নজরুলের বিখ্যাত উক্তি সমূহ: বাছাই করা ১৩৩টি বাণী

ঝিমিয়ে পড়া রক্তে আগুন জ্বালাতে নজরুলের বিখ্যাত উক্তি সমূহ আজও অদ্বিতীয়। পরাধীনতার শিকল ভাঙার গান হোক বা প্রেমের কোমল সুর, তাঁর প্রতিটি শব্দই যেন একেকটি বারুদ, যা যুগ যুগ ধরে বাঙালির ধমনীতে সাহসের জোয়ার তুলে আসছে। এখানে সংখ্যা মুখ্য নয়, আসল হলো সেই স্পিরিট যা আমাদের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে শেখায়।

কাজী নজরুল ইসলামের উক্তি || Kazi Nazrul Islam ukti

এক হাতে বাঁশরী আর অন্য হাতে রণতূর্য—অদ্ভুত ও জাদুকরী এই সমন্বয় কাজী নজরুল ইসলামের উক্তি গুলোর মধ্যেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনি যখন প্রেম নিয়ে বলেন, তখন মনে হয় এর চেয়ে রোমান্টিক আর কেউ হতে পারে না; আবার যখন বিদ্রোহের ডাক দেন, তখন কাপুরুষের বুকেও বাঘের বল চলে আসে।

বল বীর— বল উন্নত মম শির! শির নেহারি’ আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! — কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান— মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। — কাজী নজরুল ইসলাম

বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। — কাজী নজরুল ইসলাম

মিথ্যা শুনিনি ভাই, এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই। — কাজী নজরুল ইসলাম

তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন, সে জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন। — কাজী নজরুল ইসলাম

প্রেমের আনন্দ থাকে স্বল্পক্ষণ, কিন্তু বেদনা থাকে সারাটি জীবন। — কাজী নজরুল ইসলাম

আমি চিরদুবিনীর্‌ত, দুরন্ত, দুর্মদ, আমি ভয়-শূন্য! — কাজী নজরুল ইসলাম

হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসিছে কোন্ জন? কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার! — কাজী নজরুল ইসলাম

আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন! আমি স্রষ্টা-সুদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন! — কাজী নজরুল ইসলাম

ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, আসি’ অলক্ষে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান? — কাজী নজরুল ইসলাম

মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য। — কাজী নজরুল ইসলাম

খোদার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। — কাজী নজরুল ইসলাম

কাউকে সারা জীবন কাছে পেতে চাও? তাহলে প্রেম দিয়ে না, বন্ধুত্ব দিয়ে আগলে রাখো। — কাজী নজরুল ইসলাম

খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে। প্রলয় সৃষ্টি তব পুতুল খেলা নিরজনে প্রভু নিরজনে। — কাজী নজরুল ইসলাম

বিশ্বাস আর আশা, এই দুই দিয়েই ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হয়। — কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও দর্শন নিয়ে উক্তি

মন্দির আর মসজিদের তফাৎ মুছে দিয়ে তিনি গেয়েছেন মানুষের জয়গান। কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও দর্শন নিয়ে উক্তি পাঠ করলে বোঝা যায়, তিনি সাধারণ কোনো কবি ছিলেন না, বরং ছিলেন এক মহাকালের দ্রষ্টা। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে মুক্ত হয়ে কীভাবে একজন খাঁটি মানুষ হওয়া যায়, তার রসদ মিলবে এখানেই।

মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান। মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ। — কাজী নজরুল ইসলাম

জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত-জালিয়াৎ খেলছে জুয়া। ছুঁলেই তোর জাত যাবে? জাত ছেলের হাতের নয় কো মোয়া। — কাজী নজরুল ইসলাম

মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর, এই মানুষেরই মাঝে অসীম, এই মানুষেরই মাঝে হুর। — কাজী নজরুল ইসলাম

বন্ধু, তোমার বুক ভরা লোভ, দু’চোখে স্বার্থ-ঠুলি, নতুবা দেখিতে, তোমারে সেবিতে দেবতা হয়েছে কুলি। — কাজী নজরুল ইসলাম

পাপকে ঘৃণা করো, কিন্তু পাপীকে না। — কাজী নজরুল ইসলাম

তারুণ্যের ধর্মই হলো সব নিয়ম ভাঙা, আর নতুন নিয়ম গড়া। — কাজী নজরুল ইসলাম

আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলেই আমি শুধু এই দেশের বা সমাজের নই। আমি সকল দেশের, সকল মানুষের। — কাজী নজরুল ইসলাম

যে ধর্ম মানুষকে মানুষ হিসেবে ঘৃণা করতে শেখায়, তা কোনো ধর্ম হতে পারে না। — কাজী নজরুল ইসলাম

সত্যকে প্রকাশ করতে আমি কখনো ভয় পাইনি, সত্যের চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই। — কাজী নজরুল ইসলাম

সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি, খোদা তোমার মেহেরবানি। — কাজী নজরুল ইসলাম

দারিদ্র্য মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দেয়, কিন্তু তার ধৈর্য পরীক্ষা করে। — কাজী নজরুল ইসলাম

আমি যা দেখেছি, যা বুঝেছি, তাই লিখেছি; কারো মন জুগিয়ে কথা বলা আমার স্বভাব না। — কাজী নজরুল ইসলাম

জীবনকে ভালোবাসতে শেখো, কারণ জীবন একবারই সুযোগ দেয়। — কাজী নজরুল ইসলাম

কাউকে ছোট মনে করো না, কারণ ঝিনুকের ভেতরেও মুক্তা থাকে। — কাজী নজরুল ইসলাম

মনের জোর বাড়ানোর জন্য বিদ্রোহী কবির উক্তি

পৃথিবীর আঘাতে যখন আপনি চূর্ণবিচূর্ণ, উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও অবশিষ্ট নেই, তখন মনের জোর বাড়ানোর জন্য বিদ্রোহী কবির উক্তি টনিকের মতো কাজ করবে। তাঁর বজ্রকঠিন শব্দগুলো শিরায় শিরায় তীব্র এক উন্মাদনা সৃষ্টি করে যে, অসম্ভবকেও তখন হাতের মুঠোয় পুরে ফেলার সাহস জাগে।

আমি মানি না কো কোনো আইন, আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন! — কাজী নজরুল ইসলাম

কারার ঐ লৌহ-কপাট, ভেঙে ফেল কর রে লোপাট, রক্ত-জমাট শিকল পূজোর পাষাণ-বেদী। — কাজী নজরুল ইসলাম

লাথি মার ভাঙরে তালা! যত সব বন্দী-শালায়—আগুন জ্বালা, আগুন জ্বালা, ফেল উপাড়ি। — কাজী নজরুল ইসলাম

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার! — কাজী নজরুল ইসলাম

আমরা শক্তি আমরা বল, আমরা ছাত্রদল। মোদের পায়ের তলায় মূর্ছে তুফান, ঊর্ধ্বে বিমান ঝড়-বাদল। — কাজী নজরুল ইসলাম

আমি উন্মন মন, উদাসীর, আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর। — কাজী নজরুল ইসলাম

চল চল চল! ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল, নিম্নে উতলা ধরণী তল, অরুণ প্রাতের তরুণ দল, চল চল চল! — কাজী নজরুল ইসলাম

এই শিকল পরা ছল মোদের এই শিকল পরা ছল। এই শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল। — কাজী নজরুল ইসলাম

মহাবিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না। — কাজী নজরুল ইসলাম

আমি ধূর্ণটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর, আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধারত্রীর! — কাজী নজরুল ইসলাম

ওরে ও তরুণ ঈশান! বাজা তোর প্রলয় বিষাণ! ধ্বংস নিশান উরুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি। — কাজী নজরুল ইসলাম

আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। — কাজী নজরুল ইসলাম

আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ঐ। — কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলা নববর্ষ নিয়ে নজরুলের উক্তি

জীর্ণ পুরাতনকে ভাসিয়ে দিয়ে নতুনের কেতন ওড়াতে বাংলা নববর্ষ নিয়ে নজরুলের উক্তি সব সময় প্রাসঙ্গিক। বৈশাখের কালবৈশাখী ঝড়ের মতোই তিনি চেয়েছেন সমাজের সব জঞ্জাল উড়িয়ে দিয়ে এক সতেজ সূচনা, যেখানে প্রতিটি ভোর আসবে নতুন সম্ভাবনা আর রঙিন স্বপ্ন নিয়ে।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর!! ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কাল-বোশেখির ঝড়। — কাজী নজরুল ইসলাম

ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? –প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন! আসছে নবীন-জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন! — কাজী নজরুল ইসলাম

ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর! তোরা সব জয়ধ্বনি কর! — কাজী নজরুল ইসলাম

ওই কালবৈশাখী ঝড় উঠেছে, ওরে সব ছুটে পালা। আজ জীর্ণ পাতা ঝরার দিন, নতুনের ডালা সাজা। — কাজী নজরুল ইসলাম

পুরোনো বছরের যত জঞ্জাল, যত গ্লানি, সব ধুয়ে মুছে যাক বৈশাখের ঝড়ে। — কাজী নজরুল ইসলাম

এলো নতুনের দিন, পুরোনো ঋণ শোধ করার দিন। — কাজী নজরুল ইসলাম

আজি সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে, মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে। — কাজী নজরুল ইসলাম

বৈশাখ মানেই শক্তি, বৈশাখ মানেই নতুন করে জেগে ওঠা। — কাজী নজরুল ইসলাম

হে বৈশাখ, তুমি এসেছো প্রলয় রূপে, কিন্তু তোমার হাতেই আছে নতুনের চাবিকাঠি। — কাজী নজরুল ইসলাম

মাভৈঃ মাভৈঃ! জগত জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে, জরায়-মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ-লুকানো ওই বিনাশে। — কাজী নজরুল ইসলাম

নতুন দিনে নতুন গানে আমরা হবো বল। — কাজী নজরুল ইসলাম

তরুণ্যের জয়গান গাওয়ার সেরা সময় হলো বৈশাখ। — কাজী নজরুল ইসলাম

নতুনের কেতন ওড়াতে হলে পুরোনোকে ভাঙতেই হবে। — কাজী নজরুল ইসলাম

বিদ্রোহী কবির বাছাই করা সেরা বাণী

অন্যায় যখন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, তখন বিদ্রোহী কবির বাছাই করা সেরা বাণী আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে সামনে দাঁড়ায়। তাঁর হুংকার আজও শোষকের মসনদ কাঁপিয়ে দিতে যথেষ্ট, আর এই তেজদীপ্ত কথাগুলোই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে মাথা নত না করে পরিস্থিতির চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে হয়।

মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম, মোরা ঝর্ণার মত চঞ্চল, মোরা বিধাতার মত নির্ভয়, মোরা প্রকৃতির মত স্বচ্ছল।

আমি চির-দুর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!

কিসের শোক করিস ভাই, আবার তোরা মানুষ হ।

যে দিন আমি চলে যাব, সে দিন হয়তো বা কেউ বুঝবে না। কিন্তু যেদিন বুঝবে, সেদিন হয়তো আমি আর থাকব না।

কাজী নজরুল ইসলামের উপদেশমূলক বাণী

জীবনকে তিনি দেখেছেন খুব কাছ থেকে, দারিদ্র্য আর সংগ্রামের আগুনের ভেতর দিয়ে, তাই কাজী নজরুল ইসলামের উপদেশমূলক বাণী কোনো কেতাবি কথা নয়। তারুণ্যের শক্তি আর মানবতার জয়গান গাওয়া এই পরামর্শগুলো দিকভ্রান্ত পথিকের জন্য ধ্রুবতারার মতো কাজ করে, যা অন্ধকারের মাঝেও সঠিক গন্তব্যের সন্ধান দেয়।

বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসিনি, আমি নেতা হতে আসিনি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম।

অসত্যের কাছে নত নাহি হবে শির, ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ লড়ে যায় বীর।

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি, এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

সত্যকে যে প্রকাশ করিতে জানে না, সে কাপুরুষ। সত্যের জ্যোতি যাহার চোখে ফুটিল না, সে অন্ধ।

যে জাতি নিজেকে সম্মান দিতে পারে না, সে জাতি অন্যকেও সম্মান দিতে পারে না।

নারীকে যে সম্মান করে না, সে আসলে নিজেকেই অসম্মান করে।

যৌবন জলতরঙ্গ রোধিবি কি দিয়া বালির বাঁধ?

তোমরা ভয় করিও না। আমি আছি, আমার মৃত্যু নাই। আমি এই ধূলির ধরণীতে অবিনশ্বর।

ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমাদের শক্তি আমাদের ঐক্যে, আমাদের দুর্বলতা আমাদের বিভেদে।

মানুষের কল্যাণে যে জীবন উৎসর্গ করা হয়, সেই জীবনই সার্থক।

দারিদ্র্য ও দুঃখ নিয়ে নজরুলের বিখ্যাত বাণী

অভাবকে কেউ অভিশাপ মনে করে, আর কেউ বানায় অলঙ্কার। দারিদ্র্য ও দুঃখ নিয়ে নজরুলের বিখ্যাত বাণী পড়লে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়, কারণ তিনি কষ্টের মাঝেই খুঁজে পেয়েছিলেন মহান হওয়ার শক্তি। রিক্ত হাতেও যে রাজার মতো মাথা উঁচু করে বাঁচা যায়, সেই বিরল সাহস তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন।

হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান। তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান। কণ্টক-মুকুট শোভা।

ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়, কিন্তু দারিদ্র্য ভালোবাসাকেও গ্রাস করে ফেলে।

দুঃখের মাঝেই তো সুখের আসল স্বাদ নিহিত। যে দুঃখ সইতে জানে না, সে সুখের কদর বোঝে না।

আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে।

বিত্ত নাই, কিন্তু চিত্ত আছে। আর এই চিত্তের ঐশ্বর্যেই আমি ধনী।

দারিদ্র্য অসহ্য, কিন্তু নিচতা আরও অসহ্য।

অভাবের তাড়নায় মানুষ অনেক সময় পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায়।

দুঃখকে আমি ডরাই না, আমি ডরাই দুঃখের কাছে নতি স্বীকার করাকে।

আমারে দেব না ভুলিতে, তাই তো আমার এই গান। দুঃখের মাঝে, বেদনার মাঝে, আমি রেখে যাব মোর প্রাণ।

তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিব না, কোলাহল করি’ সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙিব না।

বেদনা আছে বলেই তো আনন্দ এত মধুর।

নজরুলের রোমান্টিক ক্যাপশন

প্রিয় মানুষটিকে নিজের ভালোবাসার কথা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন? নজরুলের রোমান্টিক ক্যাপশন হতে পারে আপনার অব্যক্ত আবেগের সেরা দোভাষী। বিরহ হোক বা মিলন, হৃদয়ের গোপন কথাগুলো তিনি এমনভাবে সাজিয়ে গেছেন, যা পড়লে মনে হয় এ যেন আমারই মনের কথা, যা এতদিন গুছিয়ে বলতে পারিনি।

তোমারে আমি চাহিয়াছি তাই আমি আজ সবার মাঝে অপরাধী, তবুও এ অপরাধ আমি আমৃত্যু করে যাব।

মোরা আর জনমে হংস মিথুন ছিলাম কি না জানি না, তবে এই জনমে তোমাকে ছাড়া আমি বড্ড একা।

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ? তোমার ওই মায়াবী চোখের দিকে তাকালে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।

আমার সকল কাঁটা ধন্য করে ফুটলে তুমি ফুল, তোমার ছোঁয়ায় আমার জীবনটা কানায় কানায় পূর্ণ হলো।

বাতায়নে আজ বাতাসের মাতলামি, তোমার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বারবার, বুকের ভেতরটা হু হু করছে।

তোমার ওই কালো চোখের তারায় আমি আমার সর্বনাশ দেখেছি, তবুও সেই সর্বনাশের পথেই পা বাড়ালাম।

আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন, দিল ওহি মেরা ফাস গায়া—তোমার ওই এলো চুলেই আমার মুক্তি আর বন্দিত্ব।

ভালোবাসার এই মোহে আমি নিজেকে উৎসর্গ করেছি, প্রতিদানে কিছুই চাই না, তুমি ভালো থেকো তাতেই সুখ।

বিশ্বাস করো, আমি তোমায় যতবার দেখি ততবার নতুন করে প্রেমে পড়ি, এ এক অদ্ভুত মুগ্ধতা।

তুমি আমার সকালের ভৈরব আর সাঁঝের পূরবী, সুরের মায়াজালে তোমাকেই বেঁধে রেখেছি হৃদয়ে।

চোখের জলেই যদি ভালোবাসা প্রমাণ করতে হতো, তবে আমি হয়তো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক হতাম।

গানের সুরে তোমায় ডাকি, তুমি কি শুনতে পাও না আমার এই আকুল আবেদন?

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *