আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ৩০৫+ স্ট্যাটাস আইডিয়া

এই বিশাল আকাশ, সুবিশাল সমুদ্র আর প্রকৃতির প্রতিটি কণা—সবই মহান রবের নিপুণ কারুকাজ। চারপাশের এই অপরূপ দৃশ্য দেখে আপনাআপনিই মাথা নত হয়ে আসে। আপনারা যারা আল্লাহর এই বিস্ময়কর সৃষ্টির সৌন্দর্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরতে চান, তাদের জন্যই আমাদের এই নিবেদন। এখানে পাবেন কৃতজ্ঞতা এবং মুগ্ধতা মেশানো সেরা সব শব্দগুচ্ছ, যা আপনার ঈমানি চেতনাকে প্রকাশ করবে।

এখানে আপনি পাবেন

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া

ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস রবের অস্তিত্বের জানান দেয়।

জানালার ওপাশের সবুজ প্রকৃতি তাঁর দয়ার এক অনন্য নিদর্শন।

প্রতিটি ফুলের পাপড়িতে রবের নিপুণ কারুকার্য।

নীল আকাশের বিশালতা দেখে রবের কুদরতে মাথা নত হয়।

শিশির ভেজা ঘাসেও তাঁর রহমতের স্পর্শ পাওয়া যায়।

সূর্যের ওই দীপ্তিময় আলোয় স্রষ্টার ক্ষমতা প্রকাশ পায়।

পাহাড় আর সমুদ্রের মাঝে আল্লাহর কুদরত খোঁজার স্ট্যাটাস

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে নিজের ক্ষুদ্রতা টের পাওয়া যায়।

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে রবের তাসবিহ বাজে অবিরাম।

বিশাল ওই জলরাশি স্রষ্টার অসীম দয়ার কথা বলে।

পাহাড়ের মৌনতায় লুকিয়ে আছে রবের গভীর রহস্য।

সমুদ্রের গর্জনেও তাঁর নাম ধ্বনিত হয়।

পাহাড়ের বিশালতা দেখে অহংকার ধুলোয় মিশে যায়।

প্রকৃতির এই রুদ্র রূপেও স্রষ্টার সৌন্দর্য বিদ্যমান।

প্রতিদিনের প্রকৃতি ও আল্লাহর সৃজনশীলতা নিয়ে নতুন স্ট্যাটাস

শুকনো ডালে কচি পাতা—রবের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি।

ঋতু পরিবর্তনের খেলায় স্রষ্টার পরিকল্পনা নিখুঁত।

বৃষ্টির ফোঁটায় মৃত মাটি প্রাণ ফিরে পায় তাঁর হুকুমে।

রংধনু সাত রঙে সেজে রবের মহিমা প্রচার করে।

ঝরা পাতার মর্মর শব্দেও তাঁর প্রশংসা গীত হয়।

মেঘের ভেলায় ভেসে বেড়ানো জলকণাও তাঁর আদেশে চলে।

প্রকৃতির প্রতিটি কণা রবের গুণগান গায়।

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ক্যাপশন

পাহাড়ের ওই বিশালতা আমাকে রবের কুদরতের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য করে।

প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে মিশে আছে মহান রবের নিপুণ কারুকাজ।

আকাশের অসীম সীমানায় তাকিয়ে রবের মহত্ত্ব উপলব্ধি করি।

সাগরের গর্জন আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে রবের জিকির শোনা যায়।

ফুল, পাখি আর নদী, সব কিছুই তাঁর আদেশে সুশৃঙ্খলভাবে চলছে।

এই সুন্দর পৃথিবীটা আমাদের জন্য রবের এক বিশাল উপহার।

সবুজের বুকে হারিয়ে গিয়ে আমি আমার স্রষ্টাকে অনুভব করি।

ভোরের আলোয় আলোকিত পৃথিবী সাক্ষ্য দেয় রবের দয়ার।

বিকেলের সোনা রোদে রবের ভালোবাসার স্পর্শ পাওয়া যায়।

চাঁদনি রাতে জোছনার আলোয় রবের নূরের প্রতিফলন দেখি।

সৃষ্টির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে স্রষ্টার প্রশংসা না করে থাকা যায় না।

প্রতিটি ঋতুতে প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে রবের গুণগান গায়।

মাটির বুকে এত রঙ আর রূপ, সব কিছুই তাঁর ইচ্ছায়।

আল্লাহর সৃষ্টির রূপ নিয়ে ছোট ও চমৎকার ক্যাপশন

সুবহানাল্লাহ, কি অদ্ভুত সুন্দর এই সৃষ্টি!

রবের ইশারায় প্রকৃতি হাসে।

আকাশ মাটি সব তাঁরই।

সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টার প্রকাশ।

আলহামদুলিল্লাহ, প্রকৃতির এই রূপের জন্য।

তাঁর দয়ায় পৃথিবী রঙিন।

প্রতিটি পাতায় রবের নাম।

মহান কারিগরের নিখুঁত সৃষ্টি।

অপরূপ এই ভুবন, রবের দান।

সবুজের মায়ায় রবের ছোঁয়া।

সৃষ্টি জগত তাঁর মহিমার সাক্ষী।

প্রকৃতির প্রতিটি কণা তাসবিহ পাঠ করে।

রবের সৃষ্টিতে কোনো খুঁত নেই।

আল্লাহর প্রশংসা নিয়ে ছোট ও সুন্দর ক্যাপশন

আলহামদুলিল্লাহ সব অবস্থার জন্য।

আমার রব মহান, তিনি দয়ালু।

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।

শুকরিয়া ইয়া রব, সব তোমারই দান।

আল্লাহু আকবার, তিনি সবার চেয়ে বড়।

রবের প্রশংসা ছাড়া দিনটা অসম্পূর্ণ।

তিনিই উত্তম পরিকল্পনাকারী।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।

আমার ভরসা শুধুই আল্লাহ।

সব প্রশংসা একমাত্র বিশ্বজাহানের রবের।

আল্লাহর দয়ায় বেঁচে আছি।

তিনি শুনছেন, তিনি দেখছেন।

আল্লাহর ভালোবাসা অসীম।

নেয়ামতের শুকরিয়া ও প্রশংসা করার ক্যাপশন

সুস্থ আছি, শ্বাস নিচ্ছি—এর চেয়ে বড় নেয়ামত আর কী হতে পারে! আলহামদুলিল্লাহ।

যা পেয়েছি তার যোগ্য আমি ছিলাম না, সব রবের দয়া ও করুণা।

এক লোকমা খাবারের জন্য রবের কাছে আমি আজীবন ঋণী থাকব।

পরিবারের হাসিগুলোও আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল উপহার।

না চাইতেই তিনি আমাকে এত কিছু দিয়েছেন, শুকরিয়া জানানোর ভাষা নেই।

কঠিন সময়েও তিনি আমাকে ছেড়ে যাননি, বরং আগলে রেখেছেন।

আমার রিজিকের ফয়সালা আসমান থেকেই হয়, তাই আমি চিন্তামুক্ত।

অকৃতজ্ঞ বান্দা হতে চাই না, তাই প্রতি মুহূর্তে শুকরিয়া আদায় করি।

যতটুকু পেয়েছি তাতেই আমি সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।

আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো গণনা করে শেষ করা যাবে না।

বিপদ থেকে রক্ষা করার মালিক তিনিই, তাই ভয় পাই না।

হাত পেতে চাইলেই তিনি খালি হাতে ফেরান না কখনো।

আল্লাহর মহিমা নিয়ে শান্ত ও ভক্তিপূর্ণ ক্যাপশন

সাগরের গর্জনে কান পাতলে রবের মহিমা শোনা যায় স্পষ্ট।

আকাশের বিশালতা আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমার রব কত বড়।

মন খারাপ হলে রবের কাছেই শান্তি খুঁজি, তিনি ফেরান না।

আল্লাহর মহিমা বোঝা মানুষের ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের সাধ্যের বাইরে।

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে রবের বড়ত্ব অনুভব করার মজাই আলাদা।

ঝড়ের রাতেও তাঁর নাম জপলে বুকে সাহস পাই।

তিনি যেমন ক্ষমা করতে জানেন, তেমনি ভালোবাসতেও জানেন।

রবের কুদরতের সামনে আমরা সবাই বড্ড অসহায় আর ক্ষুদ্র।

চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় আল্লাহর নূরের ছটা দেখতে পাই।

তাঁর ইশারা ছাড়া গাছের একটা পাতাও নড়ে না।

প্রশান্তির খোঁজ করতে হলে রবের চরণে লুটিয়ে পড়তে হয়।

আল্লাহর মহিমা গাইতে গাইতে জীবনটা পার করে দিতে চাই।

তিনি আছেন বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দর নিয়মে চলছে।

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে উক্তি

নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। — আল-কুরআন (সূরা আল-ইমরান)

তোমরা কি উটের দিকে তাকাও না, কীভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? আকাশের দিকে তাকাও না, কীভাবে তাকে উঁচু করা হয়েছে? — আল-কুরআন (সূরা গাশিয়াহ)

আল্লাহর সৃষ্টির দিকে তাকালে বোঝা যায়, তিনি কতটা নিপুণ ও কৌশলী কারিগর। — ইমাম গাজ্জালী

মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা আল্লাহর তাসবিহ বা প্রশংসা পাঠ করে, যদিও আমরা তাদের ভাষা বুঝি না। — আল-কুরআন (সূরা ইসরা)

মানুষ নিজের সৃষ্টির দিকে তাকালেই স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়ে যায়, অন্য কোথাও খোঁজার প্রয়োজন হয় না। — হযরত আলী (রাঃ)

সাগরের ঢেউ আর পাহাড়ের বিশালতা—সবই মহান রবের কুদরতের নীরব সাক্ষী। — শেখ সাদী

যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন; দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোনো খুঁত দেখতে পাবে না। — আল-কুরআন (সূরা মুলক)

আল্লাহ পানি থেকে প্রতিটি প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, তবুও মানুষ অকৃতজ্ঞ থাকে এবং তাঁকে ভুলে যায়। — আল-কুরআন (সূরা আম্বিয়া)

গাছের প্রতিটি পাতা ঝরার পেছনেও আল্লাহর হুকুম থাকে, তাঁর জ্ঞানের বাইরে কিছুই ঘটে না। — আল-কুরআন (সূরা আনআম)

প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য হলো আল্লাহর জামালের বা সৌন্দর্যের এক ঝলক মাত্র। — মাওলানা রুমি

সূর্য ও চাঁদ নির্দিষ্ট হিসাব মেনে চলে, যা মহান রবের অসীম নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ। — আল-কুরআন (সূরা আর-রহমান)

সৃষ্টির রহস্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করাও নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম হতে পারে। — ইমাম ইবনে কাইয়িম

মায়ের গর্ভে মানুষকে তিনি যেভাবে আকৃতি দেন, তা ভাবলে সিজদায় মাথা নত হয়ে আসে। — হযরত উমর (রাঃ)

রংবেরঙের ফুল আর ফলের স্বাদ প্রমাণ করে, তিনি আমাদের জন্য কত বড় দয়ালু। — ইসলামিক চিন্তাবিদ

এই বিশাল আকাশ কোনো খুঁটি ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে, যা মহান আল্লাহর ক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। — তাফসিরে ইবনে কাসীর

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ফেসবুক পোস্ট

রাতের আকাশের দিকে তাকালে নিজেকে বড্ড তুচ্ছ লাগে। কোটি কোটি নক্ষত্রের মাঝে পৃথিবীটা একটা বিন্দুর মতো। আর সেই বিন্দুর ভেতর আমি বা আপনি কতটুকু? এই বিশাল মহাবিশ্ব যিনি নিখুঁতভাবে পরিচালনা করছেন, তাঁর ক্ষমতার পরিধি আমাদের চিন্তার বাইরে। এত বড় কারিগরের সামনে মাথা নত না করে উপায় আছে?

শুকনো কাঠ থেকে সবুজ পাতা বের করা কোনো সাধারণ জাদুকরের কাজ না। মৃত জমিনকে যিনি বৃষ্টির ফোঁটায় জীবিত করেন, তিনিই আমাদের মৃত্যুর পর আবার ওঠাবেন। প্রকৃতির প্রতিটি পরতে পরতে তাঁর ইশারা লুকিয়ে আছে। আমরা চোখ মেলে দেখি না বলেই তাঁর কুদরত বুঝতে পারি না। অন্ধের মতো চলাফেরা না করে একটু তাকালেই রবের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়।

মায়ের পেটে অন্ধকারে একটা রক্তপিণ্ড থেকে সুন্দর মানুষ গড়ে তোলার কারিগরি কোনো ল্যাবে সম্ভব না। চোখ, নাক, হাত—সব মাপমতো বসানো। এমন ডিজাইনারের প্রশংসা না করে থাকা যায় না। নিজের শরীরের দিকে তাকালেই তো ঈমান বেড়ে যাওয়ার কথা। আমরা নিজেদের নিয়েই ভাবি না, আর আকাশ পাতাল নিয়ে ভাবব কখন?

মৌমাছিকে কে শিখিয়ে দিল চাক বানাতে? বা পাখিকে কে বলল শীতের আগে দেশান্তরী হতে? কোনো স্কুল-কলেজে ওরা পড়েনি, তবুও ওদের জীবনযাত্রা নিখুঁত। সবই সেই মহান রবের প্রোগ্রামিং। সৃষ্টির এই শৃঙ্খলা দেখলে নাস্তিকও থমকে যেতে বাধ্য। সব কিছুর পেছনে একজন পরিচালক আছেন, এটা সাধারণ বুদ্ধিই বলে দেয়।

আল্লাহর সৃষ্টি জগত ও বিজ্ঞানের বিস্ময়কর মিল নিয়ে পোস্ট

বিজ্ঞান আজ বলছে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে, অথচ চৌদ্দশ বছর আগের কিতাবে এই কথা স্পষ্ট লেখা আছে। টেলিস্কোপ আবিষ্কারের বহু আগেই যিনি মহাকাশের এই খবর দিয়েছেন, তিনি যে মহাবিশ্বের স্রষ্টা—তাতে কোনো সন্দেহ থাকে না। বিজ্ঞান যত এগোচ্ছে, কোরআনের সত্যতা তত বেশি পরিষ্কার হচ্ছে।

পাহাড়গুলো যে পেরেকের মতো পৃথিবীকে স্থির রেখেছে, জিওলজি পড়ার আগে জানতাম না। অথচ কোরআন এই তথ্য বহু আগেই জানিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই, বরং বিজ্ঞান হলো আল্লাহর সৃষ্টির ব্যাখ্যামাত্র। যারা বলে বিজ্ঞান আর ধর্ম আলাদা, তারা হয়তো কোনো একটা ঠিকমতো বোঝেনি।

লোহার মতো শক্ত ধাতু আকাশ থেকে নাজিল হয়েছে—একথা শুনলে আগে মানুষ অবাক হতো। আজ আধুনিক বিজ্ঞান মানছে যে লোহা পৃথিবীর নিজস্ব উপাদান না, ওটা মহাকাশ থেকে উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে এসেছে। রবের কথার সত্যতা যাচাই করার জন্য ল্যাবরেটরির দরকার হয় না, দরকার হয় খোলা মনের।

দুই সাগরের পানি পাশাপাশি থেকেও মিশে যায় না—এই দৃশ্য নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। মাঝখানে অদৃশ্য এক পর্দা দিয়ে যিনি লোনা আর মিঠা পানি আলাদা রেখেছেন, তাঁর কুদরত বোঝা মানুষের সাধ্যের বাইরে। ওশেনোগ্রাফি আজ যা আবিষ্কার করছে, তা তো মুমিনের কাছে পুরোনো খবর।

কেন আমাদের আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করা উচিত? – সচেতনতামূলক পোস্ট

ছবি দেখে যেমন শিল্পীকে চেনা যায়, সৃষ্টি দেখেই স্রষ্টাকে চিনতে হয়। আল্লাহ বারবার বলেছেন—”তোমরা কি উটের দিকে তাকাও না? আকাশের দিকে তাকাও না?” চিন্তা না করলে ঈমানের গভীরতা বাড়ে। অন্ধভাবে বিশ্বাস করার চেয়ে বুঝে শুনে বিশ্বাস করা অনেক বেশি শক্তিশালী। চিন্তা করলেই তো রবের পরিচয় পাওয়া যায়।

আমরা খাই, দাই, ঘুমাই—পশুর মতো জীবন কাটানো আমাদের কাজ না। আল্লাহ আমাদের বিবেক দিয়েছেন তাঁর সৃষ্টি নিয়ে ভাবার জন্য। একটা ফুলের গঠন বা একটা পাতার শিরা-উপশিরা নিয়ে ভাবলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। এই ভাবনাগুলোই ইবাদত। গবেষণার মাধ্যমে রবের কাছে যাওয়া যত সহজ, অন্য কোনো উপায়ে ততটা না।

গাছ থেকে ফলটা ছিঁড়ে খাওয়ার সময় কি কখনো ভেবেছি, এর ভেতরে মিষ্টি রসটা ঢুকল কীভাবে? মাটি তো মিষ্টি না, পানিও মিষ্টি না। তবে ফলের ভেতর এই স্বাদ এল কোত্থেকে? এসব নিয়ে ভাবলেই মस्तक অবনত হয়ে আসে। গাফিলতি ছেড়ে সৃষ্টির রহস্য নিয়ে ভাবা শুরু করুন, দেখবেন জীবনটা অন্যরকম লাগছে।

প্রতিদিন সূর্যটা ঠিক সময়ে ওঠে, আবার ডুবে যায়। পৃথিবীটা নিজ অক্ষে ঘুরছে সেকেন্ডের কাঁটা মেনে। কোথাও কোনো গরমিল নেই। এই বিশাল সিস্টেম যিনি অটোমেটেড করে রেখেছেন, তাঁকে না চিনে কবরে যাওয়াটা বোকামি। চিন্তাশীলদের জন্য প্রতিটি ধূলিকণায় নিদর্শন আছে।

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ছন্দ

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা
আল্লাহ তোমার অপরূপ এই খেলা।

পাহাড় নদী সাগর ঝরনা ধারা
তোমার হুকুমে চলে সব গ্রহ তারা।

পাখির গানে ভোরের আলো ফোটে
তোমার দয়ায় সবার রিজিক জোটে।

রঙিন ফুলের পাপড়ি মেলে ধরা
তোমার সৃষ্টি দিয়েই ভুবন ভরা।

সূর্য মামা পুব আকাশে হাসে
তোমার নূরেই জগত ভালোবাসে।

চাঁদ তারাদের ঝিকিমিকি সাজ
তোমার ইশারায় চলে মহাজাগতিক কাজ।

মাটির মানুষ গড়লে তুমি ভাই
তোমার তুল্য শিল্পী ভবে নাই।

সবুজ ঘাসে শিশির কণা জ্বলে
বাতাস এসে তোমার কথাই বলে।

ঋতুর বদল শীত বসন্ত কাল
তোমার হাতেই বিশ্ব চরাচর হাল।

নদীর স্রোতে কলকলিয়ে গান
সৃষ্টি তোমার জুড়ায় সবার প্রাণ।

মহাসাগর বিশাল অতল জল
তোমার সৃষ্টি সত্যিই অবিচল।

গাছের ডালে ফলের সমারোহ
তোমার দানেই মেটে ক্ষুধার মোহ।

ক্ষুদ্র পোকা কিংবা বিশাল হাতি
সবার রিজিক দাও যে তুমি দিবা রাতি।

রংধনুটা সাতটি রঙে আঁকা
তোমার সৃষ্টি বিস্ময়েতে মাখা।

এই দুনিয়ার যা কিছু সুন্দর
সবই তোমার নিপুণ কারিগর।

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে কবিতা

নীল সামিয়ানায় তারা জ্বলে মিটিমিটি,
কার ইশারায় ঘোরে গ্রহ, মেলে আলোর চিঠি?
নিপুণ হাতে আঁকা এই বিশাল মহাকাশ,
স্রষ্টার মহিমায় নত হয় সব বিশ্বাস।

মাটির বুকে রঙ ছড়িয়ে ফোটাও হাজার ফুল,
তোমার দয়ায় প্রাণে বাঁচে নদীর দুই কূল;
সবুজের সমারোহে দেখি তোমার কারুকাজ,
প্রকৃতিও সিজদা করে, পরে বিনয়ের সাজ।

পাহাড়গুলো পেরেক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঠায়,
কার শক্তিতে ওরা এমন আকাশ ছুঁতে চায়?
ঝরনাধারা বয়ে চলে অবিরাম কলতানে,
তোমার গুণগান গায় ওরা প্রতিপলে, গানে।

মায়ের পেটে অন্ধকারে কে দেয় আহার মুখে?
রক্তমাংসের দলাটাকে কে রাখে পরম সুখে?
শ্বাস-প্রশ্বাসের এই খেলা, নিখুঁত এক যন্ত্র,
তোমার দয়ায় চলে সব, তুমিই মূল মন্ত্র।

সূর্যটা রোজ নিয়ম মেনে পুব আকাশে জাগে,
তোমার হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও কি আর নড়ে?
অন্ধকার চিরে আলো ফোটে, পাখি গায় গান,
সব সৃষ্টি এক সুরে গায় তোমারই জয়গান।

সাগরের অতল তলে কত বিচিত্র প্রাণ,
তোমার দয়ায় তারাও পায় বাঁচার সন্ধান;
ঢেউয়ের গর্জনে শুনি তোমার ক্ষমতার সুর,
তোমার রাজত্ব প্রভু অসীম, বহুদূর।

মৌমাছিরা কেমন করে বানায় মধুর চাক?
তোমার শেখানো পথেই ওরা পায় পথের বাঁক;
ক্ষুদ্র ওই পতঙ্গেও দেখি অসাধ্য সাধন,
তোমার সৃষ্টিজুড়ে আছে এক অদ্ভুত বাঁধন।

শুকনো কাঠে আগুন জ্বলে, আবার ফলে প্রাণ,
ঋতুর রঙ্গে বিশ্ব সাজে, গায় নতুনের গান;
বৃষ্টি হয়ে ঝরো তুমি তপ্ত মাটির বুকে,
তোমার রহমত ছাড়া কে বা থাকে সুখে?

নিজের দিকে তাকালে পাই হাজারো বিস্ময়,
শিরায় শিরায় বইছে রক্ত, নেই কোনো সংশয়;
এই যে চোখ, এই যে হাত, সবই তোমার দান,
শুকরিয়া জানাই প্রভু, জুড়াও এই পরান।

আল্লাহর সৃষ্টি ও কিছু কথা

মহাকাশের অগণিত নক্ষত্রের দিকে তাকালে বোঝা যায়, কারিগরের নিপুণতা কতটা অসীম ও নিখুঁত।

সাগরের তলদেশে লুকিয়ে থাকা বিচিত্র প্রাণীদের জগত দেখে সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার সামনে মাথা নত হয়ে আসে।

পাহাড়ের বিশালতা মানুষের অহংকার চূর্ণ করে মাটির দিকে তাকাতে শেখায়।

সামান্য বীজের ভেতর বিশাল বটগাছের নকশা যিনি লুকিয়ে রাখেন, তিনিই তো আসল শিল্পী।

ঋতু পরিবর্তনের সাথে প্রকৃতির রূপ বদলানো একমাত্র তাঁর ইশারায় সম্ভব, মানুষের সেখানে হাত নেই।

মানুষের আঙুলের ছাপ দেখলেই বোঝা যায়, প্রতিটি সৃষ্টিকে তিনি কতটা স্বতন্ত্র ও আলাদা করে বানিয়েছেন।

মায়ের পেটে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে সন্তানের খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা দেখে বিজ্ঞানও থমকে দাঁড়ায়।

সূর্য প্রতিদিন সঠিক সময়ে উদিত হয়ে তাঁর শৃঙ্খলার প্রমাণ দিয়ে যায় নীরবে।

নদীর চলার পথের বাঁকে বাঁকে স্রষ্টার সৃষ্টির রহস্য লুকিয়ে আছে, যা ভাবুক মনকে নাড়া দেয়।

রংধনুর সাত রঙে আকাশ সাজিয়ে তিনি আমাদের মনের খোরাক যোগান নিঃস্বার্থভাবে।

মরুভূমির বুকে যেখানে জল নেই, সেখানেও তিনি প্রাণের সঞ্চার করে রেখেছেন অদ্ভুত কৌশলে।

পিপীলিকার মতো ক্ষুদ্র প্রাণীও তাঁর রিজিক থেকে বঞ্চিত হয় না, এটাই তাঁর দয়া।

বাতাসের অদৃশ্য শক্তি বুঝিয়ে দেয়, সবকিছু চোখে না দেখলেও বিশ্বাস করতে হয়।

সৃষ্টির সেবাই স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম, যা অনেকেই ভুলে যায়।

মহাবিশ্বের সবকিছু এক সুরে তাঁর গুণগান গায়, শোনার মতো কান থাকলে তা শোনা যায়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *