গায়ে হলুদের ক্যাপশন: সেরা ২৮৭+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
বিয়ের উৎসবের সবচেয়ে রঙিন ও প্রাণবন্ত অধ্যায় হলো গায়ে হলুদ। কাঁচা হলুদের স্নিগ্ধতা আর আত্মীয়-স্বজনের হাসিখুশিতে ভরপুর এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আমাদের এই বিশাল আয়োজন। আপনার অ্যালবামের ছবিগুলোর সাথে যুতসই কথা জুড়ে দিতে এবং উৎসবের রং ছড়িয়ে দিতে এই কালেকশনটি দারুণ সাহায্য করবে।
গায়ে হলুদের স্ট্যাটাস আইডিয়া
কাঁচা হলুদের রঙে রঙিন হওয়ার লগ্ন আজ।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো হলুদের আলপনা দিয়ে।
আজকের আকাশটাও সেজেছে বাসন্তী রঙে।
গায়ে হলুদ মানেই হাসি, গান আর একরাশ আনন্দ।
হলুদ ছোঁয়ায় উজ্জ্বল হোক আগামীর প্রতিটি দিন।
উৎসবের শুরুটা হলো হলুদ মাখামাখির মধ্য দিয়ে।
এই রঙিন মুহূর্তগুলো স্মৃতির পাতায় আজীবন অমলিন রবে।
হলুদ সন্ধ্যা ও রঙিন মুহূর্ত নিয়ে স্ট্যাটাস
মরিচ বাতির ঝিকিমিকি আর হলুদের গান—সন্ধ্যাটা জমে ক্ষীর।
আজকের সন্ধ্যাটা একান্তই রঙের, একান্তই উৎসবের।
নাচে গানে মুখরিত আমাদের এই হলুদ সন্ধ্যা।
চারপাশের কোলাহলে মিশে আছে অফুরন্ত প্রাণশক্তি।
রঙিন আলোয় ঝলমল করছে সবার হাসিমুখ।
এই সন্ধ্যাটা ফুরোলেই নতুন সূর্য উঠবে, নতুন জীবনে।
উৎসবের এই রঙ ছড়িয়ে পড়ুক সবার অন্তরে।
কাঁচা হলুদের ঘ্রাণ ও উৎসবের আমেজ নিয়ে স্ট্যাটাস
কাঁচা হলুদের স্নিগ্ধ ঘ্রাণে মিশে আছে নতুনের বার্তা।
মুরুব্বিদের আশীর্বাদ আর হলুদের ছোঁয়া—জীবনের নতুন অধ্যায়।
বাঙালির বিয়েতে কাঁচা হলুদের সুবাস এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শরীরে হলুদ মাখতেই বিয়ের আসল আমেজ টের পাচ্ছি।
এই সুগন্ধি বাতাসের সাথে মিশে উৎসবের খবর পৌঁছে দিচ্ছে।
ঐতিহ্য মেনে হলুদ ছোঁয়ানোর আনন্দই আলাদা।
কাঁচা হলুদের রঙে রাঙা হোক নব দম্পতির জীবন।
বোনের গায়ে হলুদ ও বিদায়ের আগের আনন্দ-বেদনা নিয়ে স্ট্যাটাস
আপুর মুখে হাসি, অথচ আমাদের বুকে বিষাদের সুর।
হলুদ মাখানোর সময় হাতটা কেঁপে উঠল অজান্তেই।
আজ উৎসবের দিন, কাল থেকে বাড়িটা বড্ড ফাঁকা হবে।
হলুদের সাজে তোকে আজ পরীর মতো লাগছে রে আপু।
বিদায়ের রাগিণী বাজার আগেই আজকের দিনটা প্রাণভরে উপভোগ করি।
তোর হাসিমুখটা দেখেই বুকের পাথরটা সরানোর চেষ্টা করছি।
ছোটবেলার খেলার সাথীটা আজ নতুন ঘর বাঁধার পথে।
বন্ধুর গায়ে হলুদ নিয়ে ফানি ও ক্রেজি মোমেন্ট স্ট্যাটাস
দোস্ত, হলুদ মেখে তোকে তো পুরো কার্টুন লাগছে।
আজকের টার্গেট—বরের মুখে হলুদ কম, কালি বেশি মাখানো।
বিয়ে করছিস ভালো কথা, কিন্তু ট্রিট না দিলে খবর আছে।
বাঁদরটার গায়ে হলুদ, ভাবা যায়?
নাচতে নাচতে স্টেজ ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।
বন্ধুর বিয়েতে মাস্তি হবে না, তা কি হয়?
হলুদ মাখানোর বাহানায় উত্তম-মধ্যম দেওয়ার সুযোগ এটাই।
বান্ধবীদের দলবেঁধে হলুদ মাখানো ও আনন্দ করার স্ট্যাটাস
কনের পাশে আমরা আছি, মাস্তিতে কমতি হবে না।
শাড়ি আর সানগ্লাস—আমাদের গার্লস গ্যাংয়ের স্টাইলই আলাদা।
আমরা কনে পক্ষ, আমাদের সাথে তর্কে যেও না।
দলবেঁধে হলুদ মাখানোর আনন্দই অন্যরকম।
আমাদের হাসিতেই তো উৎসবের পূর্ণতা পায়।
সেলফির বহরে কনের মুখ দেখাই ভার।
একই রঙে সেজে আমরা যেন একঝাঁক প্রজাপতি।
গায়ে হলুদের ক্যাপশন
কাঁচা হলুদের রঙে রঙিন হয়ে উঠল আজকের এই উৎসবমুখর আঙিনা।
গাঁদা ফুলের গন্ধে আর হলুদের ছোঁয়ায় চারপাশটা বড্ড মায়াবী লাগছে।
হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠা মুখগুলো খুশিতে ঝলমল করছে।
বাঙালির বিয়েতে গায়ে হলুদের মতো রঙিন অনুষ্ঠান আর দ্বিতীয়টি নেই।
সবার হাসিমুখ আর হলুদের মাখামাখি, দিনটা সারা জীবন মনে রাখার মতো।
রঙিন এই বিকেলের সাক্ষী হয়ে রইল আমাদের গায়ে হলুদের আসর।
আত্মীয় স্বজন আর বন্ধুদের হুল্লোড়ে গায়ে হলুদ জমে ক্ষীর।
হলুদ ছোঁয়ানো গাল আর লাজুক হাসি, ছবির ফ্রেমে দারুণ মানিয়েছে।
উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ুক হলুদ রঙের মতোই উজ্জ্বল হয়ে।
গাঁদা ফুলের পাপড়ি আর কাঁচা হলুদ, বাঙালিয়ানার সেরা সংমিশ্রণ।
হলুদ সন্ধ্যার এই মুহূর্তগুলো অ্যালবামের পাতায় সোনালী হয়ে থাকবে।
রঙের খেলায় মেতে ওঠার এখনই সেরা সময়, গায়ে হলুদ বলে কথা।
হলুদ ছোঁয়া ও নতুন জীবনের সূচনা নিয়ে ক্যাপশন
গালে হলুদের আলপনা এঁকে শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়ের পথচলা।
বড়দের আশীর্বাদ আর হলুদের ছোঁয়ায় অনাগত দিনগুলো সুন্দর হোক।
কাঁচা হলুদের পবিত্রতায় ধুয়ে যাক পুরনো সব গ্লানি, আসুক নতুনের বার্তা।
শুভ্রতার প্রতীক এই হলুদ বাটা, যা নতুন জীবনের শুভকামনা বয়ে আনে।
গালে হলুদ ছোঁয়ানোর সময় মনে হলো এক অজানা সুখের ঠিকানা পেলাম।
নতুন সংসার সাজানোর স্বপ্নে বিভোর চোখ দুটোয় হলুদের আভা।
প্রকৃতির এই হলুদ রঙ দিয়েই রাঙিয়ে নিলাম আগামীর সব স্বপ্ন।
হলুদের স্পর্শে পবিত্র হোক দম্পতির আগামী দিনের পথচলা।
শুভ পরিণয়ের আগে এই হলুদ মাখানো রীতিটা বড্ড আবেগের।
কাঁচা হলুদের গন্ধে মিশে আছে হাজার বছরের শুভকামনার রেশ।
নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে গায়ে মাখলাম একরাশ সোনালী হলুদ।
জীবনের নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে গায়ে হলুদ মাখার আনন্দটা অন্যরকম।
হলুদের রঙে রঙিন হয়ে উঠুক তোমাদের অনাগত সংসারের প্রতিটি দিন।
বর বা কনের গায়ে হলুদ স্পেশাল ক্যাপশন
হলুদ মাখার পর তোমার রূপের জৌলুস যেন আরও বেড়ে গেছে বহুগুণ।
লাজুক হাসিতে কনে যখন তাকায়, তখন হলুদের রঙও ফিকে হয়ে যায়।
আজকের আসরের মধ্যমণি তুমি, সবার চোখ আটকে আছে তোমার দিকেই।
বরের গালে হলুদ ছোঁয়ানোর সময় তার দুষ্টু হাসিটা দেখার মতো ছিল।
হলুদ শাড়িতে তোমাকে কোনো এক অপ্সরার চেয়ে কম লাগছে না।
তোমার চোখের তারায় আমি নতুন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি।
হলুদ পাঞ্জাবিতে বর বাবাজিকে বেশ রাজকীয় আর স্মার্ট দেখাচ্ছে।
সারা গায়ে হলুদ মেখে বসে থাকা মানুষটাকে বড্ড মায়াবী লাগছে।
আজকের দিনে তোমার ওই হাসিমুখটাই আমাদের সেরা প্রাপ্তি।
হলুদ স্নিগ্ধতায় মাখামাখি হয়ে তুমি আজ অনন্যা, অতুলনীয়।
তোমার লাজুক চাউনি গায়ে হলুদের আসরটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
রাজকুমার আর রাজকন্যা সেজে বসে আছে হলুদের পিঁড়িতে।
কাঁচা হলুদের রঙে তোমাকে আজ বড্ড সজীব আর প্রাণচঞ্চল লাগছে।
গায়ে হলুদের উক্তি
কাঁচা হলুদের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার নামই তো বাঙালি বিয়ে, যেখানে ঐতিহ্যের গন্ধ মিশে থাকে।
—হুমায়ূন আহমেদ
হলুদ বাটো, মেন্দি বাটো—এই গানের সুর ছাড়া গায়ে হলুদ বড্ড বেমানান।
—লোকগীতি
হলুদের ছোঁয়ায় কনের রূপ যেন আরও খোলতাই হয়, এ এক অদ্ভুত মায়া।
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সোনার বরণ কন্যার গায়ে হলুদ মাখলে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই সেজে উঠেছে।
—জসীম উদ্দীন
গায়ে হলুদ হলো সেই উৎসব, যেখানে রঙের চেয়েও বেশি থাকে আত্মীয়তার উষ্ণতা।
—সমরেশ মজুমদার
হলুদ শাড়ি আর গাদা ফুলের গহনায় সাজা মেয়েটিকে দেখলে চোখের পলক ফেলতে ইচ্ছে করে না।
—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
নতুন জীবনের শুরুতে মঙ্গলের বার্তা নিয়ে আসে এই কাঁচা হলুদ।
—বুদ্ধদেব গুহ
বর-কনের গালে হলুদ ছোঁয়ানোর মাঝে যে আশীর্বাদ থাকে, তা হাজারো দামী উপহারের চেয়ে বড়।
—ইমদাদুল হক মিলন
হলুদের গন্ধে মিশে থাকে বিয়ের আনন্দ আর বিচ্ছেদের গোপন দীর্ঘশ্বাস।
—মহাদেব সাহা
বাঙালি নারীর সৌন্দর্য পূর্ণতা পায় গায়ে হলুদের সাজে, সেখানে কোনো কৃত্রিমতা থাকে না।
—আনিসুল হক
কাঁচা হলুদ মাখলে শরীর পবিত্র হয়, আর মন প্রস্তুত হয় নতুন অধ্যায়ের জন্য।
—সেলিনা হোসেন
হলুদের দিনে সবার হাসিমুখ দেখলে মনে হয়, পৃথিবীটা সত্যিই সুন্দর।
—নির্মলেন্দু গুণ
ঐতিহ্যের টানে আমরা বারবার ফিরে যাই সেই উঠোনে, যেখানে হলুদ বাটার শব্দ শোনা যায়।
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
গায়ে হলুদ কোনো প্রথা না, এটা ভালোবাসার মানুষগুলোর এক হওয়ার প্রথম ধাপ।
—তসলিমা নাসরিন
গায়ে হলুদ ও বর-কনের সাজ নিয়ে উক্তি
হলুদ মাখা গালে লাজুক হাসি—এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য আর কী হতে পারে?
—হুমায়ূন আহমেদ
বরের কপালে হলুদের ফোঁটা দেখলে মনে হয়, নতুন রাজা তার সিংহাসনে বসতে যাচ্ছে।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাঁচা ফুলের গয়না আর হলুদ শাড়িতে কনেকে দেখলে মনে হয় স্বর্গের অপ্সরা।
—কাজী নজরুল ইসলাম
সাজগোজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কনের চোখের জলটা কেউ দেখে না, সবাই রূপ দেখে।
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
হলুদের দিনে বর আর কনের চেহারায় যে আভা থাকে, তা কোনো মেকআপ দিয়ে আনা সম্ভব না।
—সমরেশ মজুমদার
সাধারণ মেয়েটাও গায়ে হলুদের দিনে অসাধারণ হয়ে ওঠে, এটাই ঐতিহ্যের শক্তি।
—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বরের পাঞ্জাবিতে একটুখানি হলুদের দাগ লাগলে তবেই উৎসবটা পূর্ণ হয়।
—বুদ্ধদেব গুহ
চোখের তারায় নতুন স্বপ্নের ঝিলিক আর গালে হলুদের আভা—অপরূপ এক কম্বিনেশন।
—ইমদাদুল হক মিলন
কনের হাতের মেন্দি আর গায়ের হলুদ—দুটোই ভালোবাসার রঙে রাঙা।
—মহাদেব সাহা
সাজের চেয়েও বড় হলো মনের আনন্দ, যা হলুদের দিনে বর-কনের চোখে ফুটে ওঠে।
—আনিসুল হক
হলুদ শাড়ির আঁচলে মিশে থাকে কনের শৈশবের সব স্মৃতি।
—সেলিনা হোসেন
স্নিগ্ধতার চূড়ান্ত রূপ দেখতে চাইলে গায়ে হলুদের কনের দিকে তাকাতে হয়।
—নির্মলেন্দু গুণ
বর যখন কনের গালে হলুদ ছোঁয়ায়, তখন নতুন এক গল্পের সূচনা হয়।
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
গায়ে হলুদের আনন্দ ও উৎসব নিয়ে উক্তি
গানের সুরে আর নাচের তালে গায়ে হলুদের রাতটা বড্ড রঙিন হয়ে ওঠে।
—হুমায়ূন আহমেদ
আত্মীয়-স্বজনের ভিড় আর হাসাহাসি—গায়ে হলুদ মানেই এক টুকরো মিলনমেলা।
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সবাই মিলে বর বা কনেকে হলুদ মাখানোর আনন্দটা অন্য কোনো উৎসবে পাওয়া যায় না।
—সমরেশ মজুমদার
উৎসবের আমেজে ছোট-বড় সবাই এক হয়ে যায়, ভেদাভেদ ভুলে যায়।
—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
গায়ে হলুদের গানগুলো শুনলে মন নেচে ওঠে, রক্তের গতি বেড়ে যায়।
—বুদ্ধদেব গুহ
রঙ খেলা আর মিষ্টি মুখ—গায়ে হলুদের এই পর্বগুলো স্মৃতি হয়ে থাকে।
—ইমদাদুল হক মিলন
আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সেরা উপলক্ষ হলো গায়ে হলুদ, যেখানে কেউ পর থাকে না।
—মহাদেব সাহা
ছাদের ওপর প্যান্ডেল আর নিচে গানের আসর—বাঙালি বিয়ের এই দৃশ্য চিরন্তন।
—আনিসুল হক
বন্ধুরা মিলে হইহুল্লোড় করার জন্য গায়ে হলুদের চেয়ে ভালো দিন আর নেই।
—সেলিনা হোসেন
উৎসবের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার সুযোগ আসে এই হলুদের দিনে।
—নির্মলেন্দু গুণ
খাবারের গন্ধে আর গানের শব্দে পুরো বাড়ি উৎসবের নগরী হয়ে ওঠে।
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
গায়ে হলুদের আনন্দটা কৃত্রিম না, এটা আসে অন্তরের গভীর থেকে।
—তসলিমা নাসরিন
স্মৃতি জমানোর জন্য গায়ে হলুদের প্রতিটি মুহূর্তই হীরের টুকরো।
—হেলাল হাফিজ
গায়ে হলুদের ফেসবুক পোস্ট
কাঁচা হলুদের গন্ধে পুরো বাড়িটা ম-ম করছে। গাঁদা ফুলের মালা আর রঙিন শাড়িতে চারপাশটা যেন এক টুকরো রামধনু। স্টেজ জুড়ে হলুদ আর কমলার মাখামাখি, তার মাঝখানে বসে আছে আমাদের কনে/বর। বড়দের আশীর্বাদ আর ছোটদের খুনসুটিতে সময়টা যে কীভাবে কেটে গেল, টেরই পেলাম না। উৎসবের এই আমেজটুকু মনের কোণে আজীবন জমা থাকবে।
হলুদ ছোঁয়ানোর রীতির মাঝে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। গালে আলতো করে হলুদ লাগিয়ে দেওয়ার সময় সবার চোখেমুখে যে আনন্দের ঝিলিক দেখলাম, তা কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব না। ঢাকের আওয়াজ আর সানাইয়ের সুরে পরিবেশটা হয়ে উঠেছিল মায়াবী। এমন সুন্দর একটা সন্ধ্যার সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে।
বাঙালির বিয়েতে খাওয়া-দাওয়া হবে না, তা কি হয়? সরষে ইলিশ, পোলাও আর খাসির রেজালা—মেন্যুটা ছিল একদম জিভে জল আনার মতো। পেট ভরে খাওয়ার পর পানের খিলি মুখে দিয়ে আড্ডা দেওয়ার মজাই আলাদা। অতিথিদের হাসিমুখ আর তৃপ্তির ঢেকুরই ছিল আজকের আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
বন্ধুবান্ধব আর কাজিনদের হুল্লোড়ে বাড়িটা গমগম করছিল। সেলফি তোলার প্রতিযোগিতা আর গানের কলি—সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড। কারো শাড়ি সামলাতে কষ্ট, কারো পাঞ্জাবির বোতাম ছিঁড়েছে—তবুও সবার মুখে হাসি। এই পাগলামিগুলো ছাড়া কি আর হলুদের অনুষ্ঠান জমে? স্মৃতিগুলো ফ্রেমে বন্দি করে রাখলাম।
প্রদীপের আলোয় সাজানো সন্ধ্যাটা ছিল স্বপ্নের মতো। আলপনা আঁকা মেঝেতে যখন সবাই গোল হয়ে বসল, তখন মনে হলো সময়টা থমকে গেছে। গান, গল্প আর হাসিঠাট্টায় রাত গড়িয়ে ভোর হলেও ক্লান্তি লাগত না। আপন মানুষগুলোর সান্নিধ্যেই আসলে উৎসব পূর্ণতা পায়।
হলুদের অনুষ্ঠানে নাচের প্রস্তুতি ও ভিডিও শেয়ার পোস্ট
এক মাস ধরে চলা সেই অক্লান্ত রিহার্সাল, রাত জাগা আর পায়ে ব্যথা—সবকিছুর ফল আজ স্টেজে দেখা গেল। ভলুউম বাড়িয়ে যখন গানের বিট বাজল, তখন সব নার্ভাসনেস নিমেষেই উধাও। বন্ধুদের চিৎকার আর হাততালিতে মনে হলো আমরাই আজকের শো স্টপার। ভিডিওটা শেয়ার না করে পারলাম না, কারণ এই মুহূর্তগুলোই তো বেঁচে থাকার রসদ।
স্টেজে ওঠার আগে বুক ধড়ফড় করছিল ঠিকই, কিন্তু মিউজিক শুরু হতেই শরীরটা ছন্দে নেচে উঠল। আমরা কেউ প্রফেশনাল ডান্সার না, কিন্তু আমাদের এনার্জি ছিল আকাশছোঁয়া। ভুল স্টেপ দিয়েও যে কনফিডেন্সের সাথে নেচেছি, ওটাই আসল কথা। বন্ধু তোরা ছিলি বলেই পারফরম্যান্সটা এত জম্পেশ হলো।
হলুদের স্টেজে আগুন লাগিয়ে দিলাম আমরা! কোরিওগ্রাফি নিয়ে কত যে ঝগড়া হয়েছে, কতবার যে স্টেপ ভুলে গেছি—তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু ফাইনাল পারফরম্যান্সে সবাই ফাটিয়ে দিয়েছে। ভিডিওটা দেখলে বুঝবেন আমাদের পাগলামির লেভেল কোন পর্যায়ে ছিল। এমন একটা স্মৃতি সারা জীবন হাসাবে।
বলিউড বিট আর দেশি ধামাকা—সব মিলিয়ে এক জগাখিচুড়ি নাচ, কিন্তু আনন্দটা ছিল খাঁটি। অডিয়েন্সের শিস আর ওয়ান্স মোর ধ্বনি শুনে মনে হলো সব কষ্ট সার্থক। রিহার্সালের দিনগুলোতে খাওয়া-দাওয়া ভুলে যে পরিশ্রম করেছি, তার প্রতিদান আজ পেলাম। চিয়ার্স টু আওয়ার টিম!
নাচতে গিয়ে শাড়ির কুচি খুলে যাওয়া বা পাঞ্জাবিতে পা বেধে পড়ে যাওয়া—সবই হয়েছে, কিন্তু হাসি থামেনি। পারফেকশনের চেয়ে আমাদের কাছে এনজয় করাটাই মুখ্য ছিল। ভিডিওতে হয়তো অনেক ভুল চোখে পড়বে, কিন্তু আমাদের মুখের হাসিটা একদম আসল। বন্ধুদের সাথে স্টেজে দাপিয়ে বেড়ানোর এই অভিজ্ঞতা ভোলার মতো না।
গায়ে হলুদের ছন্দ
কাঁচা হলুদের গন্ধে ভাসে বিয়ের বাড়ির হাওয়া
আজকে তোমায় হলুদ দেবো, এটাই মোদের চাওয়া।
হলুদ বাটো মেন্দি বাটো, বাটো ফুলের মৌ
আজকে হলুদ মাখবে দেখো, আমাদের নতুন বউ।
বর এসেছে রাজার বেশে, গায়ে হলুদ মাখতে
শালিরা সব তৈরি আছে, পকেট ফাঁকা রাখতে।
হলুদ রঙের শাড়িতে আজ, লাগছে তোমায় পরী
তোমার রূপের ছটায় আমি, কেমন করে তরি?
একটু খানি হলুদ ছোঁয়া, গালে দিলাম মেখে
সারা জীবন থেকো তুমি, এমন সুখে থেকে।
ঢোল বাজে ওই ধাম ধাম, সানাই বাজে সুরে
গায়ে হলুদের খুশির খবর, যাক না বহু দূরে।
নতুন বরের গালটা দেখো, হলুদে হলো লাল
আজকে থেকে শুরু হলো, তোমার নতুন কাল।
হলুদ মাখা হাতটি দিয়ে, ধরল যখন পান
বিয়ের বাড়ির আসর জুড়ে, খুশির কলতান।
মিষ্টি মুখের সাথে হবে, হলুদের এই খেলা
রঙিন সাজে সাজল দেখো, আজকের এই বেলা।
বউ সেজেছে হলুদ শাড়িতে, বর সেজেছে ধুতি
আজকে তাদের মিলন হবে, জ্বলবে সুখের বাতি।
দুষ্টুমি আর হাসাহাসি, হলুদের এই দিনে
বর কনের ভালোবাসা, সবাই নিও চিনে।
হলুদ মাখলে রূপ খোলে ভাই, জানি সবাই সেটা
আজকে হলুদ মাখছে দেখো, আমাদের এই বেটা।
গ্রামের রীতি মেনেই মোরা, হলুদ দিলাম গায়
আশীর্বাদে ভরে উঠুক, নতুন দম্পতির পায়।
নাচ গানেতে মাতাল সবাই, হলুদের এই রাতে
সারা জীবন থেকো দুজন, হাতে রেখে হাতে।
গায়ে হলুদের কবিতা
কাঁচা হলুদের রঙ মেখে আজ কন্যা সেজেছে বেশ,
সারা অঙ্গে জড়িয়ে আছে উৎসবের এক রেশ;
গাঁদা ফুলের মালা গেঁথে সখীরা গায় গান,
হলুদ বরণ সাজে আজ জুড়ায় সবার প্রাণ।
বাটা হলুদ ছোঁয়াব মুখে, রাঙাবো তোমার গাল,
আজকের এই দিনে সবাই ভুলেছে দুঃখের কাল;
ঢোল আর কাঁসার শব্দে বাজে বিয়ের আগমনী,
তুমি যে আজ রাজকন্যা, এই আসরের মণি।
লাজুক চোখে তাকাও যখন, হৃদয় করে তোলপাড়,
হলুদ শাড়ির আঁচল ওড়ে, খোলে রূপের দ্বার;
আগামীকাল তো পর হয়ে যাবে, যাবে অন্যের ঘরে,
আজকে নাহয় মেতে উঠি আমরা হলুদের তরে।
প্রদীপের ওই শিখার মতো জ্বলছে তোমার মুখ,
হলুদ বাটার গন্ধে মেশে এক অজানা সুখ;
বড়রা দেয় আশীর্বাদ, ছোটরা করে ভিড়,
আনন্দের এই জোয়ারে আজ ভাসুক নদীর তীর।
মেহেদি রাঙা হাতে যখন ধরো পানের বাটা,
মনে হয় যেন শিল্পীর আঁকা জীবন্ত এক ছটা;
সারা বাড়িতে আলোকসজ্জা, রোশনাইয়ের মেলা,
গায়ে হলুদ মানেই তো রঙের এই দারুণ খেলা।
মিষ্টিমুখের আয়োজনে আজ নেই কোনো কার্পণ্য,
তোমার হাসিতেই এই সন্ধ্যা হয়েছে ধন্য;
হলুদ মাখা ওই হাতে আজ নতুন স্বপ্নের ছোঁয়া,
আগামীর পথ হোক মসৃণ, কাটুক সকল ধোঁয়া।
সখীদের ওই খুনসুটিতে রাঙা হয়ে যায় কান,
বরের কথা শুনলে কেন লাজুক হয় পরান?
আজকে নাহয় একটুখানি লজ্জাকে দাও ছুটি,
হলুদ মেখে উৎসবে আজ করো লুটোপুটি।
ছোটবেলার সাথী তুমি, আজ কনে সেজে আছ,
হলুদের এই রঙে তুমি যেন রূপকথায় বাঁচ;
চোখের কোণে জল এলেও মুখে রেখো হাসি,
আমরা সবাই তোমায় যে বড্ড ভালোবাসি।
শুকনো হলুদ গুঁড়ো ওড়ে বাতাসের তালে তালে,
রঙিন আভা ছড়িয়ে পড়ে কনের রাঙা গালে;
এই স্মৃতিরা মনের কোণে থাকবে চিরকাল,
গায়ে হলুদ রাঙিয়ে দিক তোমার আগামী কাল।
গায়ে হলুদ ও কিছু কথা
কাঁচা হলুদের ছোঁয়ায় নতুন জীবনের সূচনা করার পবিত্র লগ্ন আজ।
হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে পুরো বাড়িটা যেন সর্ষে ক্ষেতের মতো রঙিন হয়ে ওঠে।
বড়দের আশীর্বাদ আর ছোটদের খুনসুটিতে এই দিনটা হয়ে ওঠে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও মুখর।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর চেয়ে মনের আনন্দ বাড়ানোই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
একে অপরকে হলুদ মাখিয়ে দেওয়ার মাঝে এক অদ্ভুত আত্মিক টান লুকিয়ে থাকে।
বিয়ের আগে এই রঙিন অধ্যায়টুকু সারা জীবনের অ্যালবামে সোনালী স্মৃতি হয়ে রয়।
আত্মীয়-স্বজনের মিলনমেলায় ঘরটা উৎসবের আমেজে নেচে ওঠে, ক্লান্তি সেখানে ঠাঁই পায় না।
কাঁচা ফুলের গহনায় কনেকে দেখলে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই তাকে পরম মমতায় সাজিয়ে দিয়েছে।
গান, নাচ আর হুল্লোড়ে মুখরিত এই সন্ধ্যাটা বিষাদ ভুলে থাকার সেরা সময়।
দুই পরিবারের হৃদ্যতা ও আন্তরিকতা বাড়াতে এই অনুষ্ঠানের জুড়ি মেলা ভার।
হলুদের বাটিতে চুবানো দুর্বাঘাস যখন মাথায় স্পর্শ করে, তখন অশুভ ছায়া দূরে সরে যায়।
বন্ধুদের দুষ্টুমি আর জোর করে হলুদ মাখানোর দৃশ্যগুলো বড্ড মায়াবী ও আনন্দের।
অপেক্ষা আর আয়োজনের সমাপ্তি ঘটিয়ে নিজেকে রঙিন করে তোলার দিন আজ।
গালে লেগে থাকা হলুদটুকু বুঝিয়ে দেয়, সাংসারিক জীবনের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে।
আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও এখানে ভালোবাসার ছড়াছড়িটাই সবার চোখে বেশি পড়ে।
