বাবা-ছেলের ভালোবাসার ক্যাপশন: সেরা ২১১+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
বাবার সাথে ছেলের সম্পর্কটা সব সময় মুখে বলে বা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। এখানে ভালোবাসা যতটা থাকে, তার চেয়ে বেশি থাকে দায়িত্ববোধ আর নির্ভরতা। আপনি কি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানানোর জন্য চমৎকার সব বাবা-ছেলের ভালোবাসার ক্যাপশন খুঁজছেন? তাহলে এই আয়োজনটি আপনার জন্যই। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সাজিয়েছি সেরা সব স্ট্যাটাস ও ক্যাপশনের ভাণ্ডার। পুরো লেখাটি মনোযোগ দিয়ে দেখুন, কারণ আপনার মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা কথাগুলোই হয়তো এখানে অপেক্ষা করছে, যা আপনার পোস্টকে করে তুলবে অনন্য।
বাবা-ছেলের ভালোবাসার ফেসবুক পোস্ট
বাবার আঙুল ধরেই তো আমার প্রথম পথচলা। ছোটবেলায় ওই শক্ত হাতটা ধরলে মনে হতো পৃথিবীর কোনো বিপদ আমাকে ছুঁতে পারবে না। আজ আমি বড় হয়েছি, নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু বাবার ওই ছায়াটা এখনো আমার সবচেয়ে বড় সাহস। বাবা কখনো মুখে বলেন না ভালোবাসেন, কিন্তু তাঁর কাজের মাঝেই ভালোবাসা প্রকাশ পায়। তাঁর ঘামভেজা শার্টের গন্ধেই আসল সুখ লুকিয়ে থাকে।
ছেলেরা নাকি বাবার মতো হতে চায়। আমিও চাই। বাবার মতো সৎ, সাহসী আর দায়িত্ববান হতে পারলে জীবনটা সার্থক হতো। সংসারের চাপে নিজের স্বপ্নগুলো বিসর্জন দিয়ে যিনি আমাদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন, তাঁর ঋন শোধ করার সাধ্য আমার নেই। রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা—হে আল্লাহ, আমার বাবাকে ভালো রেখো। তাঁর মুখের হাসিটা যেন অমলিন থাকে।
ছোটবেলায় বুঝতাম না কেন বাবা এত শাসন করেন। রাগ হতো, অভিমান হতো। আজ যখন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়াই, তখন বুঝি ওই শাসনগুলো ছিল আমাকে খাঁটি মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া। বাবা ছিলেন আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তাঁর বকুনিগুলোই আজকের এই আমিকে তৈরি করেছে। বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।
বাবার চুলগুলো পেকে সাদা হয়ে গেছে, চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে। যে মানুষটাকে পাহাড়ের মতো শক্ত মনে হতো, আজ তিনি বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। এখন আমার পালা তাঁকে আগলে রাখার। ছোটবেলায় যেভাবে তিনি আমাকে কাঁধে চড়িয়ে পৃথিবী দেখাতেন, এখন আমি হতে চাই তাঁর বার্ধক্যের লাঠি। বাবা, তুমি আছো বলেই আমার পৃথিবীটা এত নিরাপদ।
মধ্যবিত্ত বাবারা হয়তো সন্তানদের দামী খেলনা দিতে পারেন না, কিন্তু সততার যে শিক্ষা দেন, তা কোটি টাকার চেয়েও দামী। আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়। তাঁর আদর্শ বুকে ধারণ করেই বাকিটা পথ চলতে চাই। বাবা পাশে থাকলে পকেটে টাকা না থাকলেও নিজেকে রাজা মনে হয়।
বাবার সাথে ছেলেদের সম্পর্কটা একটু অদ্ভুত। খুব বেশি কথা হয় না, কিন্তু মনের টানটা থাকে প্রবল। মা’র মতো বাবা হয়তো আদর করে খাইয়ে দেন না, কিন্তু আমাদের পাতে সেরা মাছের টুকরোটা তিনিই তুলে দেন। নিজের প্রয়োজনগুলো লুকিয়ে রেখে আমাদের মুখে হাসি ফোটানো মানুষটাই হলেন বাবা।
অফিস থেকে ফিরে বাবা যখন ক্লান্ত শরীরে আমাকে কোলে তুলে নিতেন, তখন সব ক্লান্তি উধাও হয়ে যেত। আজ আমি ক্লান্ত হয়ে ফিরলে বাবা যখন জিজ্ঞেস করেন, “দিন কেমন গেল?”—তখন মনে হয় পৃথিবীর সব শান্তি ওই প্রশ্নে। বাবার এই মায়াভরা প্রশ্নটুকুই আমার বেঁচে থাকার রসদ। আল্লাহ আমার বাবাকে নেক হায়াত দান করুন।
বাবার জমানো টাকা ও ছেলের ক্যারিয়ার গড়ার ত্যাগ নিয়ে পোস্ট
ঈদের সময় নিজের জন্য একটা নতুন পাঞ্জাবি না কিনে বাবা সেই টাকাটা জমিয়ে রাখতেন ছেলের সেমিস্টার ফি দেওয়ার জন্য। ছেঁড়া জুতো সেলাই করে দিনের পর দিন অফিস করেছেন, কিন্তু ছেলের কোচিংয়ের টাকা দিতে কখনও দেরি করেননি। আমরা অনেকেই সফল হয়ে বলি “সেলফ মেড”, অথচ এই সাফল্যের প্রতিটি ইটের গাঁথুনিতে মিশে আছে বাবার জমানো একেকটি টাকা। বাবার সেই ত্যাগের ঋণ হয়তো কোনোদিন শোধ হওয়ার মতো না।
বাবার মানিব্যাগটা হয়তো পুরনো, চামড়া উঠে গেছে, কিন্তু ওটার ভেতর ছেলের রঙিন ভবিষ্যৎ লুকানো থাকে। রিক্সা ভাড়া বাঁচিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে বাবা যে টাকাটা জমাতেন, আজ সেটাই ছেলের ক্যারিয়ারের মূলধন। নিজের পেটের ক্ষুধা চেপে রেখে তিনি সন্তানের স্বপ্ন পূরণ করেন। এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া অসম্ভব। বাবার ঘামে ভেজা ওই টাকার গন্ধেই মিশে থাকে আসল সুখ।
ছেলের চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য দামী স্যুট-কোট কিনে দিয়ে বাবা নিজে পরেন সেই বহু বছরের পুরনো শার্ট। ছেলের ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তায় বাবার কপালের ভাঁজগুলো দিন দিন গভীর হয়। ব্যাংকের জমানো টাকাগুলো ভেঙে যখন ছেলের হাতে তুলে দেন, তখন তাঁর মনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা কাজ করে না। বাবার জীবনের সব সঞ্চয় আসলে ব্যাংক ব্যালেন্স না, বরং তাঁর সন্তানের সফলতাই তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ উপার্জন।
বিদেশ যাওয়ার সময় বাবা যখন জমানো টাকার বান্ডিলটা ছেলের হাতে তুলে দেন, তখন আসলে তিনি নিজের কলিজাটা বের করে দেন। সারা জীবনের হাড়ভাঙা খাটুনির পয়সা দিয়ে ছেলের স্বপ্ন কিনে দেওয়া মানুষটাই হলেন বাবা। আমরা সফল হয়ে হয়তো ভুলে যাই, এই উচ্চতায় পৌঁছানোর সিঁড়িটা বাবার রক্ত-ঘামে তৈরি। বাবার শূন্য পকেটটাই ছেলের পূর্ণাঙ্গ জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর।
বাবার চশমার ফ্রেমটা ভাঙা, কিন্তু ছেলের ল্যাপটপটা হতে হয় লেটেস্ট মডেলের। নিজের শখগুলো গলা টিপে মেরে ফেলে বাবা তিল তিল করে গড়ে তোলেন ছেলের ভবিষ্যৎ। রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের বিল দিতে গিয়ে আমরা হয়তো ভাবি না, এই টাকাটা জোগাড় করতে বাবাকে কতটা অপমান আর কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। বাবার দেওয়া পকেট মানি খরচ করার আগে একবার ভাবা উচিত, ওই টাকায় বাবার কতগুলো অপূর্ণ স্বপ্ন মিশে আছে।
অফিস থেকে ফেরার পথে বাবা সস্তায় দুপুরের লাঞ্চ সারতেন, যাতে মাস শেষে ছেলের হাতখরচটা ঠিকঠাক দেওয়া যায়। বাবার ডায়েরির পাতায় হিসাবের অঙ্ক কষতে কষতে জীবন পার হয়ে গেল, কিন্তু ছেলের ক্যারিয়ারের হিসাব মেলাতে গিয়ে তিনি কার্পণ্য করেননি। নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়াই বাবার ধর্ম। এমন ত্যাগের প্রতিদান কোনো সন্তানই দিতে পারে না।
ছেলের বিজনেসের পুঁজি জোগাড় করতে গিয়ে বাবা তাঁর পেনশনের শেষ সম্বলটুকুও তুলে দেন হাসিমুখে। নিজের বার্ধক্যের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি ভাবেন না, তাঁর সব ভাবনা জুড়ে থাকে শুধু ছেলের প্রতিষ্ঠা। যে বাবা সারা জীবন পায়ে হেঁটে পার করলেন, তিনি চান তাঁর ছেলে যেন গাড়িতে চড়ে। বাবার এই নিঃশব্দ আত্মত্যাগই সমাজ ও সংসারের আসল চালিকাশক্তি।
আমরা যখন ক্যারিয়ার নিয়ে ডিপ্রেশনে ভুগি, তখন বাবা আড়ালে চোখের পানি ফেলেন আর ভাবেন আরও কতটুকু করলে ছেলেটা ভালো থাকবে। নিজের চিকিৎসার টাকা বাঁচিয়ে তিনি ছেলের সার্টিফিকেটের খরচ যোগান। বাবার জমানো প্রতিটি পয়সায় লেখা থাকে ভালোবাসার এক একটি গল্প। সফলতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরা বাবার সেই জীর্ণ পোশাকের কথা যেন ভুলে না যাই।
বাবার শার্টের কলারটা হয়তো ঘামে ভেজা, কিন্তু ছেলের ভবিষ্যৎ তিনি চকচকে করেই গড়েন। নিজের ভালোলাগাগুলোকে কবর দিয়ে তিনি ছেলের মুখে হাসি ফোটান। বাবার পকেটের টাকা শুধু কাগজ না, ওটা বাবার আয়ু। নিজের আয়ু ক্ষয় করে তিনি সন্তানকে বড় করেন। দিনশেষে বাবার এই অবদান অস্বীকার করার সাধ্য কারো নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছেলের আয়েশি জীবন, আর গ্রামে বাবার হাড়ভাঙা খাটুনি—এই দৃশ্য আমাদের সমাজের চিরচেনা রূপ। বাবা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যে টাকা পাঠান, তা দিয়ে ছেলে হয়তো বন্ধুদের সাথে পার্টি করে। অথচ ওই টাকার পেছনে বাবার কত রাত না ঘুমানোর গল্প লুকিয়ে আছে, তা কেউ জানে না। বাবার কষ্টের টাকার সঠিক ব্যবহার করাই হলো তাঁর প্রতি আসল শ্রদ্ধা।
চাকরি পাওয়ার পর প্রথম বেতনটা পেয়ে আমরা যখন আনন্দে আত্মহারা হই, তখন কি মনে পড়ে বাবার সেই শূন্য হাতের কথা? যিনি নিজের সব কিছু উজাড় করে আমাদের এই যোগ্য করে তুলেছেন। বাবার জমানো টাকা না থাকলে হয়তো আমাদের স্বপ্নের মৃত্যু ঘটত অঙ্কুরেই। তাই ক্যারিয়ারের সবটুকু কৃতিত্ব সেই মানুষটার প্রাপ্য, যিনি নিজে হেরে গিয়ে আমাদের জিতিয়ে দিয়েছেন।
বাবার পুরনো জুতোর তলায় ক্ষয়ে যাওয়া প্রতিটি স্তরে মিশে আছে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তিনি হাঁটলে জুতোর আওয়াজ হয় না, কিন্তু তাঁর ত্যাগের আওয়াজ আকাশ ছোঁয়। ছেলের সুখের জন্য নিজের সব স্বাদ-আহ্লাদ বিসর্জন দেওয়া মানুষটিই প্রকৃত বীর। বাবার এই নীরব সংগ্রামের গল্পগুলো ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না, লেখা থাকে সন্তানের হৃদয়ে।
আজ আমি যা কিছু হয়েছি, তার সবটুকু বাবার কষ্টের ফসল। আমার গায়ে দামী ব্র্যান্ডের জামা, আর বাবার গায়ে সেই মলিন গেঞ্জি। এই বৈষম্য বাবা নিজেই তৈরি করেছেন ছেলের ভালোর জন্য। তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে তিনি আমার অনাগত দিনগুলো সাজিয়ে দিয়েছেন। বাবার এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকাই সন্তানের ধর্ম।
বাবা-ছেলের ভালোবাসার স্ট্যাটাস আইডিয়া
বাবার কাঁধে চড়েই তো প্রথম আকাশ ছোঁয়ার সাহস পেয়েছিলাম।
গাম্ভীর্যের আড়ালে থাকা মানুষটার ভেতরেও এক মহাসমুদ্র ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে।
বাবার হাত ধরেই আমার পৃথিবীর পথে প্রথম হাঁটা শেখা।
আমার সব আবদার আর পাগলামির নীরব প্রশ্রয়দাতা হলেন বাবা।
হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার ভয় নেই, বাবার শক্ত হাতটা পাশেই আছে।
বাবার চোখের শাসনেই আমি আজকের এই মানুষ হয়ে উঠেছি।
আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি, রক্তের টানের চেয়েও গভীর।
আমার বাবা আমার সুপারহিরো – গর্বিত ছেলের স্ট্যাটাস
কাল্পনিক সুপারহিরোর প্রয়োজন নেই, আমার বাস্তব জীবনের হিরো আমার বাবা।
নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে আমার স্বপ্ন গড়ার কারিগর মানুষটাকে স্যালুট জানাই।
ঘামে ভেজা শার্ট পরা মানুষটাই আমার চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে স্মার্ট পুরুষ।
বাবার মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখি, যদিও তাঁর পায়ের নখের যোগ্য আমি নই।
সুপারম্যান উড়তে পারে, কিন্তু আমার বাবা সব বাধা জয় করতে পারেন।
পৃথিবীর সব হিরো ব্যর্থ হবে আমার বাবার ত্যাগের গল্পের সামনে।
আমি গর্বিত, কারণ এমন একজন লড়াকু বাবার সন্তান আমি।
বাবার কাঁধে চড়ে মেলায় যাওয়ার স্মৃতি ও স্ট্যাটাস
বাবার কাঁধে চড়লে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা মানুষ মনে হতো। মেলার ভিড়ে ওটাই ছিল আমার রাজসিংহাসন।
রঙিন বেলুন আর বাঁশির আবদার মেটাতেন বাবা। পকেটের অবস্থা যেমনই থাকুক, আমার মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে বাবার কনিষ্ঠ আঙুলটা শক্ত করে ধরে রাখতাম। সেই স্পর্শে ছিল অসীম নিরাপত্তা।
মেলা থেকে ফেরার পথে বাবার কোলে ঘুমিয়ে পড়ার শান্তিটা আজ আর কোথাও খুঁজে পাই না।
বাবার ঘামে ভেজা জামার গন্ধ আর মেলার ধুলোবালি—শৈশবের এই স্মৃতি আজও আমাকে পিছু ডাকে।
হাজারো মানুষের ভিড়ে বাবার কাঁধই ছিল আমার ভিআইপি গ্যালারি। সেখান থেকে মেলা দেখার আনন্দই ছিল আলাদা।
সস্তা খেলনাতেই ছিল বাঁধভাঙ্গা উল্লাস, কারণ ওই খেলনা কিনে দেওয়ার মানুষটা ছিলেন আমার সুপারহিরো।
রোদের তাপ বা ভিড়ের ধাক্কা, কিছুই গায়ে লাগত না বাবার ছায়ায়। তিনি ছিলেন আমার অঘোষিত বডিগার্ড।
মেলায় গিয়ে জিলাপি খাওয়ার বায়না ধরলে বাবা কখনও না করতেন না। সেই স্বাদের ভাগীদার আর কেউ হতে পারবে না।
বাবার হাত ধরে মেলায় হাঁটার সময় মনে হতো পুরো পৃথিবীটা আমার হাতের মুঠোয়।
বাবার কাঁধে চড়ে মেলা দেখা ছেলেটা আজ বড় হয়েছে, কিন্তু সেই উচ্চতার সুখ আর কোথাও মেলে না।
ক্লান্ত হয়ে গেলে বাবা হাসিমুখে কোলে তুলে নিতেন। তাঁর সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ঋণ শোধ করা অসম্ভব।
এখন মেলায় যাই, কিন্তু বাবার সেই শক্ত হাতের বাঁধনটা আর পাই না। শৈশবটা ওখানেই ফেলে এসেছি।
বাবার সামর্থ্য কম থাকলেও শখ পূরণে কখনও কার্পণ্য করেননি। মেলার দিনগুলো ছিল বাবার ভালোবাসার প্রদর্শনী।
বাবার শাসন আর আড়ালে ভালোবাসা বোঝার বয়সের স্ট্যাটাস
বাবার ওই রাগী চোখের আড়ালে যে কতবড় সাগরসম ভালোবাসা ছিল, তা বুঝতে অনেকটা সময় লেগে গেল।
নারিকেলের মতো ওপরটা শক্ত হলেও বাবার ভেতরটা ছিল মমতায় ভরা। সেই কঠোরতাই আমাকে মানুষ বানিয়েছে।
দেরি করে বাড়ি ফিরলে বাবার সেই জেরার মুখে পড়ার ভয়টা আজও মিস করি। ওটা ছিল তাঁর দুশ্চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।
মায়েরা ভালোবাসা দেখায় মুখে, আর বাবারা ভালোবাসেন নীরবে। তাঁদের সেই নীরব ত্যাগ বোঝা সহজ কথা না।
নিজের শখ বিসর্জন দিয়ে বাবা আমাদের শখ পূরণ করেছেন। তাঁর সেই কঠোরতার আড়ালে ছিল শুধুই আমাদের মঙ্গলের চিন্তা।
বাবার চোখের দিকে তাকালে মিথ্যা বলার সাহস হতো না। ওটা ভয় ছিল না, ছিল গভীর শ্রদ্ধা।
বকাঝকা করে বাবা আমাদের আসলে বাইরের খারাপ জগৎ থেকে আগলে রাখতেন। সেই দেওয়ালটা ছিল আমাদের সুরক্ষ কবচ।
সন্তান হওয়ার পর এখন বুঝতে পারছি, বাবার সেই কড়া শাসনগুলো জীবনের জন্য কতটা জরুরি ছিল।
অসুখ হলে বাবার সেই চিন্তিত মুখ আর কপালে হাত রাখার স্পর্শ আজও ভুলিনি। শাসন সেখানে হার মানত স্নেহের কাছে।
বাবা কঠোর না হলে আজ হয়তো এই অবস্থানে আসতে পারতাম না। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই।
আমাদের বকা দিয়ে বাবা আড়ালে গিয়ে কষ্ট পেতেন কি না, কে জানে! তাঁদের মন বোঝা বড্ড দায়।
অগোছালো জীবনটাকে গুছিয়ে দেওয়ার কারিগর ছিলেন বাবা। তাঁর নিয়মগুলোই আজকের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।
এখন আর কেউ শাসন করে না, ভুল ধরিয়ে দেয় না। বাবার সেই ধমক শোনার জন্য মাঝে মাঝে কান পেতে থাকি।
বাবার শাসন ছিল তেতো ওষুধের মতো, যা গিলতে কষ্ট হতো কিন্তু শরীরের জন্য উপকারী ছিল।
বৃদ্ধ বাবার হাত ধরে হাঁটার তৃপ্তি নিয়ে স্ট্যাটাস
ছোটবেলায় যার হাত ধরে পথ চিনেছি, আজ তার হাত ধরেই বার্ধক্যের পথে সঙ্গী হতে পেরে আমি ধন্য।
বাবার সেই শক্ত হাতটা এখন বয়সের ভারে কাঁপছে, তবু আমার কাছে সেটাই পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
একসময় তিনি আমাকে আগলে রাখতেন, এখন সময় এসেছে তাকে আগলে রাখার।
বৃদ্ধ বাবার হাত ধরে ধীর গতিতে হাঁটার মাঝে যে সুখ আছে, তা পৃথিবীর আর কোথাও মিলবে না।
যিনি আমাকে হাঁটতে শিখিয়েছেন, আজ তার লাঠি হয়ে পাশে থাকতে পারাটা পরম সৌভাগ্যের।
বাবার হাত ধরে রাস্তায় হাঁটার সময় মনে হয়, আমি পৃথিবীর সবচেয়ে দামী দায়িত্ব পালন করছি।
সময়ের চাকা ঘুরেছে, আজ আমি বাবার অভিভাবক, তিনি আমার সন্তানের মতো।
রাস্তা পার হওয়ার সময় বাবার হাতটা শক্ত করে ধরি, যেমনটা তিনি ছোটবেলায় ধরতেন।
বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া বাবার কাঁধটা আজও আমার কাছে পাহাড়সম আস্থার জায়গা।
বাবার কম্পমান হাতটা যখন আমার হাতে থাকে, তখন নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হয়।
বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে হাঁটার সময় তার মুখের মলিন হাসিটা আমার সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে দেয়।
যার আঙুল ধরে একসময় মেলায় যেতাম, আজ তাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার মধ্যেও এক ধরণের তৃপ্তি আছে।
বাবার হাত ধরে হাঁটার সময় মনে পড়ে সেই দিনগুলোর কথা, যখন আমি হোঁচট খেলে তিনি বুকে জড়িয়ে নিতেন।
বৃদ্ধ বয়সে বাবা যেন আমার কাছে এক অবুঝ শিশু, তাকে সামলে রাখাটাই এখন আমার জীবনের ব্রত।
বাবার হাতটা ধরে রাখলে মনে হয়, জান্নাতের টিকেটটা আমার হাতেই আছে।
বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারা ছেলের ইমোশনাল স্ট্যাটাস
বাবার চোখের ওই আনন্দাশ্রু দেখার জন্যই তো এতদিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রম।
বাবা, আজ আমি তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি, তোমার মুখের হাসিটাই আমার সেরা পুরস্কার।
নিজের সফলতার চেয়ে বাবার গর্বিত মুখটা দেখা আমার কাছে অনেক বেশি দামী।
তোমার ঘামে ভেজা উপার্জনেই আজ আমি এই জায়গায়, সব কৃতিত্ব শুধুই তোমার বাবা।
বাবার মুখে ‘আমি গর্বিত’ কথাটা শোনার জন্য জীবন বাজি রাখতেও রাজি আছি।
আজ আমি সফল, কারণ আমার পেছনে ছিল বাবার পাহাড়সম ত্যাগ আর বিশ্বাস।
বাবার স্বপ্ন সত্যি করতে পারার শান্তিটা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব, বুকের ভেতরটা হালকা লাগে।
তোমার না বলা স্বপ্নগুলো পূরণ করাই এখন আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বাবা।
বাবার মুখে হাসি ফোটাতে পারার চেয়ে বড় কোনো অর্জন ছেলের জীবনে হতে পারে না।
বাবা, তোমার ত্যাগের প্রতিদান হয়তো দিতে পারব না, কিন্তু তোমার স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখলাম।
যে বাবা নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে আমাকে মানুষ করেছেন, আজ তার বিজয়ের দিন।
বাবার খুশিতে ছলছল করা চোখ দুটো দেখে মনে হলো, পৃথিবী জয় করে ফেলেছি।
আমার পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে বাবার সারা জীবনের সংগ্রাম আর স্বপ্ন।
আজকের এই সাফল্য তোমার নামেই উৎসর্গ করলাম বাবা, তুমিই আমার আসল হিরো।
বাবা যখন গর্ব করে সবার কাছে ছেলের কথা বলেন, তখন মনে হয় জীবনটা সার্থক।
বাবা-ছেলের ভালোবাসার ক্যাপশন
আমার সব আবদার পূরণের জাদুকর মানুষটা আর কেউ না, আমার বাবা।
সুপারহিরো খুঁজলে আমি আমার বাবার দিকেই তাকাই, তিনি সেরা।
বাবার শাসন ছিল বলেই আজ মাথা উঁচু করে বাঁচার সাহস পাই।
বটগাছের মতো ছায়া দিয়ে আগলে রাখার নামই হলো বাবা।
ছেলের সব ভুলের ক্ষমা বাবার কাছেই জমা থাকে সব সময়।
বাবার ঘামে ভেজা শরীরটাই আমার এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
আমার সব গল্পের আড়ালে থাকা নায়ক হলেন আমার জন্মদাতা।
বাবার মুচকি হাসিটা দেখলেই বুকের সব ভার হালকা হয়ে যায়।
তিনি না থাকলে আমার অস্তিত্বটাই যে অর্থহীন হয়ে যেত।
বাবার দেখানো পথেই আমি আমার গন্তব্য খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি।
ছেলের সাফল্যে বাবার চোখের কোণে যে জল জমে, তা অমূল্য।
আমার অস্তিত্বের শেকড় আমার বাবা ক্যাপশন
আমার প্রতিটি সফলতার পেছনে বাবার ঘাম আর ত্যাগের গল্প লুকিয়ে থাকে।
বাবা নামটা উচ্চারণের সাথেই খুঁজে পাই জীবনের সবটুকু সাহস।
আজ আমি যা হতে পেরেছি, তার সব কৃতিত্ব আমার বাবার।
বাবার স্বপ্নগুলোই আমার পথচলার মূল পাথেয়।
আমার অস্তিত্ব আর পরিচয়ের পুরোটা জুড়ে কেবল বাবার নাম।
পৃথিবীর সব ঝড়ঝাপটা সামলে হাসিমুখ ধরে রাখা মানুষটিই বাবা।
বাবার শেখানো পথ ধরেই জীবনের সব বাধা পার করার শক্তি পাই।
আমার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে বাবা সবসময় ডানা মেলে দেন।
নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সবটুকু দিয়ে যিনি আমাকে গড়েছেন, তিনিই বাবা।
বাবার কাঁধেই খুঁজে পেয়েছি পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
রক্তের প্রতিটি কণায় বাবার ঋণ, তা শোধ করার সাধ্য আমার নেই।
বাবার দোয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষাকবচ।
নিজেকে যখন খুব একা লাগে, বাবার ওই আশ্বাসবাণীই ভরসা জোগায়।
বটবৃক্ষের ছায়ায় বেড়ে ওঠা ছেলের ক্যাপশন
বাবার পরিশ্রমের ঘামেই আমার বর্তমানের সুখ কেনা হয়েছে।
বটবৃক্ষের মতো ঝড়-ঝাপটা সামলে আমাদের আগলে রেখেছেন তিনি।
নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে যিনি আমার স্বপ্ন গড়েছেন, তাকে স্যালুট জানাই।
রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমাদের ছায়া দেওয়া মানুষটিই আমার আসল হিরো।
বটগাছের বিশাল ছায়া সরে গেলেই বোঝা যায় দুনিয়ার রোদ কতটা কড়া হতে পারে।
আমার সব আবদার নিমিষেই পূরণ করার জাদুকর হলেন বাবা।
বাবার শাসন আর অকৃত্রিম ভালোবাসার ছায়ায় বেড়ে ওঠাটাই জীবনের সেরা প্রাপ্তি।
নিজে না খেয়ে আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানানোর ভাষা নেই।
পৃথিবীর সব কষ্ট আড়াল করে হাসিমুখে থাকা মানুষটা আমার বাবা।
বাবার হাত ধরে হাঁটা পথগুলোই ছিল জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ যাত্রা।
উনার মাথার ঘাম পায়ে ফেলেই তিলে তিলে আমাদের মানুষ করেছেন।
বাবার অস্তিত্ব আছে বলেই মাথার ওপর ছাদটা আজও অনেক শক্ত মনে হয়।
তিনি জন্মদাতা হওয়ার পাশাপাশি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।
বাবার ছায়ায় থাকার দিনগুলোই ছিল জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিন্ত সময়।
বাবা-ছেলের ভালোবাসার উক্তি
বাবারা ছেলেদের খুব একটা আদর করেন না প্রকাশ্যে, কিন্তু ছেলের বিপদে সবার আগে ছাতাটা তাঁরাই ধরেন। — হুমায়ূন আহমেদ
প্রতিটি ছেলে তার বাবার মাঝেই নিজের ভবিষ্যতের ছায়া দেখতে পায়, আর বাবা দেখেন তার অতীত। — সিগমুন্ড ফ্রয়েড
একজন সফল ছেলের পেছনে বাবার ত্যাগের গল্পটা অনেকটা আইসবার্গের মতো, যার বেশির ভাগই পানির নিচে থাকে। — শেক্সপিয়ার
বাবা ছেলের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের হতে সময় লাগে, কিন্তু একবার হলে তা ভাঙার সাধ্য কারো থাকে না। — সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
আমার বাবা আমাকে বলেননি কীভাবে বাঁচতে হবে, তিনি বেঁচে দেখিয়েছেন যাতে আমি শিখতে পারি। — ক্লেরেন্স বুডিংটন কেল্যান্ড
ছেলের কাছে বাবা হলেন সেই সুপারহিরো, যার কোনো আলৌকিক ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না। — স্ট্যান লি
বাবার কাঁধে চড়ে পৃথিবী দেখার আনন্দটা ছেলের কাছে রাজসিংহাসনে বসার চেয়েও বেশি। — সমরেশ মজুমদার
শাসন করা বাবার অধিকার, আর সেই শাসনের মর্ম বোঝা ছেলের দায়িত্ব। — প্রবাদ
বাবা যখন ছেলের হাত ধরেন, তখন তিনি আসলে তাকে বিশ্বজয়ের সাহস যোগান। — এ.পি.জে. আব্দুল কালাম
ছেলের সাফল্যে বাবার চোখের কোণে যে জল জমে, তা পৃথিবীর সবচেয়ে দামী রত্ন। — শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
আমি যত বড়ই হই না কেন, বাবার কাছে সেই ছোট্ট খোকা হয়ে থাকতেই শান্তি পাই। — বুদ্ধদেব গুহ
বাবারা ছেলেদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন না, তারা ভালোবাসা প্রমাণ করেন ঘাম ঝরিয়ে। — ইমদাদুল হক মিলন
যে ছেলে বাবার সম্মান রক্ষা করতে জানে, সে-ই প্রকৃত সুসন্তান। — চাণক্য
বাবার জুতোয় যখন ছেলের পা গলে যায়, তখন সম্পর্কটা আর শাসন-বারণের থাকে না, বন্ধুত্বের হয়ে যায়। — সেলিনা হোসেন
পৃথিবীর সব মানুষ স্বার্থপর হতে পারে, কিন্তু বাবা ছেলের জন্য সব সময় নিঃস্বার্থ। — নির্মলেন্দু গুণ
বাবার স্বপ্ন ও ছেলের দায়িত্ব নিয়ে উক্তি
বাবার স্বপ্নগুলো ছেলের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নিজের জন্য বাঁচা সহজ, কিন্তু বাবার মুখ উজ্জ্বল করার জন্য বাঁচার নামই সার্থক জীবন। — স্বামী বিবেকানন্দ
বাবা ঘাম ঝরান ছেলের ভবিষ্যৎ গড়তে, আর ছেলে সেই ভবিষ্যতে বাবার নাম উজ্জ্বল করে। — মহাদেব সাহা
বাবার জরাজীর্ণ শরীরটা ছেলের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। — আনিসুল হক
যে ছেলে বাবার পরিশ্রমের মূল্য বোঝে, সে কখনো পথ হারায় না। — রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
বাবার চশমায় ধুলো জমতে দিও না, কারণ ওই চোখ দিয়েই তিনি তোমাকে পৃথিবী চিনিয়েছেন। — তসলিমা নাসরিন
নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়ে বাবাকে বিশ্রাম দেওয়ার আনন্দটা অতুলনীয়। — হেলাল হাফিজ
বাবারা কখনো অবসরে যান না, যতক্ষণ না ছেলে তার হাল ধরছে। — জীবনানন্দ দাশ
তোমার সফলতাই বাবার বার্ধক্যের লাঠি, যা তাঁকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে। — সংগৃহীত
বাবারা মুখে কিছু বলেন না, কিন্তু ছেলের ব্যর্থতা তাঁদের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে দেয়। — হুমায়ূন আহমেদ
ছেলের প্রথম আদর্শ তার বাবা, তাই বাবাকে হতে হয় পাহাড়ের মতো অটল। — নেলসন ম্যান্ডেলা
বাবার ছায়া সরে যাওয়ার আগেই তাকে গর্বিত করো, কারণ সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। — বিল গেটস
যে সন্তান বাবার ত্যাগের প্রতিদান দিতে জানে, সৃষ্টিকর্তা তার ওপর খুশি থাকেন। — আল-হাদিস (ভাবার্থ)
বাবা ও ছেলের সম্পর্ক নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত উক্তি
ছেলেরা কখনো মুখ ফুটে বাবাকে ভালোবাসার কথা বলতে পারে না, তাদের ভালোবাসা থাকে নীরবতায় মোড়ানো, যা কেবল বাবারাই বুঝতে পারেন। — হুমায়ূন আহমেদ
বাবার কাঁধে চড়ার আনন্দটা পৃথিবীর সবথেকে দামি সিংহাসনে বসার চাইতেও অনেক বেশি আরামদায়ক ও গর্বের। — হুমায়ূন আহমেদ
পৃথিবীর সব বাবাই তাদের সন্তানদের কাছে একেকজন সুপারম্যান, যাদের কোনো জাদুকরী ক্ষমতার প্রয়োজন হয় না, শুধু উপস্থিতিই যথেষ্ট। — হুমায়ূন আহমেদ
ছেলেদের কাছে বাবা হলো এমন এক বটবৃক্ষ, যার ছায়ায় থাকলে রোদের তাপ গায়ে লাগে না, ঝড়ের ঝাপটাও তুচ্ছ মনে হয়। — হুমায়ূন আহমেদ
বাবার শাসন আর বকুনিকে ছেলেরা ছোটবেলায় ভয় পেলেও, বড় হয়ে বোঝে ওটাই ছিল জীবনের আসল দিকনির্দেশনা। — হুমায়ূন আহমেদ
একজন বাবা তার ছেলের হাতটা হয়তো অল্প কিছুক্ষণের জন্য ধরে রাখেন, কিন্তু ছেলের হৃদয়ে তিনি থাকেন অনন্তকাল। — হুমায়ূন আহমেদ
গম্ভীর বাবার আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক কোমল হৃদয়, যা সন্তানের সামান্য আঘাতেই চুরমার হয়ে যায়, যদিও তিনি তা প্রকাশ করেন না। — হুমায়ূন আহমেদ
মধ্যবিত্ত বাবারা তাদের ছেলেদের সব শখ পূরণ করতে পারেন না ঠিকই, কিন্তু সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে দিতে তারা কখনো কার্পণ্য করেন না। — হুমায়ূন আহমেদ
বাবার পুরনো চশমাটা যখন ছেলের চোখে ওঠে, তখন সে পৃথিবীকে নতুন করে দেখতে শেখে, বাবার চোখ দিয়েই জগতকে চেনে। — হুমায়ূন আহমেদ
বাবা আর ছেলের সম্পর্কের মাঝখানে এক অদৃশ্য দেয়াল থাকে ভয়ের, কিন্তু বিপদের সময় সেই দেয়াল ভেঙে সবার আগে বাবাই ঢাল হয়ে দাঁড়ান। — হুমায়ূন আহমেদ
ছেলেরা যখন বাবা হয়, ঠিক তখনই তারা তাদের নিজেদের বাবার ত্যাগ আর ভালোবাসার গভীরতাটা সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পারে। — হুমায়ূন আহমেদ
বাবার হাত ধরে হাঁটার সময় ছেলেটা নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ মানুষ ভাবে, যেন কোনো বিপদই তাকে ছুঁতে পারবে না। — হুমায়ূন আহমেদ
বাবার নীরবতা অনেক সময় হাজারো শব্দের চেয়ে শক্তিশালী, তার চোখের দিকে তাকালেই সন্তান বুঝে নেয় করণীয় কী। — হুমায়ূন আহমেদ
পৃথিবীতে বাবারাই হয়তো একমাত্র মানুষ, যারা চান তাদের সন্তান তাদের চেয়েও অনেক বেশি যোগ্য ও সফল হোক। — হুমায়ূন আহমেদ
পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি – ইসলামিক উক্তি
পিতার সন্তুষ্টিতেই আল্লাহ্র সন্তুষ্টি নিহিত, আর পিতার অসন্তুষ্টিতেই আল্লাহ্র অসন্তুষ্টি। — হযরত মুহাম্মদ (সা.) [তিরমিজি শরীফ]
তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। — আল-কুরআন (সূরা বনি ইসরাইল: ২৩)
জান্নাতের দরজাগুলোর মাঝে পিতা হলেন মধ্যবর্তী দরজা। এখন তোমার ইচ্ছা, তুমি সেই দরজা রক্ষা করবে নাকি ধ্বংস করবে। — সুনানে ইবনে মাজাহ
বাবার দোয়া সন্তানের জন্য তেমন কার্যকরী, যেমন নবীর দোয়া তাঁর উম্মতের জন্য। — আল-হাদিস [দায়লামী]
কোনো সন্তান যদি তার বাবা-মায়ের দিকে ভালোবাসার নজরে তাকায়, আল্লাহ তার আমলনামায় একটি কবুল হজের সওয়াব লিখে দেন। — শুআবুল ঈমান (বাইহাকি)
বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাকে পেয়েও যে জান্নাত অর্জন করতে পারল না, তার চেয়ে বড় হতভাগা আর কেউ হতে পারে না। — সহীহ মুসলিম (ভাবার্থ)
পিতার চেহারা দর্শন করাও ইবাদতের শামিল, যদি তা ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে হয়। — আল-হাদিস
মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত ঠিকই, কিন্তু বাবা হলেন সেই জান্নাতের প্রবেশদ্বার। চাবি ছাড়া সেই জান্নাতে প্রবেশ করা অসম্ভব। — প্রচলিত ইসলামী উক্তি
সন্তানের জন্য বাবার দোয়ার চেয়ে দামী কোনো সম্পদ এই পৃথিবীতে নেই; এই দোয়া আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বিনা বাধায়। — সুনানে ইবনে মাজাহ (ভাবার্থ)
তাদের সামনে ‘উফ’ শব্দটিও করো না এবং তাদের ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানসূচক নম্র কথা বলো। — আল-কুরআন (সূরা বনি ইসরাইল: ২৩)
বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বন্ধু ও স্বজনদের সাথে ভালো ব্যবহার করাও বাবার প্রতি উত্তম আচরণের অন্তর্ভুক্ত। — সহীহ মুসলিম
দুনিয়ায় বাবার সেবা করলে আখেরাতে আল্লাহ তোমাকে পুরস্কৃত করবেন; বাবার হাসিমুখ দেখার চেয়ে বড় ইবাদত আর কিছুতে মিলবে না। — সংগৃহীত
বাবার রাগ বা অভিমান বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিও না; তাঁর দীর্ঘশ্বাস সন্তানের দুনিয়া ও আখেরাত বরবাদ করে দিতে পারে। — ইসলামী চিন্তাবিদদের অভিমত
হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন। — আল-কুরআন (সূরা বনি ইসরাইল: ২৪)
বাবা-ছেলের ভালোবাসার ছন্দ
বাবার কাঁধে চড়লে খোকা বিশ্ব জয়ের স্বাদ যে পায়,
বাবার মতো হিরো আর এই দুনিয়ায় কোথায় পায়?
শাসন বারণ যতই থাকুক বাবার মনে সাগর মায়া,
রোদের দিনে বাবার আঁচল ছেলের জন্য শীতল ছায়া।
বাবার আঙুল ধরে হাঁটা মেঠো পথের বাঁকে,
বাবার মতো বন্ধু বলো আর কে বা রাখে?
ছোট্ট খোকার আবদার সব বাবা মানেই পূরণ,
বাবার হাসিতেই খোকার সব খুশির বিচরণ।
বড় হয়েও বাবার কাছে সেই ছোট্টটি থাকি,
বাবার স্নেহের পরশটুকু হৃদয়েতে মাখি।
বাবার বুকে মাথা রাখলে সকল জ্বালা জুড়ায়,
বাবার হাতের জাদুর ছোঁয়ায় কষ্টগুলো উড়ায়।
রাগ অভিমানেও বাবা আগলে রাখে বুকে,
বাবার ভালোবাসায় ছেলে থাকে পরম সুখে।
বাবার চোখে স্বপ্ন আঁকা ছেলেকে নিয়ে রোজ,
হাজার কাজের মাঝেও বাবা নেয় ছেলের খোঁজ।
তুমি আমার সুপারহিরো তুমি আমার বল,
তোমার হাতটা ধরেই বাবা জীবন পথে চল।
বাবার ঘামে কেনা শার্ট ছেলের গায়ে সাজে,
বাবার খুশির ঝিলিক দেখি ছেলের হাসির মাঝে।
কঠিন দিনেও বাবা তুমি ছিলে পাহাড় সম,
তোমার শিক্ষায় গড়ব জীবন থাকব নিরুপম।
বাবার কোলে চড়ে দেখা রঙিন এই মেলা,
বাবার সাথেই কাটে ছেলের শ্রেষ্ঠ ছেলেবেলা।
বয়স বাড়ুক শরীর ভারুক টান তো কমে না,
বাবার মতো আপন মানুষ আর তো মেলে না।
বাবার স্বপ্ন পূরণ করা ছেলের ধর্ম হয়,
বাবার দোয়া থাকলে সাথে বিশ্ব হবে জয়।
বাবা-ছেলের ভালোবাসার কবিতা
বাবার কাঁধে চড়ে দেখা দুনিয়ার সব রঙ,
ছোট্ট মনে লাগত ভালো তোমার খুশির ঢঙ।
বড় হয়েও বন্ধু তুমি আমার সেরা সাথী,
তোমার আলোয় কাটে আমার আঁধার কালো রাতি।
শাসন বারণ সব ভুলে আজ জড়িয়ে ধরি বুকে,
বাবা তুমি থাকলে পাশে থাকি ভীষণ সুখে।
তোমার ঘামে গড়া জীবন আমার অহংকার,
তোমার তরে খোলা আমার হৃদয়ের সব দ্বার।
বাবার মতো হতে চাওয়া ছেলের প্রথম স্বপ্ন,
তোমার কাছেই শিখি আমি ভালো থাকার যত্ন।
বাইরে কঠিন ভেতরে যে কুসুম কোমল মন,
বাবা ছেলের এই বাঁধন রবে আমৃত্যু আজীবন।
ছেলেবেলার পুতুল খেলা এখন অনেক দূরে,
তবুও বাবা তোমার ডাক বাজে মধুর সুরে।
বিপদ এলে সাহস যোগাও শক্ত করে হাত,
তোমার ছায়ায় নির্ভয়ে যে কাটে দিন ও রাত।
তোমার রক্তে বইছে আমার ধমনীর ওই ধারা,
তোমায় ছাড়া জীবন আমার সত্যি ছন্নছাড়া।
বাবার চোখে চোখ রেখে আজ শপথ আমি করি,
তোমার মান রাখব আমি সারা জীবন ভরি।
গম্ভীর ওই মুখের আড়ে ভালোবাসার নদী,
বুঝতে পারি তোমার ব্যথা আমি নিরবধি।
বাবার বকুনি মিষ্টি লাগে যখন বুঝি ভুল,
তোমার হাসিতেই ফোটে আমার খুশির ফুল।
হাঁটি হাঁটি পা পা করে শিখিয়েছিলে চলা,
বাকি আছে আজো তোমায় অনেক কথা বলা।
তোমার ত্যাগের ঋণ শোধের সাধ্য আমার নাই,
পরজনমেও বাবা হিসেবে তোমায় যেন পাই।
বটবৃক্ষের ছায়া যেমন আগলে রাখে মূলে,
তেমনি তুমি রাখো আমায় সকল দুঃখ ভুলে।
বাবা ও ছেলের ভালোবাসা অটুট থাকুক চিরকাল,
তোমার দোয়ায় কাটুক আমার আগামী সব সকাল।
বাবা-ছেলের ভালোবাসা ও কিছু কথা
ছেলের কাছে বাবা সর্বদা এক সুপারহিরো, তার কাছেই তো শিখি আমরা জীবন গড়ার অ আ ক খ। মুখে বলেন না ভালোবাসেন, রাখেন মনে চেপে, বিপদ এলে সবার আগে দাঁড়ান বুক পেতে।
বয়স বাড়ে, দূরত্ব বাড়ে, বাড়ে অভিমান, তবুও বাবার জন্য বুকের ভেতর গায় যে প্রাণ। হাতটা ধরো শক্ত করে, যেমন ধরতেন তিনি, বাবার ঋণের কানাকড়িও শোধ হবে না জানি।
গম্ভীর ওই মুখের আড়ালে নরম একটা মন, ছেলের খুশির জন্য তিনি বিলান সারাক্ষণ। নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে গড়েন ছেলের ভিৎ, বাবাই শেখান হার না মানা জীবনেরই গীত।
ভার্চুয়াল ওই দেয়াল জুড়ে লোক দেখানো প্রেম, তার চেয়ে ঢের দামী বাবার চশমার ওই ফ্রেম। বাস্তবে তার পাশে থেকো, দিও একটু সময়, বৃদ্ধ বয়সে সন্তানই তো শেষ আশ্রয় হয়।
বাবার জুতোয় পা গলালে বোঝা যায় ভার, সংসারের ওই ঘানি টানা কতটা যে ধার। ছেলে মানুষ হয় বাবার ত্যাগের মহিমায়, মাথানত করো রোজ প্রভুর ওই করুণায়।
বন্ধু হয়ে গল্প করো, শুনো তার কথা, বার্ধক্যে যেন না পান তিনি বিন্দুমাত্র ব্যথা। বাবার হাসি দেখবে যখন, সব দুঃখ যাবে উবে, স্বর্গসুখ তো বাবার পায়ের নিচেই আছে ডুবে।
রক্তের এই বাঁধন কভু ছিঁড়বার তো না, বাবা-ছেলের সম্পর্কটা খাঁটি এক সোনা। দুজনে মিলে গড়বে ভুবন, ভালোবাসার ঘর, আপন করে নিও তারে, ভেবো না তো পর।
