স্বামী বিবেকানন্দের বিখ্যাত উক্তি সমূহ: ১৫৮ টি সেরা সংগ্রহ
শিকাগোর ধর্মসভায় যে মানুষটির কণ্ঠস্বর বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছিল, তিনি আমাদের বিবেকানন্দ। স্বামী বিবেকানন্দের বিখ্যাত উক্তি সমূহ নিছক কোনো শব্দমালা নয়, বরং ঘুমন্ত আত্মাকে জাগিয়ে তোলার এক একটি বারুদ। ২০২টি বাণীর এই সংকলন পাঠ করলে মনে হয়, তিনি যেন আজও আমাদের কানে কানে বলছেন—ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।
স্বামী বিবেকানন্দের বিখ্যাত উক্তি
দুর্বলতা যার কাছে মহাপাপ, আর শক্তিই যার কাছে জীবন—তিনিই স্বামী বিবেকানন্দ। এই মহামানব চেয়েছিলেন এমন এক জাতি গড়তে, যাদের মেরুদণ্ড হবে ইস্পাতের মতো শক্ত। ভীরুতা ঝেড়ে ফেলে সিংহের মতো গর্জন করে বাঁচার পাঠ নিতে চাইলে তাঁর কথাগুলোর কোনো বিকল্প নেই।
ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না। — স্বামী বিবেকানন্দ
শক্তিই জীবন, দুর্বলতাই মৃত্যু। বিস্তারই জীবন, আর সংকীর্ণতাই মৃত্যু। — স্বামী বিবেকানন্দ
নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। সব শক্তি তোমার ভেতরেই আছে, তুমি চাইলে সব কিছুই করতে পারো। — স্বামী বিবেকানন্দ
সত্যের জন্য সব কিছু ত্যাগ করা যায়, কিন্তু কোনো কিছুর জন্য সত্যকে ত্যাগ করা যায় না। — স্বামী বিবেকানন্দ
পৃথিবীটা একটা বিশাল ব্যায়ামাগার, এখানে আমরা নিজেদের শক্তিশালী করতে এসেছি। — স্বামী বিবেকানন্দ
জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। — স্বামী বিবেকানন্দ
দিনে অন্তত একবার নিজের সঙ্গে কথা বলো, তা না হলে তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটির সাথে দেখা করা থেকে বঞ্চিত হবে। — স্বামী বিবেকানন্দ
তুমি যা ভাববে, তুমি তাই হবে। নিজেকে দুর্বল ভাবলে দুর্বল হবে, আর শক্তিশালী ভাবলে শক্তিশালী হবে। — স্বামী বিবেকানন্দ
ভয়ই মৃত্যু, ভয়ই পাপ, ভয়ই নরক। ভয়কে জয় করাই হলো জীবনের আসল উদ্দেশ্য। — স্বামী বিবেকানন্দ
যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি নিজের ওপর বিশ্বাস না রাখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারবে না। — স্বামী বিবেকানন্দ
পবিত্রতা, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়—এই তিনটি গুণ থাকলে সফলতা আসবেই। — স্বামী বিবেকানন্দ
যারা তোমাকে সাহায্য করেছে তাদের ভুলো না, যারা তোমাকে ভালোবাসে তাদের ঘৃণা করো না। — স্বামী বিবেকানন্দ
মহৎ কাজ করতে হলে ধীরস্থির হতে হয়, রাগের মাথায় কোনো ভালো কাজ হয় না। — স্বামী বিবেকানন্দ
অন্যের দয়ায় বেঁচে থাকার চেয়ে নিজের শক্তিতে মরাও ভালো। — স্বামী বিবেকানন্দ
বাইরের জগতটা আমাদের ভেতরের জগতটারই প্রতিচ্ছবি। আমরা যেমন, জগতকেও তেমনই দেখি। — স্বামী বিবেকানন্দ
যুব সমাজের প্রতি স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি
আগামীর পৃথিবী গড়ার কারিগর তো আজকের তরুণরাই। তাদের প্রতি বিবেকানন্দের বার্তা কোনো সাধারণ উপদেশ নয়, বরং এক একটি রণহুংকার। মাটির পুতুল হয়ে না থেকে মানুষ হওয়ার সাধনায় নামার জন্য এই কথাগুলোই তরুণদের চলার পথের জ্বালানি।
আমার চাই লোহার মতো পেশি আর ইস্পাতের মতো স্নায়ু, যার ভেতরে থাকবে বজ্রের মতো মন। — স্বামী বিবেকানন্দ
গীতা পাঠ করার চেয়ে ফুটবল খেলা ভালো, কারণ শরীর সুস্থ থাকলে মনও শক্তিশালী হয়। — স্বামী বিবেকানন্দ
বীরের মতো দাঁড়াও এবং বলো, আমি সব করতে পারি। ভীরুতা বা দুর্বলতার কোনো স্থান নেই। — স্বামী বিবেকানন্দ
হে যুবক, মনে রেখো, বীরভোগ্যা বসুন্ধরা। দুর্বলরা এখানে টিঁকতে পারে না। — স্বামী বিবেকানন্দ
কাজ করো, কাজ করো আর কাজ করো। ফলের আশা করো না, কাজই তোমাকে গন্তব্যে নিয়ে যাবে। — স্বামী বিবেকানন্দ
আমাকে একশ জন চরিত্রবান ও তেজী যুবক দাও, আমি এই দেশে চেহারা বদলে দেব। — স্বামী বিবেকানন্দ
নিজেকে কখনো ছোট ভেবো না। তুমি অমৃতের সন্তান, তুমি সব কিছু জয় করার ক্ষমতা রাখো। — স্বামী বিবেকানন্দ
আরাম আয়েশ ত্যাগ করো, অলসতা ঝেড়ে ফেলো। যতক্ষণ না মৃত্যু আসছে, ততক্ষণ কাজ করে যাও। — স্বামী বিবেকানন্দ
চরিত্র গঠনের দিকে মন দাও। কারণ যার চরিত্র নেই, তার আসলে কিছুই নেই। — স্বামী বিবেকানন্দ
যে ঝুঁকি নিতে জানে না, সে জীবনে কিছুই অর্জন করতে পারে না। সাহসই হলো যুবকের ধর্ম। — স্বামী বিবেকানন্দ
মানুষের মতো মানুষ হও। এমন মানুষ হও যাকে দেখে অন্যরা সম্মান করতে বাধ্য হয়। — স্বামী বিবেকানন্দ
তোমাদের লক্ষ্য স্থির করো এবং সেই লক্ষ্যের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করো। — স্বামী বিবেকানন্দ
অনুকরণ করো না, নিজের পথ নিজে তৈরি করো। সিংহ কখনো অন্যের দেখানো পথে চলে না। — স্বামী বিবেকানন্দ
দেশের জন্য, দশের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করো। স্বার্থপরতা যুবসমাজের সাজে না। — স্বামী বিবেকানন্দ
স্বামী বিবেকানন্দের বাণী
“শিক্ষা হচ্ছে মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যে থাকা পূর্ণতার প্রকাশ।”
“যতদিন বাঁচি, ততদিন শিখি।”
“সত্যকে হাজার উপায়ে বলা যেতে পারে, তবুও প্রতিটিই সত্য।”
“কারো নিন্দা কোরো না; যদি সাহায্য করার সামর্থ্য থাকে তবে সাহায্য করো, আর যদি না পারো তবে হাত জোড় করে আশীর্বাদ করো এবং তাদের নিজের পথে যেতে দাও।”
“বীরের মতো সাহস অবলম্বন করো; সদম্ভে বলো— আমি ভারতবাসী, ভারতবাসী আমার ভাই।”
“যারা তোমার সাহায্য চায় তাদের সাহায্য করো, কিন্তু কোনো প্রতিদানের আশা রেখো না।”
“জগতে যদি কিছু পাপ থাকে তবে তা হলো দুর্বলতা; সর্বপ্রকার দুর্বলতা ত্যাগ করো, দুর্বলতাই মৃত্যু।”
“যে নিজেকে গরীব ভাবে সে গরীব নয়, বরং যে বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জন করেও তার সদ্ব্যবহার করে না, সেই প্রকৃত গরীব।”
স্বামী বিবেকানন্দের অনুপ্রেরণামূলক বাণী
“ঝুঁকি নাও; জিতলে নেতৃত্ব দেবে, আর হারলে তুমি পথ দেখাবে।”
“নিজের ভাগ্যকে দোষ দিও না, তুমি তোমার নিজের ভবিষ্যতের নির্মাতা।”
“কখনো না বলো না, কখনো বলো না ‘আমি করতে পারব না’; কারণ তুমি অনন্ত শক্তির অধিকারী।”
“একদিনে বা এক বছরে সফল হওয়ার আশা কোরো না; সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাও।”
“ভয় পেও না। তোমরা অসাধারণ কাজ করবে। যে মুহূর্ত থেকে তুমি ভয় পাবে, সেই মুহূর্তেই তুমি শক্তিহীন হয়ে পড়বে।”
“সফলতার তিনটি শর্ত— পবিত্রতা, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়। আর সবথেকে বড় হলো প্রেম।”
“যে কাজে তোমার হাত দেওয়া উচিত, তাতে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দাও।”
“দিন শেষে যদি তুমি নিজের কোনো ভুলের মুখোমুখি না হও, তবে নিশ্চিত থেকো তুমি ভুল পথে হাঁটছো।”
নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা নিয়ে বিবেকানন্দের বাণী
“পুরানো ধর্মে বলা হতো, যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না সে নাস্তিক। কিন্তু নতুন ধর্ম বলে, যে নিজের ওপর বিশ্বাস করে না সেই নাস্তিক।”
“প্রথমে নিজেকে বিশ্বাস করো, তারপর ঈশ্বরে বিশ্বাস করো।”
“বিশ্বের ইতিহাস হলো অল্প কিছু মানুষের আত্মবিশ্বাসের ইতিহাস।”
“অন্যের ভরসায় থেকো না; নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখো। সব শক্তি তোমার ভেতরেই আছে।”
“আত্মবিশ্বাস থাকলেই তবে মানুষ মহৎ কার্য সাধন করতে পারে।”
“যদি তোমার নিজের ওপর বিশ্বাস থাকে, তবে তুমি হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধেও একাই দাঁড়াতে পারবে।”
“মুক্তির প্রথম শর্তই হলো স্বাধীনতা; নিজের চিন্তায় ও কর্মে স্বাধীন হও।”
“ঈশ্বর তাদেরই সাহায্য করেন, যারা নিজেদের সাহায্য করে।”
স্বামী বিবেকানন্দের জীবন বদলানো উপদেশ
ভয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই, ওটা কেবল মনের ভুল; সাহসের সাথে দাঁড়ালে দেখবে ভয়ের ছায়া নিমেষেই সরে গেছে।
ফলের আশা না করে কাজ করে যাও—কথাটা বলা সহজ কিন্তু করা কঠিন; তবুও এটাই মানসিক শান্তির একমাত্র উপায়।
মানুষের মন হলো একটা উন্মত্ত ঘোড়ার মতো, একে নিয়ন্ত্রণ করতে জানলে তবেই পৃথিবী তোমার পায়ের নিচে থাকবে।
সত্যের জন্য সবকিছু ত্যাগ করা যায়, কিন্তু কোনো কিছুর বিনিময়েই সত্যকে বিসর্জন দেওয়া চলে না।
টাকাপয়সা কিংবা নামযশ মানুষকে বড় করে না, বরং পবিত্র চরিত্রই মানুষকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখে।
স্বামী বিবেকানন্দের শক্তি ও সাহস নিয়ে সেরা ক্যাপশন
উঠে দাঁড়াও, সাহসী হও এবং নিজের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নাও।
বিপদ দেখলে পিঠ দেখিও না, বরং তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে লড়াই করো।
অন্যের দেখানো পথে না হেঁটে নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নাও, সেখানেই আসল সার্থকতা।
