রোজ, নতুন বাহানা ডাকি।
রোল কলটা হলেই খুশি, প্রক্সি দেওয়ার দিন
বন্ধুর হয়ে ইয়েস স্যার, শোধ করি ঋণ।
স্কুলের মাঠে ক্রিকেট খেলা, জানলা ভাঙার ভয়
হেডস্যারের ওই রুমটা যেন, বাঘের গুহা হয়।
বিদায় বেলায় চোখের জল, সাদা শার্টে নাম
স্কুল জীবন তোমায় আমি, জানাই শত সালাম।
গার্লস স্কুলের সামনে দিয়ে, সাইকেল নিয়ে ঘোরা
স্কুল লাইফের প্রেমটা ছিল, বড্ড বেশি কড়া।
বেঞ্চে খোদাই নাম লিখেছি, কম্পাস দিয়ে কেটে
স্কুল জীবনের স্মৃতিগুলো, যাবে না কভু ফেটে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে কবিতা
পুরোনো সেই লাল দালানটা আজও দাঁড়িয়ে আছে,
শ্যাওলা ধরা প্রাচীরগুলো আমায় পিছু ডাকে;
করিডোরে বাতাসেরাও ফিসফিসিয়ে কথা কয়,
হারানো সেই সোনালী দিন আর কি ফিরে পাওয়া হয়?
ব্ল্যাকবোর্ডে চকের গুঁড়ো, স্যারের কড়া শাসন,
সবই এখন স্মৃতির ফ্রেমে সাজানো এক আসন;
টিফিনের ওই ঘণ্টা বাজলে ছুটত সবাই মাঠে,
শৈশবটা হারিয়ে গেছে ব্যস্ততার এই হাটে।
শেষ বেঞ্চের কোণটাতে নাম লিখেছি কত,
বন্ধুত্বের সাক্ষী ওরাই, ছিল অবিরত;
কাটাকুটি খেলায় মগ্ন অলস দুপুর বেলা,
আজকে দেখো জীবন নিয়ে চলছে কেমন খেলা।
বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে রাখা ময়ূরপঙ্খী ডানা,
বিদ্যাপীঠের আঙিনাটা ছিল চেনা জানা;
এখন সেখানে নতুন মুখের কোলাহল ভাসে,
পুরোনোরা সব ছড়িয়ে গেছে, কে বা আর আসে?
বেত হাতে সেই অঙ্ক স্যার, ভয়ে কাঁপত বুক,
আজ মনে হয় ওটাই ছিল নির্ভেজাল এক সুখ;
বকুনি খেয়ে কানমলা আর নিলডাউন থাকা,
স্মৃতির ক্যানভাসে আজও দৃশ্যগুলো আঁকা।
বৃষ্টির দিনে টিনের চালে ঝমঝমিয়ে গান,
ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার ফন্দি, অস্থির এই প্রাণ;
কাগজের নৌকা ভাসতো স্কুলের জমা জলে,
সময় তুমি নিষ্ঠুর বড্ড, নিলে সব ছলে।
সরস্বতী পুজোর দিনে হলুদ শাড়ির সাজ,
পড়াশোনা শিকেয় তুলে শুধুই অকাজ;
অঞ্জলি দেওয়ার নামে দেখা হতো চোখে চোখে,
সেই দিনগুলো আজ কেন এত বেশি ধোঁকে?
মাঠের কোণের কৃষ্ণচূড়া, লাল গালিচা বিছায়,
আমাদের সব গোপন কথা আজও সে লুকায়;
স্কুল মানে তো ইটের পাঁজর নয় গো বন্ধু শোনো,
প্রাণের আরাম, মনের খোরাক, নেই তুলনা কোনো।
বিদায় বেলার চোখের জল আর অটোগ্রাফের খাতা,
ছিঁড়ে যাওয়া সেই সম্পর্কের অদৃশ্য এক ছাতা;
শিক্ষা জীবন ফুরলো কবে, রয়ে গেল রেশ,
এই প্রাঙ্গণেই কেটেছিল আমার সোনার বেশ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কিছু কথা
ইট-পাথরের দালানটা আমাদের কাছে কোনো স্থাপত্য ছিল না, ওটা ছিল আবেগের এক বিশাল কারখানা।
ক্লাসরুমের শেষ বেঞ্চটা আজও নীরব সাক্ষী হয়ে আছে আমাদের হাজারো না বলা গল্পের।
শিক্ষকের বকুনি তখন তিতকুটে লাগত, এখন বুঝি ওটাই ছিল মানুষ গড়ার আসল ওষুধ।
বন্ধুদের সাথে টিফিন ভাগ করে খাওয়ার আনন্দ ফাইভ স্টার হোটেলের খাবারেও মেলে না।
করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় আজও কানে ভাসে সেই পরিচিত হাসির কলরোল।
পরীক্ষার আগের রাতের টেনশন আর পরদিনের স্বস্তি—সবই এখন সোনালী অতীত।
ইউনিফর্ম ছেড়েছি অনেক আগে, কিন্তু মনের ভেতর সেই পরিচয়টা আজও গেঁথে আছে।
বিদায়বেলার কান্না বুঝিয়ে দিয়েছিল, দ্বিতীয় ঘর ছেড়ে যাওয়া কতটা যন্ত্রণাদায়ক।
বড় হওয়ার দৌড়ে আমরা ক্যাম্পাস ছাড়ি, কিন্তু ক্যাম্পাস আমাদের কখনো ছাড়ে না।
ব্ল্যাকবোর্ডের সাদা চকের গুঁড়োয় মিশে থাকত আমাদের ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন।
গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় মনে হতো জেলখানা থেকে মুক্তি পেলাম, এখন মনে হয় ওটাই ছিল জান্নাত।
স্যারদের বেতের বাড়ি শরীর থেকে মুছে গেছে, কিন্তু তাদের উপদেশগুলো হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে আছে।
বছরে একবার রিইউনিয়নে গিয়ে পুরোনো মুখগুলো দেখলে মনে হয় সময় থমকে দাঁড়িয়েছে।
সার্টিফিকেট হয়তো জীবিকা দেয়, কিন্তু এই প্রাঙ্গণ শিখিয়েছে কীভাবে মানুষ হতে হয়।
জীবন যুদ্ধের সব কৌশল আমরা ওই চার দেওয়ালের ভেতরেই রপ্ত করেছিলাম অজান্তে।
