বাবা মেয়ে নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ৩৬৫+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র এবং নিঃস্বার্থ সম্পর্কের নাম হলো বাবা ও মেয়ে। এই বিশাল সংগ্রহে আমরা সেই অটুট বন্ধনের কথাই তুলে ধরেছি, যা আপনার মনের অব্যক্ত আবেগগুলোকে শব্দে রূপ দেবে এবং বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে সাহায্য করবে।
বাবা মেয়ে নিয়ে উক্তি
বাবার ছায়া মানেই সন্তানের জন্য বটবৃক্ষের শীতলতা। মহান ব্যক্তিদের এই বাণীগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সন্তানের জন্য বাবার ত্যাগ কতটা বিশাল এবং এই সম্পর্কটা ঠিক কতটা গভীর ও মর্যাদাপূর্ণ।
একজন বাবার কাছে তার মেয়ে কখনোই বড় হয় না, সে সব সময় সেই ছোট্ট রাজকন্যই থেকে যায়।
—হুমায়ূন আহমেদ
মেয়েরা বাবার দুঃখ বুঝতে পারে, যেটা ছেলেরা অনেক সময় বুঝতে পারে না। বাবার কষ্ট মেয়েরাই ভাগ করে নেয়।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাবা হলেন সেই মানুষ, যিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করেন।
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পৃথিবীর সব পুরুষ হয়তো প্রতারক হতে পারে, কিন্তু একজন বাবা কখনোই তার মেয়ের সাথে প্রতারণা করেন না।
—সমরেশ মজুমদার
মেয়েরা যখন বাবার কাঁধে মাথা রাখে, তখন তাদের পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে মনে হয়।
—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বাবার শাসন সাময়িক, কিন্তু তার ভালোবাসা চিরস্থায়ী; মেয়েরা এই সত্যটা খুব ভালো করেই জানে।
—বুদ্ধদেব গুহ
একজন সফল বাবার পেছনে তার মেয়ের অনুপ্রেরণা থাকে, যে বাবাকে সুপারহিরো মনে করে।
—ইমদাদুল হক মিলন
বাবা এবং মেয়ের সম্পর্কটা এমন, যেখানে কথা না বলেও সব কিছু বুঝে নেওয়া যায়।
—মহাদেব সাহা
বাবার ঘামের গন্ধ মেয়ের কাছে কোনো দুর্গন্ধ না, বরং পরিশ্রমের সুবাস।
—আনিসুল হক
যে বাবার মেয়ে নেই, সে জানে না পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি ডাক ‘বাবা’ শোনার সুখ।
—সেলিনা হোসেন
বাবার হাত ধরেই মেয়েরা প্রথম পৃথিবী চিনতে শেখে, হাঁটতে শেখে।
—নির্মলেন্দু গুণ
মেয়েরা বাবার ছায়া হয়ে থাকে, বাবার সুখেই তারা নিজেদের সুখ খুঁজে পায়।
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
বাবার কোলে মাথা রাখার শান্তি পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।
—তসলিমা নাসরিন
বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসা নিয়ে উক্তি
বাবার প্রতি কন্যার ভালোবাসা কোনো শর্ত মানে না, তা জন্মগত এবং চিরস্থায়ী। এই উক্তিগুলো সেই নীরব ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, যেখানে শাসন আর আদরের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ থাকে যা হৃদয় স্পর্শ করে।
আমি রাজপ্রাসাদ চাই না, আমি চাই আমার বাবার ওই ছোট্ট কুঁড়েঘর, যেখানে শান্তি আছে।
—হুমায়ূন আহমেদ
বাবাকে ভালোবাসতে কোনো দিবসের প্রয়োজন হয় না, প্রতিটা দিনই বাবার জন্য।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার সব আবদার, সব জেদ একমাত্র বাবার কাছেই খাটে; তিনি ছাড়া আর কে সইবে?
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বাবার চোখের জল মেয়েরা সহ্য করতে পারে না, তখন তাদের পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসে।
—সমরেশ মজুমদার
আমি বাবাকে ভালোবাসি, কারণ তিনি আমাকে পৃথিবী ভালোবাসতে শিখিয়েছেন।
—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বাবার বকুনি খাওয়ার মধ্যেও এক ধরণের ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে, যা বড় হলে বোঝা যায়।
—বুদ্ধদেব গুহ
আমার সাহসের উৎস আমার বাবা, তিনি পাশে থাকলে আমি বিশ্বজয় করতে পারি।
—ইমদাদুল হক মিলন
বাবার পুরোনো চশমাটা দেখলেই বুকের ভেতর এক অজানা মায়া কাজ করে।
—মহাদেব সাহা
বাবাকে খুশি দেখার জন্য মেয়েরা নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে পারে।
—আনিসুল হক
বাবার মতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এই পৃথিবীতে আর কেউ দিতে পারবে না।
—সেলিনা হোসেন
আমি বাবার রাজকন্যা হতে চাই না, আমি বাবার গর্ব হতে চাই।
—নির্মলেন্দু গুণ
বাবার গায়ের সেই চেনা গন্ধটা আমাকে সব সময় ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
বাবাকে জড়িয়ে ধরলে মনে হয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।
—হেলাল হাফিজ
একজন মেয়ের প্রথম ভালোবাসা তার বাবা উক্তি
প্রতিটি মেয়েই ছোটবেলা থেকে তার বাবার মাঝে স্বপ্নের রাজপুত্রকে খুঁজে পায়। এই কথাটি সাধারণ কোনো বাক্য না, বরং সেই বিশ্বাসের ভিত্তি যা মেয়েকে শেখায় একজন পুরুষ কতটা যত্নবান ও দায়িত্বশীল হতে পারে।
প্রত্যেক মেয়ের প্রথম হিরো তার বাবা, এবং এই স্থান কেউ দখল করতে পারে না।
—হুমায়ূন আহমেদ
মেয়েরা ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর মাঝে অবচেতনভাবেই বাবার ছায়া খোঁজে।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার ভালোবাসার মানদণ্ড আমার বাবা, তাকে দেখেই আমি শিখেছি ভালোবাসা কী।
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
রাজপুত্র আসার আগেও মেয়েরা একজন রাজার প্রেমে পড়ে, তিনি হলেন বাবা।
—সমরেশ মজুমদার
বাবা হলেন সেই পুরুষ, যিনি কখনো মেয়ের হৃদয় ভাঙেন না।
—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
প্রথম ভালোবাসা ভোলা যায় না, তাই মেয়েরা বাবাকে আজীবন মনে রাখে।
—বুদ্ধদেব গুহ
বাবা শিখিয়েছেন কীভাবে সম্মান পেতে হয় এবং কীভাবে সম্মান দিতে হয়।
—ইমদাদুল হক মিলন
পৃথিবীর সব পুরুষ একদিকে, আর আমার বাবা অন্যদিকে; তুলনা চলে না।
—মহাদেব সাহা
বাবা আমার প্রথম প্রেম, শেষ আশ্রয় এবং আজীবনের বন্ধু।
—আনিসুল হক
যে পুরুষ মেয়েকে রানীর মতো রাখে, মেয়েরা তাকেই রাজাসনে বসায়।
—সেলিনা হোসেন
বাবার হাত ধরেই প্রেমের প্রথম পাঠ শিখেছি—সেটা হলো বিশ্বাস।
—নির্মলেন্দু গুণ
আমার হৃদয়ের প্রথম রাজা আমার বাবা, সেখানে আর কারো রাজত্ব চলে না।
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
বাবার ভালোবাসাই মেয়েকে শিখিয়ে দেয় সে কতটা দামী।
—তসলিমা নাসরিন
বাবা ও মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে ইসলামিক উক্তি
ইসলাম ধর্মে কন্যা সন্তানকে রহমত এবং জান্নাতের চাবিকাঠি বলা হয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই সম্পর্কটি কতটা সম্মান ও বরকতের, তা এই বাণীগুলো পাঠ করলেই বোঝা যায়, যা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
যার তিনটি কন্যা আছে এবং সে তাদের ধৈর্য সহকারে লালন-পালন করে, তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড়াল হবে।
—আল-হাদিস
কন্যা সন্তান হলো ঘরের রহমত, আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকেই কন্যা দান করেন।
—হযরত আলী (রাঃ)
যে ব্যক্তি বাজার থেকে ফলমূল কিনে আগে মেয়ের হাতে দেয়, আল্লাহ তার ওপর খুশি হন।
—আল-হাদিস
কন্যারা হলো জান্নাতের প্রজাপতি, তাদের অনাদর করতে নেই।
—ইমাম গাজ্জালী
ফাতেমা (রাঃ) যখন ঘরে আসতেন, মহানবী (সা.) দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানাতেন এবং নিজের জায়গায় বসাতেন।
—হাদিস শরিফ
যে পিতা তার কন্যাকে সুশিক্ষা এবং সৎ পাত্রে দান করে, সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে।
—রাসূলুল্লাহ (সা.)
কন্যা সন্তানের জন্ম হলে অখুশি হওয়া জাহেলিয়াতের লক্ষণ।
—আল-কুরআনের শিক্ষা
মেয়েরা বাবার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়।
—সাহাবায়ে কেরামের বাণী
কন্যা সন্তানকে বোঝা ভেবো না, কারণ তার রিজিক আল্লাহ আগেই নির্ধারণ করে রেখেছেন।
—ইমাম শাফিঈ
বাবার কাঁধে জানাজা যেমন ভারী, তেমনি বাবার কাছে কন্যার বিদায়ও ভারী।
—ইসলামিক চিন্তাবিদ
আল্লাহ যখন কোনো বান্দার ওপর রাজি হন, তখন উপহার হিসেবে তাকে কন্যা সন্তান দেন।
—সংগৃহীত
কন্যাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো, কারণ তারা কোমল হৃদয়ের অধিকারী।
—হযরত উমর (রাঃ)
উত্তম পিতা সেই, যে তার কন্যাকে দ্বীনি শিক্ষা দেয় এবং পর্দার সাথে বড় করে।
—আব্দুল কাদির জিলানী
বাবা মেয়ে নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া
ফেসবুকে বাবার সাথে কাটানো মুহূর্ত বা তাঁকে নিয়ে গর্ব করার জন্য যুতসই শব্দের প্রয়োজন হয়। এই আইডিয়াগুলো আপনার টাইমলাইনকে ভালোবাসার রঙে রাঙিয়ে তুলবে এবং বাবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলবে সবার মনে।
মেয়ের আবদার মেটাতে বাবার পকেট সব সময় অবারিত।
বাবার ছায়াতেই মেয়েরা সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
আমার হিরো আমার বাবা স্ট্যাটাস
সুপারম্যান বা স্পাইডারম্যান নয়, ঘামে ভেজা শার্ট পরা বাবাই হলেন বাস্তব জীবনের আসল নায়ক। এই স্ট্যাটাসগুলো সেই সুপারহিরোর বন্দনা গায়, যিনি নিজের সবটুকু দিয়ে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে সদা প্রস্তুত থাকেন।
নিজে না পরে আমাকে সাজানোর নামই বাবা।
বাবার পরিশ্রমী হাত দুটোই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবাকে মিস করা নিয়ে স্ট্যাটাস
বিয়ের পর বাবার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট কেবল মেয়েরাই বোঝে। অচেনা পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সময় বাবার সেই অভয়বাণী আর আদরের ডাকটা যে কতটা মনে পড়ে, তা এই আবেগঘন স্ট্যাটাসগুলোতে ফুটে উঠেছে।
শ্বশুরবাড়ির জাঁকজমক থাকলেও বাবার বাড়ির সেই শান্তি নেই।
বাবার আদরের ডাক শোনার জন্য কান দুটো ব্যাকুল হয়ে থাকে।
নতুন সংসারে মানিয়ে নিতে গিয়ে বাবার অভয়বাণী বড্ড মিস করি।
বাবা, তোমার রাজকন্যে আজ অন্য বাড়ির দায়িত্ববান বউ।
বাবার বাড়ির পথটা এখন বড্ড দূরের মনে হয়।
বাবার বুকে মাথা রেখে কাঁদার সুযোগটা এখন আর পাই না।
বাবার শাসন ও মেয়ের ভালোবাসা নিয়ে স্ট্যাটাস
বাবার বকুনি খাওয়ার মাঝেও যে এক ধরণের নিরাপত্তা আছে, তা বড় হলে বোঝা যায়। সেই কড়া শাসনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোমল হৃদয়টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই লেখাগুলো দারুণ মাধ্যম হতে পারে।
বাবার শাসন ছিল বলেই আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি।
বাইরে কঠোর হলেও বাবার ভেতরটা মোমের মতো নরম।
বাবার বকুনি খাওয়ার দিনগুলোই ছিল জীবনের সেরা সময়।
শাসন করে বুকে টেনে নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র বাবারই আছে।
বাবার রাগী চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসীম মমতা।
মৃত বাবাকে নিয়ে মেয়ের কষ্টের স্ট্যাটাস
যার বাবা নেই, তার মাথার ওপর ছাদ নেই। এই স্ট্যাটাসগুলো পিতৃহারা কন্যার বুকের ভেতর জমাট বাঁধা কান্নার বহিঃপ্রকাশ। বাবাকে ছাড়া বেঁচে থাকা যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক, তা এই লাইনগুলো পড়লে চোখের জল ধরে রাখা দায়।
মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া সরে গেলে পৃথিবীটা বড়ই নিষ্ঠুর লাগে।
বাবা নেই, তাই আবদার করার মানুষটাও আজ হারিয়ে গেছে।
বাবার কবরের পাশে দাঁড়ালে বুকটা হাহাকার করে ওঠে।
বাবাকে ছাড়া প্রতিটি উৎসব বড্ড পানসে, বড্ড কষ্টের।
বাবা নামক বটগাছটা নেই, তাই রোদের তাপ আজ বড়ই প্রখর।
স্মৃতির পাতায় বাবার মুখটা ভাসলেই চোখের জল বাঁধ মানে না।
ওপারে ভালো থেকো বাবা, এপারে তোমার মেয়ে বড়ই একা।
বাবা মেয়ে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
এক লাইনের কথায় সব ভাব প্রকাশ করা যায় না, তাই মাঝে মাঝে বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন হয়। এই পোস্টগুলো বাবার ত্যাগের মহিমা এবং মেয়ের অনুভূতির গভীরতা সবার সামনে তুলে ধরার জন্য নিখুঁত।
বাবার কাঁধের মতো নিরাপদ আশ্রয় পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। ছোটবেলায় ওই কাঁধে চড়েই তো পৃথিবী দেখা শুরু। তখন মনে হতো, বাবা পাশে থাকলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাকে ছুঁতে পারবে না। আজও যখন খুব ভয় পাই, বাবার ওই আশ্বাসবাণী—”মা রে, চিন্তা করিস না”—সব ভয় দূর করে দেয়।
মেয়েরা নাকি বাবার রাজকন্যা। কথাটা একদম সত্য। আমার ছোটখাটো আবদার মেটানোর জন্য বাবা নিজের কত শখ বিসর্জন দিয়েছেন, তার হিসেব কোনোদিন করা হয়নি। ছেঁড়া জুতো সেলাই করে পরেছেন, কিন্তু আমার ঈদের জামাটা হতে হবে সেরা। এই ঋণের বোঝা শোধ করার সাধ্য আমার নেই।
শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় বাবার চোখের জল লুকানোর দৃশ্যটা আজীবন মনে গেঁথে থাকবে। যে মানুষটা সারা জীবন শক্ত পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন, মেয়েকে বিদায় দেওয়ার সময় তিনিও যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যান। মেয়েরা আসলে বাবার কলিজার টুকরো, ছিঁড়ে নেওয়া কি অত সহজ?
বাবা ও মেয়ের সম্পর্কের পবিত্রতা নিয়ে পোস্ট
এই সম্পর্কটি জান্নাতি সুতোর বাঁধনে তৈরি। এই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে কেন বাবা-মেয়ের সম্পর্ককে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্ক বলা হয়, যেখানে কোনো কলুষতা বা স্বার্থের স্থান নেই।
বাবা আর মেয়ের সম্পর্কের কোনো নাম দিতে হয় না, সংজ্ঞা লাগে না। নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সেরা উদাহরণ তো এটাই। বাবা কখনো মেয়ের কাছে প্রতিদান চান না, চান মেয়েটা ভালো থাকুক। আর মেয়ের কাছে বাবাই হলো প্রথম সুপারহিরো, যার কোনো ডুপ্লিকেট হয় না।
মেয়েরা যখন কাঁদে, বাবার বুকের ভেতরটা তখন দুমড়ে মুচড়ে যায়। মুখে হয়তো কিছু বলেন না, কিন্তু আড়ালে চোখের জল ফেলেন। বাবার ভালোবাসা সবসময় প্রকাশ পায় না, ওটা নীরব নদীর মতো বয়ে চলে। এই গভীরতা মাপা সাধ্যের বাইরে।
বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর মেয়েরা যখন বাবার বাড়ি ফেরে, তখন বাবার মুখের হাসিটা দেখার মতো হয়। মনে হয় যেন হারানো ধন ফিরে পেয়েছেন। আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া আর পছন্দের খাবারটা খাইয়ে দেওয়ার মধ্যে যে সুখ, তা আর কোথাও মিলবে না।
কেন মেয়েরা বাবার বেশি আদরের হয় সেই নিয়ে পোস্ট
প্রকৃতিগতভাবেই বাবারা মেয়েদের প্রতি একটু বেশি দুর্বল থাকেন। এই লেখার মাধ্যমে সেই মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগীয় কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা ব্যাখ্যা করে কেন মেয়েরা বাবার চোখের মণি হয়ে থাকে।
মায়ের কাছে বকুনি খাওয়ার পর বাবার পেছনে লুকানোর স্মৃতি আমাদের সবার আছে। বাবারা কেন জানি মেয়েদের ওপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারেন না। মেয়েদের ওই মায়াভরা মুখের দিকে তাকালে বাবার সব রাগ জল হয়ে যায়। প্রকৃতির নিয়মেই হয়তো বাবারা মেয়েদের একটু বেশিই আগলে রাখেন।
ছেলেদের মানুষ করার জন্য বাবারা একটু কঠোর হন, কিন্তু মেয়েদের বেলায় তাঁরা একদম মাখন। অফিস থেকে ফিরে ক্লান্ত শরীরেও যখন মেয়ে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে, তখন বাবার সব ক্লান্তি নিমেষেই উউধাও হয়ে যায়। এই জাদুর কাঠিটা কেবল মেয়েদের হাতেই থাকে।
মেয়েরা বাবার কষ্টটা খুব দ্রুত বুঝতে পারে। বাবার মুখ দেখেই বলে দিতে পারে শরীর খারাপ কি না বা মন খারাপ কি না। এই যে না বলা কথা বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা, এটার জন্যই বাবারা মেয়েদের ওপর মানসিকভাবে নির্ভর করেন। বন্ধু হয়ে ওঠার শুরুটা এখান থেকেই।
বাবা মেয়ে নিয়ে কিছু কথা
বাবার ঘামের গন্ধে যে পরিশ্রম লুকিয়ে থাকে, তা নিয়ে বড় বড় রচনার চেয়ে ছোট উপলব্ধিই বেশি শক্তিশালী। এখানে সাজানো কথাগুলো আপনাকে নতুন করে বাবার গুরুত্ব বুঝতে শেখাবে।
বাবার কাঁধের ওপর চড়ে পৃথিবী দেখার আনন্দটা শৈশবের সেরা স্মৃতি হয়ে থাকে।
নিজে রোদে পুড়ে ছাতা হয়ে সন্তানের ওপর ছায়া ধরার ক্ষমতা একমাত্র বাবারই আছে।
বাবার জুতোর তলায় ক্ষয়ে যাওয়া প্রতিটি স্তর পরিবারের মঙ্গলের গল্প বলে।
বাবার হাতটি পিঠের ওপর থাকলে কোনো ঝড়কেই ভয় লাগে না।
বাবা কথা কম বলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর কাজের মধ্যেই সব ভালোবাসা প্রকাশ পায়।
প্রতিটি মেয়েই তার বাবার কাছে রাজকন্যা নিয়ে কিছু কথা
বাবার সামর্থ্য কম থাকতে পারে, কিন্তু মেয়েকে তিনি রানীর হালে রাখার চেষ্টা করেন। এই কথাগুলো সেই মুকুটহীন রাজাদের ত্যাগের গল্প শোনায়, যারা নিজেরা না খেয়েও মেয়ের শখ পূরণ করেন।
বাবার কাছে তাঁর মেয়ে সব সময় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী এবং আদরের মানুষ।
নিজে ছেঁড়া জামা পরে মেয়ের জন্য ঈদের সেরা পোশাকটা কেনেন হাসিমুখে।
মেয়ের চোখের জল বাবার বুকটা চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়, তাই তিনি মেয়েকে কাঁদতে দেখতে পারেন না।
সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করার অদম্য সাহস বাবার থাকে।
পৃথিবীর কাছে সে সাধারণ মেয়ে হতে পারে, কিন্তু বাবার রাজ্যে সে-ই একমাত্র রানী।
বাবার শূন্যতা মেয়ের জীবনে কেমন প্রভাব ফেলে সেই কথা
বাবা না থাকলে একটি মেয়ের জীবন যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এই কথাগুলো সেই কঠোর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যা সমাজ ও পরিবারের প্রতিকূলতার মাঝে বাবাহীন মেয়ের টিকে থাকার লড়াইকে তুলে ধরে।
বকা দেওয়ার মানুষটা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতাও তখন বিষের মতো মনে হয়।
সমাজ যখন বাঁকা চোখে তাকায়, তখন বাবার সেই ঢাল হয়ে দাঁড়ানো দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে।
আবদার করার মানুষ নেই, তাই ইচ্ছেগুলো মনের ভেতরেই চাপা পড়ে মরে যায়।
শক্ত হাতে কেউ আর হাত ধরে বলে না—ভয় নেই মা, আমি তো আছি।
বাবার শূন্যস্থান পৃথিবীর কোনো ঐশ্বর্য দিয়ে পূরণ করা অসম্ভব।
বাবা মেয়ে নিয়ে ছন্দ
ছড়ার সুরে বাবার প্রতি ভালোবাসা জানালে তা আরও মিষ্টি শোনায়। এই ছন্দগুলো ছোটবেলার মতোই নিষ্পাপ আবেগে ভরা, যা বাবাকে শোনালে বা মেসেজে পাঠালে তাঁর মুখে হাসি ফুটতে বাধ্য।
বাবার আঙুল ধরে হাঁটা, শিখলাম পথ চলা
বাবা তুমি আছো বলেই, সহজ কথা বলা।
রাজকন্যা নই তো আমি, বাবার কাছে পরি
বাবার বুকে মাথা রেখেই, হাজার স্বপ্ন গড়ি।
পুতুল খেলার দিনগুলো সব, হারিয়ে গেল দূরে
বাবা তোমার ভালোবাসা, বাজছে একই সুরে।
বাবার কাঁধে চড়লে খুকি, আকাশ ছোঁয়া যায়
বাবার মতো এমন ছায়া, কার বা ভাগ্যে পায়?
বিদায় বেলায় বাবার চোখে, জল চিকচিক করে
দূরে গেলেও বাবার দোয়া, থাকে আমার ঘরে।
সবার কাছে বড় হলেও, বাবার ছোট্ট মেয়ে
বাবা তুমিই সেরা মানুষ, ভুবন জগত বেয়ে।
রাগ ভাঙ্গাতে বাবার জুড়ি, মেলা ভার ভাই
বাবা তুমি পাশে থাকলে, আর কী বা চাই?
বাবার টাকায় ফুটানি সব, করলাম সারা বেলা
বাবা ছাড়া বুঝবে কবে, জীবন কত খেলা?
বাবার ছায়া বটগাছ, রোদে দেয় যে আরাম
বাবা তোমায় জানাই আমি, হাজারো সালাম।
বাবা মেয়ে নিয়ে কবিতা
বাবার গভীরতা মাপার সাধ্য সাগরেরও নেই, কিন্তু কবিতার ভাষায় তা ছোঁয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই পংক্তিগুলোতে বাবার স্নেহ, শাসন আর নীরব কান্নার ছবি আঁকা হয়েছে নিপুণ শব্দশৈলীতে।
পুতুল খেলার সেই বয়সে বাবা ছিলেন রাজা,
আমার আবদার মেটাতে তিনি ভুলতেন সব সাজা;
কাঁধে চড়িয়ে দেখাতেন বিশ্ব, বলতেন—মা রে,
তুই হাসলে আমার পৃথিবী জোড়া সুখের ভারে।
বাইরে তিনি কঠোর বটবৃক্ষ, ভেতরে কুসুম,
আমার জ্বরে সারাটা রাত তাঁর চোখে নেই ঘুম;
শাসন করেন বটে, কিন্তু আড়ালে মোছেন চোখ,
বাবা মানেই নির্ভরতা, বাবার মাঝেই স্বর্গলোক।
শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার বেলায় বাবার মলিন মুখ,
লুকিয়ে রাখেন বুকের ভেতর পাহাড় সমান দুখ;
বিদায় দিয়ে ফিরেন যখন শূন্য ঘরের কোণে,
মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে কাঁদেন সঙ্গোপনে।
হাজারো ঝড়ের মাঝেও তিনি অটল পাহাড়,
বাবার ছায়ায় থাকলে ভয় পাই না অন্ধকার;
নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে গড়েন আমার ভুবন,
তাঁর ঘামেই তো রচিত হয় আমার সব অর্জন।
মায়ের বকুনি থেকে বাঁচাতে বাবা ছিলেন ঢাল,
সেই স্মৃতিরা আজও মনে পড়ে সকাল-বিকাল;
বাবার হাতটা ধরলে মনে হতো, বিশ্ব আমার মুঠোয়,
এখন বড় হয়েছি, তবু মন সেই নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে।
রোজ বিকেলে চকলেটের আশায় দাঁড়িয়ে থাকতাম দ্বারে,
বাবা ফিরতেন ক্লান্ত হয়েও হাসিমুখে বারে বারে;
পকেটে তাঁর টান থাকলেও, কমতি ছিল না আদরের,
বাবা মানেই নিঃস্বার্থ প্রেম, ছায়া এক চাদরের।
মেয়ের নাকি বিয়ে হলে পর হয়ে যায় ঘর,
বাবা বলেন, তুই থাকবি হৃদয়ে জনমভর;
দূরত্ব তো কেবল পথের, মনের তো আর না,
বাবার দোয়ায় অমলিন থাকে মেয়ের সব সাধনা।
সবার চোখে তিনি হয়তো সাধারণ এক লোক,
আমার কাছে তিনিই নায়ক, তিনিই আশার আলোক;
বাবার ছেঁড়া জুতো জোড়ায় মিশে আছে কত ত্যাগ,
শোধ হবে না কোনোদিনও সেই ভালোবাসার ব্যাগ।
বৃদ্ধ বয়সে বাবার হাতটা যখন কাঁপে থরথর,
তখন আমি হতে চাই তাঁর লাঠি, তাঁর নির্ভর;
ছোটবেলায় তিনি যেমন আগলে রাখতেন বুকে,
আমিও চাই রাখতে তাঁরে আজীবন পরম সুখে।
