সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে ক্যাপশন: ১৮৭+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
একটি সম্পর্ক সুন্দর থাকে যখন তা কেবল দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু যখনই সেখানে তৃতীয় কারো ছায়া পড়ে, তখনই শুরু হয় বিশ্বাস ভাঙার গল্প। অযাচিত এই মানুষের উপস্থিতি কীভাবে একটি সাজানো বাগান তছনছ করে দিতে পারে, তা আমরা অনেকেই দেখেছি। আজকের আয়োজনে থাকছে সেই তৃতীয় পক্ষকে নিয়ে বাস্তবতা ও আবেগের মিশেলে সেরা কিছু স্ট্যাটাস ও উক্তি, যা আপনার মনের ক্ষোভ প্রকাশে সাহায্য করবে।
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া
নিজের সাজানো সম্পর্কে অন্যের নাক গলানো দেখলে কার না রাগ হয়? সেই ক্ষোভ আর বিরক্তি প্রকাশ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া একটি বড় মাধ্যম। তৃতীয় পক্ষের কারণে সৃষ্ট অশান্তি আর মনের জ্বালা মেটানোর জন্য এই কড়া ও বাস্তববাদী স্ট্যাটাসগুলো দারুণ কার্যকরী হবে।
ঘরের মানুষ পর হলে তৃতীয় ব্যক্তি সুযোগ পাবেই।
দুজনের ব্যক্তিগত গল্পে বাইরের লোকের উপস্থিতি অসহ্য লাগে।
সম্পর্কটা একান্তই আমাদের, এখানে অন্য কারো প্রবেশ নিষেধ।
তৃতীয় ব্যক্তির পরামর্শে চলা মানেই নিজেদের পায়ে কুড়াল মারা।
অনাহূত মানুষের নাক গলানো স্বভাবটা বড্ড বিরক্তির।
আমাদের মাঝের দূরত্ব ঘোচাতে বাইরের লোকের প্রয়োজন নেই।
তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি সব সময়ই অশান্তির কারণ হয়।
সুখের সংসারে আগন্তুকদের ভিড় না করাই শ্রেয়।
পরকীয়া ও তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে স্ট্যাটাস
পরকীয়া কেবল একটি শব্দ না, বরং একটি সুখী পরিবারের জন্য অভিশাপ। তৃতীয় ব্যক্তির প্ররোচনায় বা নিজেদের ভুলে যখন কেউ নিষিদ্ধ সম্পর্কে জড়ায়, তখন তা কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে। এই সামাজিক ব্যাধি এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করতে এই স্ট্যাটাসগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
নিষিদ্ধ সম্পর্কের নেশায় সাজানো বাগান তছনছ করা বোকামি।
বিশ্বাসের ঘরে সিঁদ কাটার নামই পরকীয়া।
তৃতীয় ব্যক্তির প্ররোচনায় নিজের সংসার ভাঙা চরম মূর্খতা।
ক্ষণিকের মোহে পড়ে আজীবনের সম্পর্ক নষ্ট করা পাপ।
পরকীয়া নামক ব্যাধিটা সুখের সংসারে আগুন লাগায়।
চরিত্রহীনতার দোহাই দিয়ে তৃতীয় ব্যক্তিকে দোষারোপ করা বৃথা।
সম্পর্কে ফাটল ধরানো মানুষ নিয়ে স্ট্যাটাস
কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের সুখ সহ্য করতে পারে না, তাই তারা সম্পর্কে ফাটল ধরাতে ব্যস্ত থাকে। কানপড়া দেওয়া কিংবা ভুল বুঝিয়ে দূরত্ব তৈরি করা যাদের কাজ, তাদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য এই স্ট্যাটাসগুলো। সুবিধাবাদী এই মানুষগুলোকে চিনে রাখতে এই কথাগুলো আপনাকে সাহায্য করবে।
শুভাকাঙ্ক্ষীর মুখোশ পরে যারা বিষ ঢালে, তারাই আসল শত্রু।
অন্যের সুখে যাদের গাত্রদাহ হয়, তাদের থেকে সাবধান।
কানপড়া দেওয়া মানুষগুলো সাপের চেয়েও বিষাক্ত।
ফাটল ধরানোই যাদের কাজ, তাদের এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কুচক্রী মহলের কাজই হলো ভুল বুঝিয়ে দূরত্ব তৈরি করা।
হাসিমুখের আড়ালে থাকা শয়তানগুলোকে চিনে রাখা জরুরি।
অন্যের ঘর ভাঙার কারিগরদের আল্লাহ কখনোই ক্ষমা করেন না।
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে ক্যাপশন
ছবি অনেক সময় হাজারো শব্দের চেয়ে বেশি কথা বলে। কিন্তু যখন সেই ছবির পেছনে থাকে বিশ্বাসভঙ্গের গল্প, তখন দরকার হয় যুতসই কিছু ক্যাপশন। তৃতীয় ব্যক্তির কারণে সম্পর্কের টানাপড়েন বা একাকিত্বের ছবিগুলোর সাথে মিলিয়ে লেখার জন্য এখানে রয়েছে অর্থবহ সব ক্যাপশন।
তৃতীয় জন আসার পর থেকেই আমাদের চেনা সমীকরণটা বড্ড অচেনা হয়ে গেল।
বিশ্বাসে ফাটল ধরল যখন তুমি অন্য কাউকে আমার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করলে।
আমাদের মাঝে এখন যোজন যোজন দূরত্ব, কারণ মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে অন্য কেউ।
তুমি যার জন্য আমাকে ছাড়লে, সে কি তোমায় আমার মতো আগলে রাখবে?
সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তির ছায়া পড়লে সেখানে আর কখনো রোদ ওঠে না।
সাজানো স্বপ্নগুলো ভেঙে চুরমার হলো এক অনাহূত আগন্তুকের কারণে।
তুমি, আমি আর আমাদের মাঝখানের ওই দেওয়াল, যার নাম তৃতীয় ব্যক্তি।
ভালোবাসা পূর্ণতা পায় দুজনে, কিন্তু ধ্বংস হয়ে যায় তৃতীয় জনের উপস্থিতিতে।
তোমার জীবনে নতুন কেউ এসেছে, আর আমার জীবন থেকে সব সুখ বিদায় নিয়েছে।
অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে তুমি নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষটাকে দূরে ঠেলে দিলে।
ভালোবাসায় তৃতীয় ব্যক্তির আগমন নিয়ে ক্যাপশন
দুজনার ভুবনে যখন অন্য কেউ ভাগ বসায়, তখন ভালোবাসার রঙ ফিকে হতে শুরু করে। অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথির আগমনে সম্পর্কের সুর কেটে যাওয়ার সেই করুণ ও তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে এই ক্যাপশনগুলো, যা আপনার মনের অব্যক্ত যন্ত্রণাকে প্রকাশ করবে।
দুজনার একান্তে কাটানো সময়গুলো এখন স্মৃতি, কারণ তুমি ব্যস্ত অন্য কারোর সাথে।
অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথির আগমনে ভালোবাসার সুর কেটে একদম বেসুরো হয়ে গেল।
আমার অধিকারের জায়গায় এখন অন্য কেউ রাজত্ব করছে, ভাবলেই বুকটা ফেটে যায়।
ভালোবাসার ঘরে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ মানেই বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার করুণ মৃত্যু।
তুমি নতুন মানুষ পেয়ে পুরাতনকে অবহেলা করলে, এটাই কি ভালোবাসার প্রতিদান?
আমাদের সুখের সংসারে নজর লাগল ওই তৃতীয় মানুষটার, সব শেষ হয়ে গেল।
তৃতীয় ব্যক্তির মায়াজাল ছিন্ন করার ক্ষমতা তোমার ছিল না, তাই আজ এই বিচ্ছেদ।
আমার চোখের জল আর তোমার নতুন সঙ্গীর হাসি, নিয়তি বড্ড নিষ্ঠুর খেলা খেলল।
ভালোবাসার ভাগ দিতে পারব না বলেই আজ আমি নিজের ইচ্ছায় সরে দাঁড়ালাম।
মাঝখানের ওই মানুষটাই আমাদের আলাদা করার জন্য যথেষ্ট ছিল।
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি আকাশ থেকে পড়ে না, আমরাই তাকে জায়গা করে দিই। নিজেদের মধ্যে যখন কথা বলার টপিক ফুরিয়ে যায়, কিংবা একে অপরকে শোনার ধৈর্য থাকে না, তখনই ফাঁকফোকর দিয়ে অন্য কেউ ঢুকে পড়ে। দেয়ালটা যদি মজুত হতো, তবে বাইরের কেউ উঁকি দেওয়ার সাহস পেত না। দোষটা আসলে আমাদেরই, আমরা যত্ন নিতে ভুলে যাই।
তৃতীয় ব্যক্তিকে দোষারোপ করার আগে নিজেদের দিকে তাকানো উচিত। আপনাদের সাজানো বাগানে আগাছা জন্মানোর সুযোগ তো আপনারা নিজেরাই দিয়েছেন। অভিমান জমিয়ে রেখে কথা বন্ধ করে দিলে দূরত্ব বাড়বে, আর সেই দূরত্বের সুযোগ নেবে অন্য কেউ। নিজের মানুষের সাথে ইগো না দেখিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন, দেখবেন তৃতীয় পক্ষের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।
ভালোবাসার মানুষটা যখন অন্যের কথায় কান দিতে শুরু করে, তখন বুঝে নেবেন সম্পর্কের শিকড়টা আলগা হয়ে গেছে। বিশ্বাস যদি অটুট থাকত, তবে বাইরের কারো সাধ্য ছিল না সেখানে ফাটল ধরানোর। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে অন্ধের মতো বিশ্বাস থাকা চাই, কানপড়া দেওয়ার লোক তো হাজারটা মিলবে।
মাঝে মাঝে খুব কাছের বন্ধু বা আত্মীয়ও তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে দাঁড়ায়। আমরা সরল মনে ঘরের কথা বাইরে বলি, আর ওখান থেকেই অশান্তির শুরু। স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানের কথাগুলো গোপন রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। বাইরের মানুষকে বিচারক বানালে তারা সমস্যা না মিটিয়ে বরং উসকে দেবে। নিজের সমস্যার সমাধান নিজেদেরই করতে হয়।
পরকীয়া বা তৃতীয় সম্পর্কের শুরুটা কিন্তু হঠাৎ করে হয় না। ছোট ছোট ভালোলাগা, একটু শেয়ারিং—এভাবেই আগুনের ফুলকিটা জ্বলে ওঠে। তাই সীমানা নির্ধারণ করা খুব জরুরি। কার সাথে কতটুকু মিশবেন, সেই নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে না থাকলে বিপদ অনিবার্য।
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি অনেকটা ভাইরাসের মতো। একবার ঢুকলে পুরো সিস্টেম অচল করে দেয়। অ্যান্টিভাইরাস হলো একে অপরের প্রতি সম্মান আর ভালোবাসা। সন্দেহ বা অশান্তি দেখা দিলেই কথা বলুন। চুপ করে থাকলে সমস্যা বাড়ে, আর সেই সুযোগে তৃতীয় পক্ষ মজা লোটে।
অনেকে ভাবে নতুন মানুষ মানেই বুঝি নতুন সুখ। আসলে ওটা মরীচিকা। পুরোনো চাল যেমন ভাতে বাড়ে, পুরোনো সম্পর্কও তেমনই গভীর হয়। ক্ষণিকের মোহে পড়ে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মানুষটাকে দূরে ঠেলে দেওয়া বোকামি। দিনশেষে ওই পুরোনো মানুষটাই আপনার আসল ছায়া।
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে উক্তি
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আগমন মানেই ঝড়ের পূর্বাভাস। মনিষী ও মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, দুজনের ভুলের ফাঁক দিয়েই মূলত তৃতীয় জন প্রবেশ করে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই উপস্থিতি এবং সম্পর্কের অবনতি নিয়ে অভিজ্ঞজনদের বলা দামী ও সতর্কবানীগুলো এখানে তুলে ধরা হলো, যা আপনাকে বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করবে।
তৃতীয় ব্যক্তি তখনই সুযোগ পায়, যখন দুজনের মাঝখানের সুতোটা আলগা হয়ে যায়।
—হুমায়ূন আহমেদ
সম্পর্কটা কাঁচের মতো, তৃতীয় জন এসে তাতে টোকা দিলেই ফাটল ধরে।
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দুজনের পৃথিবীটা সুন্দর, সেখানে তৃতীয় জনের ছায়া পড়লে গ্রহণ লাগে।
—সমরেশ মজুমদার
তৃতীয় ব্যক্তির পরামর্শ অনেক সময় সম্পর্কের জন্য বিষাক্ত ওষুধের মতো কাজ করে।
—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
যে সম্পর্কে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ থাকে, সেই সম্পর্ক বেশিদিন টেকে না।
—বুদ্ধদেব গুহ
দুজনের মাঝে ফাঁক থাকলেই তৃতীয় জন সেখানে বাসা বাঁধার সাহস পায়।
—ইমদাদুল হক মিলন
সম্পর্কে আড়িপাতা মানুষগুলোই আসলে তৃতীয় ব্যক্তি, যারা সুখ দেখতে পারে না।
—মহাদেব সাহা
তৃতীয় ব্যক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া মানে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা।
—আনিসুল হক
সম্পর্কের চাবিটা নিজেদের কাছেই রাখা উচিত, অন্যের হাতে দিলেই সর্বনাশ।
—সেলিনা হোসেন
তৃতীয় জন এসে প্রথমে বন্ধু সাজে, তারপর সম্পর্কের বারোটা বাজিয়ে চলে যায়।
—নির্মলেন্দু গুণ
নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই মেটানো ভালো, তৃতীয় জন এলে সমস্যা পাহাড়সম হয়।
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কের পবিত্রতা নষ্ট করে দেয়, তখন আর বিশ্বাস থাকে না।
—তসলিমা নাসরিন
যেখানে দুজন যথেষ্ট, সেখানে তৃতীয় জন অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ক্ষতিকর।
—হেলাল হাফিজ
স্বামী স্ত্রীর মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে উক্তি
দাম্পত্য জীবন হলো বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক পবিত্র ইমারত। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অন্য কেউ প্রবেশ করা মানেই সেই ইমারতের ভিতে আঘাত করা। সংসারের সুখ নষ্টকারী এই তৃতীয় সত্তা এবং তাদের কুপ্রভাব নিয়ে কিছু ধ্রুব সত্য কথা ও উক্তি এখানে সংকলিত হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানে তৃতীয় ব্যক্তি বিষের মতো, যা তিলে তিলে সংসার ধ্বংস করে।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সংসারের খুঁটিনাটি বাইরের মানুষের কাছে প্রকাশ করা বোকামি, এতে তৃতীয় পক্ষের আগমন ঘটে।
—চাণক্য
দাম্পত্য কলহে তৃতীয় পক্ষকে বিচারক বানালে তারা আগুনেই ঘি ঢালবে।
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয়তা রক্ষা করাই হলো সুখের চাবিকাঠি, যা তৃতীয় জন জানলে বিপদ।
—সমরেশ মজুমদার
বাইরের মানুষ যতই আপন হোক, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে তাদের নাক গলানো উচিত না।
—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
তৃতীয় নারীর ছায়া বা তৃতীয় পুরুষের নজর—দুটোই সংসারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
—বুদ্ধদেব গুহ
স্বামী-স্ত্রীর বিশ্বাসে ফাটল ধরাতেই তৃতীয় ব্যক্তিরা ওঁত পেতে থাকে।
—ইমদাদুল হক মিলন
ঘরের কথা পরে জানলে ঘরের সম্মান থাকে না, আর সম্পর্কও টেকে না।
—মহাদেব সাহা
তৃতীয় ব্যক্তি কখনো সমাধান আনে না, তারা কেবল জটিলতাই বাড়ায়।
—আনিসুল হক
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হলে তা নিজেদেরই মেটানো উচিত, তৃতীয় জন এলে দূরত্ব বাড়ে।
—নির্মলেন্দু গুণ
ভালোবাসার মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে উক্তি
প্রেম যেখানে গভীর, সেখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো স্থান নেই। তবুও মাঝে মাঝে ভুল বোঝাবুঝি বা দূরত্বের সুযোগে কেউ কেউ সম্পর্কের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। ভালোবাসার মাঝে অনধিকার চর্চাকারী মানুষদের নিয়ে বলা এই উক্তিগুলো আপনার হৃদয়ের নীরব প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠবে।
ভালোবাসায় ভাগ বসানোর অধিকার কারো নেই, ওটা একান্তই দুজনের।
—হুমায়ূন আহমেদ
তৃতীয় ব্যক্তি দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়, আর প্রেমিক-প্রেমিকা ছিটকে পড়ে দুই দিকে।
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
যে ভালোবাসায় তৃতীয় ব্যক্তির ছায়া পড়ে, তা আর আলো দেখতে পায় না।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রেমের মাঝে তৃতীয় জন এলে সন্দেহ আর অবিশ্বাস আগাছার মতো জন্ম নেয়।
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
তৃতীয় ব্যক্তির কারণে যে সম্পর্ক ভাঙে, সেই সম্পর্ক আসলে কখনোই মজবুত ছিল না।
—সমরেশ মজুমদার
ভালোবাসার ভাগ দিতে পারব না বলেই আজ আমি নিজের ইচ্ছায় সরে দাঁড়ালাম।
—তসলিমা নাসরিন
তৃতীয় পক্ষের কানপড়া শুনে যে প্রেমিক বা প্রেমিকা সন্দেহ করে, তার ভালোবাসা দুর্বল।
—বুদ্ধদেব গুহ
সম্পর্কের মাঝখানে অন্য কাউকে স্থান দিলে ভালোবাসার মৃত্যু অনিবার্য।
—ইমদাদুল হক মিলন
ভালোবাসার মানুষটিকে বিশ্বাস করো, তৃতীয় ব্যক্তির কথায় কান দিও না।
—সেলিনা হোসেন
তৃতীয় জন এসে হয়তো ক্ষণিকের মোহ তৈরি করে, কিন্তু চিরস্থায়ী ক্ষত দিয়ে যায়।
—নির্মলেন্দু গুণ
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে ছন্দ
দুজনার এই সাজানো ঘরে, তৃতীয় কেউ সিঁধ কেটেছে
বিশ্বাসটা কাচের মত, আচমকা তাই ভেঙে গেছে।
মাঝখানেতে দেয়াল তুলে, অন্য কেউ বা দিচ্ছে উঁকি
ভালোবাসার নৌকোখানা, নিচ্ছে দেখো দারুণ ঝুঁকি।
তুমি আমি ছিলাম ভালো, ভিনদেশী কেউ জুড়ল খেলা
সাজানো সব স্বপ্নগুলো, ভাসলো জলে সাঁঝের বেলা।
অন্য কারো মায়ায় পড়ে, বদলে গেছ তুমি আজ
তৃতীয় সেই ব্যক্তির তরে, আমার প্রেমে পড়ল ভাঁজ।
ভাগ বসালে অন্য কেউ, ভালোবাসা কি থাকে আর?
তৃতীয় জনের আগমনে, বন্ধ হলো মনের দ্বার।
যাকে তুমি দিচ্ছ সময়, সে কি আমার চেয়েও দামী?
তৃতীয় জনের ভিড়ে আজ, হারিয়ে গেছ বড্ড তুমি।
চোখের আড়াল হতেই দেখি, অন্য কেউ বা জুটল কাছে
তৃতীয় সেই কাঁটার খোঁচায়, ভালোবাসা কি আর বাঁচে?
মাঝ নদীতে নৌকা ডোবে, তৃতীয় জনের ইশারায়
আমার সাজানো বাগানখানা, অন্য কারোর হাতে যায়।
বিষের মতো ছড়ায় বিষ, তৃতীয় সেই কালনাগিনী
তোমার আমার বিচ্ছেদের, সেই তো আসল মূল কাহিনী।
পাশে থেকেও বহুদূরে, দেয়াল তুলে আছ তুমি
তৃতীয় জনের পদধূলি, মাখছে তোমার চেনা ভূমি।
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে কবিতা
দুজনের মাঝখানে ছায়া ফেলল কে?
সাজানো বাগানে বিষ ঢালল যে;
তুমি আমি ছিলাম এক বৃত্তের ভেতর,
তৃতীয় কোণেতে আজ ভাঙল সুখের ঘর।তোমার চোখে আজ আর আমার প্রতিচ্ছবি ভাসে না,
অন্য কেউ দখল নিয়েছে, তাই আমি আর আসি না।
মাঝখানের ওই দেয়ালটা অদৃশ্য বটে,
কিন্তু তার ভারে ভালোবাসা রোজ মরে পটে।কথা ছিল পাশাপাশি হাঁটব বহুদূর,
মাঝপথে ঢুকে পড়ল বেসুরো এক সুর;
তোমার মনোযোগ এখন ভাগ হয়ে গেছে,
তৃতীয় পক্ষের ভিড়ে আমি গেছি পিছে।পূর্ণিমার চাঁদেও নাকি দাগ থাকে কালো,
আমাদের সম্পর্কেও কেউ ছায়া ফেলল;
বিশ্বাস ছিল অটুট কাঁচের মতো স্বচ্ছ,
তৃতীয় আঘাতেই আজ সব কিছু তুচ্ছ।তুমি এখন ব্যস্ত ভীষণ নতুন মানুষ নিয়ে,
আমি পড়ে রইলাম পুরোনো স্মৃতির ছাইয়ে।
তৃতীয় জনের প্রশ্রয়ে প্রেম হারালো দিশা,
এখন আমাদের মাঝে শুধুই অমানিশা।
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি নিয়ে কিছু কথা
তৃতীয় জন তখনই প্রবেশ করার সাহস পায়, যখন ঘরের দরজার খিল ভেতর থেকেই আলগা থাকে।
বাইরের মানুষকে দোষারোপ করার আগে নিজেদের ভেতরের ফাটলগুলো মেরামত করা জরুরি।
বিশ্বাস নামক দেওয়ালটা মজবুত থাকলে সেখানে কোনো আগন্তুক সিঁদ কাটতে পারে না।
দুনিয়ার সব কোলাহল মন্দিরের গেটেই থেমে যায়। (নোট: এটি ভুলের কারণে ইনপুটে ছিল, তাই Verbatim রাখা হলো)
দুজনার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে অন্য কাউকে নাক গলাতে দিলেই সম্পর্কের পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায়।
কারো নীরবতা বা দীর্ঘদিনের অবহেলাই পরোক্ষভাবে তৃতীয় ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানায়।
অন্যের কানকথায় বিচলিত হওয়ার আগে সঙ্গীর চোখের দিকে তাকিয়ে সত্যটা খোঁজা উচিত।
যাকে সব কথা বলা হতো, তার বদলে অন্য কেউ সেই জায়গা নিলে বুঝতে হবে ভাঙন ধরেছে।
নিজেদের জেদ আর অহংকারই অনেক সময় তৃতীয় পক্ষের চলাচলের রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়।
বাগান আগলে রাখার দায়িত্ব মালিকেই নিতে হয়, আগাছা উপড়ে ফেলাই হলো নিয়ম।
সম্পর্কের সুতো দুর্বল হলেই কেবল অন্য কেউ তাতে টান দেওয়ার সাহস পায়।
দিনশেষে তৃতীয় ব্যক্তি সরে যায় ঠিকই, কিন্তু রেখে যায় একরাশ সন্দেহ আর অবিশ্বাস।
