শেখ সাদী রহঃ এর উক্তি: বাছাই করা ১২০টি বাণী
শিরাজ নগরীর সেই জ্ঞানী মানুষটি শত শত বছর আগেই এমন কিছু বলে গেছেন, যা আজকের স্মার্টফোনের যুগেও আমাদের ধ্রুবতারার মতো পথ দেখায়। শেখ সাদী রহঃ এর উক্তি: বাছাই করা ১২০টি বাণী যেন পুরনো দিনের সেই মুরুব্বিদের অভিজ্ঞতার ঝুলি, যারা জীবনের কঠিন সত্যগুলো খুব সহজ গল্পের ছলে বুঝিয়ে দিতেন, আর সেই অমূল্য রত্নভাণ্ডার আজ আমরা মেলে ধরছি।
শেখ সাদী রহঃ এর উক্তি
পারস্যের মহাকবি শেখ সাদী কেবল কাব্যই রচনা করেননি, তিনি জীবনকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। তাঁর দর্শন আজও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জটিল সমস্যাগুলোর সহজ সমাধান বাতলে দেয়। জীবনের ধাঁধাঁ মেলাতে তাঁর এই কালজয়ী কথাগুলো আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
অন্যকে ক্ষমা করতে না পারা মানুষটি আসলে নিজের পার হওয়ার সাঁকোটিই ভেঙে ফেলে। — শেখ সাদী
সম্মান পেতে চাইলে আগে অন্যকে সম্মান করতে শেখো, কারণ আত্মসম্মান একপাক্ষিক বিষয় না। — শেখ সাদী
ধৈর্য ধরো। সব কাজই সহজ হওয়ার আগে কঠিন থাকে। — শেখ সাদী
বন্ধুকে নিজের সব গোপন কথা বোলো না, কে জানে কখন সে শত্রুতে পরিণত হবে। — শেখ সাদী
বিপদের সময় যে পাশে থাকে, সেই তো প্রকৃত বন্ধু; সুসময়ে তো সবাই সঙ্গী হয়। — শেখ সাদী
সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ—তাই খারাপ সঙ্গের চেয়ে একা থাকাই শ্রেয়। — শেখ সাদী
গোলাপের সাথে কাঁটা আর সুখের সাথে দুঃখ—এগুলো একে অপরের পরিপূরক হয়েই থাকে। — শেখ সাদী
যা-ই বলবে, আগে ভালো করে ভেবে নাও; অপ্রয়োজনীয় কথা বলার চেয়ে বোবা থাকা ভালো। — শেখ সাদী
বিনয় মানুষকে বড় করে, আর অহংকার মানুষকে নিচে নামায়। — শেখ সাদী
আমলহীন ইলম বা কর্মহীন জ্ঞান হলো ফলহীন গাছের মতো, যা কোনো কাজে আসে না। — শেখ সাদী
যা গত হয়েছে, তা নিয়ে দুঃখ করে লাভ নেই; বর্তমানকে কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ। — শেখ সাদী
মূর্খদের মাঝে একজন জ্ঞানী মানুষ অনেকটা অন্ধদের মাঝে সুন্দরী নারীর মতো। — শেখ সাদী
সম্পদ হলো জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য, জীবন সম্পদের পাহারাদারি করার জন্য না। — শেখ সাদী
বাছাই করা শেখ সাদীর বিখ্যাত উক্তি ও বাণী
কথার ভিড়ে সত্যকে খুঁজে পাওয়া এখন বেশ দুষ্কর। মহাকবি সাদীর প্রতিটি শব্দ যেন অন্ধকারের মাঝে এক একটি আলোকবর্তিকা। রাগ, হিংসা আর অহংকার দমিয় রেখে কীভাবে একজন বিনয়ী ও মানবিক মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা যায়, তার সারমর্ম লুকিয়ে আছে এই বাণীগুলোতে।
দশজন দরবেশ এক কম্বলের নিচে ঘুমাতে পারে, কিন্তু দুইজন রাজা এক রাজ্যে টিকতে পারে না। — শেখ সাদী
আমি আল্লাহকে ভয় পাই, আর তার পরেই সেই মানুষকে ভয় পাই যে আল্লাহকে ভয় পায় না। — শেখ সাদী
মাতাল মানুষের সাথে তর্কে জড়ানো আর নিজের পায়ে কুড়াল মারা একই কথা। — শেখ সাদী
খারাপ মানুষের মুখ বন্ধ করার সেরা উপায় হলো তার সাথে ভালো ব্যবহার করা। — শেখ সাদী
আল্লাহর কাছে সেই ধনী ব্যক্তিই প্রিয়, যার মধ্যে গরিবের মতো বিনয় আছে। — শেখ সাদী
নিষ্ঠুর মানুষের প্রতি দয়া দেখানো আর সজ্জন মানুষের প্রতি অবিচার করা একই বিষয়। — শেখ সাদী
রাগের শুরুটা হয় বোকামি দিয়ে, আর শেষ হয় অনুশোচনা দিয়ে। — শেখ সাদী
অতিরিক্ত আহারের অভ্যাস মানুষকে অসুস্থ করে তোলে, তাই পরিমিত আহারই স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। — শেখ সাদী
যে সারাদিন উদরপূর্তিতে ব্যস্ত থাকে, সে খুব কমই আল্লাহর ইবাদত করতে পারে। — শেখ সাদী
কারও উপকার করতে না পারলে অন্তত ক্ষতি করো না; এটাই বড় ধর্ম। — শেখ সাদী
কথা হলো তীরের মতো, যা একবার মুখ থেকে বের হলে আর ফেরানো যায় না। — শেখ সাদী
চোখ হলো আত্মার জানালা, যা কখনো মিথ্যা বলে না। — শেখ সাদী
ধৈর্য একটি তিতা গাছ, কিন্তু এর ফল খুব মিষ্টি। — শেখ সাদী
অজ্ঞের পক্ষে নীরবতাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় পর্দা। — শেখ সাদী
মূর্খের কথার সবচেয়ে মোক্ষম জবাব হলো নীরব থাকা। — শেখ সাদী
শেখ সাদীর উপদেশ
মাঝে মাঝে পিঠ চাপড়ে দেওয়া মিথ্যা সান্ত্বনার চেয়ে কড়া সত্যি কথাগুলো আমাদের বেশি প্রয়োজন হয়। শেখ সাদীর উপদেশগুলো ঠিক তেমনই—একটু তেতো মনে হলেও এগুলোই দিনশেষে আমাদের ভুলের চোরাবালি থেকে টেনে তোলে এবং সঠিক রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করে।
যে ব্যক্তি নিজের গোপন কথাটি নিজের ভেতরেই রাখতে পারল না, সে কীভাবে আশা করে যে অন্যেরা তার কথা গোপন রাখবে?
কৃপণের কাছে হাত পাতার চেয়ে নিজের অভাব আর ক্ষুধা নিয়ে কবরে যাওয়া অনেক বেশি সম্মানের।
রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া আর ঝড়ের মধ্যে নৌকার পাল তোলা একই—দুটোই গন্তব্য ভুলিয়ে ডুবিয়ে মারতে পারে।
অজ্ঞের উপাসনার চেয়ে বিজ্ঞের ঘুম অনেক শ্রেয়, কারণ অন্ধ ভক্তি মানুষকে বিপথগামী করার ক্ষমতা রাখে।
অসৎ সঙ্গের বিনাশ অনিবার্য; কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায় না, স্বভাবও তেমন সহজে বদলায় না।
উইলো গাছে যেমন সুস্বাদু ফল আশা করা বোকামি, নিচু মনের মানুষের কাছে ভদ্রতা আশা করাও তেমনই পণ্ডশ্রম।
শিক্ষামূলক নীতি বাক্য শেখ সাদী
গুলিস্তাঁ ও বোস্তাঁ’র পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে জীবনকে সুন্দর করার অগণিত সূত্র। শেখ সাদী এই কথাগুলো কেবল বই ভরাতে লেখেননি, বরং পথে-ঘাটে ঘুরে মানুষের বিচিত্র অভিজ্ঞতা থেকে যা শিখেছেন, ঠিক সেটাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাথেয় হিসেবে রেখে গেছেন।
তীরের আঘাত মাংস শুকিয়ে গেলে সেরে যায়, কিন্তু কথার আঘাত হৃদয়ে আজীবন তাজা থাকে।
মাটির কলসি বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর না হলেও তার পানি ঠান্ডা থাকে; মানুষের বাইরের রূপের চাকচিক্য নয়, ভেতরের গুণের বিচারই আসল।
কাঁচা ডাল বাঁকানো সহজ, কিন্তু শুকিয়ে গেলে তা সোজা করতে গেলে ভেঙে যায়—সন্তানকেও ঠিক ছোটবেলাতেই গড়তে হয়, বড় হলে আর শুধরানো যায় না।
টাকা দিয়ে বিছানা কেনা যায় কিন্তু ঘুম নয়, বই কেনা যায় কিন্তু বিদ্যা নয়; ঠিক তেমনি তোষামোদকারী কেনা যায় কিন্তু প্রকৃত বন্ধু নয়।
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা যেমন বোঝা যায় না, ঠিক তেমনি যৌবন ফুরিয়ে গেলেই মানুষ সময়ের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারে।
দুজন ব্যক্তি মারা গিয়েও অমর হয়ে থাকে—একজন যে সম্পদ রেখে গেছে কিন্তু ভোগ করেনি, আর একজন যে জ্ঞান রেখে গেছে এবং তা মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছে।
জীবন বদলানো শেখ সাদীর কিছু কথা
একটি ছোট ধাক্কা যেমন ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে দেয়, ঠিক তেমনি শেখ সাদীর কিছু কথা আমাদের অলস মস্তিষ্ককে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। হতাশায় ডুবে না গিয়ে কীভাবে নতুন উদ্যমে উঠে দাঁড়াতে হয়, তার সম্পূর্ণ রসদ লুকিয়ে আছে এই কালজয়ী কথাগুলোর মাঝে।
বোকারা সবসময় নিজেদের জাহির করতে ব্যস্ত থাকে, অথচ জ্ঞানীরা জানে কখন চুপ থাকতে হয়।
হিংসুককে ঘৃণা করার প্রয়োজন নেই; সে তো মনে মনে মেনেই নিয়েছে তুমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
মাটির কলসি যেমন শব্দ কম করে, গভীর জ্ঞানের মানুষও তেমনি নিজের বড়াই এড়িয়ে চলে।
সবার সাথে ব্যবহারের মাধুর্য রেখো, যেন তুমি না থাকলে মানুষ তোমায় মিস করে, আর থাকলে ভালোবাসে।
শত্রুর মিষ্টি কথায় গলে যেও না; শিকার ধরার আগে বাঘও কিন্তু নিঃশব্দে পা ফেলে।
চরিত্রহীন সৌন্দর্য আর ঘ্রাণহীন কাগজের ফুল—দুটোর কোনো কদর নেই।
রাস্তার সব কুকুরকে পাথর মারতে গেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হবে; তাই সব কথায় কান দিতে নেই।
সিংহের ভয়ে পালানো লজ্জার না, কিন্তু শিয়ালের সাথে বন্ধুত্ব করা বোকামি।
নিজের ভুল ঢাকতে অন্যের দিকে আঙুল তোলা দুর্বল চিত্তের পরিচয়।
আঘাত মানুষকে ভেঙে ফেলে না, বরং ভেতর থেকে শক্ত করে নতুনভাবে গড়ে তোলে।
শিক্ষামূলক বাংলা ক্যাপশন শেখ সাদী
সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে আমরা অনেকেই নিজের মনের ভাব প্রকাশের জন্য যুতসই বা ভারিক্কি কোনো কথা খুঁজে পাই না। শেখ সাদীর এই ছোট ছোট বুলিগুলো হাজারো কথার চেয়েও অনেক বেশি ওজনদার এবং অর্থবহ, যা আপনার ক্যাপশন হিসেবে দারুণ মানাবে।
ফলের ভারে গাছ যেমন নুয়ে পড়ে, তেমনি জ্ঞানী মানুষরা সব সময় বিনয়ী হয়ে থাকে।
নিজের যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত, অন্যের দিকে তাকালে শান্তি নষ্ট হয়।
জ্ঞানহীন মানুষ অনেকটা শিকড়হীন গাছের মতো, যেকোনো ঝড়েই সে উপড়ে পড়তে পারে।
গোপন শত্রুর চেয়ে প্রকাশ্য শত্রু অনেক ভালো, অন্তত তার থেকে সাবধান থাকা যায়।
লোভ মানুষের আত্মসম্মান নষ্ট করে দেয়, তাই নিজের অবস্থানে তৃপ্ত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
