গরম নিয়ে ইসলামিক ক্যাপশন: সেরা ২১০+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
সূর্যের প্রখর তাপে জমিন যখন পুড়তে থাকে, তখন মুমিনের হৃদয় কেঁপে ওঠে পরকালের কথা স্মরণ করে। এই তীব্র দাবদাহ কেবল ঋতুচক্রের পরিবর্তন নয়, বরং এটি জাহান্নামের ভয়াবহতার এক ক্ষুদ্র সতর্কবার্তা। আপনি কি এই গরমে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়ে এবং মানুষকে সচেতন করার জন্য গরম নিয়ে ইসলামিক ক্যাপশন খুঁজছেন? তাহলে আমাদের এই আয়োজনটি আপনার ঈমানি জজবা বাড়াতে সাহায্য করবে। এখানে কুরআন ও হাদিসের আলোকে গরম, ধৈর্য এবং আল্লাহর রহমত নিয়ে সেরা সব স্ট্যাটাস ও দোয়া সাজানো হয়েছে। আশা করি, পুরো লেখাটি পড়লে আপনার মনের কথার সাথে মিলে যাওয়া সেরা লাইনটি আমাদের এই পোস্টেই খুঁজে পাবেন।
গরম নিয়ে ইসলামিক উক্তি
প্রচণ্ড গরম মুমিনের জন্য গুনাহ মাফের উসিলা হতে পারে, যদি সে ধৈর্য ধরে। —ইমাম ইবনে তাইমিয়া
সূর্যের এই প্রখর তাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় হাশরের ময়দানের কথা, যেখানে ছায়া পাওয়াটা হবে পরম সৌভাগ্য। —ইমাম গাজ্জালী
গরমের কষ্টে ধৈর্য ধারণ করাও এক ধরণের ইবাদত, যার প্রতিদান আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত। —হাসান আল-বাসরী
আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তাকে দুনিয়ার সাময়িক কষ্ট দিয়ে পরকালের আজাব থেকে পবিত্র করেন। —আব্দুল কাদির জিলানী
তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো গরমে সবচেয়ে বড় সদকা বা দান। —হযরত আলী (রাঃ)
দুনিয়ার আগুনের চেয়ে সূর্যের তাপ বেশি, আর সূর্যের তাপের চেয়ে জাহান্নামের আগুন বহুগুণ তীব্র। —তাফসিরে ইবনে কাসীর
এই দাবদাহ আল্লাহর কুদরতের এক নিদর্শন, যা আমাদের দুর্বলতা স্মরণ করিয়ে দেয়। —মাওলানা রুমি
গরমের দিনে রোজাদার ব্যক্তির মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেসকের চেয়েও প্রিয়। —আল-হাদিস
ছায়ার কদর বুঝতে হলে রোদে পুড়তে হয়, তেমনি জান্নাতের শান্তি বুঝতে হলে দুনিয়ার কষ্ট সইতে হয়। —শেখ সাদী
আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকাই মুমিনের গুণ, তা সে গরম হোক বা শীত। —ইমাম শাফিঈ
গরমের তীব্রতায় অভিযোগ না করে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। —হযরত উমর (রাঃ)
প্রকৃতি যখন উত্তপ্ত হয়, তখন মুমিনের জিহ্বা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে। —ইবনে কাইয়িম
আজ যে সূর্যকে আমরা সহ্য করতে পারছি না, কিয়ামতের দিন সেই সূর্যই মাথার খুব কাছে চলে আসবে। —ইসলামিক চিন্তাবিদ
জাহান্নামের ভয়াবহতা ও গরম নিয়ে হাদিসের উক্তি
গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিশ্বাসের অংশ, তাই তোমরা জোহরের নামাজ কিছুটা দেরিতে (ঠান্ডা হলে) পড়ো। —সহীহ বুখারী
জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করেছিল, তাই আল্লাহ তাকে দুটি নিশ্বাসের অনুমতি দিয়েছেন—একটি শীতকালে, অন্যটি গ্রীষ্মকালে। —সহীহ মুসলিম
তোমরা যখন প্রচণ্ড গরম অনুভব করো, তখন জাহান্নামের আগুন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। —সুনানে নাসাঈ
দুনিয়ার এই আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র। —সহীহ বুখারী
জাহান্নামের আগুন এতটাই তীব্র যে, তা দুনিয়ার সব আগুনের সমষ্টির চেয়েও বেশি উত্তপ্ত। —তিরমিজি শরিফ
কিয়ামতের দিন সূর্য মানুষের এত কাছে থাকবে যে, ঘামে মানুষ ডুবে যাবে; সেই দিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না। —সহীহ মুসলিম
গরমে মানুষের কষ্ট দেখে জাহান্নামের শাস্তির কথা স্মরণ করা উচিত এবং তওবা করা উচিত। —ইমাম নববী
জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ শরীরের চামড়া পর্যন্ত গলিয়ে দেবে, যা কল্পনা করাও কঠিন। —আল-কুরআনের শিক্ষা
দুনিয়ার গরমে আমরা অস্থির হয়ে যাই, কিন্তু পরকালের অনন্ত আগুনের কথা আমরা ভুলে থাকি। —হাদিস শরীফের শিক্ষা
আল্লাহ বলেন, আমি মানুষকে গরম ও ঠান্ডা দিয়ে পরীক্ষা করি, যাতে তারা আমার নেয়ামতের শোকর আদায় করে। —তাফসিরে কুরতুবী
জাহান্নামিরা একটু পানির জন্য হাহাকার করবে, কিন্তু তাদের দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি। —আল-কুরআন (সূরা ওয়াকিয়া)
গরম বাতাস বা ‘লু’ হাওয়া জাহান্নামের আজাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। —ইবনে মাজাহ
যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে এক ফোটা চোখের জল ফেলে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। —তিরমিজি শরিফ
রাসুল (সাঃ) এর গরমে করণীয় সুন্নাহ নিয়ে উক্তি
নবীজী (সাঃ) গরমে কাইলুলা বা দুপুরের খাবারের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া পছন্দ করতেন। —সুন্নাহ
প্রচণ্ড গরমে জোহরের নামাজ একটু বিলম্বে আদায় করা বা ‘ইবরাদ’ করা নবীজীর নির্দেশ। —সহীহ বুখারী
রাসুল (সাঃ) গরমে সাদা পোশাক পরিধান করতে পছন্দ করতেন, কারণ তা আরামদায়ক। —শামায়েলে তিরমিজি
তিনি পানি পান করার সময় তিন শ্বাসে পান করতেন এবং বসে পান করার নির্দেশ দিতেন। —সহীহ মুসলিম
নবীজী (সাঃ) শসা ও তরমুজ খেতে পছন্দ করতেন, কারণ এগুলো শরীর ঠান্ডা রাখে। —সুনানে আবু দাউদ
গরমে তিনি সাহাবীদের মাথায় কাপড় বা পাগড়ি ব্যবহার করার পরামর্শ দিতেন। —সুনানে নাসাঈ
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তোমরা পানি পান করানোর মাধ্যমে সদকা করো, বিশেষ করে গরমের দিনে। —আল-হাদিস
তিনি অতিরিক্ত গরমের সময় আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া করতেন। —সহীহ ইবনে হিব্বান
নবীজী (সাঃ) গোসল করে শরীর ঠান্ডা রাখতে পছন্দ করতেন এবং ওযু অবস্থায় থাকতেন। —মুসনাদে আহমদ
গরমে তিনি মিষ্টি ও ঠান্ডা পানীয় (যেমন শরবত) পান করতে ভালোবাসতেন। —শামায়েলে তিরমিজি
রোদের মধ্যে চলাফেরা করার সময় তিনি ছায়া অবলম্বন করতেন। —সিরাতে ইবনে হিশাম
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, জ্বর বা শরীরের উত্তাপ জাহান্নামের অংশ, তাই পানি দিয়ে তা ঠান্ডা করো। —সহীহ বুখারী
তিনি প্রতিবেশীর ঘরে ঠান্ডা পানি বা খাবার পাঠানোকে উত্তম কাজ মনে করতেন। —আল-আদাবুল মুফরাদ
গরম নিয়ে ইসলামিক স্ট্যাটাস আইডিয়া
সূর্যের এই প্রখরতা আল্লাহর হুকুমেই হয়, তাই অভিযোগ না করে তওবা করি।
ঘামের ফোঁটাগুলো ঝরে পড়ার সাথে সাথে আমাদের গুনাহগুলোও ঝরে যাক।
এই তীব্র দহন মুমিনের ধৈর্যের পরীক্ষা, আল্লাহ আমাদের কামিয়াব করুন।
রোদের তেজ দেখে রবের প্রতাপ উপলব্ধি করার চেষ্টা করছি।
গরমের তীব্রতায় অস্থির না হয়ে বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করি।
দুনিয়ার এই সামান্য তাপ সইতে পারি না, কবরের আজাব সইব কী করে?
ছায়ার নিচে আশ্রয় পাওয়ার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা চাই।
জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া ইসলামিক স্ট্যাটাস
সূর্যের এই সামান্য উত্তাপেই চামড়া পুড়ে যায়, জাহান্নামের আগুন তো কল্পনার বাইরে।
দুনিয়ার আগুন তবুও নিভে যায়, কিন্তু দোযখের আগুন চিরস্থায়ী।
ইয়া রব, দুনিয়ার এই গরম সইতে পারছি না, আখেরাতের আগুন থেকে পানাহ চাই।
এই প্রখর রোদ আমাকে রোজ হাশরের ময়দানের কথা মনে করিয়ে দেয়।
জাহান্নামের আগুনের তুলনায় এই গ্রীষ্মের তাপ কিছুই না।
গরমের তীব্রতা বাড়লে জাহান্নামের নিঃশ্বাসের কথা স্মরণ করা জরুরি।
আল্লাহ, আমাদের শরীরকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিন।
গরমে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় নিয়ে ইসলামিক স্ট্যাটাস
আবহাওয়া যেমনই হোক, আলহামদুলিল্লাহ বলাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
গরমে গালমন্দ করা নিষেধ, কারণ এটাও আল্লাহর সৃষ্টি।
কষ্টের পরই স্বস্তি আসে, এই গরমেও ধৈর্য ধারণে নেকি আছে।
এসি বা ফ্যানের বাতাস পাওয়ার তৌফিক দিয়েছেন যিনি, তাঁর শুকরিয়া।
যারা এই গরমেও রোজা রাখছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
সবরকারীদের সাথে আল্লাহ আছেন, তাই গরমেও হাসিমুখে থাকি।
সুস্থ আছি, এটাই রবের বড় নিয়ামত, গরমটা না হয় সয়ে নিলাম।
বৃষ্টির জন্য ইস্তিস্কার নামাজ ও দোয়া নিয়ে ইসলামিক স্ট্যাটাস
ইয়া রব, আমাদের পাপের কারণে রহমতের বৃষ্টি বন্ধ করবেন না।
আসমানের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছি, একটু দয়া করুন প্রভু।
জমিন ফেটে চৌচির, আপনার রহমতের বারিধারা বর্ষণ করুন।
সালাতুল ইস্তিস্কার মাধ্যমে আমরা ক্ষমার ভিখারি হয়ে হাত পাতলাম।
আমাদের গুনাহ মাফ করে মৃত জমিনকে বৃষ্টির পানিতে জিন্দা করুন।
আল্লাহুম্মা আসকিনা—হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দান করুন।
আপনার রহমত ছাড়া এই প্রাণীজগত বাঁচবে না, বৃষ্টি দিন ইয়া আল্লাহ।
সূর্যের প্রখর তাপ ও আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে ইসলামিক স্ট্যাটাস
কোটি মাইল দূরের সূর্যের তেজ যদি এমন হয়, তবে তার স্রষ্টা কত শক্তিশালী!
সূর্যের এই রুদ্র রূপ রবের কুদরতের সামান্য এক নিদর্শন।
যিনি সূর্যকে আলো দিয়েছেন, তিনি চাইলে নিমিষেই সব অন্ধকার করতে পারেন।
আল্লাহর হুকুম ছাড়া সূর্যের তাপ কমানোর সাধ্য কারো নেই।
সৃষ্টির বিশালতা দেখে স্রষ্টার সামনে মাথা নত হয়ে আসে।
এই প্রখর রোদেও আল্লাহর জিকির জারি থাকুক প্রতিটি হৃদয়ে।
সুবহানাল্লাহ, কত নিপুণভাবে আল্লাহ সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব ঠিক করেছেন।
গরম নিয়ে ইসলামিক ফেসবুক পোস্ট
সূর্যের এই প্রখর উত্তাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় হাশরের ময়দানের কথা। দুনিয়ার সামান্য রোদ সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই, অথচ সেই কঠিন দিনে সূর্য মাথার খুব কাছে থাকবে। এই তীব্র দাহন আসলে মুমিনের জন্য এক সতর্কবার্তা। এসি বা ফ্যানের বাতাসে শরীর জুড়ানো সহজ, কিন্তু আখেরাতের আগুন থেকে বাঁচার জন্য প্রয়োজন চোখের পানি আর ইস্তিগফার। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জাহান্নামের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করুন।
লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন ধৈর্য ধরা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না। বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা অস্থির হয়ে পড়ি, অথচ কবরের সেই ঘুটঘুটে অন্ধকার ও গরমের কথা কি একবারও ভাবি? দুনিয়ার কষ্ট ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু পরকালের কষ্ট অনন্ত। এই সময়টায় অভিযোগ না করে রবের কাছে পানাহ চাওয়া উচিত। আল্লাহ যেন আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দেন এবং রহমতের বৃষ্টি দিয়ে জমিন ঠান্ডা করে দেন।
প্রচণ্ড গরমে রোজা রাখাটা নিঃসন্দেহে অনেক কষ্টের। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়, শরীর দুর্বল লাগে। কিন্তু মনে রাখবেন, কষ্টের পরিমাণ যত বেশি, প্রতিদানও তত বিশাল। সাহাবায়ে কেরাম উত্তপ্ত মরুভূমিতে রোজা রেখেছেন, জিহাদ করেছেন। তাদের ত্যাগের তুলনায় আমাদের কষ্ট অতি সামান্য। এই গরমে রোজা রাখা মানে নফসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। আল্লাহ আমাদের এই ইবাদত কবুল করে নিন।
রাস্তার ধারের শ্রমজীবী মানুষগুলো এই রোদে পুড়ে কাজ করছে পেটের দায়ে। তাদের দিকে তাকালে নিজের এসির রুমটাকেও লজ্জাজনক মনে হয়। আল্লাহ যাকে সামর্থ্য দিয়েছেন, তার উচিত এই গরমে তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি পান করানো বা সাধ্যমতো সাহায্য করা। একটা বোতল ঠান্ডা পানি বা এক গ্লাস শরবত হয়তো কারো প্রাণ জুড়াবে, আর এর বিনিময়ে আল্লাহ আপনার আমলনামায় সাদকাহর সওয়াব লিখে দেবেন।
আকাশ থেকে আগুন ঝরছে যেন। গাছপালা, পশুপাখি—সবাই বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে। এই অনাবৃষ্টি আমাদের পাপের ফসল হতে পারে। বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করার এখনই সময়। রাসুল (সা.) অনাবৃষ্টির সময় সালাতুল ইস্তিস্কা আদায় করতেন। আসুন, আমরাও রবের দরবারে হাত তুলি, তিনি যেন রহমতের বারিধারা বর্ষণ করে ধরণী শান্ত করেন।
গরমের তীব্রতায় মেজাজ খিটখিটে হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু রোজাদার হিসেবে রাগ সংবরণ করা জরুরি। বিদ্যুৎ নেই, গরমে ঘুম হচ্ছে না—এসব নিয়ে পরিবার বা আশপাশের মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করলে রোজার সওয়াব নষ্ট হতে পারে। এই কঠিন সময়ে ধৈর্য বা সবর করাই মুমিনের আসল পরীক্ষা। আল্লাহ আমাদের ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন।
জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকেই নাকি দুনিয়াতে গরম ও ঠান্ডার প্রকোপ আসে। হাদিসের এই কথাটি ভাবলেই গা শিউরে ওঠে। এই যে অসহ্য তাপমাত্রা, তা জাহান্নামের সামান্য এক ঝলক মাত্র। হে দয়ালু রব, দুনিয়ার এই আগুন আমরা সইতে পারছি না, দোজখের আগুন সইব কী করে? আমাদের ওপর দয়া করো, আমাদের পাপগুলো মুছে দাও।
গরম নিয়ে ইসলামিক ক্যাপশন
প্রখর রোদের তাপে যখন শরীর পুড়ে যায়, তখন আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।
হে আল্লাহ, আমাদের এই তীব্র দহন থেকে রক্ষা করো এবং শীতলতা দান করো।
সূর্যের এই প্রখরতা আমাদের কিয়ামতের মাঠের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার—এই দোয়াটিই এখন আমাদের বাঁচার সম্বল।
গরমের তীব্রতায় ধৈর্য ধারণ করাও মুমিনের জন্য ইবাদতের শামিল।
রবের হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না, এই তাপও তাঁরই পরীক্ষার অংশ।
অসহনীয় এই গরমে গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সদকা করা উত্তম।
দুপুরের কড়া রোদ দেখে রবের ভয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে।
আসমান ও জমিনের মালিক যিনি, তিনিই পারেন আমাদের স্বস্তি দিতে।
ঘাম ঝরানো এই দুপুরে আল্লাহর জিকির করে অন্তরকে প্রশান্ত রাখি।
হে দয়ালু রব, আমাদের গুনাহের কারণে আবহাওয়াকে কঠোর করে দিও না।
সূর্যের নিচে দাঁড়িয়ে হাশরের ময়দানের ভয়াবহতার কথা চিন্তা করি।
আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আমাদের আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই।
দুনিয়ার আগুনের চেয়ে জাহান্নামের আগুন বহুগুণ বেশি ক্যাপশন
দুনিয়ার এই সামান্য রোদ সইতে পারি না, জাহান্নামের আগুন সইব কেমন করে?
সূর্যের তাপে চামড়া ঝলসে যাচ্ছে, অথচ দোজখের আগুন এর চেয়েও ৭০ গুণ বেশি।
হে রব, আমাদের দুর্বল শরীর জাহান্নামের লেলিহান শিখা সহ্য করতে পারবে না।
আখেরাতের আগুনের কথা স্মরণ হলে দুনিয়ার এই গরম তুচ্ছ মনে হয়।
পাপ কাজ থেকে বিরত থাকি, কারণ কবরের আজাব ও জাহান্নাম বড্ড ভয়াবহ।
সামান্য আগুনের ছ্যাঁকা লাগলে চিৎকার করি, কিন্তু জাহান্নামের ভয় করি না।
জাহান্নামের আগুনের তীব্রতা কল্পনা করলেও অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে ভয়ে।
আল্লাহ, আমাদের ঈমান মজবুত করে দাও, যাতে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারি।
দুনিয়ার কষ্ট ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখেরাতের শাস্তি অনন্তকাল ধরে চলবে।
আগুন নিয়ে খেলা করা মানুষেরা পরকালের আগুনের কথা ভুলে গেছে।
হে মালিক, আমাদের শরীরকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিও।
সূর্যের প্রখরতা আমাদের সতর্কবার্তা দিচ্ছে, ফিরে এসো রবের পথে।
জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য আজই তওবা করে ফিরে আসা উচিত।
আল্লাহর রহমতের বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকা মোমিনের ক্যাপশন
চাতক পাখির মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি তোমার রহমতের আশায়।
হে রব, আকাশ থেকে শান্তির বারিধারা বর্ষণ করে ধরণীকে শীতল করো।
তপ্ত মাটির বুক চিরে ঘ্রাণ বেরোচ্ছে, বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছে প্রকৃতি।
রহমতের বৃষ্টি দিয়ে আমাদের গুনাহগুলো ধুয়ে মুছে সাফ করে দাও আল্লাহ।
শুকিয়ে যাওয়া নদীনালা আর তৃষ্ণার্ত প্রাণীকুল তোমার রহমতের পানে চেয়ে আছে।
বৃষ্টি মানেই আল্লাহর অশেষ দয়া, যা মৃত জমিনকে জিন্দা করে তোলে।
ইস্তিসকার নামাজ পড়ে রবের দরবারে হাত তুললাম, বৃষ্টি দাও মাবুদ।
মেঘলা আকাশ দেখলেই মুমিনের মনে আশার সঞ্চার হয়, রহমত আসছে।
আল্লাহর হুকুমেই মেঘমালা জমা হয়, আর ঝরে পড়ে শান্তির বৃষ্টি।
তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে আমরা তোমার করুণার ভিখারি।
হে আরশ অধিপতি, আমাদের নিরাশ করো না, রহমতের বৃষ্টি দাও।
জমিন ফেটে চৌচির, এখন তোমার কুদরতি ইশারা ছাড়া উপায় নেই।
বৃষ্টির ফোঁটায় মিশে আসুক আল্লাহর অফুরন্ত বরকত আর মাগফিরাত।
গরম নিয়ে ইসলামিক ছন্দ
সূর্য মামা চোখ রাঙালো রবের হুকুম পেয়ে
আল্লাহ তুমি রক্ষা করো শীতল ছায়া দিয়ে।
আসমান আজ অগ্নিশর্মা জমিন ফাটা রোদ
পাপের ফলে দিচ্ছে কি এই প্রকৃতির এক শোধ?
আল্লাহ তুমি মেঘ পাঠাও রহমতের ওই বারি
তোমার দয়া ছাড়া প্রভু বাঁচতে কি আর পারি?
জাহান্নামের আগুনের তাপ সইবো কেমন করে?
দুনিয়ার এই গরমেতেই প্রাণটা কেমন করে।
বৃষ্টি দিয়ে জুড়িয়ে দাও তপ্ত মাটির বুক
তোমার কাছে হাত পেতেছি দাও গো একটু সুখ।
নামাজ পড়ে হাত তুলেছি কবুল করো তুমি
জলের তৃষ্ণায় ফেটেছে আজ সুজলা এই ভূমি।
গরমের এই তীব্র দহন পরীক্ষা এক জানি
ধৈর্য ধরার তৌফিক দাও ওগো মহাজানি।
চাতক পাখির মতো চেয়ে রহমতেরই আশে
কালো মেঘের ভেলা যেন আকাশ জুড়ে ভাসে।
পাপের ভারে পৃথিবী আজ জ্বলছে দাউ দাউ
তওবা করে ফিরলে তবে শান্তি পাবে বাউ।
ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে শুকরিয়া তাই করি
বিপদ আপদ সরিয়ে দিও ওগো দয়াল হরি।
গাছের পাতা নড়ছে না তো বাতাস গেল কই?
আল্লাহ তোমার হুকুম ছাড়া অচল আমি রই।
এসো সবাই তওবা করি আল্লাহ মহান অতি
তিনিই পারেন করতে শীতল এই ধরণীর গতি।
রোদের তাপে শুকায় নদী শুকায় গায়ের ঘাম
বিপদকালে জপছি প্রভু তোমার প্রিয় নাম।
শীতল ছায়া দাও গো প্রভু আরশের ওই নিচে
দুনিয়ার এই কষ্টগুলো যাক না সব পিছে।
ইস্তিস্কার নামাজ পড়ে চাইছি পানি আজ
আল্লাহ তুমি রহম করো সেরে ফেলো কাজ।
গরম নিয়ে ইসলামিক কবিতা
সূর্যটা আজ ঢালছে আগুন, পুড়ছে ধরণী,
পাপের ভারে ডুবল বুঝি আমাদের তরণী;
হে দয়াময়, রহম করো, নামাও বৃষ্টির ঢল,
তোমার কৃপায় জুড়াক আবার তপ্ত এই ভূতল।
দুনিয়ার এই গরমেতেই হাঁসফাঁস করে প্রাণ,
জাহান্নামের আগুনের কথা ভাবলেই কম্পমান;
সেদিন মাথার ওপরে সূর্য, নিচে তামার পাত,
ছায়া দিও আরশ তলে, ওগো মাবুদ, বাড়িয়ে দিও হাত।
মাটি ফাটে তৃষ্ণায়, পাতা ঝরে যায়,
আমাদের গুনাহের কারণেই কি প্রকৃতি সাজা পায়?
ইস্তিগফার পড়ে আজ নত করি শির,
ক্ষমা করে দাও রব, তুমি তো সুধীর।
ঘাম ঝরে কপালে, শুকায় কণ্ঠনালী,
রোজ হাশরে কেমন হবে, ভাবছি বসে খালি;
সেদিন হাউজে কাউসার দিও, মিটিও পিয়াস,
তোমার দয়া ছাড়া যে সব আশাই বিনাশ।
রোদে পুড়ে কাজ করে যে দিনমজুর ভাই,
তার কষ্টের উসিলায় আজ মুক্তি যেন পাই;
ধৈর্য ধরার তৌফিক দাও এই দাবদাহে,
শুকরিয়া জানাই তোমায় প্রতি নিশ্বাসে, প্রবাহে।
গাছের ছায়াও সরে গেছে, নেই বাতাসের খোঁজ,
তোমার হুকুম ছাড়া কি আর নড়ে গাছের পাতা রোজ?
আমাদের অহংকার সব পুড়ে হোক ছাই,
শীতল বাতাস পাঠিয়ে দাও, এই ফরিয়াদ জানাই।
তপ্ত বালু মনে করায় কারবালার সেই দিন,
ইমানের পরীক্ষায় আমরা আজও বড় হীন;
গরম সয়েও রোজা রাখে মুমিন মুসলমান,
বিনিময়ে তুমি দিও জান্নাতের উদ্যান।
এসি রুমে বসে ভাবি বাইরের কথা,
পথের মানুষ সইছে কত নীরব ব্যথা;
সামর্থ্য দাও তাদের পাশে দাঁড়াবার তরে,
মানবসেবায় যেন তোমার সন্তুষ্টি ঝরে।
আগুনের গোলার মতো জ্বলছে আকাশ আজ,
প্রকৃতিও ভুলছে দেখো তার চিরায়ত সাজ;
সেজদাতে পড়ে কাঁদি, মাফ করো আল্লাহ,
শান্তি নামাও ধরায়, বলো সুবহানাল্লাহ।
গরম নিয়ে কিছু ইসলামিক কথা
সূর্যের এই প্রখরতা হাশরের মাঠের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় বারবার।
হাদিস বলে, জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকেই পৃথিবীতে এই তীব্র তাপের সৃষ্টি।
এক গ্লাস ঠান্ডা পানি পান করার সময় রবের করুণার কথা ভাবলে চোখ ভিজে আসে।
ছায়ার নিচে আশ্রয় পাওয়াটা যে কত বড় নেয়ামত, তা এই রোদে পুড়লেই বোঝা যায়।
গরমে অধৈর্য না হয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলাটা মুমিনের অন্যতম গুণ।
ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে যখন সিজদায় লুটিয়ে পড়া হয়, তখন রহমতের দুয়ার খুলে যায়।
তৃষ্ণার্ত পশুপাখির জন্য সামান্য পানি রাখাটাও হতে পারে নাজাতের উসিলা।
এই দাবদাহ আমাদের শিক্ষা দেয়, পরকালের আগুন এর চেয়েও বহুগুণ বেশি কষ্টদায়ক হবে।
সূর্য তার রবের হুকুম পালন করছে মাত্র, তাই আবহাওয়া নিয়ে অভিযোগ করা অনুচিত।
সামান্য লোডশেডিংয়ে অস্থির না হয়ে কবরের অন্ধকারের কথা ভাবলে দিল নরম হয়।
প্রচণ্ড গরমে রোজা রাখা বা ইবাদত করার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন।
ঘামের প্রতিটি ফোঁটা সওয়াব হয়ে আমলনামায় জমা হতে পারে, যদি নিয়ত খাঁটি থাকে।
শীতল বাতাস বা এসির বাতাস নয়, আসল প্রশান্তি তো রবের জিকিরেই মেলে।
আল্লাহ এই গরম দিয়ে বান্দাকে সতর্ক করেন, যেন তারা পাপের পথ ছেড়ে ফিরে আসে।
দুনিয়ার এই সামান্য তাপ সহ্য হয় না, তবে আখেরাতের আজাব সইবো কেমন করে?
