গরম নিয়ে ফানি ক্যাপশন: সেরা ২৮০+ স্ট্যাটাস আইডিয়া

বাইরে বের হলে মনে হচ্ছে আগুনের চুলার মধ্যে হাঁটছি, আর ঘরে ফ্যানের বাতাস যেন গরম হলকা। এই তীব্র গরমে যখন জীবন ওষ্ঠাগত, তখন একটু হাসাহাসিই হতে পারে একমাত্র স্বস্তি। ঘেমে-নেয়ে একাকার হওয়ার পরেও বাঙালি রসবোধ হারায় না। তাই তো এই রোদে পোড়া দুপুরে আপনার টাইমলাইনে একটু হিমেল হাওয়ার পরশ বুলিয়ে দিতে আমরা নিয়ে এসেছি গরম নিয়ে ক্যাপশন আর ফানি স্ট্যাটাসের সেরা কালেকশন। গরম কমবে কি না জানি না, তবে এই ক্যাপশনগুলো পড়ে আপনার এবং আপনার বন্ধুদের মেজাজ যে ঠান্ডা হবে, তা হলফ করে বলতে পারি। চলুন দেখে নেওয়া যাক গরম নিয়ে হাসির সব দারুণ আইডিয়া।

গরম নিয়ে কিছু মজার জোকস স্ট্যাটাস

সূর্যমামা কি গার্লফ্রেন্ডের সাথে ব্রেকআপ করেছে? এত রাগ কেন আজ?

গোসল করে বের হওয়ার দুই মিনিট পরই মনে হয় আবার গোসল করা দরকার।

ফ্যানের বাতাস এখন আর গায়ে লাগে না, মনে হয় হেয়ার ড্রায়ার চলছে।

শীতকালে লেপের নিচে লুকানো যেত, এখন তো চামড়া খুলে রাখা ছাড়া উপায় নেই।

আইসক্রিম খাওয়ার আগেই গলে যাচ্ছে, আমার আর দোষ কি?

গরমের ঠেলায় রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ‘গলে যাওয়া’ দিতে ইচ্ছে করছে।

সূর্যের দিকে তাকালে মনে হয় সে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে, ‘কতক্ষণ টিকতে পারিস দেখব’।

গরম নিয়ে কিছু মজার জোকস ও হাসির স্ট্যাটাস

রাস্তায় বের হলে নিজেকে তন্দুরি চিকেন মনে হয়, মসলা মাখানো বাকি শুধু।

ডিম ভাজার জন্য আর তেল-গ্যাস লাগবে না, আমার মাথায় দিলেই অমলেট হবে।

ক্রাশের দিকে তাকানোর এনার্জিও নেই, গরমে সব রোমান্স বাষ্প হয়ে গেছে।

গোসলখানা এখন আমার সেকেন্ড হোম, ওখানেই খাট পাততে হবে।

মশাগুলোও কনফিউজড, রক্ত খাবে নাকি ঘাম খেয়েই পেট ভরাবে।

এসির ছবি দেখেই এখন শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করছি।

গরম কমানোর জন্য ফেসবুকে ‘কুল’ স্ট্যাটাস দেওয়া ছাড়া আর উপায় নেই।

গরম নিয়ে ফানি ও বিনোদনমূলক স্ট্যাটাস

সূর্যের তাপ দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীটা এখন ওভেনের ভেতর ঢুকে গেছে, আর আমরা হচ্ছি পপকর্ন।

শীতকালে যাদের গোসল করতে ভয় লাগত, তারা এখন দিনে তিনবার শ্যাম্পু করছে।

প্রেমিকার রাগের চেয়েও এই গরমের তেজ অনেক গুণ বেশি। অন্তত প্রেমিকা আইসক্রিম দিলে শান্ত হয়, কিন্তু গরম তাতেও গলে না।

বাসায় থাকলে বিদ্যুৎ থাকে না, আর বাইরে বের হলে চামড়া থাকে না। আমরা এখন উভয় সংকটে।

শরবতের দোকানদাররাই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ, বাকিরা সব ভাজা মাছ।

এই গরমে মেকআপ করে বের হওয়া আর নিজের মুখে চুনকালি মাখা একই কথা। পাঁচ মিনিটেই সব গলে ভূত।

রাস্তায় ডিম ভাজি করার ভিডিও দেখে হাসতাম, এখন নিজের মগজটাই ভাজি হওয়ার জোগাড়।

ফ্রিজের পানি খেয়ে খেয়ে গলা ব্যথা, তবুও কলিজা ঠান্ডা হওয়ার নাম নেই।

মানুষের ক্রাশ খায়, আর আমরা খাচ্ছি রোদ। চামড়া পুড়ে কয়লা হওয়ার দশা।

এসির বাতাস এখন জান্নাতের বাতাসের ট্রায়াল ভার্সন মনে হয়।

ফ্যানের বাতাস গরম লাগা নিয়ে মজার স্ট্যাটাস

আমার রুমের ফ্যানটা বাতাস দেয় না, ওটা আসলে ওপর থেকে গরম ভাপ ছাড়ে। হেয়ার ড্রায়ারের বড় ভাই ওটা।

রেগুলেটর পাঁচে দেওয়ার পরেও ফ্যানটা কচ্ছপের গতিতে ঘুরছে বলে মনে হচ্ছে। ওটা আমাদের সাথে গেম খেলছে।

সিলিং ফ্যানটা এখন আর শরীর জুড়ায় না, উল্টো ঘাম শুকিয়ে লবণ বানিয়ে দেয়।

ফ্যানের নিচে বসলে মনে হয় মরুভূমির লু হাওয়ার মুখোমুখি হয়েছি। বাতাস কই যায় আল্লাহ জানেন।

ইলেকট্রিক বিল দিচ্ছি বাতাসের জন্য, আর পাচ্ছি আগুনের ছ্যাঁকা। ফ্যানটা বেইমানি শুরু করেছে।

ফ্যানটা ঘুরছে কিন্তু বাতাসের কোনো হদিস নেই, বাতাস বোধহয় গরমে ছুটিতে গেছে।

মাঝরাতে লোডশেডিং হলে ফ্যানটা যখন থেমে যায়, তখন মনে হয় জীবনটাও থেমে গেল।

টেবিল ফ্যানটা চালিয়েও লাভ নেই, ওটা গরম বাতাস মুখের ওপর ছুড়ে মারে।

ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকি আর ভাবি, ওটা কি আমাকে বাতাস দিচ্ছে নাকি রোস্ট করছে?

সূর্যকে ছুটি নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ফানি স্ট্যাটাস

ওহে সূর্য মামা, তোমার কি কোনো উইকএন্ড বা সিক লিভ পাওনা নেই? একদিন তো ছুটি নাও।

সূর্যকে একটা দরখাস্ত লিখতে হবে, যাতে সে অন্তত একদিনের জন্য মেঘের আড়ালে লুকায়। আমরা বাঁচতে চাই।

ওভারটাইম ডিউটি করে সূর্য মামা আমাদের ঝলসিয়ে দেওয়ার পণ করেছে। তার কি বিশ্রামের দরকার নেই?

সূর্য মামা, একটু থামো! তোমার কি কোনো রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান নেই? বুড়ো বয়সে এত তেজ ভালো না।

সূর্যের কি কোনো প্রেমিকা নেই? একটু ডেটে গেলে তো আমরা রেহাই পেতাম।

মামা, তুমি কি আমাদের ফ্রাই করার কন্ট্রাক্ট নিয়েছ? একটু দয়া করো, আমরা তো মানুষ, মুরগি না।

সূর্য মামাকে কেউ একটু ঠান্ডা শরবত খাওয়াও, মেজাজটা যদি একটু শীতল হয়।

তোমার এত এনার্জি দেখে আমরা হিংসা করি মামা। প্লিজ এবার একটু রেস্ট নাও।

মেঘের আড়ালে সূর্য মামা একটু লুকাচুরি খেললে আমরা খুশি হতাম। এত সিরিয়াস ডিউটি আর সহ্য হয় না।

গরম নিয়ে ফানি ফেসবুক পোস্ট

সূর্য মামার কি ব্রেকআপ হয়েছে? নাকি গার্লফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া করে সব রাগ আমাদের ওপর ঝাড়ছে? যেই লেভেলের তাপ দিচ্ছে, মনে হচ্ছে পৃথিবীটা একটা ওভেন আর আমরা হচ্ছি পিজ্জা। একটু পর পর বেক হচ্ছি। এসির নিচে বসেও মনে হচ্ছে সাহারা মরুভূমিতে চাদর মুড়িয়ে আছি। এই গরমে প্রেম করা তো দূরের কথা, নিজের গায়ের চামড়াটাই সহ্য হচ্ছে না। কেউ দয়া করে আমাকে অ্যান্টার্কটিকায় পার্সেল করে পাঠিয়ে দাও, ডেলিভারি চার্জ আমি দেব!

গোসলখানা থেকে বের হওয়ার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় মনে হয় আবার গোসল করা দরকার। শাওয়ারের নিচে দাঁড়ালে মনে হয় স্বর্গে আছি, আর বের হলেই সোজা তাওয়ায় ভাজি হতে হচ্ছে। দিনে পাঁচবার গোসল করেও শান্তি নেই। পানিও এখন গরম হয়ে বের হয়, মনে হয় গিজার অন করা। এখন একটাই উপায়, ফ্রিজ খালি করে ওটার ভেতরে গিয়ে বসে থাকা। মা যদি বকা দেয় দেব, তাও গরমে আর পারছি না।

বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনের সাথে মনে হয় আমার গত জন্মের কোনো শত্রুতা ছিল। আমি বিছানায় পিঠ লাগালেই কারেন্ট বাবু টাটা বাই-বাই বলে চলে যায়। ফ্যানটা ঘুরছে ঠিকই, কিন্তু বাতাস দিচ্ছে না, দিচ্ছে লু হাওয়া। মশারা কানের কাছে এসে রোমান্টিক গান শোনায় আর আমি গরমে সিদ্ধ হই। চার্জার ফ্যানের বাতাস এখন অমৃতের মতো লাগে। কারেন্ট গেলে মনে হয় জীবন থেকেই চার্জ চলে গেল।

প্রিয়তমা, প্লিজ এখন হাত ধরতে এসো না। রোমান্স করার মতো টেম্পারেচার এখন নেই। তোমার হাতের গরমে আমার হিটস্ট্রোক হয়ে যেতে পারে। তার চেয়ে বরং দুই গ্লাস ঠান্ডা লেবুর শরবত বানাও, ওটাতেই বেশি ভালোবাসা খুঁজে পাব। এই গরমে “বাবু খাইছো” শোনার চেয়ে “বাবু ঠান্ডা পানি খাইছো” শোনাটা বেশি রোমান্টিক। শীতকাল আসুক, তখন আবার প্রেম হবে, এখন আপাতত ডিস্টেন্স মেইনটেইন করাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

রিকশায় হুড তুলে বসলেও মনে হয় আগুনের চুলার ওপর বসে আছি। পিচঢালা রাস্তা দিয়ে হাঁটলে জুতো গলে যাওয়ার দশা। এই গরমে যারা মুখে মেকআপ করে বের হয়, তাদের সাহসের তারিফ করতে হয়। আমার তো সানস্ক্রিন দিলেও গলে পড়ে যায়। বাসে উঠলে মনে হয় স্টিম বাথ নিচ্ছি, তাও আবার ফ্রি-তে। ঘামের গন্ধে পারফিউম কোম্পানিগুলোও ফেল মারবে। সব মিলিয়ে অবস্থা কেরোসিন।

মাঝে মাঝে ভাবি, আমরা কি পাপ করেছিলাম যে সূর্য এমন প্রতিশোধ নিচ্ছে? ফ্যানের স্পিড পাঁচে দিয়েও মনে হয় এক নম্বরে ঘুরছে। ছাদের ট্যাংকি থেকে পানি পড়লে মনে হয় কেউ গরম পানি ঢেলে দিচ্ছে। ঠান্ডা পানির বোতলটা এখন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ওটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর চেষ্টা করি। গরমের জ্বালায় এখন স্বপ্নও দেখি আইসক্রিমের। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করো, নাহলে গলে জল হয়ে যাব।

গরমে ডিম ভাজি করার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিয়ে ফানি পোস্ট

গ্যাসের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে সূর্যের তাপে রান্না করা ছাড়া উপায় দেখছি না। পকেটের টাকা বাঁচাতে আজ রাস্তায় ডিম নিয়ে নেমেছিলাম। ভাবলাম প্রাকৃতিক উপায়ে অমলেট খাব। কিন্তু বিধি বাম! ডিম ভাজা হলো না, উল্টো রোদে দাঁড়িয়ে আমি নিজেই রোস্ট হয়ে গেলাম। বিজ্ঞান বলে পিচঢালা রাস্তা গরম হয়, কিন্তু ওটা যে ডিম ভাজার মতো গরম হয় না, সেই শিক্ষাটা হাড়ভাঙ্গা গরমে দাঁড়িয়ে হাড়ে হাড়ে টের পেলাম।

ফেসবুকে ভিডিও দেখে খুব শখ জেগেছিল রাস্তায় ডিম ভাজার। কড়াই, তেল, লবণ সব নিয়ে রেডি। যেই না ডিমটা ভাঙলাম, ওটা গড়গড় করে ড্রেনের দিকে রওনা দিল। বুঝলাম, রাস্তার ঢাল ঠিক করার আগে এই এক্সপেরিমেন্ট করা বোকামি। এখন মনে হচ্ছে ডিমটা কড়াইয়ে না দিয়ে নিজের মাথায় ভাঙলে হয়তো ভাজা হয়ে যেত, যা গরম পড়েছে!

সূর্য মামার সাথে আজ ডাইরেক্ট চ্যালেঞ্জ ছিল। বললাম, তোমার তাপে যদি ডিম ভাজতে না পারি, তবে আমি আর এই মুখ দেখাব না। আধা ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার পর দেখলাম ডিমের সাদা অংশটা একটু একটু শক্ত হচ্ছে। খুশিতে যেই না উল্টাতে গেলাম, দেখি ওটা পিচের সাথে সুপার গ্লুর মতো লেগে গেছে। দিনশেষে না পেলাম অমলেট, না পেলাম শান্তি, জুটল একরাশ হতাশা আর ঘাম।

আজকালকার রোদকে বিশ্বাস করা কঠিন। ভাব দেখাচ্ছে যেন সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে। অথচ একটা নিরীহ ডিম ভাজতে পারে না। রোদের তেজ দেখে মনে হলো গ্যাসে রান্না করার দিন শেষ। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, ডিমটা ভাজা হওয়ার বদলে রোদে শুকিয়ে শুটকি হয়ে গেছে। এই গরমে ডিমের চেয়ে মানুষের মগজ ভাজি হওয়ার চান্স বেশি।

সস্তায় নাস্তা করার নিনজা টেকনিক অ্যাপ্লাই করতে গিয়ে ধরা খেলাম। ভাবলাম, গ্যাসের চুলা কেন জ্বালাব? আল্লাহ তো ফ্রি-তে চুলা জ্বালিয়ে রেখেছেন। রাস্তায় তেল দিয়ে ডিম ছাড়লাম। পাশ দিয়ে যাওয়া কুকুরটা এমনভাবে তাকাল যেন আমি তার রিজিক নষ্ট করছি। শেষমেশ আধা ভাজা ডিমটা ওই কুকুরকেই দান করে দিলাম। আমার সায়েন্টিস্ট হওয়ার স্বপ্ন ওখানেই সমাধি।

গরমে টিকতে না পেরে ভাবলাম এর সদ্ব্যবহার করি। বাসা থেকে লুকিয়ে ডিম এনে রাস্তায় ভাঙলাম। আশা ছিল ক্রিস্পি অমলেট হবে। কিন্তু হলো কী? ডিমটা পানির মতো ছড়িয়ে গেল। বুঝলাম, আমাদের দেশের রাস্তার পিচগুলোও ভেজাল, ঠিকমতো তাপ ধরে রাখতে পারে না। অথবা সূর্য মামা আজ মুডে ছিলেন না। মাঝখান দিয়ে একটা ডিমের অকাল মৃত্যু ঘটল।

সবাই বলে বিজ্ঞান নাকি লজিক দিয়ে চলে। কিন্তু গরমে ডিম ভাজার এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে দেখলাম এখানে লজিক অচল। তাত্ত্বিকভাবে রাস্তা গরম, কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি ওটা ডিম ভাজার জন্য যথেষ্ট না। আমার এই মহান গবেষণার ফলাফল হলো—সূর্যের তাপে ডিম ভাজা সম্ভব না, তবে ডিমের কুসুম দিয়ে রাস্তায় আল্পনা আঁকা সম্ভব।

আজকের ব্রেকিং নিউজ: আমি রাস্তায় ডিম ভাজতে গিয়ে ব্যর্থ। তবে লাভ একটা হয়েছে, রোদে দাঁড়িয়ে আমার শরীরের চর্বি গলে গেছে। ডিম ফ্রাই না হলেও আমি ফ্রাই হয়ে গেছি। যারা ভাবছেন গ্যাসের বিল বাঁচাবেন, তাদের বলছি—এই গরমে ডিম না ভেজে বরং শরবত বানিয়ে খান, জানটা বাঁচবে। রাস্তা হাঁটার জন্য, রান্নার জন্য না।

ভাবছিলাম এই গরমে একটা রেস্টুরেন্ট খুলব—”সোলার কিচেন”। যেখানে কোনো চুলা থাকবে না, সব রান্না হবে রাস্তার গরমে। কিন্তু টেস্ট রান করতে গিয়েই ফ্লপ। কাস্টমারকে অমলেট খাওয়াতে গিয়ে কাঁচা ডিম খাওয়াতে হবে। প্রকৃতির ওপর ভরসা করে ব্যবসা করা যাবে না, শেষমেশ মূলধনসহ ডুবতে হবে।

একটা ডিম, একটু তেল আর প্রখর রোদ—পারফেক্ট কম্বিনেশন মনে হলেও রেজাল্ট জিরো। ডিমটা ভাঙার পর সেটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম ১০ মিনিট। ডিমটাও আমার দিকে তাকিয়ে হয়তো হাসছিল। শেষ পর্যন্ত ওটা কাকের পেটে গেল। কাকটাও হয়তো ভাবছে, এই গরমে মানুষ পাগল হয়ে গেছে, কাঁচা ডিম রাস্তায় ফেলে নষ্ট করে।

বিজ্ঞান বইয়ে পড়েছিলাম তাপ দিলে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন হয়। আজ বাস্তবে প্রমাণ পেলাম। তাপ দিলে ডিম ভাজা হয় না ঠিকই, কিন্তু মেজাজ ঠিকই ভাজা ভাজা হয়। রোদের মধ্যে এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে এখন আমার মাথাব্যথা। এর চেয়ে ঘরে ফ্যান চালিয়ে কাঁচা ডিম চিবিয়ে খাওয়া অনেক বেশি আরামদায়ক ছিল।

যারা ফেসবুকে দেখেন গাড়ির বনেটে বা রাস্তায় ডিম ভাজা হচ্ছে, সব ভুয়া। আজ নিজে ট্রাই করে বুঝলাম। ওগুলো সব এডিটিং বা আগে থেকে গরম করে রাখা। আমার ডিমটা তো রোদে পেয়ে আরামসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রিলাক্স করছিল। ভাজা হওয়ার কোনো লক্ষণই নেই। ফালতু সব এক্সপেরিমেন্ট করে সময় নষ্ট।

গরমের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে ভাবলাম প্রতিশোধ নিই। সূর্যের তাপকে কাজে লাগিয়ে ব্রেকফাস্ট বানাব। কিন্তু প্রকৃতি হয়তো আমার সাথে মশকরা করল। ডিমটা কড়াইয়ে দেওয়ার পর মনে হলো ওটা সানবাথ নিচ্ছে। ভাজা হওয়ার নামগন্ধ নেই। শেষমেশ লজ্জায় কড়াইসহ দৌড় দিলাম বাসায়। লোকে দেখলে পাগল ভাবত।

পিচঢালা পথ নাকি আগুনের মতো গরম! সেই বিশ্বাসে ডিম ছাড়লাম। কিন্তু হায়, আগুনের ছিটেফোঁটাও নেই। উল্টো বাতাসের ধুলাবালি মিশে ডিমটা এখন অমলেটের বদলে বালুভর্তা হয়ে গেছে। খাওয়ার অযোগ্য এই জিনিসটা দেখে শিক্ষা হলো—লোভে পাপ, আর গরমে ডিম ভাজতে গেলে তাপ (শরীরের)।

গরম নিয়ে ফানি ক্যাপশন

গরমে মেকআপ গলে যাওয়ার আগেই একটা সেলফি তুলে রাখলাম।

বাসার বাইরে পা দিলেই মনে হয় ফ্রিতে সওনা বাথ নিচ্ছি।

সূর্যের তাপে গলে যাওয়ার আগে কেউ আমাকে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখো প্লিজ।

আমার গায়ের ঘাম দিয়ে বোধহয় এক বালতি পানি জমানো যাবে।

গরমের জ্বালায় আইসক্রিম হওয়ার শখটা আজ খুব জাগছে।

বাসায় এসি নেই, তাই ফ্রিজের দরজা খুলে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি।

শীতকালকে বড্ড মিস করছি, ফিরে এসো প্লিজ, আর ঝগড়া করব না।

বাইরে বের হওয়ার প্ল্যান বাতিল, ফ্যানের নিচে আমিই সেরা।

সূর্যের দিকে তাকিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার ফানি ক্যাপশন

হ্যালো সূর্য, তুমি যতই তাপ দাও, আমার কুলনেস কমানোর সাধ্য তোমার নেই।

সানগ্লাস চোখে দিয়ে তোমার দিকে তাকালাম, দেখি কার তেজ বেশি।

তুমি কি ভাবছ গরম দিয়ে আমাকে ঘরে আটকে রাখবে? ভুল ভাবছ বস।

আমার এটিটিউড তোমার তাপমাত্রার চেয়েও কয়েক ডিগ্রি বেশি।

রোদ যতই কড়া হোক, আমার স্টাইল তার চেয়েও বেশি কড়া।

সূর্য মামা, কম্পিটিশন করতে এসো না, আমিও কিন্তু কম হট না।

তোমার তাপে আমি গলি না, বরং আরও বেশি গ্লো করি।

গরমের ভয়ে ঘরে বসে থাকার পাত্র আমি একদমই না।

রোদের তেজে চামড়া পুড়বে ঠিকই, কিন্তু মেজাজ সবসময় কুল।

চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করলাম সূর্য, দেখা যাক কে আগে হার মানে।

সানস্ক্রিন আর সানগ্লাস, ব্যাস, তোমার সব জারিজুরি খতম।

তোমার আগুন ঝরা রোদ আমার সেলফির লাইটিং হিসেবে দারুণ কাজ করে।

তুমি জ্বলো তোমার মতো, আমি থাকব আমার মেজাজে একদম চিল।

গরম দেখিয়ে লাভ নেই, আমি জন্মগতভাবেই আগুন।

তোমার তাপ সহ্য করার ক্ষমতা জেনেই তো এই শহরে বাস করি।

গরম নিয়ে ফানি ছন্দ

সূর্য মামা একটু থামো, আর দিও না তাপ
তোমার জ্বালায় গরম লাগে, বাড়ছে মনের চাপ।

ফ্যান ঘোরে তো বাতাস নেই, কারেন্ট যায় যে চলে
গরমে ভাই জান বাঁচে না, শরীর শুধুই গলে।

ডিম ভাজা আর করতে হবে না, তেলের কড়াইয়ে
ছাদে গেলেই অমলেট হবে, রোদের তাপে পেয়ে।

গোসল করি দিনে চারবার, তবুও শরীর ঘামে
এসি ছাড়া জীবনটা ভাই, আটকে আছে জ্যামে।

আইসক্রিম আর শরবত খেয়ে, পেটটা হলো ঢোল
গরমে ভাই বুদ্ধিশুদ্ধি, সব খেয়েছে গোল।

মেয়েদের সব মেকআপ গলে, ভূত সেজেছে আজ
গরমে ভাই নষ্ট হলো, সুন্দরী সব সাজ।

লুঙ্গি পরে বাতাস করি, হাতপাখাটা হাতে
গরম কি আর কমছে বলো, দিনে কিংবা রাতে?

শীতকালে তো লেপ খুঁজতাম, এখন খুঁজি বরফ
গরমে ভাই পুড়ছে সবাই, ধনী কিংবা গরিব তরফ।

সূর্যটাকে ফোন দিয়েছি, ধরছে না তো কেউ
গরমে ভাই দুনিয়া জুড়ে, কষ্টের এক ঢেউ।

পুকুর পেলে ঝাঁপ দিতাম, ব্যাঙের মতো করে
গরম থেকে বাঁচতে ভাই, মনটা কেমন করে।

কুকুরগুলো জিভ বের করে, হাঁপায় রাস্তার ধারে
মানুষ আমরা ফ্যানের নিচে, মরছি বারে বারে।

ফ্রিজের ভেতর ঢুকতে ইচ্ছে, করছে সারাক্ষণ
গরমে ভাই পাগলপারা, অবুঝ আমার মন।

ঘামাচিতে পিঠ ভরেছে, চুলকানি সারাদিন
গরমে ভাই শোধ হবে না, পাপের কোনো ঋণ।

বৃষ্টি তুমি আসবে কবে, দিচ্ছ কেন ফাঁকি?
গরমে আর কতদিন বলো, রোস্ট হয়ে যে থাকি।

প্রেমিকারা সব গরমের চোটে, ঝগড়া করে বেশ
এই গরমে ব্রেকআপ হলে, জুটবে খুশির রেশ।

গরম নিয়ে ফানি কবিতা

সূর্য মামা রেগেমেগে লাল করেছে চোখ,
গরমেতে সিদ্ধ হয়ে পুড়ছে পাড়ার লোক।
ডিম ভাজি হয় পিচ রাস্তায় আমি ভাজি ঘরে,
শীতল পাটি আগুন লাগে দুপুরবেলার পরে।

ফ্যানটা ঘোরে বাতাস নেই আগুন যেন ঝরে,
ঘামে ভিজে গেঞ্জি চিপলে বালতি পানি পড়ে।
কারেন্ট গেলে জানটা যায় মোমবাতিও গলে,
মশাগুলো সুযোগ বুঝে গানের আসর খোলে।

দিনে দশবার গোসল দিই তবুও শরীর জ্বলে,
ইচ্ছে করে ডুব দিয়ে রই মাছের সাথে তলে।
শাওয়ার ছেড়ে নড়তে মানা পড়ার টেবিল বাদ,
একটুখানি ঠান্ডার তরে করছি ফরিয়াদ।

সাধ জাগে ভাই ফ্রিজের ভেতর পেতে রাখি খাট,
বাইরে গেলেই মনে হয় যে মাথায় পড়বে ঠাটা।
বরফ কুচি চিবাই বসে শান্তি নাহি পাই,
এই গরমে প্রেম পিরিতির ষোলো আনাই ছাই।

ময়দা মেখে প্রিয়া আমার সেজেছিল বেশ,
ঘামের তোড়ে মেকআপ গলে ভূত হলো বিশেষ।
ভুতুড়ে সাজ দেখে আমি দিলাম উর্ধ্বশ্বাসে দৌড়,
ব্রেকআপটাই শ্রেয় এখন গরমের এই ভোর।

সূর্যটাকে কিনতে যদি পারতাম টাকা দিয়ে,
সুইচটা তার অফ করে দিতাম থাকতাম আমি শুয়ে।
এসি ছাড়া জীবনটা আজ তেজপাতা ভাই তেজপাতা,
গরম নিয়ে ভরল দেখো আমার প্যারোডি খাতা।

লেবুর শরবত অমৃত আজ খাচ্ছি গ্লাস গ্লাস,
এমন গরম দেখেনি কেউ বারোটা তো মাস।
কুকুরগুলোও জিহ্বা বের করে হাঁপায় অবিরত,
আমরা মানুষ হচ্ছি ফ্রাই কড়াই ভাজার মত।

শীতকালে তো লেপ মুড়ি দিই গরমে কি করি?
চামড়া খুলে রাখার যদি থাকত কারিগরি!
গাছের পাতা নড়ে না ভাই বাতাস গেছে মরে,
সবাই মিলে চলো থাকি এন্টার্কটিকার ঘরে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *