অন্নপ্রাশনের শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ: সেরা ২৩৬+ স্ট্যাটাস আইডিয়া

শিশুর জীবনে প্রথম শক্ত খাবার মুখে তোলার দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি আবেগের। আমাদের এই বিশাল আয়োজনটি সাজানো হয়েছে সেই ছোট্ট সোনামণির জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করার মুহূর্তকে ঘিরে। আত্মীয়-স্বজন হিসেবে আপনার আশীর্বাদ আর ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই সম্ভারটি অনন্য।

অন্নপ্রাশনের স্ট্যাটাস আইডিয়া

আমাদের রাজপুত্রের জীবনে আজ এক বিশেষ অধ্যায়ের সূচনা হলো।

অন্নপ্রাশনের এই পবিত্র লগ্নে সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কাম্য।

ছোট্ট মুখে ভাতের স্বাদ, আহা কি অপরূপ দৃশ্য!

পরিবারের খুদে সদস্যের আজকের দিনটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকুক।

আজকের এই শুভক্ষণে সোনামণি সবার ভালোবাসায় সিক্ত হোক।

উৎসবের রঙে সেজেছে বাড়ি, আজ আমাদের খুশির জোয়ার।

বড় হওয়ার প্রথম ধাপে পা রাখল আমাদের আদরের ধন।

শিশুর প্রথম অন্নগ্রহণ বা মুখে ভাত অনুষ্ঠানের স্ট্যাটাস

পৃথিবীর অন্নে তোমায় স্বাগত, ছোট্ট সোনামণি।

মায়ের কোল ছেড়ে আজ জাগতিক খাবারে হাতেখড়ি হলো।

কাঁসার থালায় পঞ্চব্যঞ্জন, আর ছোট্ট হাতে প্রথম গ্রাস।

অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ ঝরে পড়ুক তোমার মস্তকে আজীবন।

প্রথমবার ভাতের দানা মুখে দেওয়ার এই ক্ষণটি অমলিন হয়ে রবে।

আজকের এই প্রথম আহার তোমাকে আজীবন শক্তি জোগাক।

মুখে ভাতের এই লগ্ন আমাদের পরিবারের এক অনন্য প্রাপ্তি।

মামার হাতে ভাগনের প্রথম ভাত খাওয়া নিয়ে স্ট্যাটাস

মামার কোলে বসেই ভাগ্নের জীবনের প্রথম রাজভোগ।

মামা-ভাগ্নের এই জুটিই আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ।

ভাগ্নের মুখে প্রথম অন্ন তুলে দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হলো।

স্নেহের পরশ আর মামার হাতের খাবার—সেরা কম্বিনেশন।

মামার হাতের অমৃতসম ভাতেই জীবন শুরু হোক।

আজ আমি গর্বিত মামা, ভাগ্নেকে ভাতের স্বাদ দিতে পেরে।

এই পবিত্র দিনে আমাদের রক্তের টান আরও গভীর হলো।

সোনার চামচ আর রুপোর বাটিতে অন্নপ্রাশনের স্ট্যাটাস

সোনার চামচে প্রথম আহার, জীবন হোক সোনার মতোই দীপ্তিময়।

রুপোর বাটির পায়েসের মতোই মিষ্টি ও শুভ্র হোক ভবিষ্যৎ।

রাজকীয় আয়োজনে বরণ করে নিলাম আমাদের রাজপুত্রকে।

দুধে-ভাতে থাকার আশীর্বাদ নিয়েই শুরু হোক আগামীর পথচলা।

আভিজাত্য আর ঐতিহ্যের মিশেলে আজকের এই শুভ দিন।

ছোট্ট হাতে সোনার চামচ, দৃশ্যটা বড্ড মায়াবী ও সুন্দর।

প্রাচুর্য আর সমৃদ্ধি যেন ছায়ার মতো তোমাকে ঘিরে থাকে।

ছোট্ট সোনামণির অন্নপ্রাশন উপলক্ষে আনন্দঘন স্ট্যাটাস

চন্দন ফোঁটায় কি অদ্ভুত মায়াবী লাগছে আমাদের সোনাকে!

শাঁখ আর উলুধ্বনিতে মুখরিত আজকের এই আনন্দ প্রাঙ্গণ।

ছোট্ট ধুতি-পাঞ্জাবিতে বরের সাজে সেজেছে আমাদের খোকা।

বেনারসি শাড়িতে ছোট্ট রানিকে দেখে চোখ ফেরানো দায়।

আজকের অনুষ্ঠানের সব আলো কেড়ে নিয়েছে আমাদের এই ছোট্ট সদস্য।

উৎসবের আমেজ আর সোনামণির ফিক করে হাসি—দিনটা পরিপূর্ণ।

সবার চোখের মণি হয়ে থেকো, এটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া।

অন্নপ্রাশন ক্যাপশন

ছোট্ট সোনা আজ প্রথম ভাতের স্বাদ গ্রহণ করল, সবাই আশীর্বাদ করবেন।

মামার হাতে প্রথম ভাত, ভাগ্নের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা।

পায়েস মুখে দেওয়ার পর বাচ্চার ওই অবাক চাউনি দেখার মতো সুন্দর।

আমাদের পরিবারের খুদে সদস্যের আজ মুখে ভাতের দিন, খুশির অন্ত নেই।

সোনার চামচে করে প্রথম অন্ন মুখে দেওয়ার মুহূর্তটা ফ্রেমে বন্দি করলাম।

কান্না আর হাসির সংমিশ্রণে আজকের এই শুভ অন্নপ্রাশন সম্পন্ন হলো।

বড়দের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে আমাদের রাজপুত্র অনেক বড় হোক।

আজকের দিনে ছোট্ট মানুষটার জন্য রইল অফুরন্ত ভালোবাসা আর দোয়া।

পায়েসের বাটি সাজিয়ে বসে আছি, কখন আমার সোনাপাখি খাবে।

অন্নপ্রাশনের এই শুভ দিনে সকলের মনভরা দোয়া কামনা করি।

ছোট্ট মুখে ভাতের দানা, আজ থেকে শুরু হলো জীবনের নতুন পাঠ।

লাল বেনারসি বা ধুতি পরে খুদে বাবু আজ বড্ড সেজেছে।

উলুধ্বনি আর শাঁখের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠল আজকের অন্নপ্রাশন।

মামা-ভাগ্নে বা দাদু-নাতির অন্নপ্রাশন মোমেন্ট ক্যাপশন

দাদুর কোলে বসে প্রথম ভাত খাওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম মায়াবী।

মামা ভাগ্নের এই মিষ্টি মুহূর্তটা আমাদের অ্যালবামে আজীবন স্মৃতি হয়ে থাকবে।

দাদুর আশীর্বাদ আর নাতির হাসি, এক ফ্রেমে দুই প্রজন্মের গভীর ভালোবাসা।

মামার হাতে ভাত খেয়ে ভাগ্নে আজ বড্ড খুশি, চোখমুখ উজ্জ্বল।

দাদু আর নাতির এই খুনসুটি দেখার জন্যই তো বেঁচে থাকা সার্থক।

মামা ভাগ্নের জুটিটা আজকের অনুষ্ঠানে সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিল।

দাদুর কোলে চড়ে অন্নপ্রাশনের স্বাদ নেওয়ার মজাই আলাদা।

মামার কোলে বসে চুপচাপ ভাত খাওয়ার দৃশ্যটা বড্ড বেশি আদুরে।

বংশের প্রদীপ আজ দাদুর কোলে, আশীর্বাদের হাত মাথায়।

মামা আর ভাগ্নের এই পবিত্র বন্ধন চিরকাল অটুট থাকুক।

দাদুর আদরে মাখানো পায়েস খাওয়ার সময় বাচ্চাটাও কেমন শান্ত।

দুই প্রজন্মের এই মিলনমেলা দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল, মন ভরল।

মামার কোলে ওঠার জন্য ভাগ্নের সেকি আকুতি, না দেখলে বিশ্বাস হবে না।

প্রথমবার শক্ত খাবার মুখে দেওয়া নিয়ে ক্যাপশন

দুধের স্বাদ ভুলে আজ প্রথম অন্য কিছু মুখে দিল আমাদের সোনা।

জিহ্বায় নতুন স্বাদের স্পর্শ পেয়ে বাচ্চার মুখ ভ্যাটকানোটা দারুণ উপভোগ্য।

মিষ্টি পায়েস মুখে দিতেই বাচ্চার চোখের মণি বড় হয়ে গেল বিস্ময়ে।

প্রথমবার শক্ত খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতাটা ওর জন্য সত্যিই চমকপ্রদ।

স্বাদের ভিন্নতা পেয়ে ছোট্ট মানুষটা বেশ অবাক হয়েছে বোঝা যাচ্ছে।

মুখের ভঙ্গি দেখেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে নতুন খাবারটা কেমন লেগেছে।

প্রথম গ্রাস মুখে নেওয়ার পর বাচ্চার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য সবাই ব্যস্ত।

খাবারের স্বাদ বুঝে উঠতে পারছে না, তাই ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে।

নতুনের স্বাদ নিতে গিয়ে বাচ্চার মুখভঙ্গি আমাদের সবাইকে হাসিয়ে দিল।

আজ থেকে শুরু হলো নতুন সব খাবারের সাথে ওর পরিচিতি।

মিষ্টি স্বাদটা মনে হয় ওর বেশ পছন্দ হয়েছে, মিটমিট করে হাসছে।

প্রথমবার ভাতের দানা মুখে পড়ার বিস্ময় ও প্রকাশ করতে পারছে না।

অবাক চোখে তাকিয়ে আছে, ভাবছে এটা আবার কী খাওয়াচ্ছে আমাকে!

অন্নপ্রাশনের আশীর্বাদ ও উক্তি

আজ তোমার মুখে প্রথম অন্ন তুলে দেওয়ার দিন, প্রার্থনা করি তোমার জীবন ধনে-ধান্যে ভরে উঠুক।
শুভাকাঙ্ক্ষী

অন্নপ্রাশনের এই পবিত্র লগ্নে ঈশ্বরের কাছে একটাই চাওয়া, তুমি মানুষের মতো মানুষ হও।
দোয়া ও আশীর্বাদ

ছোট্ট সোনার মুখে ভাতের স্বাদ লাগুক অমৃতের মতো, জীবনটা হোক ফুলের মতো সুন্দর।
বড়দের আশীর্বাদ

আজকের এই শুভ দিনে তোমার আগামীর পথচলা মসৃণ হোক, সব বাধা দূর হয়ে যাক।
আত্মীয়-স্বজন

পায়েসের মিষ্টতা তোমার জীবনে ছড়িয়ে পড়ুক, তুমি সবার চোখের মণি হয়ে থেকো।
স্নেহাশীষ

অন্নপ্রাশন হলো জীবনের এক নতুন অধ্যায়, যেখানে তুমি পৃথিবীর স্বাদ গ্রহণ করতে শিখলে।
শুভকামনা

তোমার হাসিতে যেন সব সময় চাঁদের আলো লেগে থাকে, আর স্বাস্থ্যে থাকে সূর্যের তেজ।
পারিবারিক দোয়া

মা-বাবার কোল আলো করে থাকা শিশুটি আজ প্রথম অন্ন গ্রহণ করছে, এ এক আনন্দের মুহূর্ত।
প্রতিবেশী ও স্বজন

সরস্বতীর জ্ঞান আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার—দুটোই তোমার জীবনে পূর্ণতা পাক।
সনাতন আশীর্বাদ

মুখে ভাত দেওয়ার এই অনুষ্ঠানে সবাই তোমাকে মঙ্গলে ঘিরে রাখুক, এই কামনাই করি।
গুরুজন

তোমার কচি হাতে আগামীর মশাল জ্বলে উঠুক, তুমি হও সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক।
দাদু-দিদা

আজকের দিনে তোমার মাথায় হাত রেখে বলছি, তুমি অনেক বড় হও, অনেক দূর যাও।
মামা-মাসি

প্রথম অন্ন গ্রহণের মধ্য দিয়ে তোমার শরীর ও মন সুস্থভাবে বেড়ে উঠুক।
শুভ জন্মদিন ও অন্নপ্রাশন

ঈশ্বরের কৃপায় তোমার জীবন হোক রোগমুক্ত এবং শান্তিময়।
প্রার্থনা

পৃথিবীর সবটুকু ভালোবাসা আর আদর দিয়ে তোমাকে বরণ করে নিলাম, সোনা।
বাবা-মা

অন্নপ্রাশনের ফেসবুক পোস্ট

মায়ের বুকের দুধ ছেড়ে আজ প্রথমবারের মতো শক্ত খাবারে অভ্যস্ত হওয়ার পালা। ছোট্ট সোনাটা আজ মামার কোলে বসে মুখে ভাত তুলবে, ভাবতেই বুকের ভেতরটা আনন্দে নেচে উঠছে। এই তো সেদিন কোলজুড়ে এল, আর চোখের পলকে আজ তার অন্নপ্রাশন। সময় বড্ড দ্রুত গড়ায়। বড়দের আশীর্বাদ আর সবার ভালোবাসায় আমাদের রাজপুত্র/রাজকন্যা অনেক বড় হোক, মানুষের মতো মানুষ হোক—আজকের দিনে এটাই একমাত্র চাওয়া।

কাঁসার থালায় সাজানো পঞ্চব্যঞ্জন, পায়েস আর মিষ্টি—সবই আজ আমার কলিজার টুকরাটার জন্য। যদিও ও এখন এসবের স্বাদ বুঝবে না, কিন্তু এই আয়োজনের স্মৃতিটা আজীবন অ্যালবামে বন্দি থাকবে। মামা যখন ওর মুখে ভাতের দানা তুলে দেবে, তখন এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হবে। আমার ছোট্ট পাখিটা ডানা মেলছে, ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজারো শুকরিয়া এমন একটা দিন দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

অন্নপ্রাশন মানেই তো শিশুর জীবনে এক বড় মাইলফলক। দুধের শিশু থেকে ভাতের শিশুতে পরিণত হওয়ার দিন আজ। লাল চেলী আর চন্দনের ফোঁটায় ওকে দেখতে ঠিক যেন কোনো রূপকথার রাজ্যের রাজকুমার/রাজকুমারী লাগছে। সবার কাছে দোয়া চাই, ও যেন সুস্থ শরীরে আর সুন্দর মন নিয়ে বেড়ে ওঠে। আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তে আপনাদের সবাইকে পাশে পেয়ে আমরা ধন্য।

বাচ্চারা বড় হলে নাকি ছোটবেলার কথা ভুলে যায়। কিন্তু আমরা ভুলব না। আজকের এই কাঁসার বাটি, চামচ আর ধান-দুর্বা দিয়ে বরণ করার দৃশ্যগুলো স্মৃতির মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দেব। ও যখন বড় হয়ে এই ছবিগুলো দেখবে, তখন বুঝবে ওকে ঘিরে আমাদের স্বপ্ন আর আয়োজন কতটা বিশাল ছিল। সোনা আমার, তোর আগামীর পথচলা মসৃণ হোক।

আজ বাড়িতে উৎসবের আমেজ, বাতাসে পায়েসের ঘ্রাণ। ছোট্ট মানুষটা আজ মধ্যমণি। সবাই ওকে কোলে নেওয়ার জন্য কাড়াকাড়ি করছে। ও ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ভাবছে—এত আয়োজন কিসের জন্য? ও না বুঝলেও আমরা বুঝি, আজকের দিনটা আমাদের কাছে ঈদের চেয়েও বেশি আনন্দের। রবের দরবারে হাত তুলে দোয়া করি, ওর কপালে যেন সব সময় সুখ লেখা থাকে।

অন্নপ্রাশনের ছন্দ

মামার হাতে প্রথম ভাত মুখে দিল সোনা
আশীর্বাদে ভরে উঠুক জীবনের এই কোনা।

কাঁসার থালায় পায়েস সাজায় দিদিমা আর মাসি
ছোট্ট মুখে প্রথম গ্রাস বড্ড ভালোবাসি।

অন্নপ্রাশনে চারিদিকে খুশির রমরমা
নতুন জামায় খোকা সাজে যাচ্ছে না তো থামা।

চন্দন ফোঁটা কপালেতে সোনার হারটি গলে
দাদু দিদা আদর করে কত কথাই বলে।

ঢাকের তালে শাঁখ বাজে উলুধ্বনি ঘরে
আজকের দিনে ছোট্ট মণি সবার মন হরে।

মাছের মুড়ো সাজিয়ে দিল সামনে দিল দই
খোকা বলে এসব ছেড়ে মায়ের কোলে রই।

মামা ভাগ্নে জুটি সেরা খাওয়ায় মুখে তুলে
আশীর্বাদের প্রদীপ জ্বলে সব দুঃখ ভুলে।

রৌপ্য থালায় সাজানো ভাত সঙ্গে পঞ্চ পদ
আজকের দিনেই শুরু হলো অন্নপানের পথ।

উপহারের পাহাড় জমে খোকন তাকায় চেয়ে
কার কোলেতে যাবে সে আজ ভাবছে মনে যেয়ে।

পায়েস খেতে গিয়ে গালে মাখলো সাদা দাগ
খিলখিলিয়ে হাসছে সবাই নেই তো কারো রাগ।

সোনার চামচ রূপোর বাটি সাজানো পরিপাটি
অন্ন মুখে দিল আজ ঘরের লক্ষ্মীটি।

শাঁখা পলার শব্দে ভাসে অন্নপ্রাশন গান
ছোট্ট শিশুর তরে আজ সবার আকুল প্রাণ।

প্রথম পাতে তিতো দিল শেষে দিল মিষ্টি
খোকন সোনা সবার দিকে ফেলছে অবাক দৃষ্টি।

ধুতি পাঞ্জাবিতে বাবু সেজেছে বর বেশে
অন্ন মুখে দেয় সে আজ হাসি মুখে এসে।

বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ যেন হয়
অন্নপ্রাশনে সবার মনে এই দোয়াটাই রয়।

অন্নপ্রাশনের কবিতা

মামার কোলে বসে আজ খাবে প্রথম ভাত,
সোনার চামচ মুখে দিয়ে বাড়বে জশ-খ্যাত;
উলুধ্বনি আর শঙ্খের সুরে মুখর আঙিনা,
ছোট্ট মণির অন্নপ্রাশনে খুশির নেই কোনো মানা।

সামনে সাজানো থালায় আছে বই, খাতা আর ধান,
কোনটা ছোঁবে ছোট্ট সোনা? কিসে জুড়াবে প্রাণ?
কলম ধরে বিদ্বান হবে, নাকি মাটির টানে চাষী?
যাই হোক না সে, মুখে থাকুক ভুবন ভোলা হাসি।

দুধের স্বাদ ভুলে এবার অন্নে হবে রুচি,
পঞ্চব্যঞ্জন সাজিয়ে দিল দিদা আর খুড়ি-মাসি;
চন্দনের ফোঁটা কপালে, গায়ে রেশমি সুতোর কাজ,
অন্নপ্রাশনের লগ্নে দেখো সেজেছে সে মহারাজ।

মায়ের হাতের অমৃত স্বাদ এতদিন ছিল সাথী,
আজ থেকে তার পাতে পড়বে জীবনের নতুন ভাতি;
বড়দের আশীর্বাদে পূর্ণ হোক আগামীর ঝুলি,
পায়েস মুখে দিয়ে আজ সে ভুলুক সব কান্নাগুলি।

ক্ষীরের বাটি, রূপোর ঝিনুক, সাজানো পরিপাটি,
সোনামণি আজ পেরোলো দেখো শৈশবের এক ঘাঁটি;
অন্নপূর্ণার দয়া মাগি আজকের এই শুভ দিনে,
জীবন যুদ্ধে মানুষ হয়ে সে যেন রয় আপন চিনে।

ঝাল-মিষ্টির স্বাদ বুঝবে এবার ছোট্ট নরম জিভ,
সংসারের এই রঙ্গমঞ্চে সেও এক নতুন সজীব;
আজকের এই মুখে ভাতে জুটুক সবার দোয়া,
মসৃণ হোক চলার পথ, কাটুক সকল ধোঁয়া।

চাঁদের কণা নেমে এসেছে মর্ত্যের এই ধুলোয়,
পায়েস মেখে মুখটি তার ভরেছে আজ তুলোয়;
হাসিখুশিতে কাটুক জীবন, দুঃখ না পাক লেশ,
অন্নপ্রাশনের স্মৃতিটুকু হৃদয়ে থাকুক অবশেষে।

ঠাকুরমার কোলে বসে রাজটিকা কপালে,
অন্নপ্রাশনের গানে আজ সবাই নাচে তালে;
দুধের শিশু ভাতের গন্ধে করলো বাজিমাত,
আয়রে সবাই, দেখরে ওরে, বাড়া স্নেহের হাত।

আজকে প্রাতে সূর্য মামা দিয়েছে উঁকি দ্বারে,
আশীর্বাদ নিতে এসেছে সবাই, ভালোবাসে যারে;
অন্ন মুখে দিয়ে শুরু হলো জীবনের পাঠশালা,
সার্থক হোক মানুষের মতো মানুষ হওয়ার পালা।

অন্নপ্রাশন ও কিছু কথা

মায়ের দুধের স্বাদ বদলে পৃথিবীর অন্নের স্বাদের সাথে পরিচয়ের প্রথম লগ্ন আজ।

কাঁসার বাটিতে রাখা পায়েসটুকু মুখে তুলে দেওয়ার মাধ্যমেই শিশু তার সামাজিক জীবনের প্রথম পাঠ শুরু করে।

মামার কোলে বসে প্রথম অন্ন গ্রহণ—এ এক চিরন্তন বাঙালি প্রথা, যা আত্মীয়তার শিকড় মজবুত করে।

উলুধ্বনি আর শঙ্খের আওয়াজ জানান দেয়, ছোট্ট মানুষটি এখন বড়দের দলে নাম লেখাতে চলেছে।

সামনে রাখা বই, কলম আর ধানের শীষ—ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো যেন ওখানেই সাজানো থাকে অনাড়ম্বরভাবে।

সোনা-রুপোর চামচে অমৃতের স্বাদ নেওয়ার এই ক্ষণটি আজীবন অ্যালবামের পাতায় রঙিন হয়ে থাকে।

বড়দের আশীর্বাদের হাত যখন মাথায় স্পর্শ করে, তখন সব অশুভ শক্তি দূরে পালাতে বাধ্য হয়।

ছোট্ট হাতে খামচে ধরা ভাত বুঝিয়ে দেয়, জীবন যুদ্ধের রসদ সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলায় শিশুটি বুঝতে শেখে, সে একা না, তার পেছনে এক বিশাল পরিবার আছে।

নতুন ধুতি-পাঞ্জাবি বা বেনারসিতে সাজা শিশুটিকে দেখে মনে হয় স্বয়ং গোপাল বা লক্ষ্মী ঘরে এসেছে।

অনুষ্ঠান নাম হলেও, এর আসল উদ্দেশ্য হলো সবার ভালোবাসার চাদরে শিশুটিকে মুড়িয়ে দেওয়া।

জিহ্বায় প্রথম ভাতের স্বাদ লাগার মুহূর্তটা মায়ের কাছে সন্তানের বেড়ে ওঠার এক আনন্দঘন বার্তা।

আশীর্বাদের ধান-দুর্বা মাথায় নিয়ে আগামী দিনের পথচলা মসৃণ করার প্রার্থনা করা হয় আজ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *