লালন ফকিরের সেরা উক্তি সমূহ: ১৫৮টি+ সেরা সংগ্রহ

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া থেকে ভেসে আসা একতারার সুর আজও আমাদের আত্মাকে নাড়িয়ে দেয়, প্রশ্ন জাগায় মনে। লালন ফকিরের সেরা উক্তি সমূহ কোনো সাধারণ কথা নয়, এ যেন মাটির মানুষের হৃদয়ের গান। জাত-পাতের বেড়াজাল ছিঁড়ে কীভাবে মানুষ ভজনা করতে হয়, সেই সহজ অথচ কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে আমরা আজ এই সংগ্রহগুলো পড়ব।

লালন ফকিরের সেরা উক্তি

খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কীভাবে আসে আর যায়, সেই রহস্যের সমাধান আজও মেলেনি। লালন ফকিরের সেরা উক্তি গুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, তিনি পুঁথিগত বিদ্যা ছাড়াই জীবনের এমন সব দর্শন আবিষ্কার করেছিলেন, যা বড় বড় পন্ডিতদেরও ভাবিয়ে তোলে। দেহ ও আত্মার এই নিগূঢ় সম্পর্ক বুঝতে তাঁর বাণীই সেরা মাধ্যম।

আপন ঘরের খবর নে না, পরের খবর করিস কেন? — লালন ফকির

সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন, তবেই পাবি সেই মানুষের দর্শন। — লালন ফকির

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি। — লালন ফকির

মিলন হবে কত দিনে, আমার মনের মানুষের সনে। — লালন ফকির

বাড়ির কাছে আরশিনগর, অথচ একঘর পড়শি বাস করে; আমি একদিনও না দেখলাম তারে। — লালন ফকির

আমার এ ঘরখানায় কে বিরাজ করে, আমি জনম ভরে একদিন না দেখলাম তারে। — লালন ফকির

যে জন সিরজিলে দুনিয়া, আমি দেখলাম না তারে চাহিয়া। — লালন ফকির

ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার, সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার। — লালন ফকির

ও যার আপন খবর আপনার হয় না, একবার আপনারে চিনলে পরে অচেনা আর থাকে না। — লালন ফকির

কু-কথায় পঞ্চমুখ, মুখ ভালো তার একরতি না। — লালন ফকির

দিব্যজ্ঞানী যে জন, সে কি আর সামান্য জ্ঞান লয়ে থাকে? — লালন ফকির

মন তুই করলি একি ইতরপনা, দুধ খেতে তুই পেলেই চোনা। — লালন ফকির

আমি আমি করি, কিন্তু আমি কি তাই আমি চিনলাম না। — লালন ফকির

আত্মতত্ত্ব না জানিলে, ভজন সাধন বৃথা সব। — লালন ফকির

লালন গীতি থেকে সেরা উক্তি

গান গেয়ে যে এত বড় দর্শন প্রচার করা যায়, তা সাঁইজিকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হতো। সুরের মায়া সরিয়ে লালন গীতি থেকে সেরা উক্তি গুলোকে আলাদা করলে দেখা যায়, প্রতিটি লাইন একেকটি আগুনের স্ফুলিঙ্গ। সমাজ, ধর্ম আর সংস্কারের অন্ধত্ব ঘোচাতে এই গানগুলোই ছিল তাঁর একমাত্র হাতিয়ার।

খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়, ধরতে পারলে মনবেড়ি দিতাম পাখির পায়। — লালন ফকির

সময় গেলে সাধন হবে না। — লালন ফকির

তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে, তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে। — লালন ফকির

পাপ পুণ্যের কথা আমি কারে বা শুধাই, এক দেশে যা পাপ গণ্য, অন্য দেশে পুণ্য তাই। — লালন ফকির

চাতক প্রায় অহর্নিশি, চেয়ে আছে কালো শশী, হবো বলে চরণ দাসী। — লালন ফকির

ওরে কেতাবে কি সব কথা মেলে, সে যে ভাবের বিষয়। — লালন ফকির

আছে যার মনের মানুষ মনে, সে কি জপে মালা? — লালন ফকির

মনের মানুষ এল দ্বারে, আমি থাকলাম ঘুমের ঘোরে; দেখা হলো না তারে। — লালন ফকির

যার ভাগ্যে যা আছে, তাই তো হবে; কেঁদে কি আর ফল ফলিবে? — লালন ফকির

ওরে মন, তুই তো পাগোলি; পরের ধনে পোদ্দারি করিস কেন? — লালন ফকির

প্রেম করা কি মুখের কথা? প্রেম করতে হলে মরতে হয়। — লালন ফকির

এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে, যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান জাতি গোত্র নাহি রবে। — লালন ফকির

নদীর এক কূল ভাঙে এক কূল গড়ে, এই তো নদীর খেলা। — লালন ফকির

গুরু দোহাই তোরা কেউ করিস না গোল, আমার সাধন হলো গণ্ডগোল। — লালন ফকির

লালন ফকিরের সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে উক্তি

হিন্দু না মুসলমান—এই পরিচয়ের লড়াইয়ে যখন সমাজ মত্ত, তখন তিনি হেসে জানতে চেয়েছেন জাতের আসল রূপ কী। লালন ফকিরের সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে উক্তি টি নিছক একটি গানের লাইন না, বরং সাম্প্রদায়িকতার গালে এক চড়। মানুষের পরিচয় যে একমাত্র মনুষ্যত্বে, সেই চিরন্তন সত্যটিই তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে, লালন কয় জাতের কি রূপ দেখলাম না এই নজরে। — লালন ফকির

কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়, তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়? — লালন ফকির

যাওয়া কিংবা আসার বেলায়, জাতের চিহ্ন রয় কার রে? — লালন ফকির

জগত বেড়ে জাতির কথা, লোকে গৌরব করে যথা তথা। — লালন ফকির

লালন সে জাতের ফাতনা ডুবিয়েছে সাধ বাজারে। — লালন ফকির

যদি সুন্নতে দেয় মুসলমান, তবে নারীর কি হয় বিধান? বামন চিনি পৈতা প্রমাণ, বামনী চিনি কি প্রকারে? — লালন ফকির

জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা, সত্য কাজে কেউ না রাজি, সব দেখি তা না না না। — লালন ফকির

জাত না গেলে পাই না তারে, কি ছার জাতের গৌরব করিস মিছে? — লালন ফকির

এই মানুষে আছে রে মন যারে বলে মানুষ রতন। — লালন ফকির

ভবে আসা কেবলই আসা, আমার জাতের বিচার হলো না। — লালন ফকির

মানুষ হয়ে মানুষ চেনা, এ বড় বিষম ল্যাঠা। — লালন ফকির

ব্রাহ্মণ-চণ্ডাল চামার মুচি, এক জলেই সব হয় গো শুচি, দেখে শুনে হয় না রুচি যমে তো কাউকে ছাড়বে না। — লালন ফকির

লালন শাহের বাণী

“আপনারে আপনি চিনিলে, অচেনারে চেনা যায়।”

“সহজ মানুষ ভজে দেখ না রে মন দিব্যজ্ঞানে, পাবি ধরা অমৃতের সন্ধানে।”

“পাখি কখন যেন উড়ে যায়, মাটির খাঁচা পড়ে রয়।”

“আমার ঘরের চাবি পরের হাতে, কেমনে খুলিয়ে সে ধন দেখবো চোখেতে।”

“যে জন সিরাজ সাঁইয়ের স্বভাব জানে, সে কি আর ভিন্ন ভাসে।”

লালন ফকিরের মানবতা নিয়ে লালনের বাণী

স্রষ্টাকে পেতে হলে আগে তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসতে হবে—এই সহজ সমীকরণটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। লালন ফকিরের মানবতা নিয়ে লালনের বাণী গুলোর মূল সুরই হলো মানুষ ভজনা। তিনি বিশ্বাস করতেন, জাত-পাতের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে ভালোবাসলেই কেবল খোদার সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।

“নানা বরন গাভী রে ভাই একই বরন দুধ, জগৎ ভরমিয়া দেখলাম একই মায়ের পুত।”

“জাতের ফেরে ওরে মন, ঘুরলি কত অকারণে।”

“ভবে মানুষ রতন চিনে নে, ও মন কেন ভুললি ভবের ভেলকিতে।”

“মানুষতত্ত্ব যার সত্য হয়, মনে সে কি অন্য তত্ত্ব করে?”

“জগৎ জুড়ে আছে জাতের প্রথা, লালন বলে জাত কারে কয় ভ্রম হলো সেথা।”

“ভেদ বিধির পরপারে আছে যে জন, সে কি আর বিধির বিচার করে?”

সময় গেলে সাধন হবে না লালনের বাণী

“আমি অপার হয়ে বসে আছি ওহে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।”

“দিন যে গেল সন্ধ্যা হলো পার করো আমারে, তুমি পারের কর্তা জেনে ডাকি তোমারে।”

“চিরদিন কাঁচা বাঁশের খাঁচা থাকবে না।”

“দেখ না মন ঝাকমারি এই দুনিয়াদারি।”

“কাল থাকতে দাও বাধি আল, নইলে খেতে ধরবে কাল।”

“দিন দুই-চার পরে ভাববি রে মন, তখন কি আর সারবে রোদন।”

“ওরে মন, বললি না তো মনের কথা, জমের দূতে এসে যখন বাঁধবে হাতে।”

“যৌবন জোয়ার একবার আসে, ভাটি দিলে আর বাড়ে না।”

“আমার দিন কি যাবে এই হালে, আমি কি আর হব পার ওই পারে।”

“জান না রে মন পরম কারণ, কি সার করতে এলি ভুবন।”

লালন সাঁইজির মোটিভেশনাল স্ট্যাটাস

মিথ্যে মোহমায়ায় আটকে থেকো না, সত্যের সন্ধান করো।

লোভ সামলাতে না পারলে মনের রাজা হওয়া অসম্ভব।

বাহ্যিক সাজসজ্জা বৃথা, যদি ভেতরটা পরিষ্কার না থাকে।

সবাই থাকে অর্থের নেশায়, কেউ খোঁজে না মানুষের মন।

লালন সাঁইজির শিক্ষামূলক ও আধ্যাত্মিক কথা

বাইরের চাকচিক্য দেখে ভুলো না, আসল রত্ন তো মাটির নিচেই চাপা থাকে।

মসজিদে বা মন্দিরে সীমাবদ্ধ থেকো না, স্রষ্টার আসল বাস তো মানুষের হৃদয়ের গভীরে।

লোভ আর লালসার বেড়ি পায়ে জড়িয়ে মুক্তির আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু না।

নদীর জল যেমন সাগরে গিয়ে মেশে, আত্মাও তেমন পরমাত্মায় লীন হতে চায়, বাধা কেবল আমাদের অহংকার।

মুখের কথায় ধার্মিক হওয়া সহজ, কিন্তু অন্তরের ময়লা পরিষ্কার করা বড়ই কঠিন কাজ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *