শূন্যতা নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ২০৭+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
মানুষের জীবন সব সময় পূর্ণতায় ভরে থাকে না, মাঝে মাঝে বিশাল এক হাহাকার এসে গ্রাস করে সবকিছু। চারপাশে আপন মানুষের ভিড় থাকলেও নিজেকে বড্ড একা মনে হয়, বুকের ভেতরটা ফাঁকা লাগে। এই অদৃশ্য ভারটাই হলো শূন্যতা। আপনি কি মনের এই বিষাদগ্রস্ত অবস্থা প্রকাশ করার জন্য শূন্যতা নিয়ে ক্যাপশন খুঁজছেন? তাহলে আমাদের এই আয়োজনটি আপনার নীরব কান্নাগুলোকেই শব্দের রূপ দেবে। এখানে একাকীত্ব, হাহাকার আর না বলা কষ্টের সেরা সব লেখা সাজানো হয়েছে। আশা করি, পুরোটা পড়লে আপনার মনের গহীন কোণে জমে থাকা কথাগুলো এখানে খুঁজে পাবেন।
শূন্যতা নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া
শহরের এই কোলাহল আমার কানে পৌঁছায় না, আমি ডুবে আছি আমার নিজস্ব নীরবতায়।
চারপাশে হাজারো মানুষের ভিড়, অথচ আমি যেন এক জনমানবহীন দ্বীপে একা দাঁড়িয়ে।
আয়নায় নিজেকে দেখি, কিন্তু ভেতরের মানুষটাকে খুঁজে পাই না। সেখানে শুধুই অন্ধকার।
হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখা দীর্ঘশ্বাসগুলো যদি শব্দ পেত, তবে পৃথিবীটা স্তব্ধ হয়ে যেত।
রাত নামে, সেই সাথে নামে একরাশ বিষাদ। এই নীরবতা আমাকে গ্রাস করে ফেলে।
ভরে থাকা গ্লাসেও যেমন তৃষ্ণা মেটে না, তেমনি পূর্ণ জীবনেও আমি বড্ড রিক্ত।
কথা বলার মানুষ অনেক, কিন্তু শোনার মানুষ নেই। তাই দেয়ালের সাথেই কথা বলি।
আমার পৃথিবীটা এখন সাদাকালো, রঙের ছোঁয়া সেখানে পৌঁছায় না।
ভেতরের হাহাকার বাইরে প্রকাশ করার ভাষা নেই। আমি একাকিত্বের চাদর মুড়িয়ে বেঁচে আছি।
ভিড়ের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয় নেই, কারণ আমি তো কবেই হারিয়ে গেছি।
সবাই ভাবে আমি খুব ভালো আছি, কিন্তু ভালো থাকার অভিনয়ে আমি আজ ক্লান্ত।
আমার গল্পের কোনো শুরু নেই, শেষও নেই; আছে এক বিশাল ফাঁকা জায়গা।
দিনের আলোয় মুখোশ পরে থাকি, আর রাতে মুখোশ খুলে নিজের শূন্যতার মুখোমুখি হই।
বুকের ভেতর বিশাল শূন্যতা আর আমি – বিষাদময় স্ট্যাটাস
বুকের বাঁ পাশে একটা কবরস্থান বয়ে বেড়াচ্ছি, যেখানে রোজ আমার স্বপ্নগুলো দাফন হয়।
শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বাতাস বড্ড ভারী। এই অদৃশ্য পাথরটা সরানোর সাধ্য কারো নেই।
ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত, অথচ বাইরে কোনো ক্ষতচিহ্ন নেই। অদ্ভুত এই দহন।
চিৎকার করে কাঁদতে পারলে হয়তো ভালো লাগত, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো স্বর বের হয় না।
হৃৎপিণ্ডটা চলছে ঠিকই, কিন্তু প্রাণটা কবেই দেহ ছেড়ে পালিয়েছে। আমি এক জ্যান্ত লাশ।
পাথরের মতো ভারি এই বুকটা নিয়ে রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠি, আবার রাতে সেই ভার নিয়েই ঘুমাই।
ভেতরে তোলপাড় চলছে, অথচ বাইরে আমি শান্ত পুকুরের মতো।
আমার বুকের পাঁজরে কেউ যেন হাতুড়ি পেটায়। এই যন্ত্রণার কোনো ওষুধ নেই।
খুব গোপনে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি। কেউ টেরও পাচ্ছে না আমি কতটা ভেঙে চুরমার।
চোখের জল শুকিয়ে গেছে, এখন হৃদয়ে খরা চলছে। বৃষ্টির অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো চেয়ে আছি।
বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করে। মনে হয় কেউ যেন সবটুকু সুখ শুষে নিয়েছে।
জীবিত আছি, এটাই আশ্চর্যের। ভেতরটা তো কবেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
হাসলে বুকের ব্যথাটা বাড়ে। তাই এখন আর হাসার সাহস করি না।
সব থেকেও কি যেন নেই – শূন্যতার হাহাকার স্ট্যাটাস
পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালে মনে হয় ওটাও আমার মতো একা। সব থেকেও তার বুকে কলঙ্ক।
ঘরে দামী আসবাব আছে, কিন্তু শান্তি নেই। বিলাসবহুল খাঁচায় বন্দি এক পাখি আমি।
সাফল্যের চূড়ায় উঠে দেখি সেখানে বড্ড একা লাগে। নিচের কোলাহলটা আজ খুব মিস করি।
সব পাওয়ার মাঝেও কি যেন এক না পাওয়ার বেদনা আমাকে তাড়া করে বেড়ায়।
তৃপ্তি শব্দটা আমার অভিধান থেকে মুছে গেছে। যত পাই, তত বেশি রিক্ত মনে হয়।
পেট ভরা খাবার আছে, কিন্তু মনের ক্ষুধা মেটানোর মতো কোনো রসদ নেই।
চারপাশে এত আপনজন, তবুও দিনশেষে নিজেকে বড় বেশি পর মনে হয়।
হিসাবের খাতা মিলিয়ে দেখি প্রাপ্তির ঘরে শূন্য। অথচ সবাই বলে আমি নাকি সফল।
কি নেই আমার? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখি আসলে আমার কিছুই নেই, সব মায়া।
পূর্ণ কলসও মাঝে মাঝে বাজে। আমার ভেতরের শূন্যতাও মাঝে মাঝে শব্দ করে ওঠে।
সুখের সন্ধানে এতদূর এলাম, কিন্তু সুখ পাখিটা ধরা দিল না। মরীচিকার পেছনে ছুটছি।
অট্টালিকার ছাদে দাঁড়িয়ে দেখি আকাশটা কত বিশাল, আর আমার মনটা কত ছোট।
সব থেকেও না থাকার কষ্টটা যার হয়, সেই বোঝে। এ এক অদ্ভুত অসুখ।
শূন্যতা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
কোলাহলের শহরে আমি এক অদ্ভুত নির্জন দ্বীপ। চারপাশ জুড়ে মানুষের মেলা, অথচ আমার ভেতরটা খাঁ খাঁ করে। দিনের আলোয় যে হাসিমুখটা সবাই দেখে, ওটা নিছক অভিনয়। দিনশেষে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করলে আসল আমিটা বেরিয়ে আসে। তখন আর অভিনয় থাকে না, থাকে এক বুক হাহাকার। আয়নার ওপাশের মানুষটাও তখন করুণ চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে—আর কতদিন চলবে এই লুকোচুরি? নিজের ছায়াকেই মাঝে মাঝে অচেনা মনে হয়।
মাঝরাতের নিস্তব্ধতা আমার সবচেয়ে পুরনো বন্ধু। যখন শহরের সব আলো নিভে যায়, তখন আমার বুকের ভেতরের বাতিগুলো দপ করে জ্বলে ওঠে। ছাদের দিকে তাকিয়ে ভাবি, এই যে এত এত সম্পর্ক, এত এত পিছুটান—সবই কি মরীচিকা? বালিশের নিচে চাপা পড়া কান্নাগুলো যদি শব্দ পেত, তবে হয়তো এই শহর ঘুমাতে পারত না। আমি জেগে থাকি, আর আমার সাথে জেগে থাকে এক রাশ দীর্ঘশ্বাস।
বুকের বাম পাশে একটা অদৃশ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে সুখ ঢাললে সুখ হারিয়ে যায়, দুঃখ ঢাললে দুঃখ। ওটা কিছুতেই ভরাট হয় না। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমি বোধহয় ভুল সময়ে ভুল গ্রহে জন্ম নিয়েছি। এখানকার বাতাস আমার জন্য না, এখানকার মানুষগুলো বড্ড অচেনা। পরিচিত মুখগুলোর দিকে তাকালেও মনে হয়, ওরা আমাকে চেনে না, চেনে আমার মুখোশটাকে। এই একাকীত্ব কোনো অভিশাপ না, হয়তো এটাই আমার নিয়তি।
মেসেঞ্জারের সবুজ বাতিগুলো জ্বলছে, অথচ কথা বলার মতো একজন মানুষও নেই। হাজারো বন্ধুর তালিকায় আমি এক যাযাবর। সবাই যার যার গল্পে ব্যস্ত, কেউ অন্যের নীরবতা পড়ার চেষ্টা করে না। স্ক্রল করতে করতে ক্লান্ত আঙুলগুলো থমকে যায়, কিন্তু মন থমকায় না। ওটা খুঁজে ফেরে এমন কাউকে, যে বলবে—”আমি আছি, সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু সেই জাদুকরী বাক্যটা শোনার ভাগ্য আমার নেই।
ছোটবেলার সেই দুরন্ত বিকেলগুলো কোথায় হারিয়ে গেল? তখন পকেটে মার্বেল থাকত, কিন্তু মনে কোনো ভার ছিল না। আর এখন পকেট ভর্তি টাকা থাকতে পারে, কিন্তু মনটা পাথরের মতো ভারী। বড় হওয়ার মাশুল দিচ্ছি একাকীত্ব দিয়ে। যত বুঝদার হচ্ছি, তত একা হচ্ছি। ভিড়ভাট্টা এখন আর টানে না, বরং নিজেকে গুটিয়ে নিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
আকাশ যখন কাঁদে, তখন আমার জানালার কাঁচও কাঁদে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন আমার জমানো কষ্টের প্রতিধ্বনি। মেঘলা দিনে ঘরের কোণে বসে থাকতে থাকতে ভাবি, জীবনটা কি এভাবেই কেটে যাবে? কোনো রোদেলা দিন কি আমার বারান্দায় আসবে না? অপেক্ষা করতে করতে এখন আর ক্লান্তি আসে না, আসে এক ধরণের অভ্যস্ততা। এই শূন্যতা এখন আমার চামড়ার সাথে মিশে গেছে।
চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বের হয় না। এই যে বোবা কান্না, এর ওজন হিমালয়ের চেয়েও বেশি। হাসি দিয়ে দুঃখ ঢাকার কৌশলটা এখন আমি খুব ভালো পারি। কেউ বুঝতেই পারে না, এই প্রাণবন্ত মানুষটা ভেতরে ভেতরে কতটা মৃত। আমি চলছি, ফিরছি, কাজ করছি—যেন এক দম দেওয়া পুতুল। চাবি ফুরিয়ে গেলে হয়তো একদিন সব থেমে যাবে।
কখনো কখনো খুব ইচ্ছে করে সবকিছু ছেড়ে অনেক দূরে পালিয়ে যাই। যেখানে কেউ আমাকে চিনবে না, কোনো প্রত্যাশার চাপ থাকবে না। সমুদ্রের গর্জনের কাছে নিজের আর্তনাদ সঁপে দিতে চাই। কিন্তু অদৃশ্য শেকল পায়ে জড়িয়ে আছে। তাই পালানো হয় না, শুধু নিজেকে প্রতিনিয়ত ভাঙতে দেখি। এই ভাঙা টুকরোগুলো জোড়া লাগানোর কারিগর আমার জানা নেই।
মানুষের পাশে থেকেও যে কতটা একা থাকা যায়, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবে না। সবার কথার ভিড়ে নিজের কথাগুলো হারিয়ে ফেলি। আমি বলি এক, ওরা বোঝে আরেক। এই যোগাযোগের ব্যর্থতা আমাকে আরও বেশি খোলস-বন্দি করে ফেলছে। দিন শেষে নিজের সাথেই নিজের কথোপকথন চলে। সেখানে কোনো মিথ্যা নেই, কোনো মেকি ভদ্রতা নেই। আছে কেবল ধূসর এক আকাশ।
পুরনো ডায়েরির পাতা উল্টালে দেখি, আমি একসময় কতটা রঙিন ছিলাম। আর আজ? সাদাকালো এক ক্যানভাস। রঙের কৌটাগুলো সব শুকিয়ে গেছে। নতুন করে রাঙানোর ইচ্ছেটাও মরে গেছে। জীবন এখন শুধু দায়িত্ব পালনের নামান্তর। বেঁচে থাকা আর টিকে থাকার মধ্যে যে বিশাল তফাত, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। শূন্যতাই এখন আমার পূর্ণতা।
মাঝে মাঝে মনে হয় আমি একটা জনমানবহীন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। ট্রেন আসে, ট্রেন যায়, মানুষ ওঠে, মানুষ নামে। শুধু আমিই কোথাও যেতে পারি না। আমার কোনো গন্তব্য নেই, কোনো অপেক্ষমাণ স্বজন নেই। এই স্থবিরতা আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। গতিহীন জীবনে শ্যাওলা জমে গেছে, আর সেই শ্যাওলায় পিছলে পড়ছে আমার প্রতিটি স্বপ্ন।
প্রিয় গানগুলো এখন আর ভালো লাগে না। যে গান একসময় মন ভালো করত, এখন সেগুলোই কষ্টের কারণ হয়। স্মৃতির বাক্সটা খুলতে ভয় করে। ওখানে ধুলোর আস্তরণ জমুক, ওটাই ভালো। অতীত ঘাঁটলে বর্তমানটা আরও বেশি বিষাক্ত হয়ে ওঠে। তাই বর্তমানের এই শূন্যতাকেই সঙ্গী করে নিয়েছি। এর সাথে কোনো ঝগড়া নেই, কোনো মান-অভিমান নেই।
কাউকে বিশ্বাস করার সাহস হারিয়ে ফেলেছি। মানুষ কাছে আসে প্রয়োজন নিয়ে, আর প্রয়োজন ফুরোলে ছুড়ে ফেলে দেয়। এই ব্যবহারের চক্রে আমি ক্লান্ত। তাই এখন আর কারো প্রতি কোনো অভিযোগ রাখি না। নিজের ছায়াকেই বিশ্বাস করি। অন্তত অন্ধকারে সে আমাকে ছেড়ে গেলেও আলোতে ফিরে আসে। রক্ত-মাংসের মানুষগুলোর চেয়ে ছায়া অনেক বেশি বিশ্বস্ত।
একাকীত্ব আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। শিখিয়েছে কীভাবে নিজের চোখের জল নিজেই মুছতে হয়। কারো কাঁধের আশায় বসে থাকলে হতাশা ছাড়া কিছুই জোটে না। স্বাবলম্বী হওয়ার এই নিষ্ঠুর পাঠটা জীবন আমাকে খুব কড়াভাবে দিয়েছে। এখন আমি জানি, দিনশেষে আমি একাই, আর এই একাই আমাকে লড়তে হবে।
মাটির দিকে তাকিয়ে হাঁটি, যাতে পরিচিত কারো সাথে চোখাচোখি না হয়। কুশল বিনিময়ের ওই মেকি নাটকটা আর করতে পারি না। “ভালো আছি” বলতে বলতে আমি ক্লান্ত। আসলে আমি ভালো নেই, আমি বিধ্বস্ত। কিন্তু এই সত্যি কথাটা শোনার মতো সময় বা ধৈর্য এই ব্যস্ত শহরে কারো নেই। তাই মিথ্যা ভালো থাকার অভিনয়েই কেটে যাচ্ছে দিন।
শূন্যতা নিয়ে ক্যাপশন
চারপাশের কোলাহল থামলেও বুকের ভেতরের হাহাকার থামতে চায় না।
ভরা পূর্ণিমাতেও আমার আকাশটা বড্ড বেশি মেঘলা আর অন্ধকার।
নিজেকে হারিয়ে ফেলার গল্পটা শেষ পর্যন্ত কাউকে বলা হয়ে ওঠে না।
সব থেকেও কোথায় যেন এক বিশাল অপূর্ণতা আমাকে গ্রাস করে।
আয়নার মানুষটাও ইদানীং বড্ড অচেনা আচরণ করে আমার সাথে।
শহরের ভিড়ে মিশে গিয়েও একাকীত্ব ঘোচানো দায় হয়ে পড়েছে।
হাসির আড়ালে জমে থাকা মেঘগুলো বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
দিনশেষে নিজের ছায়াটাই এখন আমার একমাত্র বিশ্বস্ত সঙ্গী।
বেঁচে থাকার অভিনয়ে আমি এখন অস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখি।
শূন্যতার সাথে সন্ধি করেই এখন দিন পার করছি কোনোমতে।
রঙিন পৃথিবীর বুকে আমি এক ধূসর ক্যানভাস হয়ে পড়ে আছি।
ভেতরের মানুষটা মরে গেছে কবেই, বাইরেরটা এখন প্রাণহীন দেহ।
পকেট আর হৃদয়, দুটোই যখন শূন্য তখন জীবনটা বড় ভারী লাগে।
শূন্য দৃষ্টি আর না বলা কথা – ছবির ক্যাপশন
চোখের ভাষা পড়ার মতো মানুষ এই যান্ত্রিক শহরে বড্ড অভাব।
নিশ্চুপ ঠোঁট আর সিক্ত চোখ, গল্পের ইতি এখানেই টানা হলো।
তাকিয়ে আছি ঠিকই, কিন্তু দেখার মতো কিছুই নেই আমার সামনে।
চোখের কোণে জমে থাকা জল শুকিয়ে এখন পাথর হয়ে গেছে।
আমার নীরব দৃষ্টিতে লেখা আছে হাজার বছরের ক্লান্তি আর পরাজয়।
সব কথা মুখে বলতে নেই, কিছু কথা চোখের ভাষাতেই মানায়।
বোবা দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে রেখেছি এক সমুদ্র সমান অভিমান।
পলকহীন এই চাহনিতে জমা হয়ে আছে হারানোর তীব্র বেদনা।
চোখের গভীরে তাকালে আজ আর স্বপ্ন নয়, ধ্বংসস্তূপ নজরে আসবে।
শব্দহীন এই চাউনি চিৎকার করে বলে যাচ্ছে আমি ভালো নেই।
দৃষ্টির সীমানায় শুধুই ধোঁয়াশা, গন্তব্য অজানা কোনো এক পথে।
না বলা কথাগুলো চোখের জল হয়েই ঝরে পড়ে রোজ রাতে।
ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, তাই এখন চোখ দিয়েই সব বুঝিয়ে দিই।
আমার পৃথিবীটা বড্ড শূন্য ক্যাপশন
এই বিশাল পৃথিবীতে আমার বলে দাবি করার মতো কেউ রইল না।
চারদিকে এত মানুষ, অথচ আমার জগৎটা একদম জনমানবহীন।
প্রিয় মানুষটার প্রস্থান আমার সাজানো জগতটাকে শ্মশান বানিয়ে দিয়েছে।
যত্নে গড়া বাগানটা আজ অবহেলায় মরুভূমি হয়ে গেছে।
বেঁচে আছি নিশ্বাস নিচ্ছি বলে, কিন্তু প্রাণটা কবেই হারিয়ে ফেলেছি।
আমার আকাশজুড়ে এখন আর কোনো তারা জ্বলে না, সব অন্ধকার।
সবাই পাশে আছে, তবুও মনে হয় আমি এক নির্বাসিত বাসিন্দা।
শূন্যতার চাদরে মুড়ে রাখা আমার এই ছোট পৃথিবীটা বড়ই নিস্তব্ধ।
কোলাহলপূর্ণ এই শহরে আমার ঘরটাই সবচেয়ে নীরব সাক্ষী।
রঙিন চশমাটা খুলে দেখি পৃথিবীটা আসলে বড় বেশি বিবর্ণ।
আমার পৃথিবীর সব আলো নিভে গেছে তোমার বিদায়বেলায়।
জনাকীর্ণ এই লোকালয়ে নিজেকে বড্ড বেমানান লাগে ইদানীং।
শূন্যতা ছাড়া এই জীবনে আর কোনো প্রাপ্তি যোগ হলো না।
শূন্যতা নিয়ে উক্তি
ভিড়ের মাঝেও মানুষ যখন নিজেকে একা আবিষ্কার করে, তখনই সে জীবনের আসল রিক্ততা দেখতে পায়। —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
চারপাশে হাজারো মানুষের কোলাহল, অথচ বুকের গহীনে বয়ে চলা নীরবতাই বলে দেয় মানুষ আসলে কতটা একা। —সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
হৃদয়ের ফাঁকা জায়গাটা কোনো পার্থিব বস্তু দিয়ে ভরাট করা অসম্ভব, ওটা আজীবন অপূর্ণই থেকে যায়। —জীবনানন্দ দাশ
সব থেকেও কি যেন নেই—এই হাহাকারই মানুষকে কবি কিংবা পাগল বানিয়ে দেয়, যার কোনো চিকিৎসা নেই। —সমরেশ মজুমদার
মানুষ হারিয়ে গেলে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়, তা সময়ের প্রলেপেও পুরোপুরি সারে না, শূন্যতা রয়েই যায় আমৃত্যু। —রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
পাখিরাও নীড়ে ফেরে, কিন্তু মানুষের মন যখন ঠিকানা হারায়, তখন সে মহাকাশের চেয়েও বিশাল গহ্বরে ভাসে। —বুদ্ধদেব গুহ
ভরা কলসের চেয়ে শূন্য কলস বেশি বাজে, ঠিক তেমনই রিক্ত হৃদয়ের হাহাকার অনেক বেশি তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক। —তপন রায়
ভালোবাসা ফুরিয়ে গেলে মনের ভেতর যে গহ্বর তৈরি হয়, তা পৃথিবীর কোনো মাটি দিয়ে ভরাট করা অসম্ভব। —নির্মলেন্দু গুণ
শূন্যতা কোনো অভিশাপ না, বরং নিজেকে নতুন করে চেনার এক অমোঘ সুযোগ ও আয়না। —মহাদেব সাহা
চোখের জল শুকিয়ে গেলেও বুকের ভেতরের খরা আজীবন পোড়াতে থাকে নিরবে, কেউ তা দেখে না। —জয় গোস্বামী
নষ্ট হওয়ার কষ্ট নেই, কিন্তু সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার যন্ত্রণা বড্ড বেশি ও ভারী। —হেলাল হাফিজ
পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালে যেমন দাগ দেখা যায়, মানুষের জীবনের পূর্ণতার মাঝেও তেমনই এক অদৃশ্য শূন্যতা থাকে। —শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
দিনশেষে আমরা সবাই একা, এই নশ্বর দেহ ছাড়া আপন বলতে আর কিছু নেই এ ভুবনে। —লালন সাঁই
শূন্যতা নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের বাস্থব ও গভীর উক্তি
মাঝে মাঝে কোনো কারণ ছাড়াই বেঁচে থাকাটা অসহ্য লাগে, তখন মনে হয় অস্তিত্বের পুরোটা জুড়ে বিরাজ করছে অসীম শূন্যতা। —হুমায়ূন আহমেদ
মানুষের বুকের ভেতরটা যখন মরুভূমি হয়ে যায়, তখন সেখানে মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই জন্মায় না। —হুমায়ূন আহমেদ
কাউকে খুব বেশি মিস করার যন্ত্রণাটা অনেকটা ফাঁকা ঘরে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনার মতো ভুতুড়ে। —হুমায়ূন আহমেদ
মধ্যবিত্তের হাহাকার দেখার কেউ নেই, তারা হাসিমুখের আড়ালে বিশাল এক বিষাদ লালন করে আজীবন। —হুমায়ূন আহমেদ
ভালোবাসার মানুষটা চলে গেলে যে অভাব তৈরি হয়, তা পূরণ করতে পুরো পৃথিবী এনে দিলেও কম পড়ে যায়। —হুমায়ূন আহমেদ
আমরা সবাই একা, কেউ সেটা প্রকাশ করে, আর কেউ অভিনয়ে লুকিয়ে রাখে নিপুণভাবে। —হুমায়ূন আহমেদ
তীব্র দুঃখ মানুষকে পাথর করে দেয়, তখন আর কান্না আসে না, বুকের ভেতরটা শুধুই খাঁ খাঁ করে। —হুমায়ূন আহমেদ
নীল রঙের দিকে তাকালে মানুষের মনের অজান্তেই এক ধরনের উদাসীনতা ভর করে, যা তাকে একাকীত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। —হুমায়ূন আহমেদ
অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না, আর শূন্যতার কোনো পরিমাপ হয় না; দুটোই অসীম ও অন্তহীন। —হুমায়ূন আহমেদ
স্মৃতি মানুষকে কাঁদায় না, কাঁদায় সেই মানুষটার অনুপস্থিতি, যে একসময় পুরোটা জুড়ে ছিল। —হুমায়ূন আহমেদ
বৃষ্টির দিনে মানুষের মন খারাপ হওয়ার মূল কারণ হলো প্রকৃতি তখন তার নিজের রিক্ততা আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। —হুমায়ূন আহমেদ
মানুষ যখন খুব বেশি একা হয়ে যায়, তখন সে প্রকৃতির সাথে কথা বলতে শুরু করে পাগলের মতো। —হুমায়ূন আহমেদ
স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার শব্দ হয় না ঠিকই, কিন্তু বুকের ভেতর যে তোলপাড় হয়, তা ভূমিকম্পের চেয়ে কম না। —হুমায়ূন আহমেদ
শূন্যতা নিয়ে ছন্দ
ঘরভর্তি মানুষ তবু আমি বড় একা,
আয়নার ওপাশেও পাই না নিজের দেখা।
আকাশের বুক চিরে যেমন বৃষ্টি ঝরে পড়ে,
আমার এ মনটা দেখো নীরবতায় মরে।
শূন্য বিছানা আর জানালার ওই কোণ,
নিঃশব্দে কেঁদে মরে আমার এই মন।
ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যাই খুঁজি চেনা মুখ,
কোথাও পাই না খুঁজে হারিয়ে যাওয়া সুখ।
বিকেল বেলার রোদটা যখন মিলিয়ে যায় শেষে,
শূন্যতা এসে দাঁড়ায় মলিন এক বেশে।
তোমার অপেক্ষায় প্রহর গুনি দরজা খুলে রোজ,
বাতাস ছাড়া কেউ তো আর নেয় না আমার খোঁজ।
সবাই ভাবে ভালো আছি হাসি মুখে তাই,
বুকের ভেতর ক্ষতগুলো দেখার কেউ নাই।
রাতের আঁধার সাক্ষী থাকে বোবা কান্নার সুরে,
সুখপাখিটা উড়ে গেছে অনেক অনেক দূরে।
চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে পাশে কেউ নেই,
স্মৃতির পাতায় ধুলো জমেছে সেই কবেই।
ল্যাম্পপোস্টের আলোটা আজ বড্ড ম্লান লাগে,
বিষাদগুলো জেগে ওঠে নিঝুম অনুরাগে।
কোলাহলের শহরে আমি একলা পথিক ভাই,
নিজের ছায়ার সাথে আমি একাই কথা কই।
শূন্য খাঁচা পড়ে আছে পাখি গেছে উড়ে,
করুণ সুর বাজছে দেখো ওই না বহুদূরে।
মুঠোফোনটা চুপ করে রয় বাজে না তো আর,
চারদিকেতে নামছে দেখো বিষাদের পাহাড়।
বইয়ের ভাঁজে শুকনো গোলাপ সাক্ষ্য দিয়ে যায়,
শূন্যতাও যে মাঝে মাঝে বড্ড বেশি কাঁদায়।
নদী যেমন শুকিয়ে গেলে থাকে বালুচর,
তোমায় ছাড়া জীবন আমার শূন্য বালুঘর।
শূন্যতা নিয়ে কবিতা
ঘরভর্তি আসবাব তবু মানুষ তো নাই,
দেয়ালের কোণজুড়ে হাহাকার পাই।
জানালায় রোদ আসে উঁকি দিয়ে যায়,
আমার এ একলা ঘর ভীষণ অসহায়।
ভিড়ের ভেতরে আমি একা হেঁটে চলি,
কার সাথে দুঃখের সব কথা বলি?
চারিপাশে কোলাহল অথচ নীরব,
বুকের ভেতর যেন শ্মশানের সব।
আকাশে অনেক তারা চাঁদটাও আছে,
তবু কেন আঁধাররা ভিড় করে কাছে?
শূন্যের মাঝখানে ভাসছি সতত,
জীবনটা হয়ে গেছে আজ মরুর মতো।
পুরনো চেয়ারটায় ধুলো জমে বেশ,
গল্প ফুরিয়ে গেছে নেই কোনো রেশ।
দরজায় খিল দিয়ে বসে আছি একা,
আয়নায় দেখি আমি ছায়ারই রূপরেখা।
নদীটা শুকিয়ে গেছে জেগে আছে চর,
বালুচরে বেঁধেছি আমি ভঙুর এক ঘর।
জল নেই ঢেউ নেই তৃষ্ণা অপার,
শূন্যতা গ্রাস করে হৃদয়ের দ্বার।
ডাকলে তো সাড়া দেয় না দেয়াল পাষাণ,
কেটে গেছে জীবনের সব অভিমান।
বুকের গহীনে এক গভীর অসুখ,
হাসির আড়ালে ঢাকা কান্নার মুখ।
পাখিটা উড়ে গেছে খাঁচা পড়ে রয়,
শূন্য খাঁচায় এখন বাতাসের জয়।
পালক পড়ে আছে শুধু স্মৃতি হয়ে,
দিন কাটে এখন এক দীর্ঘশ্বাস বয়ে।
স্বপ্ন ভেঙেছে কবে কাঁচের মতন,
কুড়িয়ে রেখেছি তা অতি অযতন।
জোড়া তো লাগে না আর ক্ষত করে হাতে,
জেগে থাকি একা আমি নির্ঘুম রাতে।
শূন্যতা ও কিছু কথা
শূন্যতা কি শেষ বলে? না, এ তো শুরুর গান, নিঃস্ব যখন হয় মানুষ, তখন জাগে প্রাণ। আকাশ কালো না হলে কি তারার দেখা মেলে? জীবন সাজাও নতুন করে পুরনো সব ঠেলে।
বুকের ভেতর ফাঁকা মাঠ, চাষ করো স্বপ্ন, একলা থাকার প্রহরে হও নিজেকে নিয়ে মগ্ন। যা গেছে তা যাক না ভেসে ভাটার ওই টানে, জোয়ার আসবে ঠিকই ফিরে নতুন কলতানে।
বিষাদগুলো পুড়িয়ে ফেলো বুকের গভীর আঁচে, ছাই ভস্ম থেকেই দেখো ফিনিক্স পাখি বাঁচে। হাহাকারকে শক্তি বানাও, করো না আর শোক, তোমার জয়েই বিশ্ব দেখুক নতুন এক আলোক।
শীতের শেষে রিক্ত ডালে ফোটে যখন ফুল, বুঝতে হবে ঝরে যাওয়াই ছিল না তো ভুল। সাদা ক্যানভাস পেলেই তো আঁকা যায় ছবি, অন্ধকারেও লুকিয়ে থাকে ভোরের রাঙা রবি।
মানুষ চলে গেলে পরে বাড়ে যদি ফাঁক, সেই জায়গাতে নতুন করে নিজেকেই রাখ। কারো জন্য থেমে থাকা বোকামি ছাড়া কি? নিজের পায়ে দাঁড়াও দেখি, মেলো ডানা দুটি।
একলা হাঁটা শিখলে পরে ভয় থাকে না আর, তোমার মাঝেই লুকিয়ে আছে অসীম এক ভার। শূন্য বাটি ভরবে ঠিকই সময়ের ওই দানে, অপেক্ষা আর ধৈর্য ধরো, শান্তি পাবে প্রাণে।
গহীন রাতে আঁধার নামে ভোরের আসার তরে, দুঃখগুলো অতিথি হয়ে আসে সবার ঘরে। আগলে রেখো না তাদের, দিও বিদায় বেশ, শূন্যতার ওই ওপারেই আছে সুখের দেশ।
