বট গাছ নিয়ে ক্যাপশন: সেরা ২৪৭+ স্ট্যাটাস আইডিয়া
গ্রামের ঐ বাঁশঝাড়ের পাশে কিংবা বিশাল মাঠের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা বট গাছটা যেন এক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। তপ্ত দুপুরে ক্লান্ত পথিকের আশ্রয়স্থল এই মহীরুহ। এর ঝুরির ফাঁকে লুকিয়ে আছে কতশত গল্প আর স্মৃতি। আপনি কি এই বিশাল বৃক্ষটিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু লিখতে চাইছেন? কিংবা খুঁজছেন বট গাছ নিয়ে ক্যাপশন? তাহলে আমাদের এই আয়োজনটি আপনার মনের খোরাক জোগাবে। এখানে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য আর প্রকৃতির এই বিশাল ছাতা নিয়ে সেরা সব কথা সাজানো হয়েছে।
বট গাছ নিয়ে স্ট্যাটাস আইডিয়া
মহাকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই প্রবীণ গাছটার দিকে তাকালেই শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।
শিকড়ের জটাজালে আটকা পড়ে আছে কত শত বছরের ইতিহাস, কে রাখে তার খবর?
ক্লান্ত পথিকের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ওই শীতল ছায়ার জুড়ি মেলা ভার।
প্রকৃতির ছাতা হয়ে রোদে পোড়া মানুষকে আগলে রাখাই ওর ধর্ম।
বটপাতার ফাঁক গলে আসা রোদটাও বড্ড মায়াবী লাগে এই দুপুরে।
জটাধারী ঋষির মতো ধ্যানে মগ্ন হয়ে আছে গ্রামের ওই প্রাচীন বৃক্ষটি।
বিশাল ডালপালা ছড়িয়ে সে যেন সবাইকে নিজের কোলে টেনে নিতে চায়।
গ্রামের মেঠো পথ আর বট তলার আড্ডা নিয়ে স্ট্যাটাস
গোধূলি বেলায় বটতলায় মুরুব্বিদের আসর না জমলে গ্রামটা অসম্পূর্ণ লাগে।
চায়ের কাপে ঝড় তোলা সেই পড়ন্ত বিকেলের আড্ডাগুলো বড্ড মিস করি।
মেঠো পথের বাঁকে ওই গাছটাই আমাদের গ্রামের ল্যান্ডমার্ক হয়ে আছে।
ধুলোমাখা পথ আর বটতলার হাওয়া—গ্রামের প্রাণ তো ওখানেই।
শহরের এসি রুমের চেয়ে বটতলার বাতাস অনেক বেশি আরামদায়ক ও শান্তির।
রাজনীতির আলোচনা থেকে শুরু করে সুখ-দুঃখের গল্প—সবই ওই গাছতলায়।
ক্লান্ত কৃষকের জিরিয়ে নেওয়ার জায়গাটুকু বড়ই প্রশান্তিময়।
শতবর্ষী বট গাছের নিচে বসে শৈশবের স্মৃতিচারণ স্ট্যাটাস
ঝুড়ি ধরে দোল খাওয়ার সেই সোনালী দিনগুলো আর কখনো ফিরে পাব না।
শতবর্ষী এই গাছটাই ছিল আমাদের শৈশবের অলিখিত খেলার মাঠ।
স্কুল ফাঁকি দিয়ে বটতলায় বসে থাকার রোমাঞ্চ আজও রক্তে নাচন তোলে।
দাদুর মুখে শোনা বটের ডালের সেই পেত্নীর গল্প আজও গা ছমছমে।
শৈশবটা হারিয়ে গেছে, কিন্তু গাছটা আজও ঠায় দাঁড়িয়ে আমাদের অপেক্ষায়।
চোর-পুলিশ খেলার সাক্ষী হয়ে আছে ওই মোটা শিকড়গুলো।
টিফিনের টাকা জমিয়ে বটতলায় আচার খাওয়ার স্বাদ ভোলা অসম্ভব।
বট তলার হাট আর গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে স্ট্যাটাস
সপ্তাহের হাটের দিন বটতলাটা যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে মানুষের কোলাহলে।
গ্রাম বাংলার অর্থনীতির চাকা ঘোরে এই গাছের নিচেই, শত বছর ধরে।
হাজারো মানুষের কোলাহল সহ্য করার অসীম ধৈর্য আছে গাছটার।
বাঁশ আর বেতের ঝুড়ি নিয়ে বসা বিক্রেতাদের ছায়া দেয় এই পরম বন্ধু।
বটতলার হাট বলতেই চোখের সামনে ভাসে নস্টালজিয়ার এক রঙিন ছবি।
মেলা হোক বা হাট, সব উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু ওই প্রাচীন গাছটি।
গ্রামীণ ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে বটের ছায়া আর মানুষের ব্যস্ততা।
শহরের কংক্রিটের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া বট গাছ নিয়ে আক্ষেপের স্ট্যাটাস
ইট-পাথরের জঞ্জালে বটগাছ দেখাটা এখন বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু না।
শহরের তপ্ত দুপুরে এক চিলতে বটের ছায়া বড্ড প্রয়োজন ছিল।
কংক্রিটের ভিড়ে আমরা সবুজের মায়া হারিয়ে ফেলেছি বহু আগে।
অক্সিজেনের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরি, অথচ গাছ লাগাতে কার্পণ্য করি।
শহরের কৃত্রিমতায় বটগাছের সেই সনাতনী রূপ খুঁজে পাওয়া ভার।
দালানের ভিড়ে আকাশ ঢাকা পড়েছে, আর গাছেরা হয়েছে বিলুপ্ত।
সবুজের স্পর্শ পেতে হলে এখন গ্রাম ছাড়া গতি নেই।
বট গাছ নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
গ্রামের ওই বিশাল বটগাছটার নিচে দাঁড়ালে সময় থমকে যায়। ঝুড়ি নামানো ডালপালাগুলো যেন একেকটা ইতিহাসের সাক্ষী। ছোটবেলায় স্কুল ছুটির পর ওটার নিচে আড্ডা না দিলে দিনটা অসম্পূর্ণ লাগত। কত ভূতের গল্প, কত কল্পকাহিনি ওই গাছের ছায়ায় বসে তৈরি হয়েছে। শহরের দালানকোঠার ভিড়ে এখন আর এমন নিবিড় ছায়া খুঁজে পাই না। শিকড়ের টানে যখন গ্রামে ফিরি, তখন ওই প্রবীণ গাছটাই সবার আগে স্বাগত জানায়।
প্রচণ্ড রোদে ক্লান্ত পথিক যখন বটতলায় বসে গামছা দিয়ে ঘাম মোছে, তখন বোঝা যায় প্রকৃতির দয়া কতটা অসীম। কোনো প্রতিদান ছাড়াই বছরের পর বছর ছায়া বিলিয়ে যাচ্ছে এই মহিরুহ। অথচ আমরা উন্নয়নের দোহাই দিয়ে এই পরম বন্ধুকেই কুঠারের আঘাতে শেষ করে দিই। বটগাছ তো সাধারণ কোনো উদ্ভিদ না, ওটা গ্রামের প্রাণকেন্দ্র। হাট বসে, মেলা বসে, মানুষের মিলনমেলা হয় ওখানেই। এই ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে গেলে আমরা বড় একা হয়ে যাব।
শতবর্ষী বটগাছটার দিকে তাকালে নিজেকে বড্ড তুচ্ছ মনে হয়। কত প্রজন্মকে ও দেখেছে, কত সুখ-দুঃখের গল্প শুনেছে। দাদু বলতেন, ওনার দাদুও নাকি এই গাছটাকে এভাবেই দেখে গেছেন। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রহরী আমাদের অনেক কিছু শেখায়। ঝড়ে ডালপালা ভাঙে, কিন্তু শিকড় উপড়ে যায় না। আমাদেরও জীবনের ঝড়ে এভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হয়। শিক্ষাটা ওখান থেকেই নেওয়া।
বটপাতার বাঁশি বাজানোর দিনগুলো এখন রূপকথার মতো শোনায়। পুকুর পাড়ের ওই বটগাছটা ছিল আমাদের দুরন্তপনার সঙ্গী। ঝুড়ি ধরে দোল খাওয়া আর পাখির বাসা খোঁজার সেই আনন্দ আজকের ভিডিও গেমসে মিলবে না। আমরা আধুনিক হয়েছি, কিন্তু শৈশবের সেই মাটির গন্ধটা হারিয়ে ফেলেছি। মাঝেমধ্যে খুব ইচ্ছে করে সব ব্যস্ততা ফেলে ওই শীতল ছায়ায় কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিই।
পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল এই গাছগুলো। ফল পাকলে লাল ঠোঁটের টিয়া আর শালিকের কিচিরমিচিরে কান পাতা দায় হতো। প্রকৃতির এই জৌলুস এখন কমে আসছে। আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তবে পরবর্তী প্রজন্ম বটগাছ চিনবে বইয়ের পাতায়। আসুন, গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই। অক্সিজেনের ভাণ্ডার শেষ হয়ে গেলে টাকা দিয়ে নিঃশ্বাস কেনা যাবে না।
বটতলার হাটের সেই সরগরম পরিবেশটা আজও চোখে ভাসে। জিলাপির দোকান, মাটির পুতুল আর মানুষের কোলাহল—সবই ছিল ওই গাছটাকে ঘিরে। ও যেন গ্রামের মুরুব্বি, সবাইকে আগলে রেখেছে। ইট-পাথরের শহরে এসির বাতাস আছে, কিন্তু বটগাছের সেই প্রাকৃতিক বাতাসের স্নিগ্ধতা নেই। মন ভালো করতে চাইলে প্রকৃতির কাছেই ফিরে যেতে হয়।
বট গাছ নিয়ে ক্যাপশন
শত বছরের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই বিশাল বটবৃক্ষ, যার ছায়ায় আমি আজ অতিথি।
ঝুরির ফাঁক গলে আসা রোদটুকু গায়ে মাখলে মনটা অদ্ভুত শান্ত হয়ে যায়।
গ্রামের এই পুরনো বটতলাটাই ছিল আমাদের শৈশবের আড্ডার সেরা জায়গা।
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছটার কাছে এলে নিজেকে বড্ড ক্ষুদ্র মনে হয়।
বটগাছের নিচে বসে থাকার সময় মনে হয় ঘড়ির কাঁটা থমকে গেছে।
প্রকৃতির এই বিশাল ক্যানভাসে বটগাছ এক রাজকীয় আভিজাত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
শিকড়ের টানে বারবার ফিরে আসি এই ছায়াঘেরা মায়াবী বটতলায়।
ঝুলে থাকা ঝুরিগুলো যেন এই গাছের বয়সের ভার বহন করছে নীরবে।
সবুজ পাতার ফাঁকে বাতাসের খেলা দেখার মজাই আলাদা, চোখ জুড়িয়ে যায়।
ইতিহাস আর ঐতিহ্যের নীরব দর্শক হয়ে বেঁচে আছে এই মহীরুহ।
এই গাছের প্রতিটি পাতায় আর শিকড়ে মিশে আছে কত না বলা গল্প।
বটবৃক্ষের নিচে দাঁড়ালে মনে হয় প্রকৃতির কোলে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় পেলাম।
মাটির গভীরে যার শেকড়, আকাশে যার ডালপালা, সেই তো আসল রাজা।
প্রকৃতির ছাতা বিশাল বটবৃক্ষ নিয়ে ক্যাপশন
প্রখর রোদে যখন শরীর পুড়ে যায়, তখন এই বটগাছই শান্তির শীতল পরশ।
প্রকৃতির ছাতা হয়ে রোদের তাপ থেকে আমাদের আগলে রাখে এই পরম বন্ধু।
ক্লান্ত পথিকের জন্য এর চেয়ে ভালো বিশ্রামাগার পৃথিবীতে আর হতে পারে না।
মাথার ওপর বিশাল ছাতা মেলে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের এই ছায়াসঙ্গী।
কৃষকের ক্লান্ত দুপুর জুড়িয়ে যায় এই বটের স্নিগ্ধ ও শীতল ছায়ায়।
রোদের তীব্রতা হার মানতে বাধ্য হয় এই গাছের ঘন পাতার কাছে।
ছায়া সুনিবিড় এই শান্তির নীড় ছেড়ে তপ্ত রোদে যেতে ইচ্ছে করে না।
বিনা স্বার্থে ছায়া বিলিয়ে যাওয়া এই গাছটি আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়।
তপ্ত দুপুরে এক পশলা বৃষ্টির মতো শান্তি এনে দেয় এই বটের ছায়া।
প্রকৃতির এই উদারতা আছে বলেই আমরা দাবদাহে একটু জিরিয়ে নিতে পারি।
রোদের সাথে যুদ্ধ করে সে আমাদের শীতলতা উপহার দেয় প্রতিদিন।
ক্লান্ত দুপুরে এই গাছের নিচে বসলে মনে হয় মায়ের আঁচলের নিচে আছি।
প্রকৃতির এই বিশাল ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার।
বট গাছ নিয়ে উক্তি
জানলার ধারে ওই যে বটগাছটা, ও যেন কোনো এক ঋষির মতো জটাজুট নিয়ে তপস্যায় মগ্ন।
—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বটবৃক্ষের ছায়ায় দাঁড়ালে মনে হয়, মহাকালের সাক্ষী হয়ে কোনো এক প্রবীণ অভিভাবকের আশ্রয়ে আছি।
—জীবনানন্দ দাশ
শিকড় মাটির গভীরে ছড়িয়ে দিয়ে বটগাছ আমাদের শেখায়, ভিত্তি মজবুত হলে ঝড়েও টিকে থাকা সম্ভব।
—হুমায়ূন আহমেদ
পথিক জানে, তপ্ত দুপুরে বট গাছের ছায়া কতটা প্রশান্তিদায়ক হতে পারে; যা কোনো প্রাসাদেও মেলে না।
—সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শত বছরের পুরনো বটগাছটা গ্রামের ইতিহাসের নীরব দর্শক, যে সব দেখে কিন্তু কিছু বলে না।
—সমরেশ মজুমদার
নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা নিতে চাইলে বট গাছের দিকে তাকাও, সে কার্পণ্য করে না।
—শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ঝুড়ি নামিয়ে সে মাটিকে আঁকড়ে ধরে, যেন বলতে চায়—আমি এই মাটিরই সন্তান।
—বুদ্ধদেব গুহ
বট গাছের নিচে বসে থাকার মাঝে এক ধরণের আধ্যাত্মিকতা কাজ করে, মন শান্ত হয়ে যায়।
—ইমদাদুল হক মিলন
পাখির কলকাকলিতে মুখর বটগাছ যেন প্রকৃতির এক বিশাল অট্টালিকা।
—মহাদেব সাহা
বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও বটগাছ তার গাম্ভীর্য হারায় না, বরং আরও শ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠে।
—আনিসুল হক
বটবৃক্ষ আমাদের ধৈর্য শেখায়, তাড়াহুড়ো না করে কীভাবে যুগের পর যুগ মাথা উঁচু করে থাকতে হয়।
—সেলিনা হোসেন
গ্রামের হাটের ওই বটতলাটা কত মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প শুনেছে, তার ইয়ত্তা নেই।
—নির্মলেন্দু গুণ
ছায়া দেওয়াই যার ধর্ম, তাকে কুঠারের আঘাত সইতে হয়—এটাই প্রকৃতির নিষ্ঠুর নিয়ম।
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
বট গাছের বিশালতা অহংকারের প্রতীক না, বরং তা উদারতার পরিচয় বহন করে।
—তসলিমা নাসরিন
প্রকৃতির এই মহীরুহ প্রমাণ করে, নীরব থেকেও কীভাবে হাজারো প্রাণকে আশ্রয় দেওয়া যায়।
—হেলাল হাফিজ
বট গাছ নিয়ে ছন্দ
মাঠের শেষে দাঁড়িয়ে আছো, বিশাল তোমার কায়া;
রোদ দুপুরে পথিক খোঁজে, তোমার শীতল ছায়া।
ঝুরির টানে দোলনা সাজাই, শৈশবের ওই দিনে;
বটগাছ তুমি আগলে রাখো, মায়ার বাঁধন চিনে।
পাখির কলকাকলি ভাসে, তোমার পাতার ফাঁকে;
ক্লান্ত দুপুর জিরিয়ে নেয়, তোমার সবুজ বাঁকে।
শতাব্দীর সব গল্প জানো, নীরব সাক্ষী তুমি;
তোমার পায়েই লুটোপুটি, খায় যে আমার ভূমি।
ঝড় তুফানেও মাথা তোলো, শক্ত তোমার মূল;
তোমার ছায়ায় শান্তি খোঁজে, পথ হারানো ভুল।
গ্রামের হাটে তোমার তলে, বসে যে সুখের মেলা;
বটগাছ তুমি দেখছো রোজই, মানুষ রঙের খেলা।
সবুজ পাতার সামিয়ানা, আকাশ পানে চাও;
পথ হারিয়ে তোমার কাছেই, সবাই খোঁজে নাও।
মাটির গভীরে শেকড় তোমার, মাটির সাথেই বাস;
তোমার তলে বুক ভরে নিই, শান্তির এক শ্বাস।
বুড়ো দাদুর গল্পের আসর, জমে তোমার মূলে;
বটগাছ তুমি স্মৃতিরা সব, রাখো না তো ভুলে।
ডালপালা সব ছড়িয়ে দিয়ে, দিচ্ছ আলিঙ্গন;
তোমার বুকে আশ্রয় পায়, কত না পাখির মন।
রোদের তাপে পুড়ছো তুমি, দিচ্ছ শীতল পরশ;
তোমার তলেই কাটলো আমার, জীবনের কত বরষ।
ঝিরঝিরিয়ে বাতাস বহে, তোমার পাতার গানে;
বটগাছ তুমি জায়গা দিও, ক্লান্ত আমার প্রাণে।
কালের খেয়ায় দাঁড়িয়ে আছো, মহাকালের দরে;
তোমার ছায়ায় আসলে পরে, মনটা কেমন করে।
ইটের শহরে তোমায় খুঁজি, পাই না তো আর দেখা;
বটগাছ তুমি গ্রামের বুকে, একাই যেন রেখা।
বট গাছ নিয়ে কবিতা
ঝুড়ি নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছ কালের সাক্ষী হয়ে,
তোমার পায়ে কত পথিক জিরোয় ক্লান্তি সয়ে;
শত বছরের ইতিহাস লেখা তোমার বাকল জুড়ে,
বটবৃক্ষ, তুমিই তো জানো সময় কেমন করে ওড়ে।
তপ্ত দুপুরে ছায়া দিয়ে করো মায়ের মতো মায়া,
তোমার পাতায় বাতাস লেগে জুড়ায় সবার কায়া;
মাঠের কোণে একলা তুমি, সঙ্গী পাখির দল,
তোমার কোলেই শান্তি খুঁজে পায় পথিকের কোলাহল।
জটাধারী ওই ঋষির মতো ধ্যানে মগ্ন আছ,
ঝড়-ঝাপটা সয়েও তুমি মাথা উঁচু করে বাঁচ;
শিকড় তোমার গভীরে গাঁথা, শক্ত মাটির টান,
প্রকৃতির এই রুদ্রতেজে তুমিই গেয়ে যাও গান।
শৈশবের সেই লুকোচুরি আর দোলনা খাওয়ার দিন,
তোমার শাখায় জড়িয়ে আছে স্মৃতির কত ঋণ;
আজকে আমি অনেক দূরে, ব্যস্ত শহরের ভীড়ে,
মনটা কিন্তু আজও ফেরে তোমার ওই শান্ত নীড়ে।
সবুজ পাতার ছাউনি তোমার, আকাশ ছোঁয়ার সাধ,
তোমার তলে বসলে পরে কাটে মনের অবসাদ;
গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য তুমি, বটতলার ওই হাট,
তোমায় ঘিরে জমে ওঠে কত গল্পেরই পাঠ।
নিঝুম রাতে জোনাকিরা জ্বলে তোমার ডালে ডালে,
রহস্যময় এক পরিবেশ গড়ো তুমি আপন খেয়ালে;
ভূতের ভয়ে গা ছমছম, তবুও তোমায় ভালোবাসি,
তোমার বুকেই লুকিয়ে থাকে আমার শৈশবের হাসি।
পাখিগুলো সব বাসা বাঁধে তোমার নির্ভরতায়,
তুমি তাদের আগলে রাখো পরম মমতায়;
বিনা স্বার্থে বিলিয়ে দাও নিজের সবটুকু,
তোমার কাছেই শিখতে হবে ত্যাগের আসল সুখটুকু।
উপেক্ষা আর অনাদরেও তুমি অবিচল,
কাটছে মানুষ, ভাঙছে বাসা, করছে ছল;
তবুও তুমি ছায়া দাও, দাও অক্সিজেন রোজ,
মানুষ কি আর রাখবে তোমার এই নিঃস্বার্থ খোঁজ?
মাটি ফুঁড়ে উঠেছ তুমি, বিশাল তোমার দেহ,
তোমার মাঝে পাই খুঁজে এক অদ্ভুত স্নেহ;
কালবৈশাখী ঝড়েও তুমি থাকো অটল বীর,
বটগাছ গো, তোমার পায়েই নত করি শির।
বট গাছ ও কিছু কথা
ঝুরির আড়ালে লুকিয়ে থাকে শত বছরের ইতিহাস, যা কেউ পড়ার চেষ্টা করে না।
ক্লান্ত দুপুরে পথিক যখন আশ্রয় খোঁজে, তখন এই বিশাল ছাতাই পরম বন্ধু হয়ে দাঁড়ায়।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম গত হয়ে যায়, অথচ সে মূর্তির মতো ঠায় দাঁড়িয়ে সব দেখে যায়।
পাখিদের কলকাকলিতে মুখর এই প্রাঙ্গণ যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক দরবার।
নিঃস্বার্থভাবে অক্সিজেন বিলিয়ে দিয়ে সে আমাদের ঋণী করে রাখে আজীবন।
গ্রামের সব বিচার-সালিশ আর আড্ডার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে এই প্রাচীন বৃক্ষ।
ঝড়ের দাপট সহ্য করেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার শিক্ষা এখান থেকেই মেলে।
মাটির গভীরে শেকড় ছড়িয়ে সে বুঝিয়ে দেয়, ভিত শক্ত হলে সহজে পতন হয় না।
শৈশবের লুকোচুরি খেলার সেরা জায়গা হিসেবে এর জুড়ি মেলা ভার।
প্রখর রোদ থেকে মাটির বুককে শীতল রাখার দায়িত্ব সে নিজেই কাঁধে তুলে নিয়েছে।
একটা গাছ থেকেই পুরো একটা জঙ্গল তৈরি করার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা একেই দিয়েছেন।
যান্ত্রিক করাতের নিচে যখন এদের প্রাণ যায়, তখন প্রকৃতিও নীরবে কেঁদে ওঠে।
ফলগুলো মানুষের কাজে না লাগলেও, পাখিদের ক্ষুধা মেটাতে সে কার্পণ্য করে না।
মাটির সাথে বন্ধুত্ব গভীর হলে ঝড়েও টিকে থাকা যায়, এটাই তার দর্শন।
শহরের কংক্রিটের ভিড়েও সে তার অস্তিত্ব জানান দেয় সগৌরবে।
