বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উক্তি ও বাণী: ১৮৮+টি বাণী

বাঙালির মানসপটে এমন কোনো আবেগ নেই যা নিয়ে রবিঠাকুর লেখেননি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি: বাছাই করা ১৮৮টি বাণী শিরোনামটি দেখলেই মনে হয় এ যেন আমাদের প্রতিদিনের সুখ-দুঃখের এক বিশ্বস্ত দলিল। সকালের একলা বারান্দা থেকে শুরু করে রাতের গভীর দীর্ঘশ্বাস—সবখানেই তাঁর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, যেন তিনি পরম বন্ধুর মতো পাশেই বসে আছেন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উক্তি সমূহ

তিনি বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্বজুড়ে মানবতার প্রতীক। বিশ্বকবির বিখ্যাত উক্তি সমূহ আমাদের সংকীর্ণতার দেওয়াল ভেঙে এক বিশাল আকাশের নিচে দাঁড় করায়। যেখানে মানুষের ধর্ম, বর্ণ বা কাঁটাতারের বেড়া তুচ্ছ হয়ে যায়, আর জেগে ওঠে একাত্মতার সুর। তাঁর দর্শন আমাদের শেখায় কীভাবে ক্ষুদ্র ‘আমি’ থেকে বেরিয়ে বৃহৎ ‘আমরা’ হতে হয়।

সূর্য অস্ত গেলে যদি তুমি কান্না করো, তবে তারার আলো থেকেও তুমি বঞ্চিত হবে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তীরে দাঁড়িয়ে আর জল দেখে নদী পার হওয়া যায় না, তার জন্য সাহস করে জলে নামতে হয়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যা আমাদের প্রাপ্য তা আমাদের কাছে আসবেই, যদি আমরা তা গ্রহণ করার ক্ষমতা তৈরি করতে পারি। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পাপড়ি ছিঁড়লে ফুলকে পাওয়া যায়, কিন্তু ফুলের সৌন্দর্যকে পাওয়া যায় না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুখী হওয়া খুব সহজ, কিন্তু সহজ হওয়া খুব কঠিন। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বাস হলো সেই পাখি, যে ভোর হওয়ার আগেই অন্ধকারের মাঝে আলোর আভাস পায় এবং গান গায়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার ধরিয়া রাখার মত বিড়ম্বনা আর নাই। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সন্তানকে তোমার নিজের শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখো না, কারণ সে জন্মেছে অন্য এক সময়ের জন্য। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মনেরে আজ কহ যে, ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, শেষ পর্যন্ত আমি সেই বিশ্বাস ধরে রাখব। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নিন্দা করতে গেলে বাইরে থেকে করা যায়, কিন্তু বিচার করতে গেলে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নিজের অজ্ঞানতা সম্বন্ধে অজ্ঞান থাকার মতো অজ্ঞানতা আর কিছুতেই নেই। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঘটনা অনেক হতে পারে, কিন্তু সত্য সব সময় এক। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমরা পৃথিবীকে ভুলভাবে পড়ি, আর বলি পৃথিবী আমাদের প্রতারিত করছে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিদায় নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি

চলে যাওয়াই শেষ কথা না—এই কঠিন সত্যটি মেনে নিতে রবীন্দ্রনাথের উক্তি আমাদের শক্তি জোগায়। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা যে এত সুন্দর ও শিল্পসম্মত হতে পারে, তা তাঁর আগে কেউ ভাবতেও পারেনি। চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে তিনি শিখিয়েছেন, সব কিছুর সমাপ্তিতেই নতুনের আবাহন থাকে, শেষের পরেই শুরু হয় নতুন অধ্যায়।

যেতে নাহি দিব। হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যখন আমি থাকব না, তখন আমার গান তোমাদের মনে থাকবে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিদায় নিয়েছ যবে হাসি মুখে, তবে আর ফিরে চেয়ো না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

জীবন যেমন সত্য, মৃত্যুও তেমনি সত্য। মৃত্যুই জীবনের পূর্ণতা। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মৃত্যু মানে আলো নিভিয়ে দেওয়া না; বরং প্রভাত হয়েছে বলে বাতিটি নিভিয়ে রাখা। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ তবে যাই, আবার দেখা হবে কোনো এক আনন্দলোকে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শেষ হয়েও হইলো না শেষ। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যারা চলে যায়, তারা সব সময় স্মৃতির মণিকোঠায় বেঁচে থাকে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আসা-যাওয়ার পথের ধারে গান গেয়ে যাই, সেই গানের রেশ যেন থেকে যায়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিদায়ের মুহূর্তে যে চোখের জল ঝরে, তা হলো হৃদয়ের নীরব ভাষা। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিদায় মানে ভুলে যাওয়া না, বিদায় মানে এক নতুন শুরুর অপেক্ষা। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সময়ের স্রোতে সবাই ভেসে যায়, থেকে যায় মায়া আর স্মৃতি। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

হৃদয়ের অব্যক্ত কথাগুলো যখন ঠোঁটের ডগফায় এসেও বলা সম্ভব হয় না, তখন রবীন্দ্রনাথের প্রেমের উক্তিই হয়ে ওঠে সেরা আশ্রয়। ভালোবাসা যে প্রাপ্তির নাম না, বরং ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল—সেই শাশ্বত রূপটিই তিনি এঁকেছেন পরম মমতায়। প্রেমিকের মান-অভিমান ভাঙাতে বা প্রিয়জনকে বিশেষ কিছু বলতে এর জুড়ি মেলা ভার।

ভালোবাসা হলো এক অসীম রহস্য, কারণ একে ব্যাখ্যা করার মতো আর কিছু নেই। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সখী, ভালোবাসা কারে কয়? সে কি কেবলই যাতনাময়? — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যাকে ভালোবাসো, তাকে চোখের আড়াল করো না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়ের মাঝে, আর কিছু চাহি না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভালোবাসা হলো আত্মার আত্মীয়তা, যা কখনো মরে না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

প্রেমের ভুবনে যারা হারায়, তারাই আসলে খুঁজে পায়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাছে থেকেও যারা দূরে থাকে, তাদের দূরত্ব অসীম। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভালোবাসা মানে দখল করা না, ভালোবাসা মানে স্বাধীনতা দেওয়া। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সত্যিকারের ভালোবাসা হলো আগুনের মতো, যা জ্বলে কিন্তু পোড়ায় না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমার চোখে আমি আমার পৃথিবী দেখতে পাই। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভালোবাসা এক ধরণের অসুখ, যার কোনো ওষুধ নেই। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্র রচনাবলী থেকে সেরা উক্তি

বিশাল সাহিত্যসাগর সেঁচে আনা রবীন্দ্র রচনাবলী থেকে সেরা উক্তি গুলো যেন এক মুঠো মুক্তা। গল্প, কবিতা কিংবা নাটক—যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন। ব্যস্ত জীবনে পুরো রচনাবলী পড়া কঠিন হতে পারে, তাই এই নির্বাচিত অংশগুলোই আপনার মনের খোরাক মেটানোর এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করার সেরা মাধ্যম।

মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা, হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নারীর প্রেমে মিলনের গান বাজে, পুরুষের প্রেমে বিচ্ছেদের বেদনা। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চিরকালই মানুষের মন একটা কিছু মহৎ ও সত্য জিনিসের সন্ধানে ফিরিতেছে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নম্রতা হলো পৌরুষের এক বিশেষ লক্ষণ। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যে সব পুরুষ রমণীর অন্তরের কথা বুঝিবার জন্য চেষ্টা করে, তাহারা রমণীকে ভালোবাসে না, কেবল কৌতুহল নিবৃত্তি করিতে চায়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আনন্দকে ভাগ করলে দুটি জিনিস পাওয়া যায়; একটি হচ্ছে জ্ঞান এবং অপরটি হচ্ছে প্রেম। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নিজেকে চেনাই হলো বড় জ্ঞান, আর নিজেকে জয় করাই হলো বড় শক্তি। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আলো বলে, অন্ধকার, তুই বড় কালো। অন্ধকার বলে, ভাই, তাই তুমি আলো। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মুখের কথা শেষ হয়ে যায়, কিন্তু চোখের কথা শেষ হতে চায় না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শেষের কবিতা উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি

অমিত আর লাবণ্যের সেই অমর কথোপকথন আজও প্রেমিক হৃদয়ে ঝড় তোলে। শেষের কবিতা উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি গুলোর মধ্যে আধুনিক প্রেমের যে সংজ্ঞা তিনি দাঁড় করিয়েছেন, তা এক কথায় অতুলনীয়। ভালোবাসা মানে সব সময় কাছে পাওয়া না, বরং দূরে থেকেও অন্তরে ধারণ করা—এই দর্শনের সেরা পাঠশালা হলো এই উপন্যাসটি।

কেতকীর সঙ্গে আমার সম্বন্ধ ভালোবাসারই, কিন্তু সে যেন ঘড়ায়-তোলা জল… আর লাবণ্যর সঙ্গে আমার যে প্রেম সে যেন দিঘির জল, সে ঘরে আনবার নয়, তাতে সাঁতার দেওয়া চলে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারই দান, গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার জীবনে তুমি বাঁচবে, আমার মৃত্যুতে তুমি বাঁচবে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হে বন্ধু, বিদায়। তোমার যা কিছু পাওনা ছিল, সবই তো শেষ করেছ। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়, পথের দুধারেই তো মোর দেবালয়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কমল হীরের পাথরটাকেই বলে বিদ্যে, আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে বেরোয়, তাকেই বলে কালচার। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যার যেটা দস্তুর, সে সেটা পালন করবেই। হাঁস জলের নিচে ডুব দেবে, আর সজারু কাঁটা ফোটাবে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পুরুষের ভালোবাসা যেখানে থামে, নারীর ভালোবাসা সেখান থেকেই শুরু হয়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মানুষের জীবনে সব চাওয়ার হিসেব মেলে না, আর না মেলাই ভালো। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যে ভালোবাসা যত গোপন, সেই ভালোবাসা তত গভীর। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিবাহের চেয়ে বড়ো হচ্ছে প্রেম। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভালোবাসা আর ভালোলাগা এক জিনিস না, এদের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমি যা চাই তা পাই না, আর যা পাই তা চাই না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও? তারি রথ নিত্যই উধাও। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথের সেরা বাণী

শত বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ রবীন্দ্রনাথের সেরা বাণী গুলো পড়লে মনে হয় এই তো সেদিনের লেখা, কালি এখনো শুকায়নি। জীবনের জটিল সব অঙ্কের সমাধান তিনি এত সহজ সব উপমায় দিয়ে গেছেন যে, অবাক হতে হয়। যখনই মন খারাপের মেঘ জমে বা পথ হারিয়ে ফেলি, তাঁর এই কালজয়ী কথাগুলোই ধ্রুবতারার মতো পথ দেখায়।

সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।

সহজ কথা বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।

আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে, নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে?

চোখ কতটুকুই বা দেখে, কান কতটুকুই বা শোনে? স্পর্শ কতটুকুই বা অনুভব করে? মনের দেখার কাছে এই ইন্দ্রিয়গুলো তুচ্ছ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষামূলক বাণী

চার দেওয়ালের ক্লাসরুম আর মুখস্থ বিদ্যার বাইরেও যে এক বিশাল জগৎ আছে, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষামূলক বাণী না পড়লে অজানা থেকে যেত। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা যা কেবল জীবিকা অর্জনের পথ দেখাবে না, বরং মানুষ হিসেবে আমাদের ভেতরটাকে জাগিয়ে তুলবে এবং চিন্তার শিকল ভাঙতে শেখাবে।

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমরা যাহাকে শিক্ষা বলি, তাহা কেবল তথ্য সংগ্রহ করা নহে, তাহা সত্যের সন্ধান ও মনের মুক্তি। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মুখস্থ বিদ্যার দ্বারা মস্তিষ্কের ভার বাড়িয়া যায় বটে, কিন্তু মৌলিক চিন্তাশক্তি কমিয়া যায়; ইহা চুরির বিদ্যার নামান্তর। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আনন্দহীন শিক্ষা, শিক্ষাই নয়; তা এক ধরণের বোঝা যা কাঁধে বহন করা যায়, কিন্তু হৃদয়ে ধারণ করা যায় না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বালকদিগকে কেবল শাসন করা ঠিক নহে, তাহাদিগকে বুঝাইতে হইবে এবং ভালোবাসিতে হইবে, তবেই শিক্ষার আলো তাহাদের হৃদয়ে প্রবেশ করিবে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শিক্ষার প্রকৃত কাজ হলো মনের জানালাগুলি খুলিয়া দেওয়া, যাহাতে বিশ্বপ্রকৃতির আলো বাতাস সেখানে অবাধে প্রবেশ করিতে পারে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের ন্যায়; ইহার মাধ্যমেই শিশুর মানসিক বিকাশ ও শিক্ষার ভিত্তি পরিপূর্ণ হয়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যে শিক্ষা জীবনকে সুন্দর করে না, কেবল জীবিকা অর্জনে সহায়তা করে, তাহা অসম্পূর্ণ এবং পঙ্গু। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বের সাথে যোগ না থাকলে শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না, কূয়োব্যাঙ হইয়া থাকার নাম শিক্ষা নহে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পুঁথিগত বিদ্যা অনেক সময় মানুষকে অন্ধ করিয়া রাখে, বাস্তব জগত হইতে দূরে সরাইয়া দেয়; তাই বইয়ের পাতার বাইরের জগতকেও পড়িতে হইবে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শিশুকে তার নিজের ইচ্ছায় বাড়িতে দাও, জোর করিয়া তাকে কিছু শিখাইয়ো না; প্রকৃতিই তাহার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক নিয়ে রবীন্দ্র বাণী

রক্তের সম্পর্কের বাইরেও এমন কিছু বাঁধন থাকে যা আমৃত্যু টিকে থাকে, ফিকে হয় না। বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক নিয়ে রবীন্দ্র বাণী গুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, কাউকে কাছে পাওয়ার নাম সম্পর্ক নয়, বরং দূরে থেকেও আত্মিক টান অনুভব করার নামই প্রকৃত মায়া। মান-অভিমানের পালা শেষে এই কথাগুলোই সম্পর্ককে নতুনের মতো সজীব করে।

ভালোবাসা যেখানে গভীর, সেখানে নত হওয়াও গৌরবের; অহংকার প্রেমের পথে প্রধান অন্তরায়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বন্ধুত্ব বলিতে তিনটি বস্তু বুঝায়— দুইজন ব্যক্তি ও একটি জগত। সেখানেই বন্ধুত্বের সার্থকতা নিহিত। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাউকে সারা জীবন কাছে পাওয়ার নাম প্রেম নয়, বরং দূরে থাকিয়াও তাহার অনুভব হৃদয়ে ধারণ করার নামই প্রকৃত ভালোবাসা। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ক্ষমাই ভালোবাসার সবথেকে বড় অলংকার; যে ক্ষমা করিতে জানে না, সে ভালোবাসিতে জানে না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পৃথিবীতে সবথেকে কঠিন কাজ হলো মানুষের মন জয় করা, আর সবথেকে সহজ কাজ হলো সেই মন ভাঙিয়া দেওয়া। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যাকে ভালোবাসো, তাকে বাঁধতে যেও না; কারণ ভালোবাসা মুক্ত বিহঙ্গের মতো, খাঁচায় থাকিলেই তাহার মৃত্যু ঘটে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সংসারে কেও কাহারো নয়, সবাই সবার প্রয়োজনে কাছে আসে; কিন্তু আত্মার আত্মীয়রা প্রয়োজনের উর্ধ্বে থাকিয়া যায়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বাস ছাড়া ভালোবাসা টিকিয়া থাকিতে পারে না; বিশ্বাসই সম্পর্কের ভিত্তি, সন্দেহের সেখানে কোনো স্থান নাই। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুসময়ে অনেকেই বন্ধু হয়, কিন্তু দুঃসময়ে যে পাশে থাকে সেই প্রকৃত বন্ধু; ভিড়ের মাঝে হাত ধরা সহজ, কিন্তু একাকীত্বে সঙ্গ দেওয়া কঠিন। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নারীর হৃদয় পাওয়া মানে তার সমস্ত জগতকে পাওয়া; ইহা কেবল অধিকার নহে, এক গভীর দায়িত্বও বটে। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মন দেওয়া-নেওয়া তো কেবল খেলা নয়, ইহা জীবনের এক গভীর সত্য; যাহাকে অবহেলা করিলে জীবন শূন্য হইয়া যায়। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্র সংগীতের সেরা লাইন ক্যাপশন

একটা সুন্দর ছবি তুলেছেন, কিন্তু মনের মতো কিছু লিখতে পারছেন না? রবীন্দ্র সংগীতের সেরা লাইন ক্যাপশন হিসেবে ব্যবহার করে দেখুন, মুহূর্তেই আপনার ছবির ভাষা বদলে যাবে। বৃষ্টিভেজা দুপুর হোক কিংবা একলা বিকেল, আপনার মনের গোপন কথাটি রবিঠাকুরের গানের কলিতে ঠিকই খুঁজে পাবেন, যা অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।

ভালোবেসে সখী, নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো—তোমার মনের মন্দিরে।

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে, দেখতে আমি পাইনি তোমায়।

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম।

ভেঙে মোর ঘরের চাবি, নিয়ে যাবি কে আমারে!

দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না।

আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী।

মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে।

তোমায় গান শোনাব, তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখ।

আমার পরাণ যাহা চায়, তুমি তাই গো।

সখী, ভাবনা কাহারে বলে? সখী, যাতনা কাহারে বলে?

পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়!

যেতে যেতে একলা পথে, নিভেছে মোর বাতি।

আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে, দিবস রজনী।

চোখের আলোয় দেখেছিলেম, চোখের বাহিরে।

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ক্যাপশন

সোশ্যাল মিডিয়ার এই স্ক্রল করার যুগে সবাই একটু নান্দনিকতা খোঁজে, একটু আলাদা হতে চায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ক্যাপশন আপনার প্রোফাইল বা স্ট্যাটাসে সেই আভিজাত্যের ছোঁয়া এনে দিতে পারে। হাজার কথার ভিড়ে মাত্র দু-চার লাইনের পংক্তি আপনার ব্যক্তিত্বকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তোলার জন্য যথেষ্ট।

ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই—ছোটো সে তরী, আমারি সোনার ধানে গিয়েছ ভরি।

যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।

বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার লয়।

আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ।

অনন্ত অসীম প্রেম স্তব্ধ হয়ে আছে।

আমারে ফিরায়ে লহো, সেই সর্বনাশা ব্রতের তলে।

জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা।

কাছে যবে ছিল, পাশে হল না যাওয়া; চলে যবে গেল, তারি লাগিল হাওয়া।

উদয়ের পথে শুনি কার বাণী—ভয় নাই ওরে ভয় নাই!

নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।

বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে, বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে, দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা।

আধেক ঘুমে নয়ন চুমে স্বপন দিয়ে যায়।

তোমার কীর্তিরে আমি করি না বিশ্বাস।

ক্ষণিকের অতিথি, ওগো সুন্দর, ওই কি তোমার নাম?

রবীন্দ্রনাথের রোমান্টিক স্ট্যাটাস বাংলা

ভালোবাসার কথা সোজাসুজি বলতে অনেকেরই বুক কাঁপে, জিভ আড়ষ্ট হয়ে আসে। সেখানে রবীন্দ্রনাথের রোমান্টিক স্ট্যাটাস বাংলা ভাষায় আপনার হয়ে প্রেম নিবেদন করতে পারে। লাজুক প্রেমিকের অব্যক্ত আর্তি কিংবা প্রেমিকার অভিমান—সব পরিস্থিতির জন্যই তাঁর ভাণ্ডারে জমানো আছে জাদুকরী সব শব্দ যা সরাসরি হৃদয়ে গিয়ে বিঁধে।

দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি, সে যে তুমি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ভালোবাসার এই খেলায় আমি হেরে গিয়েও জিতেছি, কারণ পুরস্কার হিসেবে তোমায় পেয়েছি।

তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব, ছেড়ে দেব না—এই কথাটাই বারবার বলতে ইচ্ছে করে।

তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে, ভালোবাসার নদীতে ভেসে যেতে চাই নিরুদ্দেশে।

তুমি কি ছবির মতোই স্থির? না, তুমি আমার হৃদস্পন্দনে মিশে থাকা এক জীবন্ত কাব্য।

আমার রাত পোহালো শারদ প্রাতে, কিন্তু তোমায় দেখার তৃষ্ণা মিটলো না আজও।

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো হরিণ চোখ দিয়ে যে আমার মন কেড়েছে।

অমর করে গান বাঁধলাম তোমায় নিয়ে, রবিঠাকুরের সুরে সুরে জানালাম প্রেমের আরজি।

রবীন্দ্র জয়ন্তী ও প্রয়াণ দিবসের স্ট্যাটাস

পঁচিশে বৈশাখ বা বাইশে শ্রাবণ—বাঙালির ক্যালেন্ডারে এগুলো শুধু তারিখ নয়, বরং অস্তিত্বের অংশ। রবীন্দ্র জয়ন্তী ও প্রয়াণ দিবসের স্ট্যাটাস শেয়ার করার মাধ্যমে আমরা সেই প্রাণের মানুষকে স্মরণ করি, যিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়। তিনি আছেন আমাদের নিশ্বাসে, বিশ্বাসে—নশ্বর দেহ চলে গেলেও তাঁর সৃষ্টি অবিনশ্বর।

আজি হতে শতবর্ষ পরে, কে তুমি পড়ছ বসি আমার কবিতাখানি—কবিগুরুর এই জিজ্ঞাসার উত্তর আমরাই।

হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ—পঁচিশে বৈশাখের এই প্রার্থনাই আজ সবার মনে।

রবীন্দ্রনাথ মানেই বাঙালির আত্মপরিচয়, তাকে ছাড়া আমাদের সংস্কৃতি অসম্পূর্ণ, আধোরা।

বাইশে শ্রাবণ মানেই ঝরঝর বরিষণ, প্রকৃতির কান্না আর বাঙালির হাহাকার মিলেমিশে একাকার।

নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে—কবিগুরু আপনি আছেন আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে।

আপনার লেখনী আমাদের শিখিয়েছে প্রেম, দ্রোহ আর দেশাত্মবোধের আসল সংজ্ঞা।

সূর্য ডুবে গেলেও যেমন তার আভা থাকে, তেমনি আপনি সশরীরে না থেকেও আছেন আমাদের প্রতিটি নিশ্বাসে।

আপনার সৃষ্টিতে আমরা খুঁজে পাই জীবনের প্রতিটি রঙের ছোঁয়া, সুখ আর দুঃখের মেলবন্ধন।

আপনি আমাদের বিশ্বকবি, বাঙালির গর্ব, আপনার চরণে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও? মহাকালের বুকে আপনি চিরভাস্বর, চিরউজ্জ্বল।

বাঙালি যতদিন বাংলায় কথা বলবে, ততদিন আপনার নাম উচ্চারিত হবে পরম শ্রদ্ধায়।

সংকটের প্রতিটি মুহূর্তে আপনার গান, আপনার কবিতা আমাদের পথ দেখায়, সাহস যোগায়।

মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের ক্ষয় নেই, বাইশে শ্রাবণে আপনি তা প্রমাণ করে গেছেন।

আপনার সৃষ্টিসম্ভার আমাদের অলংকার, যা যুগ যুগ ধরে বাঙালিকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *