স্বার্থপর দুনিয়া নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ২৬৫+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
পৃথিবীতে স্বার্থের চেয়ে বড় কোনো সত্য নেই। যতক্ষণ আপনার পকেটে টাকা আর হাতে ক্ষমতা আছে, ততক্ষণ সবাই আপনার; পকেট খালি তো আপনি সবার কাছে অচেনা। মানুষের এই গিরগিটির মতো রঙ বদলানোর স্বভাব দেখে আপনি কি ত্যক্ত-বিরক্ত? মনের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ আর বাস্তবতার তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করার জন্য আপনি কি স্বার্থপর দুনিয়া নিয়ে ক্যাপশন খুঁজছেন? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। এখানে আমরা সুবিধাবাদী মানুষ ও স্বার্থের দুনিয়া নিয়ে সেরা সব স্ট্যাটাস ও উক্তি সাজিয়েছি। পুরো লেখাটি পড়ুন, হয়তো এখানেই খুঁজে পাবেন আপনার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিখুঁত বর্ণনা।
স্বার্থপর দুনিয়া নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া
স্বার্থের পৃথিবীতে কেউ কারো না, সবাই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত।
যাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম, সে-ই শিখিয়ে দিল চোখ বন্ধ করে পথ চলতে নেই।
পৃথিবীটা গোল, তাই আজ যে স্বার্থের জন্য আমাকে ঠকাল, কাল সে অন্য কারো কাছে ঠকবে।
উপকার করে প্রতিদান আশা করা বোকামি, কারণ মানুষ উপকার ভুলে যেতে সময় নেয় না।
স্বার্থপরদের ভিড়ে নিঃস্বার্থ মানুষগুলো আজ কোণঠাসা। সততার দাম এখানে কানাকড়ি।
মুখোশের আড়ালে থাকা মানুষগুলো বড্ড ভয়ঙ্কর। তাদের চিনি চিনি করেও চেনা যায় না।
নিজের স্বার্থে আঘাত লাগলে তথাকথিত আপনজনরাও দাঁত নখ বের করে তেড়ে আসে।
সবাইকে আপন ভাবার বদভ্যাস আমার গেল না। তাই বারবার ঠকতে হয়।
মিষ্টি কথার ফাঁদে ফেলে যারা কাজ হাসিল করে, তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকাই শ্রেয়।
কারো উপকারের কথা মনে রাখার মেমোরি কার্ডটা মানুষের মস্তিষ্কে নেই, ওটা স্বার্থের ভাইরাসে নষ্ট।
মানুষের রঙ বদলানো ও স্বার্থপরতা নিয়ে স্ট্যাটাস
গিরগিটি রঙ বদলাতে সময় নেয়, কিন্তু মানুষ মুহূর্তেই খোলস পাল্টে ফেলে।
কালকের অতি আপনজন আজ স্বার্থে আঘাত লাগতেই অচেনা দুশমন হয়ে গেল।
ঋতু বদলায় প্রকৃতির নিয়ম মেনে, আর মানুষ বদলায় স্বার্থের প্রয়োজনে।
মানুষের রঙ বদলানোর দক্ষতা দেখে রংধনুও লজ্জা পাবে।
মুখে মধু আর অন্তরে বিষ নিয়ে চলা মানুষগুলোর রঙ বোঝা বড় দায়।
পরিস্থিতি বদলালে মানুষের কথার সুরও বদলে যায়। গতকালের প্রতিশ্রুতি আজ তাদের কাছে মূল্যহীন।
প্রয়োজন ফুরালে সবাই অচেনা হয়ে যায় নিয়ে স্ট্যাটাস
প্রয়োজন মিটে গেলে চেনা মানুষটাও রাস্তা বদল করে। আমি তখন এক বাতিল আসবাবপত্র।
কাজ শেষে ছুড়ে ফেলা টিস্যুর মতোই আমাদের ব্যবহার করা হয়। এটাই আধুনিক সম্পর্ক।
যাদের প্রয়োজনে নিজেকে উজাড় করে দিলাম, কাজ শেষে তারা নামটাও মনে রাখল না।
প্রয়োজন ফুরালে ফোনলিস্টের প্রিয় নামটাও ব্লকলিস্টে চলে যায়।
সূর্য ডুবলে যেমন ছায়া হারিয়ে যায়, স্বার্থ ফুরালে তেমনি প্রিয় মানুষগুলো উধাও হয়ে যায়।
যাদের সিঁড়ি বানিয়ে ওপরে উঠল, কাজ শেষে সেই সিঁড়িতেই লাথি মারল।
স্বার্থের দুনিয়ায় আপন মানুষ চেনা দায় নিয়ে স্ট্যাটাস
রক্তের বাঁধন এখন নামমাত্র; বিপদে ছায়া দেওয়ার মতো মানুষ মেলা ভার।
সুসময়ে বন্ধুর অভাব হয় না, কিন্তু দুঃসময়ে চারপাশে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই।
যাকে ভাই বলে বুকে জড়ালাম, সে-ই সুযোগ বুঝে পিঠে ছুরি মারল। আপন পর চেনা বড় দায়।
এত মানুষের ভিড়েও বিশ্বাস করার মতো একটা মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
টাকার গন্ধে মানুষ সম্পর্ক গড়ে, আবার টাকার অভাবেই সম্পর্ক ভাঙে।
স্বার্থপর দুনিয়া নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
দুনিয়াটা এখন একটা বিশাল রঙ্গমঞ্চ, আর আমরা সবাই এখানে যার যার স্বার্থের পুতুল। যতক্ষণ আপনার দেওয়ার মতো কিছু আছে—হোক সেটা টাকা, ক্ষমতা বা শ্রম—ততক্ষণ দেখবেন চারপাশ লোকে লোকারণ্য। সবাই আপনাকে মাথায় করে রাখবে। কিন্তু যেই মুহূর্তে আপনার ঝুলি শূন্য হবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই দেখবেন চেনা মুখগুলো ভোজবাজির মতো মিলিয়ে গেছে। রক্তের সম্পর্কই বলুন আর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, স্বার্থের কাছে সব সম্পর্কই বড্ড ঠুনকো। দিনশেষে সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত, অন্যের চিতা জ্বলল কি না, তা দেখার সময় এই যান্ত্রিক শহরে কারো হাতে নেই।
আগে জানতাম মানুষ মানুষের জন্য, কিন্তু এখন দেখি মানুষ শুধুই নিজের জন্য। নিজের আখের গোছাতে গিয়ে অন্যের ক্ষতি করতেও মানুষের বিবেকে বাধে না। যাকে আপনি নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করবেন, দেখবেন সেই মানুষটাই আপনার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে পিঠে ছুরি বসাবে। এখানে সরলতার কোনো দাম নেই, বোকা হয়ে বেঁচে থাকাটাই যেন পাপ। স্বার্থের সংঘাত লাগলে আপন ভাইও পর হয়ে যায়। মুখোশধারী এই মানুষগুলোর ভিড়ে আসল মানুষ চেনা সত্যিই দায়।
বিনিময় ছাড়া এখন আর কেউ হাসে না, কথা বলে না। প্রতিটি সম্পর্কের পেছনেই লুকিয়ে থাকে কোনো না কোনো গাণিতিক হিসাব। “তুমি আমার জন্য কী করেছ?”—এই প্রশ্নটাই এখন সম্পর্কের মাপকাঠি। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বা উপকারের গল্পগুলো এখন শুধু বইয়ের পাতাতেই শোভা পায়। বাস্তবে সবাই এক একজন পাকা ব্যবসায়ী। লাভ-ক্ষতির হিসাব কষতে কষতে আমরা মানবিকতাকেই বিসর্জন দিয়ে ফেলেছি। এই স্বার্থপর পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে নিজের মনটাকে পাথরের মতো শক্ত করা ছাড়া উপায় নেই।
আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে সততার পুরস্কার হলো অপমান, আর ছলনার পুরস্কার হলো হাততালি। ভালো মানুষ সেজে থাকা ধূর্ত লোকগুলোই সমাজের উচ্চাসনে বসে আছে। অথচ যারা সত্যিকারের পরোপকারী, তাদের কপালে জোটে শুধুই অবহেলা। নিজের স্বার্থের জন্য মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। নিজের সুখের প্রাসাদ গড়তে গিয়ে অন্যের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেওয়াটাই এখনকার কথিত স্মার্টনেস।
মানুষ কেন এতটা স্বার্থপর হয় তা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
মানুষের চামড়ার নিচে যে এত হিংস্রতা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়। ছোটবেলা থেকে আমরা শিখছি “শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং”, কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে সেই শিক্ষা উবে যায়। প্রতিযোগিতার এই যুগে সবাই জিততে চায়, আর জেতার নেশায় অন্ধ হয়ে তারা ভুলে যায় মানবিকতার পাঠ। তারা ভাবে, সব কিছু নিজের দখলে থাকলেই বুঝি শান্তি। অথচ এই হীন মানসিকতাই তাদের একা করে দেয়। অন্যের ভালো দেখতে না পারার রোগটাই মানুষকে স্বার্থপরতার অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।
সভ্যতা যত এগোচ্ছে, মনের দিক থেকে আমরা ততটাই পিছিয়ে পড়ছি। কংক্রীটের এই জঙ্গলে মানুষের মনটাও কংক্রীটের মতো শক্ত হয়ে গেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা সারা বিশ্বের সাথে যুক্ত, কিন্তু পাশের ফ্লাটের মানুষটার খোঁজ রাখার প্রয়োজন বোধ করি না। এই আত্মকেন্দ্রিকতা একদিনে তৈরি হয়নি। ভোগবাদী সমাজব্যবস্থা আমাদের শিখিয়েছে “আমি” এবং “আমার” বাইরে আর কোনো জগত নেই। অন্যের দুঃখ-কষ্ট এখন আমাদের স্পর্শ করে না, নিজের আরাম-আয়েশটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লোভ মানুষের আদিম রিপু, আর এই লোভই স্বার্থপরতার মূল কারণ। যার আছে সে আরও চায়। এই চাওয়ার কোনো শেষ নেই। নিজের পকেট ভারী করার জন্য মানুষ নীতি-নৈতিকতা সব বিসর্জন দিচ্ছে। তারা ভুলে গেছে যে কবরে যাওয়ার সময় কিছুই সাথে যাবে না। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের মোহে পড়ে আমরা শাশ্বত সত্যকে অস্বীকার করছি। নিজের ভোগ-বিলাসের জন্য অন্যের মুখের গ্রাস কেড়ে নিতেও আমাদের হাত কাঁপে না। বিবেকের এই মৃত্যু সত্যিই ভয়ের কারণ।
আত্মতুষ্টির অভাব মানুষকে স্বার্থান্বেষী করে তোলে। অন্যের কী আছে তা দেখে আমরা প্রতিনিয়ত ঈর্ষান্বিত হই। নিজেকে বড় প্রমাণ করার জন্য অন্যকে ছোট করাটা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমরা ভুলে গেছি যে, অন্যকে সাহায্য করলে নিজের ভাণ্ডার কমে না। মহত্ত্ব দেখানোর মতো বড় কলিজা এখন আর দেখা যায় না। সংকীর্ণ মনের মানুষগুলো সমাজটাকে বিষিয়ে তুলছে।
স্বার্থপর আত্মীয় বা বন্ধু চেনার উপায় নিয়ে পোস্ট
সুসময়ের কোকিলদের চেনা খুব সহজ, কিন্তু আমরা আবেগের বশে অন্ধ হয়ে থাকি। খেয়াল করে দেখবেন, যখন আপনার হাতে টাকা থাকে বা আপনি ভালো পজিশনে থাকেন, তখন আত্মীয়-স্বজনের অভাব হয় না। তারা মিষ্টি কথায় আপনাকে ভোলাতে ওস্তাদ। কিন্তু যেই একটু বিপদে পড়বেন, দেখবেন ফোন করলে তারা ব্যস্ততার অজুহাত দেখাবে। এমনকি রাস্তাঘাটে দেখা হলে না চেনার ভান করে এড়িয়ে যাবে। এই গিরগিটি মানুষগুলো থেকে শত হাত দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বন্ধুত্বের পরীক্ষা হয় বিপদের সময়। রেস্টুরেন্টে বিল দেওয়ার সময় বা পার্টি করার সময় যারা “দোস্ত দোস্ত” করে জান দিয়ে দেয়, তাদের আসল রূপ বের হয় ধার চাওয়ার সময়। আপনি বিপদে পড়লে এরা গায়েব হয়ে যায়, উল্টো আপনার নামে বদনাম রটায়। এরা আপনার সুখের ভাগীদার হতে চায়, কিন্তু দুঃখের ভার নিতে নারাজ। এই পরজীবী প্রাণীগুলোকে জীবন থেকে ছাঁটাই করাটা জরুরি, নইলে এরা আপনার অস্তিত্বই বিপন্ন করে তুলবে।
কিছু মানুষ আছে যারা শুধু নিজেদের প্রয়োজনে আপনাকে নক করে। কথোপকথন শুরুই হয় “ভাই, একটা উপকার করতে হবে” দিয়ে। আপনার কেমন যাচ্ছে, শরীর ভালো কি না—এসব তাদের জানার বিষয় না। কাজ হাসিল হয়ে গেলে তারা আবার ডুব দেয়। এরা আপনাকে বন্ধু বা আত্মীয় মনে করে না, মনে করে ব্যবহারের টিস্যু পেপার। এদের প্রশ্রয় দেওয়া মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা।
যাদের কাছে আপনার আবেগের কোনো মূল্য নেই, তারা কখনো আপনার আপন হতে পারে না। আপনি অসুস্থ শুনলে যারা দেখতে আসার সময় পায় না, অথচ নিজেদের ছোটখাটো অনুষ্ঠানে আপনাকে দাওয়াত দিয়ে উপহার আশা করে—এরাই আসল স্বার্থপর। এদের চিনে রাখুন। মুখের ওপর না বলতে শিখুন। নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে এই বিষাক্ত সম্পর্কগুলো থেকে বেরিয়ে আসাটাই সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়।
প্রয়োজন শেষ হলে যোগাযোগ বন্ধ করা মানুষ নিয়ে পোস্ট
কাজ আদায়ের জন্য এদের গলার সুর এতটাই নরম থাকে যে মাখনও হার মানবে। ভাই, ব্রাদার, আপু বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে। অথচ কাজটা মিটে গেলেই এদের আসল চেহারা বেরিয়ে আসে। তখন মেসেজ দিলে রিপ্লাই আসে দুই দিন পর, ফোন দিলে ধরে না। এই “ইউজ অ্যান্ড থ্রো” কালচারের মানুষগুলো সমাজের জন্য অভিশাপ। এরা ভুলে যায় যে পৃথিবীটা গোল, আজ আপনি যাকে ব্যবহার করছেন, কাল হয়তো অন্য কেউ আপনাকে ব্যবহার করবে।
কারো উপকার করে প্রতিদান আশা করতে নেই জানি, কিন্তু ন্যূনতম কৃতজ্ঞতাবোধ তো থাকা উচিত। কাজ শেষে একটা “ধন্যবাদ” দেওয়ার সৌজন্যবোধও যাদের নেই, তাদের সাথে সম্পর্ক রাখাটা বোকামি। এরা আপনাকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে উপরে উঠতে চায়, আর উপরে উঠে গেলে সেই সিঁড়িতেই লাথি মারে। এদের অকৃতজ্ঞতা দেখে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই, বরং খুশি হন যে এদের আসল রূপটা আপনি চিনে ফেলেছেন।
প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে যাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়, তারা আসলে সুবিধাবাদী। এদের মেমোরি কার্ডে আপনার নামটা শুধু “দরকারি মানুষ” হিসেবে সেভ করা থাকে। স্বার্থের মেয়াদ শেষ হলে আপনার নামটাও ডিলিট হয়ে যায়। এদের জন্য নিজের মূল্যবান সময় আর শ্রম নষ্ট করবেন না। নিজের গুরুত্ব বুঝতে শিখুন। যারা আপনাকে অপশন হিসেবে রাখে, তাদের আপনিও অপশন হিসেবেই রাখুন।
জীবনে চলার পথে এমন অনেক মীরজাফরের দেখা মিলবে। এরা আপনার কাঁধে বন্দুক রেখে শিকার করবে। আপনি যখন বুঝবেন তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাই আগে থেকেই সতর্ক হোন। যারা বিনা স্বার্থে আপনার খোঁজ নেয় না, তাদের জন্য নিজের দরজা বন্ধ করে দিন। নিজের ভালো থাকার চাবিটা এদের হাতে তুলে দেবেন না। মনে রাখবেন, স্বার্থপররা কখনো কারো বন্ধু হতে পারে না।
স্বার্থপর দুনিয়া নিয়ে ক্যাপশন
পৃথিবীর এই রঙ্গমঞ্চে সবাই অভিনয়ে ব্যস্ত, স্বার্থের টান পড়লেই আসল মুখটা বেরিয়ে আসে।
বিনিময় ছাড়া এখানে কেউ এক পা-ও বাড়ায় না, ভালোবাসার মোড়কে আসলে সবাই নিজের পাওনা বুঝে নিতে ব্যস্ত।
দিনশেষে সবাই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত, অন্যের আবেগ বা কান্না তাদের কাছে মূল্যহীন।
স্বার্থের দুনিয়ায় আবেগি হওয়াটা সবচেয়ে বড় বোকামি, কারণ এখানে চোখের জলের চেয়ে পকেটের ওজনটাই বেশি।
কাছের মানুষগুলো ততক্ষণই পাশে থাকে যতক্ষণ তাদের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয়।
হিসেব-নিকেশের এই পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আশা করাটা মরুভূমিতে এক ফোঁটা জলের প্রত্যাশা করার মতোই হাস্যকর।
স্বার্থপর মানুষদের ভিড়ে নিজেকে ভালো রাখার ক্যাপশন
নিজের মানসিক শান্তি বিসর্জন দিয়ে অন্যের মন জুগিয়ে চলার বোকা দিনগুলো আমি কবেই পেছনে ফেলে এসেছি।
বিষাক্ত মানুষদের ছায়া থেকে নিজেকে যোজন যোজন দূরে রেখেছি বলেই আজকাল আমার আকাশটা এত বেশি নীল।
সবাইকে খুশি করার ব্যর্থ চেষ্টা বাদ দিয়ে নিজের ছোট ছোট শখগুলো পূরণ করাতেই এখন আসল আনন্দ খুঁজে পাই।
প্রত্যাশা কমিয়ে দিয়েছি শূন্যের কোঠায়, তাই এখন আর কারো আচরণে মন খারাপ হয় না।
দিনশেষে আয়নার সামনের মানুষটার হাসিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একলা চলা শিখছি কারণ দুনিয়াটা স্বার্থপর ক্যাপশন
ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার চেয়ে একলা পথ চলার সাহস সঞ্চয় করাটা অনেক বেশি সম্মানের।
দিনশেষে নিজের ছায়াটাই সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী, কারণ আঁধারে সেও কখনো আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সাহস করে না।
কারো হাতের ওপর ভরসা করে পথ চলার দিন শেষ, এখন নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়েই আমি আমার গন্তব্য খুঁজে নেব।
জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে যখন কাউকে পাশে পাইনি, তখনই বুঝেছি এই রণক্ষেত্রে একাই লড়াই করে টিকে থাকতে হবে।
নির্ভরশীলতার শিকল ছিঁড়ে একলা ওড়ার আনন্দ যে পেয়েছে, সে আর কখনো স্বার্থপর মানুষের ভিড়ে ফিরতে চাইবে না।
স্বার্থের আঘাত সয়েও হাসার ক্যাপশন
পিঠে হাজারটা খঞ্জরের আঘাত নিয়েও যারা হাসিমুখে দিন পার করে, তারাই তো জীবনের আসল বাজিগর।
আঘাতের বিনিময়ে আঘাত না দিয়ে বরং এক চিলতে হাসি উপহার দেওয়াটাই আমার প্রতিশোধ নেওয়ার সবচেয়ে প্রিয় ধরণ।
ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে গেলেও বাইরের হাসিমুখটা ধরে রাখা এক ধরণের শিল্প, যা স্বার্থপররা কখনো বুঝতে পারবে না।
হাসিটা আমার বর্ম, যা দিয়ে আমি দুনিয়ার সব স্বার্থপরতা আর আঘাতকে নিমিষেই তুচ্ছ করে দিতে পারি।
মানুষের দেওয়া ক্ষতগুলো শুকিয়ে আমি সেগুলোকে আমার শক্তি বানিয়েছি, তাই তো আজ এত প্রাণবন্তভাবে হাসতে পারি।
স্বার্থপর দুনিয়া নিয়ে উক্তি
পৃথিবীর নিয়ম বড়ই অদ্ভুত, যতক্ষণ দেবে ততক্ষণ পাবে; হাত গুটিয়ে নিলেই সম্পর্ক শেষ। —উইলিয়াম শেক্সপিয়র
সবাই তোমাকে ভালোবাসবে না, কারণ সবার স্বার্থ তোমার সাথে মিলবে না; এই ধ্রুব সত্য মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। —এ পি জে আব্দুল কালাম
স্বার্থের দুনিয়ায় নিঃস্বার্থ মানুষ খুঁজে পাওয়া খড়ের গাদায় সুঁই খোঁজার চাইতেও কঠিন কাজ। —মহাদেব সাহা
আলো না থাকলে যেমন ছায়াও সঙ্গ ছাড়ে, ঠিক তেমনই সুসময় না থাকলে বন্ধুরাও অচেনা হয়ে যায়। —চাণক্য
মানুষ বড়ই আজব প্রাণী, তারা উপকার মনে রাখে না, কিন্তু সামান্য আঘাতেই আজীবনের শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। —মার্ক টোয়েন
যাদের জন্য তুমি সাগরের মতো বিশাল হবে, তারাই একদিন তোমাকে এক ফোঁটা জলের জন্য হাহাকার করাবে। —সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভালোবাসা কিংবা বন্ধুত্ব, সব সম্পর্কের আড়ালেই কোথাও না কোথাও সূক্ষ্ম স্বার্থ লুকিয়ে থাকে। —শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
উপকার করে প্রতিদান আশা করা বোকামি, কারণ মানুষ সুবিধাবাদী হতে বেশি পছন্দ করে। —স্বামী বিবেকানন্দ
পৃথিবীটা একটা রঙ্গমঞ্চ, এখানে সবাই নিজের স্বার্থ হাসিলের অভিনয়ে মগ্ন থাকে অহর্নিশ। —হুমায়ুন আজাদ
স্বার্থপর মানুষ ও দুনিয়া নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের উক্তি
মানুষের সবথেকে বড় সমস্যা হলো তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত আশা করে, আর শেষে কষ্ট পায় নিজের দোষেই। —হুমায়ূন আহমেদ
স্বার্থপরদের একটা বিশেষ গুণ হলো, তারা নিজেদের দোষ কখনো দেখতে পায় না, সব সময় অন্যকে দায়ী করে শান্তি পায়। —হুমায়ূন আহমেদ
কেউ কারো জন্য অপরিহার্য না; সময় হলে সবাই বিকল্প খুঁজে নিতে জানে, এটাই জগতের কঠিন বাস্তবতা। —হুমায়ূন আহমেদ
প্রয়োজনে মানুষ ফেরেশতা সাজে, আর প্রয়োজন মিটলে শয়তানের রূপ নিতেও তাদের বাধে না। —হুমায়ূন আহমেদ
আমরা সবাই মূলত একা, স্বার্থের সুতোয় একে অপরের সাথে কোনোমতে ঝুলে আছি। —হুমায়ূন আহমেদ
অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ, আর অতি মিষ্টি কথা স্বার্থপরতার লক্ষণ; দুটো থেকেই সাবধান থাকা জরুরি। —হুমায়ূন আহমেদ
কাউকে বিশ্বাস করার আগে দশবার ভাবা উচিত, কারণ সবথেকে কাছের মানুষটাই পিঠে ছুরি মারে নিখুঁতভাবে। —হুমায়ূন আহমেদ
স্বার্থপর দুনিয়া নিয়ে ছন্দ
প্রয়োজন ফুরালে অচেনা সবাই, কেউ রাখে না খোঁজ,
স্বার্থের এই বাজারেতে বিকোয় মানুষ রোজ।
মিষ্টি কথার আড়ালেতে থাকে বিষের ছুরি,
বিশ্বাস করে ঠকলাম আমি, করলে সব চুরি।
পকেটে যার টাকা আছে বন্ধু জুটে ঢের,
বিপদে পড়লে দেখবে তুমি আপন মানুষও ফের।
মুখোশ পরা মানুষগুলো সাজে সাধুর বেশে,
সুযোগ পেলে ছোবল মারে আপন মনে হেসে।
রক্তের বাঁধন তুচ্ছ হয় টাকার গরমে,
মানবতা আজ কাঁদছে দেখো লাজে আর শরমে।
দেওয়ার বেলায় হাতটা খালি নেওয়ার বেলায় দরাজ,
স্বার্থপরের রাজ্যে তারাই এখন মহারাজ।
ভালোবাসার দাম নেই ভাই দাম আছে টাকার,
টাকা না থাকলে সমাজ তোমায় দেবে দূর ছাই আকার।
স্বার্থপর দুনিয়া নিয়ে কবিতা
মুখের ওপর সবাই ভালো পিঠের পিছে ছুরি,
স্বার্থ ছাড়া এই ভুবনে সবই যে ভাই ভুরি।
প্রয়োজনে কাছে টানে কাজ ফুরালে পর,
চেনা মানুষ অচেনা হয় ভেঙে দিয়ে ঘর।
টাকা থাকলে বন্ধু জোটে পকেট হলে ফাঁকা,
মানুষ চেনা বড়ই কঠিন মুখোশ দিয়ে ঢাকা।
রক্তের টানও ফিকে হয় লোভের ইশারায়,
বুকের বামে জমছে পাথর একলা নিরালায়।
বিনিময়ে সব মেলে আজ বিনা মূল্যে ছাই,
ভালোবাসাও বিক্রি হয় যখন যা চাই।
সরল মনে বিশ্বাসেতে দিলেই তুমি পা,
দেখবে শেষে পুড়ছে কেমন তোমার দুটি পা।
উপকার আর মনে রাখে না উল্টো মারে ঘা,
এই দুনিয়ার নিয়ম এটা সরে দাঁড়া বা যা।
নিজের ভালো সবাই বোঝে অন্যেরটা সব বাদ,
স্বার্থপরের ভিড়েতে ভাই সবই বিস্বাদ।
মিষ্টি কথায় ভুলিস না রে সব যে অভিনয়,
কাজের বেলায় কাজি আর কাজ ফুরালে পাজি হয়।
বুকের পাঁজর ভাঙবে জেনেই বাসিস ভালো তারে,
দিন ফুরোলে দেখবি কেমন ভাসিস অন্ধকারে।
স্বার্থপর দুনিয়া ও কিছু কথা
দুনিয়াটা বড় বিচিত্র; এখানে প্রয়োজনের সময় সবাই আপন সাজে, কিন্তু কাজ ফুরিয়ে গেলে চেনার ভানও করে না।
নিজের ভালো থাকার দায়িত্বটা নিজের কাঁধেই তুলে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যের দয়ার ওপর বেঁচে থাকার চেয়ে নিজের সামান্য উপার্জনে মাথা উঁচু করে বাঁচা অনেক সম্মানের।
বিপদ এলেই বোঝা যায় কে আসল হিতাকাঙ্ক্ষী আর কে মুখোশধারী। সুসময়ে যারা মধুর হাড়ি নিয়ে ঘুরঘুর করে, দুঃসময়ে তাদের টিকিটাও খুঁজে পাওয়া ভার।
স্বার্থপরদের আচরণে কষ্ট না পেয়ে সেটাকে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করাই উত্তম। তাদের অবহেলা বা বিশ্বাসঘাতকতা আপনাকে ভেঙে ফেলার জন্য আসে না, বরং আরও শক্ত করে গড়ে তোলার জন্য আসে।
একলা চলার সাহস সঞ্চয় করুন, কারণ জীবনের কঠিনতম লড়াইগুলো একাই লড়তে হয়। সঙ্গী-সাথী পথের দেখা মাত্র, গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে নিজের মনের জোরই আসল সম্বল।
দিনশেষে নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকাটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। দুনিয়া কী ভাবল বা কী বলল, তাতে বিচলিত না হয়ে নিজের পথে অবিচল থাকাই বীরের ধর্ম।
