চোখ নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ১৫৮+ স্ট্যাটাস আইডিয়া

কথায় আছে, মুখ মিথ্যা বললেও চোখ কখনো মিথ্যা বলে না। হৃদয়ের সব গোপন কথা, অভিমান কিংবা ভালোবাসা—সবই ফুটে ওঠে এই এক জোড়া চোখে। আপনি কি নিজের সুন্দর চোখের ছবি বা প্রিয়জনের চোখের প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু লিখতে চাইছেন? তাহলে এই আয়োজনটি আপনার জন্যই। এখানে পাবেন আবেগ, প্রেম এবং বাস্তবতার মিশেলে সেরা সব স্ট্যাটাস আইডিয়া।

চোখ নিয়ে উক্তি

কবি-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে দার্শনিক—সবার লেখনীতেই চোখের মহিমা বারবার উঠে এসেছে। চোখের ভাষা বোঝা চাটুিখানি কথা না, এর জন্য দরকার গভীর উপলব্ধিবোধ। বিখ্যাত মনিষীদের দৃষ্টিতে চোখের গভীরতা কেমন ছিল এবং তাঁরা দৃষ্টিশক্তি ও অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে কী ভেবেছেন, সেই অমর বানীগুলোই এখানে সংকলিত হয়েছে।

মুখ মিথ্যা বলতে পারে, কিন্তু চোখ কখনো প্রতারণা করতে জানে না। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চোখের ভাষা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা, যার কোনো বর্ণমালার প্রয়োজন হয় না। — উইলিয়াম শেক্সপিয়ার

সুন্দর চোখ তারাই পায়, যারা অন্যের ভালো দিকগুলো দেখতে পছন্দ করে। — অড্রে হেপবার্ন

চোখ হলো আত্মার জানালা, যার ভেতর দিয়ে মানুষের আসল রূপ দেখা যায়। — লিওনার্দো দা ভিঞ্চি

যার চোখে স্বপ্ন নেই, তার পৃথিবীটা বড্ড ধূসর ও বিবর্ণ। — এ.পি.জে. আব্দুল কালাম

কথা দিয়ে যা বোঝানো সম্ভব না, চোখের এক পলক চাহনিতে তা বুঝিয়ে দেওয়া যায়। — সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

চোখের জল হলো হৃদয়ের সেই ভাষা, যা মুখ উচ্চারণ করতে ব্যর্থ হয়। — ভলতেয়ার

দৃষ্টিশক্তি থাকা সত্ত্বেও যে সৌন্দর্য দেখতে পায় না, সে-ই প্রকৃত অন্ধ। — হেলেন কেলার

মানুষের চোখের দিকে তাকালে বোঝা যায় তার হৃদয়ে ভালোবাসা আছে কি না। — মাদার তেরেসা

চোখের তারায় যে রহস্য লুকিয়ে থাকে, তা উদ্ধার করতে সারা জীবন কেটে যায়। — বুদ্ধদেব গুহ

সুন্দর চোখের চেয়ে সত্য সন্ধানী চোখের মূল্য অনেক বেশি। — কাজী নজরুল ইসলাম

সত্য বলা চোখ নিয়ে মনিষীদের উক্তি

মানুষ ছলনা করতে পারে, কিন্তু তার দৃষ্টি পারে না। সততা আর মিথ্যার পার্থক্যটা চোখের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়। যখন শব্দেরা ব্যর্থ হয়, তখন চোখই সত্যের সাক্ষী দেয়। মনিষীরা যুগে যুগে চোখের এই সততা নিয়ে যে ধ্রুব সত্য কথাগুলো বলে গেছেন, তা আমাদের মানুষ চিনতে সাহায্য করে।

জিভ মিথ্যা বলতে পারে, কিন্তু চোখ সব সময় সত্যের পথেই চলে। — হুমায়ূন আহমেদ

চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস কেবল সত্যবাদীদেরই থাকে। — মহাত্মা গান্ধী

শব্দের আড়ালে মিথ্যা লুকানো সহজ, কিন্তু দৃষ্টির আড়ালে সত্য লুকানো অসম্ভব। — শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়

চোখ কখনো অভিনয় করতে পারে না, ভেতরের আবেগ সে প্রকাশ করবেই। — চার্লি চ্যাপলিন

সত্য বলার জন্য মুখের দরকার হয় না, চোখের ভাষাই যথেষ্ট। — ইমদাদুল হক মিলন

মানুষের চরিত্র বুঝতে চাইলে তার কথার চেয়ে চোখের দিকে বেশি মনোযোগ দাও। — জর্জ বার্নার্ড শ

মিথ্যাবাদীর চোখ সব সময় চঞ্চল থাকে, স্থির দৃষ্টি কেবল সত্যবাদীরই হয়। — স্বামী বিবেকানন্দ

সত্যের তেজ চোখের দৃষ্টিতে আগুনের মতো জ্বলে ওঠে। — আনিসুল হক

চোখ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের উক্তি

হুমায়ূন আহমেদ আর আবেগের এক ভিন্ন জগত, আর তাঁর লেখায় চোখের বর্ণনা এক জাদুকরী আবেশ তৈরি করে। তাঁর উপন্যাসের চরিত্রগুলোর চোখের দিকে তাকালে পাঠকরা যেন এক অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। হিমু হোক বা মিসির আলি, কিংবা রূপা—সবার চোখের ভাষাই তিনি অনন্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যা এখানে তুলে ধরা হলো।

কিছু কিছু মেয়ের চোখে এক ধরণের মায়া থাকে, তাকালে আর চোখ ফেরানো যায় না। — হুমায়ূন আহমেদ

হিমুরা কখনো কারো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে না, কারণ তারা মায়ায় জড়াতে ভয় পায়। — হুমায়ূন আহমেদ

কাজলা চোখের মেয়েদের কান্না করতে নেই, তাদের চোখে জল মানায় না। — হুমায়ূন আহমেদ

রূপার চোখে আমি মাঝে মাঝে এমন গভীরতা দেখি, যা আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। — হুমায়ূন আহমেদ

সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যা বলাটা একটা শিল্প, যা সবাই পারে না। — হুমায়ূন আহমেদ

জোছনা রাতে কারো চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার মাঝে এক ধরণের হাহাকার আছে। — হুমায়ূন আহমেদ

চোখ নিয়ে জীবনানন্দ দাশের উক্তি

বাংলার কবিতায় চোখের উপমা সবচেয়ে নিবিড়ভাবে এসেছে জীবনানন্দ দাশের কলমে। ‘পাখির নীড়ের মতো চোখ’—এই একটি লাইনেই তিনি অমর করে দিয়েছেন প্রেমিকার দৃষ্টিকে। প্রকৃতি আর বিষন্নতার সাথে চোখের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি যেসব উক্তি ও পংক্তি রচনা করেছেন, তা আজও পাঠকমনে শিহরণ জাগায়।

পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন। — জীবনানন্দ দাশ

চোখের ভেতর আকাশ দেখার সাহস কজনের থাকে? আমি তোমায় দেখেছিলাম। — জীবনানন্দ দাশ

নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বলে চোখ নিয়ে সে তাকিয়ে ছিল অন্ধকারের দিকে। — জীবনানন্দ দাশ

হরিণের মতো চোখ নিয়ে সে বনের পথে হারিয়ে গেল, আর ফিরল না। — জীবনানন্দ দাশ

তোমার চোখের দিকে তাকালে মনে হয়, আমি কোনো এক গভীর দিঘির জলে ডুবে যাচ্ছি। — জীবনানন্দ দাশ

চোখের জল শুকিয়ে গেলেও দাগটা হৃদয়ে থেকে যায়, মুছতে চায় না। — জীবনানন্দ দাশ

চোখ নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া

প্রিয়জনের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার আনন্দ বা নিজের চোখের জাদুকরী চাহনি—এসব নিয়ে ফেসবুকে দু-চার লাইন লিখতে কার না ভালো লাগে? ছোট ছোট বাক্যে চোখের গভীরতা প্রকাশ করা এক ধরণের শিল্প। আপনার মনের ভাবকে শব্দের ফ্রেমে বন্দী করতে এই স্ট্যাটাসগুলো দারুণ কাজে দেবে।

চোখের ভাষায় সব কথা বলা হয়ে যায়, শব্দের প্রয়োজন ফুরোয়।

কাজল কালো চোখের মায়ায় আটকে পড়া সহজ, বের হওয়া অসম্ভব।

পৃথিবীর সব সৌন্দর্য একপাশে, আর ওই চোখের চাহনি অন্যপাশে।

চোখের পলকেই যে মন চুরি করতে পারে, তার জাদুর সীমা নেই।

মায়াবী চোখ নিয়ে স্ট্যাটাস

কিছু চোখ আছে যার দিকে তাকালে সময় থমকে যায়। এই মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব। সেই জাদুকরী চোখের মুগ্ধতা আর সম্মোহনী শক্তি নিয়ে সাজানো হয়েছে এই বিশেষ স্ট্যাটাসগুলো। যার চোখের মায়ায় আপনি আটকে আছেন, তাকে উৎসর্গ করার জন্য এগুলো সেরা।

মায়াবী চোখের দিকে তাকালে সময় থমকে যেতে বাধ্য।

অস্ত্রের আঘাত সওয়া যায়, কিন্তু মায়াবী চোখের আঘাত প্রাণঘাতী।

তার চোখের দিকে তাকালে নিজেকে হারিয়ে ফেলি বারবার।

ওই মায়াবী দৃষ্টিতে এমন এক বিষ আছে, যা অমৃতের মতো লাগে।

চোখ নিয়ে রোমান্টিক ক্যাপশন

ভালোবাসার মানুষটির চোখের দিকে তাকালে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। সেই রোমান্টিক মুহূর্তগুলোকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে প্রয়োজন কিছু মিষ্টি প্রেমের কথা। আপনার প্রেমানুভূতি আর চোখের মুগ্ধতা প্রকাশ পাবে এই রোমান্টিক ক্যাপশনগুলোর মাধ্যমে।

তোমার চোখের গভীরতায় হারিয়ে যাওয়ার মাঝেই আমি আমার ঠিকানা খুঁজে পাই।

চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকার ওই মুহূর্তগুলো বড্ড মায়াবী।

আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় যখন তুমি আড়চোখে তাকাও।

তোমার চোখের তারায় আমি আমার স্বপ্নের পৃথিবীটাকে দেখি।

তোমার চোখের দিকে তাকালে আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলি।

চোখ নিয়ে ইসলামিক ক্যাপশন

চোখ মহান আল্লাহর এক অশেষ নিয়ামত। এই সুন্দর পৃথিবী দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। চোখের কৃতজ্ঞতা আদায় এবং ইসলামি দৃষ্টিতে চোখের ব্যবহার বা সংযত রাখার বিষয়গুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে এই অর্থবহ ক্যাপশনগুলো।

আল্লাহর ভয়ে কাঁদা চোখ জাহান্নামের আগুন দেখবে না।

হারাম জিনিস থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়ার মাঝেই ঈমানের পরীক্ষা।

দৃষ্টি সংযত রাখলে অন্তরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করা যায়।

চোখের খেয়ানত থেকে নিজেকে রক্ষা করাই আসল তাকওয়া।

আল্লাহর কুদরত দেখার জন্যই আমাদের এই চোখ দেওয়া হয়েছে।

চোখের পানি আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার বড় মাধ্যম।

চোখ নিয়ে ক্যাপশন sad

কান্না লুকাতে জানলেও ভেজা চোখ সব বলে দেয়। হাসির আড়ালে জমে থাকা কষ্টগুলো যখন অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে, তখন তা লুকানো দায়। বিষাদগ্রস্ত মন আর চোখের নোনা জলের গল্পগুলোই উঠে এসেছে এই স্যাড ক্যাপশনগুলোতে।

হাসিমুখের আড়ালে চোখের কোণে জমে থাকা জলটুকু কেউ দেখল না।

কান্না লুকানোর চেষ্টা করেও চোখের জলে হেরে যাই বারবার।

চোখের নিচে জমে থাকা কালিতে লেখা আছে নির্ঘুম রাতের গল্প।

বৃষ্টির সাথে চোখের জল মিশিয়ে ফেলার চেষ্টা করি, যাতে কেউ না দেখে।

চোখের কোণে জমা বিষাদগুলো আমাকে রোজ কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।

মেয়েদের চোখ নিয়ে প্রশংসা ক্যাপশন

নারীর সৌন্দর্যের মূল আকর্ষণই হলো তার চোখ। কাজল কালো হোক বা হরিণী, প্রতিটি চোখেরই আছে আলাদা ভাষা। সেই চোখের প্রশংসা করতে কার্পণ্য করবেন না। রমণীর চোখের জাদুতে মুগ্ধ হওয়ার কথাগুলো এখানে খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে।

কাজল কালো ওই চোখের জাদুতে আটকে গেছি, মুক্তির উপায় নেই।

বিধাতা হয়তো অনেকটা সময় নিয়ে তোমার এই মায়াবী চোখ দুটো গড়েছেন।

চোখের সৌন্দর্যের কাছে দামী অলংকারও ম্লান হয়ে যায়।

প্রকৃতির সবটুকু সৌন্দর্য যেন তোমার ওই দুটি চোখে জমা হয়েছে।

হাজারো ভিড়ে তোমার ওই চোখ দুটোই আমাকে টানে।

কাজল কালো চোখ ও শাড়ি নিয়ে ক্যাপশন

বাঙালি নারী, পরনে শাড়ি আর চোখে গাঢ় কাজলের টান—এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য বোধহয় আর কিছু নেই। এই চিরায়ত সৌন্দর্যের সাথে মানানসই ক্যাপশন আপনার ছবির আভিজাত্য বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ। বাঙালিয়ানা আর চোখের সাজ নিয়ে সেরা কথাগুলো থাকছে এখানে।

শাড়ির আঁচল আর কাজল কালো চোখ, বাঙালিয়ানার সেরা রূপ।

চোখের কাজলে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য।

লাল শাড়ি আর কাজল কালো চোখ, এর চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই।

শাড়ির আভিজাত্য আর চোখের গভীরতা মিলেমিশে একাকার।

কাজল কালো ওই চোখের দিকে তাকালে চোখ ফেরানো দায়।

হরিণী চোখ নিয়ে ক্যাপশন

ডাগর ডাগর চোখের চাহনিতে যে চঞ্চলতা থাকে, তা হরিণের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই চঞ্চল চোখের প্রশংসায় কবিরা কত গান বেঁধেছেন! আপনার বা আপনার প্রিয়জনের চোখের গড়ন যদি এমন হয়, তবে এই ক্যাপশনগুলো একদম পারফেক্ট।

ডাগর ডাগর চোখের চাহনিতে যেন এক চঞ্চল হরিণীর ছায়া।

হরিণী চোখের চঞ্চলতায় আমি পথ হারিয়ে ফেলি রোজ।

বড় বড় ওই চোখের তারায় আমি আমার সর্বনাশ দেখেছি।

তোমার চোখের দিকে তাকালে মনে হয় গভীর কোনো জঙ্গলে হারিয়ে গেছি।

হরিণের মতো চপল ওই চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতেই ভালো লাগে।

চোখ নিয়ে কিছু কথা

চোখ নিয়ে আমাদের ভাবনার শেষ নেই। কখনো তা হয় স্বপ্ন দেখার মাধ্যম, আবার কখনো বা বাস্তবতার সাক্ষী। চোখ নিয়ে কিছু গভীর ও উপলব্ধিমুলক কথা এখানে শেয়ার করা হলো, যা আপনাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।

হৃদয়ের সব গোপন কথা ওই একজোড়া চোখের গভীরেই লুকিয়ে থাকে।

সৌন্দর্য কোনো বস্তুতে থাকে না, থাকে যে দেখছে তার দৃষ্টির গভীরতায়।

পৃথিবীর সব রঙ চেনার ক্ষমতা থাকলেও মানুষের আসল রূপ চেনা বড্ড কঠিন।

হাজারো ভিড়ের মাঝে প্রিয় মানুষের চোখদুটো ঠিকই আলাদা করে চিনে নেওয়া যায়।

হাসি দিয়ে সব ঢাকা গেলেও ভেজা চোখ সব ফাঁস করে দেয়।

চোখ নিয়ে ছন্দ

গদ্যের চেয়ে পদ্যে আবেগের প্রকাশ ঘটে বেশি। চোখের প্রশংসা বা বর্ণনা যখন ছন্দের তালে তালে আসে, তখন তা পাঠকের মনে দোলা দেয়। মেসেজ বা ছোট স্ট্যাটাসের জন্য এই ছন্দগুলো দারুণ মানাবে।

কাজল কালো চোখের তারায় সর্বনাশা টান
তোমায় দেখলে থমকে যায় আমার অভিমান।

চোখের ভাষায় কথা বলো ঠোঁটের কি বা কাজ?
তোমায় দেখেই কাটছে আমার সকাল দুপুর সাঁঝ।

সাগরের ওই গভীরতা হার মানবে বেশ
তোমার চোখের মায়ায় আমি হচ্ছি দেখো শেষ।

হরিণ চোখের চাউনি তোমার বড্ড বেশি তীক্ষ্ণ
বিঁধলো বুকে প্রেমের কাঁটা খুব করে সুক্ষ্ণ।

নেশা ধরানো চোখ দুটোতে কি যাদু যে আছে
দূরে গেলেও মনটা আমার থাকে তোমার কাছে।

মায়াবী ওই চোখের ফাঁদে পা দিয়েছি আমি
হীরা জহরত তুচ্ছ সবই তুমিই অনেক দামি।

চোখ নিয়ে কবিতা

কবিতা হলো হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বা পরম ভালোলাগার প্রকাশ। চোখের ভাষা যখন কবির কলমে উঠে আসে, তখন তা হয়ে যায় শিল্প। প্রিয়জনের চোখের মায়ায় বাঁধা পড়ে লেখা এই কবিতাগুলো আপনার সাহিত্যমনা হৃদয়ের খোরাক জোগাবে।

চোখের ভাষায় লেখা থাকে কত গোপন কথা,
মুখের বুলি যেখানে হারায় সব চেনা প্রথা;
তাকালেই পড়া যায় হৃদয়ের সবটুকু,
চোখ তো আয়না, মিথ্যে বলে না একরত্তিও।

শব্দহীন সংলাপে কাটে কত প্রহর,
চোখের পাতায় এঁকে রাখি স্বপ্নের শহর;
ঘুম ভাঙলেও রেশ থেকে যায় ওই চাউনির,
চোখ যে বড়ই বিশ্বাসী সাথী এই বাউনির।

শ্রাবণের মেঘ জমে থাকে কখনো চোখের কোণে,
বৃষ্টি হয়ে ঝরতে চায় সে একলা নির্জনে;
জল মুছে দিলেই কি আর দুঃখ মোছা যায়?
চোখের দাগ যে থেকে যায় হৃদয়ের আঙিনায়।

তোমার চোখের মণি যেন ধ্রুবতারা,
দিশাহারা নাবিকের একমাত্র সাহারা;
তাকাও যখন, তখন জ্বলে আশার প্রদীপ,
চোখ জুড়াতে তোমাতেই খুঁজি নির্জন দ্বীপ।

অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষও পড়তে পারে চোখের লিপি,
ওতেই লেখা থাকে ভালোবাসার আসল ডিপি;
ভাষা যেখানে অপারগ, শব্দরা পায় না ঠাঁই,
সেখানে চোখের ইশারাই বলে—তোমায় চাই।

চোখ বুজলেই অন্ধকার, খুললেই আলোর মেলা,
তোমার দৃষ্টির আড়ালেই চলে যত লুকোচুরি খেলা;
ভাষার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় ওই চাহনির কাছে,
নীরবতাও যে কত মধুর, তা ওই চোখেই বাঁচে।

রাগ হলে চোখ দুটো হয়ে ওঠে রক্তজবা,
ভালোবাসায় আবার ওরাই যেন স্নিগ্ধ প্রভা;
এক জোড়া চোখ, অথচ কত রূপ তার,
কখনো সে শান্ত নদী, কখনো বা সমুদ্র অপার।

স্মৃতির পাতায় ঝাপসা হয়ে আসে সব ছবি,
কিন্তু চোখের ভাষা ভোলে না তো কোনো কবি;
বছর ঘুরে দেখা হলে সেই চেনা দৃষ্টি,
বুকের ভেতর নামিয়ে দেয় আবেগের বৃষ্টি।

মায়াবী চোখ নিয়ে কবিতা

যে চোখের দিকে তাকালে পথ হারানো নিশ্চিত, সেই মায়াবী চোখের জাদুতে আচ্ছন্ন হয়ে লেখা কিছু পংক্তি। এই কবিতাগুলোতে মিশে আছে মুগ্ধতা, ভালোবাসা আর এক অমোঘ আকর্ষণ, যা আপনাকে বারবার পড়তে বাধ্য করবে।

নেশাতুর ওই দৃষ্টির ফাঁদে আটকা পড়েছি,
বের হওয়ার পথ খুঁজিনি, স্বেচ্ছায় মরেছি;
যাদু আছে ওই তারা দুটি জ্বলজ্বলে,
বশ করতে মন্ত্র লাগে না, চোখই কথা বলে।

হরিণের মতো চঞ্চল, কভু শান্ত সাগরের জল,
তোমার ওই চোখের মায়ায় আমি বড়ই দুর্বল;
তাকালেই থমকে যায় বুকের স্পন্দন,
চোখ যে এক অমোঘ মায়ার বন্ধন।

সম্মোহনী ওই চোখে কি আছে জানা নেই,
তাকালে মনে হয় তলিয়ে যাই অতলেই;
মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে পালানো কঠিন বড়,
তোমার দৃষ্টির সীমানাতেই আমার ঘর।

সুরমা আঁকা ওই পল্লবে জাদুকরী টান,
মুহূর্তেই কেড়ে নেয় এই পাষাণ প্রাণ;
অস্ত্রের আঘাত শুকায়, কিন্তু চোখের আঘাত?
রক্তক্ষরণ চলে অবিরাম, দিন কিংবা রাত।

সবাই বলে চাঁদ সুন্দর, আমি দেখি তোমার আঁখি,
চাঁদের কলঙ্ক আছে, কিন্তু ওতে শুধুই আলো মাখি;
মায়াবী ওই ফাঁদে পা দিয়েছি জেনে শুনে,
এখন মুক্তি খুঁজি না আর, দিন কাটাই গুনে গুনে।

গভীর ওই চোখের ভাষায় কি যেন এক ধাঁধা,
সমাধান করতে গিয়ে মন হয়েছে আধা;
রহস্যের জট খুলতে চাই না আর কভু,
ওই মায়াতেই বন্দী থাকতে চাই আমি, প্রভু।

নেশা করতে মদের কি দরকার বলো?
তোমার চোখের দিকে তাকালেই পৃথিবীটা টলোমলো;
মাতাল হাওয়া বহে না, মাতাল ওই দৃষ্টির ধার,
কেটে যায় বুক, তবুও ভালো লাগে বারবার।

কাজল না পরলেও মায়া ঝরে অবিরাম,
তোমার চোখের তারায় লিখেছি আমার নাম;
ডুবে গেছি কবেই ওই অতল গহ্বরে,
উদ্ধার পেলেও ফিরবো না আর নিজের ঘরে।

ডাকিনী বিদ্যার চেয়েও ধারালো ওই চাউনি,
হৃদয় হরণ করতে ওটুকুই যথেষ্ট বাউনী;
চোখের পলকে ঘটাও প্রলয়, আবার জাগাও প্রাণ,
তোমার মায়াবী চোখেই আমার স্বর্গ ও পরিত্রাণ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *